বাড়ি সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ আর কুয়েতের পতাকা দিয়ে সেই সাথে রয়েছে ব্যানার ফেস্টুন আর আলোক সজ্জা। এছাড়া খাসী জবাই করে গ্রামবাসীকে খাওয়ানো হয়েছে বিরিয়ানি।
২৫ ফেব্রুয়ারি কুয়েতের ৬১ তম জাতীয় দিবস ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ৩১ তম স্বাধীনতা দিবসে দুই দিন ব্যাপী নিজ গ্রামে বর্ণিল আয়োজনে পালন করলেন কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ইউছুফপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী ময়নাল হোসেন।
এতে গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। আনন্দে উৎসবে ছোট বড় সবাই।
আয়োজক কুয়েত প্রবাসী ময়নাল হোসেন বলেন, ২০ বছর ধরে কুয়েতে কর্মরত আছি। সেখানে থাকা অবস্থায় এই দিনে সবাই মিলে অনেক আনন্দ করেছি। এই বছর ছুটিতে দেশে এসেছি। তাই নিজ জন্মস্থানেই কুয়েতের জাতীয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালন করেছি। দুই দিনের অনুষ্ঠানে ৫ শতাধিক মানুষকে বিরিয়ানি খাওয়ানো হয়েছে। ভালবাসা থেকে এই দিবস পালন করা হয়েছে। আগামী মাসে আমি ফের কুয়েত চলে যাবে।
দেবিদ্বার উপজেলার মানবিক সংগঠন মোগসাইর স্বপ্নচর মানব কল্যান সংগঠনের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ইসলামী সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়।
বুধবার সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ গ্রহন করে মারকাযুল হুদা তাহফিযুল কোরআন মাদ্রাসা, সিদ্দিকুর রহমান মাদ্রাসা, লাড়ুচৌ সরকার বাড়ী মাদ্রাসা, বেড়াখলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
দিনব্যাপী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ২নং ইউছুফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী জাকারিয়া (ম্যানেজার)। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মো কামাল মিয়া, আবুল কাশেম, ছন্দু মিয়া, মোস্তফা আল হোসাইনী, খোরশেদ আলম, হারুনুর রশিদ সহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জাকারিয়া ম্যানেজার বলেন, ‘এমন উদ্যোগে আমি আনন্দিত। ইসলামী সাংস্কৃতিক আমাদের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বৃদ্ধি করে।’ সংগঠনের সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা মানব কল্যাণে কাজ করে যাবো। আজকের আয়োজনে সবাই আমাদের সহায়তা করেছেন। তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচনে কুমিল্লার দুই উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নের ৭টিতে নৌকা প্রতীকের, ১৬টিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়াও উপজেলার ভানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকা প্রতীকের নূরুজ্জামান ভূঁইয়া মুকুলের মৃত্যুতে ওই ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার।
জানা গেছে, দেবিদ্বার উপজেলা চার ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের জয় হয়েছে। এরা হলেন, ৯ নম্বর গুনাইঘর উত্তরে মোঃ মোকবল হোসেন মুকুল , ১০নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণে হুমায়ূন কবির, ১৪ নং সুলতানপুর প্রফেসর হুমায়ূন কবির ও বড়কামতা ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম।
কুমিল্লার দেবিদ্বার ইউপি নির্বাচনের ১১ ঘন্টার আগে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুজ্জামান ভূঁইয়া মুকুল মারা গেছেন। এই মৃত্যুতে উক্ত ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে তার নেতা কর্মীরা দাবি করছেন চান্দিনার থেকে আসা কিছু লোকের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
রোববার ( ৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টায় কুমিল্লা নগরীর একটি হসপিটালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। সে দেবিদ্বার উপজেলার ১২ নং ভানী ইউপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিল।
বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার।
তিনি জানান, আগামীকাল ৭ তারিখ উক্ত ইউনিয়নে নির্বাচন। চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুজ্জামান ভূঁইয়া মুকুলের মৃত্যুতে উক্ত ইউনিয়ের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, হঠাৎ অসুস্থ হলে চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুজ্জামান ভূঁইয়া মুকুলকে কুমিল্লার একটি হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ মারা যান।
কুমিল্লার দেবিদ্বারের ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
বুধবার (২ ফেব্রæয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টায় দেবিদ্বারের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থীরা। পরে পৌর এলাকায় সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করে প্রার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন শিডিউল ঘোষণার পর থেকে আমরা সকলেই এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ ও সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছি। নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত বাধা, হুমকি ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছি। বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারণার কাজে বাধা, মাইকিংয়ে বাঁধা দিয়ে অটোরিকসা-মাইক অনেকবার ভাংচুর করা হয়েছে, মামলা-হামলার ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নৌকায় ভোট না দিলে মেরে ফেলা ও এলাকাছাড়া করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার জন্য হুমকি দিচ্ছে। নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ৩ দিন পূর্ব থেকে আমাদের এজেন্ট, ভোটার ও সমর্থকদের উপর হামলার হুমকি দেয়া হ”্ছ।ে কেন্দ্র দখল করে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করার অগ্রিম হুমকি দেয়া হচ্ছে। বহিরাগত অস্ত্রধারীদের এনে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে। লিখিতভাবে অনেক অভিযোগ করার পরও কোন প্রতিকার পাইনি।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকাও রহস্যজনক। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের মতবিনিময় সভায় হুমকি-হামলা প্রর্দশনকারিদের গ্রেফতার করছে না প্রশাসন। বরকামতা,ধামতী, গুনাইঘর উত্তর, গুনাইঘর দক্ষিণ,বড় শালঘর, ইউসুফপুর, সুবিল, এলাহাবাদ, জাফরগঞ্জ,মোহনপুরসহ ১০টি ইউনিয়নসহ কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার ষড়যন্ত্র চলছে। উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েছে বহুগুণ। ৩১ জানুয়ারী দুপুরে দেবিদ্বারের বরকামতা ইউনিয়নে ১ নং ওয়ার্ডের নবীয়াদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুনুর রশীদের পোষ্টার লাগানোর সময় নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৪ জন সমর্থক আহত হয়েছে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হয়। ২১ জানুয়ারি বিকেলে বরকামতা ইউনিয়নের বাগমারা মাদ্রাসায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মতবিনিময় সভা চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ সাহেবের ছোট ভাই মাসুদের নেতৃত্বে ১০/১২টি মোটরসাইকেল করে স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে মতবিনিময় সভা বন্ধ করতে বলে। পুনরায় এখানে মতবিনিময় সভা করলে রগ কেটে ফেলে জানে মেনে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে। এ সময় পুলিশও উপস্থিত ছিল।
২১ জানুয়ারি বিকালে ধামতী গ্রামে স্থানীয়দের উদ্যোগে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিউদ্দিন মিঠুর নির্বাচনি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই নৌকার প্রার্থী জসিম উদ্দিনের ভাই শাহ পরানের নেতৃত্বে তরিকুল, মনির, রুবেল সেলিম, রুহুল আমীন ও হালিমসহ ৩০-৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে প্যান্ডেল ও নির্বাচনি অফিস ভেঙে দেয়। ২৩ জানুয়ারি বিকেলে ধামতী ইউনিয়নের এজি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিউদ্দিন মিঠুর প্রচারণার মাইক-অটোরিকসা ভাংচুর করে নৌকা মনোনীত প্রার্থীর নেতাকর্মীরা। নৌকার প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সামনেই তার সমর্থক তরিকুল, আলামিনরা এ তান্ডব চালায়। ২৯ জানুয়ারী ভোররাতে ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর পাড় এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মিঠুর টানানো সকল পোষ্টার- ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। ২৯ জানুয়ারী রাতে স্বতন্ত্র প্রাথী মিঠু এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে উত্তর পাড় এলাকায় নিজের নির্বাচনী অফিসে চা পান করার সময় নৌকার লোকজন এসে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তোরা এখানে কেন আসছোস। চলে যা, ইত্যাদি অনেক কথা। তিনি তাৎক্ষনিক দেবিদ্বার থানার ওসিকে মুঠোফোনে কল করলে থানার এএসআই বশিরুল সাহেবকে ঘটনাস্থলে পাঠায়। এএসআই সাহেব ঘটনাস্থলে পৌছার পূর্বেই নৌকার নেতাকর্মীরা ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিঠুকে দুই দিক থেকে ধাওয়া করে। তিনি কোনরকমে পাশের একটি বাড়ির টিনের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে এবং ২ জনকে আটক করে। আটককৃতদের একজন হলেন নৌকার প্রার্থীর কাছের মানুষ দুলাল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোও নৌকার নেতাকর্মীদের। নৌকার প্রার্থীর সন্ত্রাসীদের হামলায় মিঠুর ৫/৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তারা মিঠুর অফিস ভাংচুর করেছে। অথচ পরে উল্টো মিঠুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে।
২৩ জানুয়ারী সন্ধ্যায় গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হাকিম খানের (আনারস প্রতিক) নির্বাচনী প্রচারণার মাইক-অটোরিক্সা ভাংচুর করেছে নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা। বিভিন্ন জায়গায় আব্দুল হাকিমের পোষ্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। ২৯ জানুয়ারী রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর এলাকায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থী কামরুল হাসানের ৩ জন কর্মী সমর্থককে বেধম মারধর করে ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী শাহজাহান সরকারের নেতাকর্মীরা।
প্রার্থীরা আরো বলেন, আমরা আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি।
কুমিল্লা দেবীদ্বারে সৎ মা’য়ের বিরুদ্ধে পিতাকে প্ররোচিত করে সম্পত্তি আত্মসাৎ ও সতিনের সংসারের সন্তানদের জীবননাশের হুমকীর প্রতিবাদে পুত্রের সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামের খন্দকার এমএ সালাম চেয়ারম্যানের ছোট ভাই গোলাম মোস্তফার পুত্র মোঃ আল- মামুন বাবু(৩০) সোমবার দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ওই সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে মোঃ আল মামুন’র মা’, স্ত্রী, ভাই ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিগন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আল মামুন তার লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, আমার মায়ের সাথে বাবার বিয়ে হয় ১৯৮৯ইং সনে, বাবা মালদ্বীপ প্রবাসী ছিলেন। আমার সৎ মা’ শাহনাজ পারভীন (শাহনাজ মোস্তফা) আমার বাবাকে প্রলুব্ধ করে ১৯৯৫ সালে গোপনে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে আমাদের বাড়িতে এসে বাবাকে ফুসলিয়ে ঢাকা ও কুমিল্লার বাড়িসহ আমাদের সকল সম্পত্তি তার করায়েত্বে ও লিখিতভাবে দলিলের মাধ্যমে নিয়ে যায়। আমিও তখন মালদ্বীপে বাবার সাথে ২টি হোটেল পরিচালনা করতাম।
পরবর্তীতে আমার মা’ নাছিমা আক্তারের উপর চলে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে সৎ মায়ের নির্যাতনে আমার মায়ের বা’ চোখ নষ্ট হয়ে যায়। মা’ আমাকে ও আমার ছোট ভাই আল আমিনকে নিয়ে একই উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে নানার বাড়িতে চলে যান। তখন আমার বয়স ১২ বছর আর ছোট ভাই আল- আমিনের বয়স (১০) বছর। আমি যখন বুঝতে আমার সৎ মা’ সকল সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং পিতার অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করছেন। তখন আমি আমাদের পাওনা বুঝে নিতে পারিবারিক দেন- দরবার শুরু করি। এরই মধ্যে আমার সৎ মা’য়ের প্ররোচনায় বাবা ২০১২ইং সনে আমার মা’ নাছিমা আক্তারকে কোর্টের মাধ্যমে তালাকনামা প্রেরন করেন। আমার সৎ মা’য়ের সংসারে বর্তমানে আরো ৩ সৎ ভাই সৌরভ, সজিব, শান্ত রয়েছে। আমি নানার বাড়িতে থেকেই এস,এস,সি পাশ করি। বর্তমানে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে কর্মরত আছি।
আমার বাবার হিস্যা চাইতে গেলে আমার সৎ মা’ আমাদের জীবন নাশের হুমকী দেন এবং গ্রামের বাড়ির আবাদী জমি বিক্রি করে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমার সৎ মা’ শাহনাজ পারভীন নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়াম্যান পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন। আমার সৎ মা’ কখনো আ’লীগ না করলেও জেঠা ফতেহাবাদ ইউনিয়নে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার এম,এ, সালাম’র বিরুদ্ধে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন।
আমার বাবার নামে যে সম্পদ রয়েছে তার অংশিদারিত্ব আমাদেরও আছে। তাই নিরুপায় হয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাতির বিবেক ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পুলিশ প্রধান ও দেবীদ্বার বাসীর নিকট সুষ্ঠু তদন্ত মাধ্যমে পিতার প্রাপ্য অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা দাবী করছি।
কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী মাষ্টারের একটি অডিও ক্লিপস ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপসটি সুপার এডিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, দেবিদ্বার উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি কাউছার হায়দার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য লুৎফুর রহমান বাবুল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মামুনুর রশীদ, দেবিদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন,ফতেহাবাদ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলামসহ, ধামতি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈয়দ জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, যারা অডিওটি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আমরা তা আইননানুগভাবে মোকাবেলা করবো।
বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী মাষ্টার বলেন, আমার পুরো বক্তব্য শুনলে বুঝতে পারবেন আমি কি বলেছি। কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছি। এখানে কথোপকথনের অংশ বিশেষ নিয়ে অডিও ক্লিপসটি ভাইরাল করা হয়।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী মাষ্টার এবং দেবিদ্বার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের এক ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। ওই ফোনালাপে রওশন আলী মাষ্টার বলেন, ‘যারা নৌকা করে সব রাজাকারের বাচ্চা। কী করবেন রাজনীতি করে। যে দেশে টাকা দিলে নমিনেশন পাওয়া যায়, যে দেশে টাকা দিলে মন্ত্রিত্ব পাওয়া যায়, যে দেশে টাকা দিলে সব আকাম চলে।’ এই ফোনালাপ নিয়ে সামাজিক যোগােযোগ মাধ্যমসহ কুমিল্লা জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
কুমিল্লায় মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা জামশেদ আলম (৪৫) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সে দেবিদ্বার উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২ টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের ২ নং আমলী আদালতের বিচারক জাহিদুল কবির এই রায় দেন।
মামলার আইনজীবী (এপিপি) মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে বিভিন্ন সময় তার ১৪ বছরেরর মেয়েকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় জামশেদ আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়া ১ লাখ জরিমানা আনাদায়ে একবছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামী কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল।
মামলার বাদী ভিকটিমের মা হালিমা বেগম জানান, আদালতের নিকট তার ফাঁসি দাবি করেছি। সমাজে এমন বাবা বেঁচে থাকার অধিকার নেই। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আসামীর স্বজনরা নানাভাবে হুমকী দিচ্ছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় এলাহাবাদ ইউনিয়নে খালের পাশে বাজারের ব্যাগে তিন বছরের একটি অজ্ঞাত শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
রোববার (১৪ নভেম্বর) সকালে ইউনিয়নের কাচিসাইর গ্রামে ব্যাগবন্দি লাশটি দেখে স্থানীয়রা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে জানায় । খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। তিনি জানান, অজ্ঞাত একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় নি । লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
এলাহাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মো সিরাজুল ইসলাম সরকার জানান, ধারণ করা হচ্ছে দুই তিন দিন আগে শিশুটি হত্যার পর ব্যাগবন্দি করে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক । ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করছে ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার দেবিদ্বারের ফতেহাবাদ গ্রামের নিজ বসত ঘরে পা বাধা ও কদমাক্ত মাজেদা বেগম (৫২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা রাতের কোন এক সময় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত মাজেদা বেগম মৃত মাস্টার মনিরুল ইসলাম স্ত্রী।
জানা যায়, নিহত মাজেদা এই বাড়িতে একাই থাকতেন। তার সন্তানরা চাকুরী কারণে বাড়িতে থাকতেন না । মঙ্গলবার সকালে এক ব্যক্তির বাড়িতে গাছ কাটতে যান। তখন ঘরে সামনে দেখতে পান মাজেদার পা বাধা মরদেহ পড়ে আছে। তখন স্থানীদের বিষয়টি জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। খবর পেয়ে সন্তানরাও ছুটে আসেন।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, খবরে পেয়ে পুলিশের উধ্বতর্ন কর্মকর্তাসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ধারণা করা হচ্ছে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘরের কোন কিছু চুরি হয়নি। হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচনে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।