Category: জাতীয়

  • ‘কিছুক্ষণ পর উৎক্ষেপণ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাই ‘

    অনলাইন ডেস্ক:
    প্রথম দফায় চূড়ান্ত পর্যায়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে থমকে যাওয়া বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর উৎক্ষেপণের ক্ষণগণনা আবারো শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড-৩৯ এ থেকে কক্ষপথে উড়াল দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গ্রাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়ায় তা বাতিল করা হয়।

    নতুন করে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) মহাকাশপানে ছুটছে বঙ্গবন্ধু-১। সবকিছু ঠিক থাকলে আর কিছুক্ষণ পরই বাংলাদেশের প্রথম মহাকাশ যাত্রার প্রত্যক্ষদর্শী হবে বিশ্বের লাখো মানুষ।

    মহাকাশে বাংলাদেশের এ বিজয় যাত্রার সঙ্গী মার্কিন মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এক টুইট বার্তায় স্পেসএক্স জানায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণে ফ্যালকন ৯ এর সব সিস্টেম ভালো রয়েছে। আজ উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়া ৭০ শতাংশ অনুকূলে রয়েছে।

    টুইটে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া আজ আবারো রাত ২টা ১৪ মিনিটে শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্লোরিডা ট্যুডে এক প্রতিবেদনে বলছে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বৃহস্পতিবারের চেয়ে আজকের (১২মে) আবহাওয়া কম অনুকূলে রয়েছে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য যে আবহাওয়ার প্রয়োজন সেদিক বিবেচনায় আজকের আবহাওয়া ৬০ শতাংশ অনুকূলে রয়েছে।

    প্রথম চেষ্টায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্সের ইঞ্জিনিয়ার মাইকেল হ্যামারসলি বলেন, ‘উৎক্ষেপণ বাতিল করাটা মানসম্মত প্রক্রিয়ার একটি অংশ। এটা নিশ্চিত করা ভালো যে, ফ্যালকন ৯ উড়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। গ্রাউন্ড এবং ভেহিকল সিস্টেম ভালো রয়েছে। উৎক্ষেপণের সময় কোনো সমস্যা এড়ানোর জন্য ডাবল চেকিং বেশি গ্রহণযোগ্য।

    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের কাজ আবারো শুরু হবে।

    বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখার অপেক্ষায় ছিল আজ পুরো দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে উৎক্ষেপণের কাজ শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে কারিগরি ত্রুটির কারণে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের যাত্রা বাতিল করে স্পেসএক্স।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্ত পুরোপুরি কম্পিউটারে নিয়ন্ত্রিত হয়। এসময় যদি স্যাটেলাইটের কোনো অংশ স্বাভাবিক নয় বলে কম্পিউটার খুঁজে পায়, তাহলে উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়।

    তিনি বলেন, উৎক্ষেপণের মাত্র ৪২ সেকেন্ড আগে তা বাতিল করা হয়েছে। স্পেসএক্স সবকিছু যাচাই-বাছাই করবে এবং শুক্রবার একই সময়ে উৎক্ষেপণের প্রচেষ্টা আবারো শুরু হবে। ঝুঁকি নিতে না চাইলে এটা রকেট উৎক্ষেপণের সময় একেবারে স্বাভাবিক একটি ঘটনা।

  • সকল আয়োজন শেষ ! তবে বর এখনও যানজটে

    অনলাইন ডেস্ক:
    সকল আয়োজন শেষ। বর আসবে খাওয়া হবে, বিয়ে পড়ানো হবে। কিন্তু দুপুর পার হয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলো বর এলো না। এরপর নেমে এল রাতের অন্ধকারও। কিন্তু এরপরও বরের জন্য কারো অপেক্ষা শেষ হলো না। কারণ রাত নেমে এলেও কনের বাড়িতে এসে পৌঁছাতে পারেননি বর।

    তবে এ ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়নি বলে জানান, বর সাত্তার। তিনি জানান, সকালে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী আসার পথে যানজটে আটকা পড়েন তারা।

    জানা গেছে, শুক্রবার ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দূর্গাপুরের মৃত জালাল উদ্দিনের ছোট ছেলে আবদুর সাত্তারের সঙ্গে পৌরসভার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের মেয়ে শারমিনা আরফিনের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। কনেপক্ষ ছাগলনাইয়া কমিউনিটি সেন্টারে আটশ বরযাত্রীর দুপুরের খাওয়ার আয়োজন করে।

    কিন্তু রাত পর্যন্ত বর এসে না পৌঁছানোয় এত বিশাল আয়োজন করেও সবাই হতাশ হতে বসেছে। কনের বড় ভাই জামাল জানান, পেশাগত কারণে বর সাত্তার চট্টগ্রাম থাকেন। শুক্রবার (১১ মে) সকাল সাড়ে আটটায় চট্টগ্রাম থেকে ছাগলনাইয়ার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

    কিন্তু যানজটের কারণে রাত পৌনে আটটার সময়ও বর অনুষ্ঠানস্থলে আসতে পারেননি। কমিউনিটি সেন্টারের মালিক ভেন্ডর শহিদ জানান, নির্দিষ্ট সময়ে এই অনুষ্ঠান শেষ করতে না পারায় আগামীকালের অনুষ্ঠানের আয়োজনও ভেস্তে যেতে বসেছে।

    উল্লেখ্য, শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ৭০ কি.মি. যানজটে আটকা পড়ে হাজার হাজার গাড়ি। মহিপালের ফতেহপুর রেল লাইনের উপর উড়াল সড়কের নির্মাণকাজ চলায় দীর্ঘ এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন যানবাহনের চালক-যাত্রীরা।

  • ভারতীয় চ্যানেলে আসক্তি: ঘটছে হত্যাকাণ্ড, বাড়ছে পারিবারিক কলহ

    অনলাইন ডেস্ক:
    ভারতীয় চ্যানেলে প্রচারিত বেশ কিছু অনুষ্ঠানের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে। শিশুদের ক্ষেত্রে আসক্তির পাশাপাশি বাড়ছে পারিবারিক কলহ। হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও। এক্ষেত্রে দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান পরিবেশনার ত্রুটিকেই কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সরকারি নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছের বিশেষজ্ঞরা।

    পরিবারের ছোট্ট সদস্য রাফিদ। সকাল থেকে সন্ধ্যা সারাদিনই ডুবে আছে ভারতীয় টেলিভিশনে প্রচার হওয়া একটির পর একটি কার্টুনে। সবে মাত্র স্কুলে যাওয়া শুরু হলেও মন নেই পড়াশুনায়। হা করে শুধুই কার্টুন দেখা। বায়না হিসেবেও তার কার্টুন দেখা চাই।

    রাফিদকে টিভির সামনে থেকে সরালেই বসে তারই বড় ভাই রিফাত। তারও নজর রেসলিং বা ভারতীয় সিনেমার দিকেই। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অনেক ঘরেই অধিকাংশ সময় চলে ভারতীয় বাংলা বিভিন্ন সিরিয়াল বা অনুষ্ঠান। পরকীয়া বা বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে ঠাসা এসব অনুষ্ঠানের মারাত্মক প্রভাব পড়ছে দেশীয় দর্শকদের মাঝে। ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা।

    দেশে অনেক ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ হলেও মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন বা পরিবেশগত ত্রুটিকেই ভিনদেশী টেলিভিশনের দিকে ঝোঁকের মূল কারণ বলছেন দেশীয় নির্মাতারা।

    নাট্যকার ও নির্দেশক মাসুম রেজা বলেন, ‘প্রচারের ক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয় আছে, যা আমাদের দর্শকদের নাটক দেখার জন্য ব্যহত করছে। এই যে নিয়মগুলো করে একধরনের বিষ আমাদের খাওয়ানো হচ্ছে, আমরা শুধাই খাওয়াবো, শুধার মত করে তৈরি করে আমাদের নিজস্ব বিবেচনা দিয়ে।’

    তবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকেও সতর্ক হওয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের ।

    ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, আমাদের কন্টেন্টগুলো তৈরি করার সময় আমাদের যে ভাবা, নেতিবাচক যে এতে আমাদের কি হতে পারে।’

    সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেনমোহরের টাকা নিয়ে ঝগড়ায় স্বামীর হাতে খুন হন স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রলকে অনুসরণ করেই স্ত্রীকে হত্যা করেন বলে আদালতে জবানবন্দী দেন স্বামী ইব্রাহীম।
    সূত্র: সময় নিউজ

  • ‘আমি প্রেমে পড়ি না, কন্যারাশি তাই মহিলারা প্রেমে পড়ে যায়’

    অনলাইন ডেস্ক:

    পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীর গালে কামড় দিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে। গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে স্ত্রীকে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।তবে সুমন মিয়া জানান, জোরে কথা বলায় স্ত্রী ছালেমা খাতুনের গালে কামড় দিয়েছেন তিনি।

    ছালেমা খাতুন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ডৌহাখলা ইউনিয়নের সিংজানী গ্রামের মো. সুমন মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। যৌতুকের দাবিতে এমন বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে স্বামীর আঘাতের ক্ষতচি‎হ্ন, নির্যাতনের কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন ও শারীরিকভাবে উঠেও দাঁড়াতে পারছেন না। তারপরও ছাড়েননি স্বামীর আশ্রয়।

    বিচার চেয়ে গৌরীপুর থানায় অভিযোগ দিলেও আমলে নেয়নি পুলিশ। বৃহস্পতিবার অভিযোগ দায়েরের চার দিনেও ঘটনাস্থলে যায়নি পুলিশের কোনো কর্মকর্তা।বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, নির্যাতনের শিকার সেই নারী এখনো তার স্বামী মো. সুমন মিয়ার আশ্রয়েই আছেন।

    স্ত্রীর নির্যাতনের বর্ণনাকে হার মানায় স্বামীর দেয়া নির্যাতনের কাহিনী। তিনি দাম্ভিকতা করেই বলেন, এটা কি মাইর মারছি! এর চেয়েও কত বেশি মাইর মারছি। চোরের চেয়েও বেশি মারছি। গলা চেঁচিয়ে কথা কয়, এর ল্যাগাইয়াই গালে কামড় দিছি।

    এলাকাবাসী জানায়, সিংজানী গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে সুমন মিয়ার প্রথম স্ত্রীর সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। পরে চরঘোড়ামারা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী ছালেমা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সেই সংসারে ছালেমা আক্তারের এক সন্তানকে নিয়ে নিকাহনামা ছাড়াই নতুন সংসার শুরু করেন।

    এবার সেই সুমন কলতাপাড়ার চার সন্তানের জননী অপর এক নারীর সঙ্গে ফোনে আলাপ ও সম্পর্কের সন্দেহের জের ধরেই ছালেমা খাতুনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সিংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মারধর ও গালে কামড় দেয়।

    পরকীয়া প্রসঙ্গে সুমন মিয়া বলেন, ‘আমি প্রেমে পড়ি না, কন্যারাশি তাই চেহারা না থাকলেও মহিলারা প্রেমে পড়ে যায়।’

    ছালেমা খাতুন জানান, তিনি তাল্লু স্পিনিং মিলের শ্রমিক। প্রতি মাসের বেতনের টাকা তার স্বামী নিয়ে যায়। যৌতুকের কারণে তার ওপর এমন নির্যাতন চালায়। গত শনিবার তাকে প্রকাশ্যে সিংজানী প্রাইমারি স্কুল মাঠে মারপিট করে। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় ও গালে কামড় দেয়। এখনও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। ওর নির্যাতনের কারণে এখন দাঁড়িয়েও থাকতে পারছি না।

    গৌরীপুর থানার ওসি দেলোয়ার আহম্মদ জানান, নারী নির্যাতনের ঘটনার তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল হক সরকার বলেন, ওরা সমাজকে কলুষিত করেছে। প্রকাশ্যে অশালীন আচারণ-মারপিট, গালিগালাজে সাধারণ মানুষও অতিষ্ঠ।সূত্র: যুগান্তর।

  • এবার যানজটের রেকর্ড গড়ল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক!

    অনলাইন ডেস্ক:
    ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটে বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবার। ফেনীর ফতেপুর রেলগেট থেকে সৃষ্ট যানজটে একদিকে মীরসরাই উপজেলার বড়দারোগারহাট পর্যন্ত; অপর দিকে কুমিল্লা পর্যন্ত দিন শেষে রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানজট লেগে ছিল। দুই দিকে ১২০ কিলোমিটার জুড়ে ২২ ঘণ্টা ধরে যানজট চলছিল  বৃহস্পতিবার। এরপরও আরো অন্তত ২২ ঘণ্টায় এই যানজট নিরসন হবে কিনা সন্দেহ আছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী।

    সরেজমিনে, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের থেকে জানা যায়, যানজটে অনেক মহিলা ও শিশু পথিমধ্যে খাবার ও স্যানিটেশন সংকটে অসুস্থ হয়ে গেছে।

    হাইওয়ে পুলিশের জোরারগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল সরকার জানান, ফেনীর ফতেহপুর রেল ওভারপাস নির্মাণের স্থলে বিকল হয়ে যাওয়া ট্রাক অপসারণে বিলম্ব হওয়ায় এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যা এই পর্যন্ত লেগেই আছে। তবে দিনভর হাইওয়ে ও থানা পুলিশ সকলে আপ্রাণ চেষ্টা করে মহাসড়ক সচল রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এতো বেশী যানবাহন ও মালবাহী গাড়ি যে জন্য যানজট আর ছোট করা সম্ভব হয়নি। মহাসড়কে দুর্ভোগে নাকাল হয়ে পড়েছে দূরপাল্লার ট্রাক, লরিসহ বাসের যাত্রীরা।

    সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মাঝে মাঝে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ফেনীর ফতেহপুর রেল ওভারপাস নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে এ যানজট লাগে মূলত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যাত্রী নাছির উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা চট্টগ্রাম শহর থেকে বাসে উঠে সকাল সাড়ে ৭টায় বড়দারোগার এলাকায় আসার পর যানজটে পড়েন এবং মীরসরাইয়ে আসার পর যানজট আরো তীব্র আকার ধারণ করে। দিনভর এই যানজটেই পড়ে আছেন এমন অসংখ্য যাত্রী। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা তো ফেনী পারও হতে পারেনি আর এগুতেও পারেনি।

    দিনভর রোদ বৃষ্টির ভ্যাপসা গরমে সকলের জীবন যেন ওষ্ঠাগত। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক আনোয়ার হোসেন জানান, ভোর রাতে ঢাকার নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হয়ে নিজামপুর আসলে যানজটে পড়েন। এ যানজট কাটিয়ে বারইয়ারহাট পর্যন্ত আসতে ১৫ মিনিটের সময়ের স্থলে লেগেছে ৪ ঘণ্টা। ঢাকা পৌছুতে কয়দিন লাগে তা তিনি অনিশ্চিত বলে জানান।

    এ বিষয়ে মীরসরাই থানার ওসি সাইরুল বলেন, অপ্রত্যাশিত এই যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের সাথে জোরারগঞ্জ ও মীরসরাই থানার সকল পুলিশ সদস্য দিনভর এবং অদ্যাবধি প্রতিটি ইউটার্ণে অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করছেন। বিক্ষিপ্ত সকল গাড়িকে শৃংখলায় রেখে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে মহাসড়ক সচল করতে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আশা করছি রাতের মধ্যেই পুরো মহাসড়ক সচল চয়ে যাবে। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণেও কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

    এদিকে সৃষ্ট এই যানজটে ঢাকামুখী দূরপাল্লার অনেক বাসই দিনের বেলা যাত্রা বাতিল করায় অধিকাংশ মানুষ রেলে ঢাকা যাত্রা করেছে। আবার অনেকে বিমানে গন্তব্যে পৌঁছেছে। কিন্তু যারা সাধারণ মানুষ ও যাঁরা যাত্রা পথে বেরিয়ে গেছেন তাদের পতিত হতে হয় বেগতিক দুরবস্থায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ– ফেনীর এই ফতেপুর রেললাইনের উপর ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য সড়ক অংশে অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার জন্যই মূলত প্রতিদিনই এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। তবে এবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে গত কয়েক বছরের। ওই স্থানে সড়ককে অস্থায়ীভাবে আরো প্রশস্ত করে দেয়া হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

  • অন্তঃসত্ত্বা শামীমা, কার পরিচয়ে বড় হবে সন্তান?

    অনলাইন ডেস্ক:
    একটু ভালো থাকা আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বাংলাদেশ থেকে স্বজনদের ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায় লাখো মানুষ। এর মধ্যে একটি বড় সংখ্যক মানুষই নারী। আর মধ্যপ্রাচ্যেই এসব নারী শ্রমিকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু কেন সেখানে এত নারী শ্রমিকের চাহিদা? কেমন আছেন সেখানে আমাদের মা-বোনেরা? এর জবাব দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে ফিরে আসা মানিকগঞ্জের শামীমা আক্তার (ছদ্মনাম)। তার গল্প শুনে হতভম্ব হয়ে গেছেন উপস্থিত সকলে।

    ‘মদ খাইয়া প্রতি রাইতে মারধর করতো। খুনতি দিয়া পিঠে ছ্যাঁকও দিছে। সারাদিন পায়ে শিকল দিয়া ঘরে আটকে রাখতো।’ এমন বর্বর নির্যাতন করা হত জর্ডান ফেরত শামীমাকে। শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে প্রবাসে তার ওপর নির্যাতনের এমন বর্ণনা করছিলেন।

    মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বাসিন্দা এই তরুণী বাসাবাড়িতে কাজ নিয়ে জর্ডানে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু নিজ এলাকারই অপর এক প্রবাসী নারীর বিরুদ্ধে তাকে আটকে রেখে যৌনকাজে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠেছে। শামীমা এখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দুই মাস জেল খেটে সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছেন তিনি। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার অন্তঃসত্ত্বা এ তরুণীর চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে দরিদ্র মা-বা তা করাতে পারছেন না।

    শামীমার বাবা পেশায় একজন ভ্যানচালক। নিজের জমি নেই। শ্বশুরবাড়িতে ছোট একটি টিনের ছাপরা ঘরে বসবাস করেন। সামান্য বৃষ্টিতেই ছিদ্র টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে শামীমাই সবার বড়। তাইতো সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী কাশেম আলীর প্ররোচনায় ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর জর্ডানে পাঠানো হয় শামীমাকে। কথা ছিল বাসাবাড়িতে কাজ দেবেন তাকে। কিন্তু জর্ডানে গিয়ে কাজের বদলে তার কপালে জোটে নানা নির্যাতন।

    শামীমা জানান, জর্ডানে যাওয়ার পর একটি বাসায় কাজ পান। তবে মালিকের ছেলে খুবই খারাপ ছিল। তাকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। সেখানে যাওয়ার পরপরই বাড়ির মোবাইল নম্বরটি হারিয়ে ফেলায় বাড়িতেও বিষয়টি জানাতে পারেননি। এক মার্কেটে সোনিয়া আক্তার ওরফে রাবেয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নানাভাবে ফুঁসলিয়ে সোনিয়া তাকে ভালো কাজ দেয়ার কথা বলে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। জর্ডানের দাম্মাম শহরের ওই ভাড়া বাসাটি যে মিনি পতিতালয় তা শামীমার বুঝতে সময় লাগেনি। তার মতো সেখানে আরও ৩০জন নারীকে রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, প্রতি বৃহস্পতিবার খদ্দের জোগার করে নিয়ে আসতো সোনিয়া। রাতে বসতো মদের আসর। জোর করে বাধ্য করা হতো যৌনকাজে। তিনি প্রথমে রাজি না হওয়ায় তাকে বেধরক মারপিট করেছে সোনিয়া। দিনের বেলায় পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হতো। একদিন নরক থেকে পালিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু ধরা পড়ে গেলে তাকে নির্মমভাবে মারপিট করে সোনিয়া। ভিডিও কলে শামীমাকে মারপিটের সেই দৃশ্য দেখানো হয় বাবা-মাকে। শামীমার পরিবার থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়ার চাপ দেয়া হলে শামীমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। দুই মাস জেল খেটে গত ১৭ এপ্রিল দেশে ফিরেছেন তিনি।

    শামীমা জানান, ১০ মাস তাকে বাসায় আটকে রেখে যৌনকাজে বাধ্য করা হলেও একটি টাকাও তুলে দেয়া হয়নি তার হাতে। শূন্য হাতেই তিনি বাড়ি ফিরেছেন। তিনি তার জীবনটা নষ্ট করার জন্য সোনিয়া আক্তারের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।

    শামীমার মা জানান, বড় আশা করে মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ে নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। মেয়ের অনাগত সন্তান কার পরিচয়ে বড় হবেন তা নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা তার।

    শামীমার বাবা জানান, বিদেশ থেকে মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ফিরেছেন। এলাকায় কানাঘোষা হয়। লজ্জায় বাড়ির বাইরে বের হতে পারেন না।

    তিনি আরও জানান, মেয়ে সকল ঘটনার জন্য সোনিয়াকে দায়ি করলেও সোনিয়া এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আমলেই নিচ্ছেন না। অভিযোগ করায় উল্টো হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

    অভিযুক্ত সোনিয়ার গ্রামের বাড়ি সিংগাইর উপজেলার চান্দহুর ইউনিয়নের চর চামটা গ্রামে। তার বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, ১৬ বছর ধরে জর্ডানে আছেন তিনি।

    টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে সোনিয়া আক্তার জানান, শামীমা একটা পাগল। এজন্যই সে বিদেশে থাকতে পারেননি। সারাদিন বাইরে বাইরে ঘুরতো। তিনি কোন খারাপ কাজে শামীমাকে বাধ্য করাননি। এর স্বপক্ষে জর্ডানে হাজার মানুষের সাক্ষী দিতে পারবেন তিনি।

    এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম জানান, ভিকটিমের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে আইনি এবং মানবিক বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

  • যে কারণে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন

    অনলাইন ডেস্ক:
    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পর এটির নিয়ন্ত্রণ নিতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তেলীপাড়ায় টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশনটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

    স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৃশ্যটি দেখার জন্য গাজীপুরে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। টিভিতে সরাসরি প্রচারিত এ বিরল দৃশ্যটি দেখতে অনেকে বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দা টাঙিয়েছেন। ইতিহাসের সাক্ষী হতে অনেকে রাত জেগে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের দৃশ্যটি দেখবেন।

    গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, উৎক্ষেপণের পর গাজীপুরের এই গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

    এ ধরনের আরেকটি গ্রাউন্ড স্টেশন রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় স্থাপন করা হলেও সেটি হচ্ছে গাজীপুরে স্থাপন করা গ্রাউন্ড স্টেশনের বিকল্প। মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হবে গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে। শিগগিরই প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

    উৎক্ষেপণের দৃশ্যটি সরাসরি প্রদর্শন ও ব্যাপক প্রচারণা চালাতে ইতোমধ্যে জেলার ইউএনওরা সব ক্যাবল অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছেন।

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগবে। স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে।

    এদিকে, স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ দেখতে হলে আগ্রহীদের উৎক্ষেপণ স্থানের তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান নিতে হবে। সাত মিনিটের কম সময় এটি দেখা যাবে। তার পরপরই উচ্চগতির রকেট চলে যাবে দৃষ্টিসীমার বাইরে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর রকেটের স্টেজ-১ খুলে নিচের দিকে নামতে থাকবে। এরপর চালু হবে স্টেজ-২। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ পৃথিবীতে এলেও স্টেজ-২ একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত স্যাটেলাইটকে নিয়ে গিয়ে মহাকাশেই অবস্থান করবে।

    দুই ধাপে এ উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপটি হলো লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি) এবং দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে স্যাটেলাইট ইন অরবিট। এলইওপি ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন সময় লাগবে। উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে যাবে এই স্যাটেলাইট। ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে।

    ওই তিন স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এর নিজস্ব কক্ষপথে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্পট) স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশের স্যাটেলাইটটিতে লেখা থাকবে বিবি এবং থাকবে একটি সরকারি লোগো।

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ যোগাযোগ এবং সম্প্রচার কাজেই মূলত ব্যবহার করা হবে। এ স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার প্রায় ৩৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের সমপরিমাণ। অর্থাৎ ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া যাবে প্রায় এক হাজার ৪৪০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ।

    এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেয়ার জন্য রাখা হবে।

    ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি হচ্ছে কেইউ ব্যান্ডের এবং ১৪টি সি ব্যান্ডের। গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় স্থাপিত দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

    এর মধ্যে গাজীপুর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এবং বেতবুনিয়া বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হবে। এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

    এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে পৃথক একটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রতি বছর অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করে।

    বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ অর্থ বাংলাদেশেই থেকে যাবে। ফলে বড় অঙ্কের টাকার বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। দেশের বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর স্যাটেলাইট ভাড়াবাবদ ব্যয়ও কমে আসবে।

    এছাড়া স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ফলে ব্যান্ডউইডথের বিকল্প উৎসও পাওয়া যাবে। এই ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করে দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালু সম্ভব হবে।

    ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্বাভাবিক টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও উদ্ধারকর্মীরা স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ রেখে দুর্গত এলাকায় কাজ করতে সক্ষম হবেন। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার ভুটান, নেপাল ও এশিয়ার অন্য অংশে কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তানের মতো দেশেও ভাড়া দেয়া যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করতে সামর্থ্য হবে।

  • প্রথম দফায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাতিল নিয়ে যা বললেন জয়

    অনলাইন ডেস্ক:
    দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর মহাকাশে উৎক্ষেপণ কাজ শুরু হলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে তা একদিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে স্পেসএক্স। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও প্রাথমিক কাজ শুরুর পর কারিগরি ত্রুটির কারণে তা বাতিল করা হয়।

    বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    স্পেসএক্স বলছে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের কাজ আবারো শুরু হবে।

    বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট ওড়ানোর অপেক্ষায় ছিল আজ পুরো দেশ। রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে উৎক্ষেপণের কাজ শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে কারিগরি ত্রুটির কারণে মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইটের যাত্রা বাতিল করে স্পেসএক্স।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‌স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্ত পুরোপুরি কম্পিউটারে নিয়ন্ত্রিত হয়। এসময় যদি স্যাটেলাইটের কোনো অংশ স্বাভাবিক নয় বলে কম্পিউটার খুঁজে পায়, তাহলে উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়।

  • যে কারণে শেষ মুহূর্তে আটকে গেলো স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

    অনলাইন ডেস্ক:

    সব প্রস্তুতি ছিল। মহাকাশে ওড়ার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। দেশে-বিদেশে অধীর প্রতীক্ষায় ছিলেন কোটি কোটি বাংলাদেশি। এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে রাত জেগে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন দেশবাসী। তবে শেষ মুহূর্তে এসে আটকে গেলো স্যাটেলাইটটির উৎক্ষেপণ। কারিগরি জটিলতায় স্যাটেলাইটটি পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।

    এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৪ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট) স্যাটেলাইটটি আবারও উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‌স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্ত পুরোপুরি কম্পিউটারে নিয়ন্ত্রিত হয়। এসময় যদি স্যাটেলাইটের কোনো অংশ স্বাভাবিক নয় বলে কম্পিউটার খুঁজে পায়, তাহলে উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়।

  • উৎক্ষেপনের ৫৮ সেকেন্ডে আগে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন; একদিন পেছালো

    অনলাইন ডেস্ক:
    দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর মহাকাশ যাত্রার কাজ শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে এসে তা একদিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে স্পেসএক্স।

    বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৪২ মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও প্রাথমিক কাজ শুরুর পর তা বাতিল করা হয়।

    বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।