কুমিল্লায় জঙ্গি সংগঠন জেএমবির দুই সদস্যের ২০ বছরের কারাদণ্ড

আর্দশ সদর উপজেলার খবর কুমিল্লার খবর


কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি আলোচিত মামলার প্রায় ২০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে দুই আসামিকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুন নেছা এ রায় ঘোষণা করেন। কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. ছাদেকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নওগাঁ জেলার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু ওরফে সামাদ ওরফে রাজীব এবং গাজীপুরের শ্রীপুর থানার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালের মার্চে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানাধীন বিষ্ণুপুর এলাকায় র‌্যাব-৭-এর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বোমা তৈরিতে ব্যবহারের অভিযোগে বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধারের কথা মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, র‌্যাবের তৎকালীন কর্মকর্তা ও সদস্যরা বিষ্ণুপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। তল্লাশির সময় বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধারের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, সার্কিট, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টেস্ট টিউবসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দের কথা বলা হয়েছে।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, তৎকালীন র‌্যাবের হেফাজতে থাকা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালত মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ দুরুল হুদাকে প্রত্যেককে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানীকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রিজন ভ্যানযোগে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *