Author: bikedokan@gmail.com

  • ‘দেশের অর্জনকে অস্বীকার করছেন বিএনপি’

    অনলাইন ডেস্ক:

    আওয়ামী লীগের অর্জনকে অস্বীকার করতে গিয়ে দেশের অর্জনকে অস্বীকার করছেন বিএনপি। দেশের অর্জনকে স্বীকৃতি না দিয়ে বিএনপি ছোট মনের পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

    শনিবার (১২মে) দুপুরে রাজধানীর শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপ কমিটির আয়োজিত ‘মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিরসন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ

  • বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা; দেশব্যাপী পালনের নির্দেশ

    অনলাইন ডেস্ক:
    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ১৪ মে রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে দলটি।

    শনিবার (১২ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি জানান, রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও থানায় এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

  • বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করবে ১৮ বাংলাদেশি তরুণ

    ( জাগো কুমিল্লা.কম)
    নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে; মোবাইল সুবিধা যখন দেশে আসে বা বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো যখন একে একে চালু হতে শুরু করলো, তখনও বিদেশ থেকে টেকনেশিয়ান আমদানি করে তা চালানো হতো। কিন্তু আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রযুক্তিতে আর পিছিয়ে নেই।

    দেশ যখন প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে কোটি মানুষ, তখন গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশি ১৮ তরুণ।

    বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণে গত বছর গঠন করা হয় বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। গত এক বছরে বিসিএসসিএল সারাদেশ থেকে জোগাড় করেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনায় দক্ষ ৩০ তরুণকে। বিসিএসসিএলের অপারেশন ইউনিটে নিয়োগ পাওয়া ১৮ তরুণ দু’ভাগে গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পরিচালনা করবেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। বাকি ১২ জন থাকবেন গ্রাউন্ড স্টেশনের সিভিল ও ইঞ্জিনিয়ারিং সাইটে।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এসব মেধাবী তরুণকে খুঁজে আনা হয়েছে। লিখিত থেকে ভাইভা বোর্ডে ছিল দারুণ কড়াকড়ি। এসব তুরুণ গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্যাটেলাইট নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

    রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার শিপন চন্দ্র হালদার এ প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশের ৩০ মেধাবী তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। এ লক্ষ্যে তাদের ফ্রান্সে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া থ্যালেস অ্যালেনিয়ার কর্মকর্তারা দুই গ্রাউন্ড স্টেশনে শুরু থেকেই বাংলাদেশি তরুণদের নিয়ে কাজ করছেন। গত কিছুদিন ধরে থ্যালেস অ্যালেনিয়ার কর্মকর্তারা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের নিয়ে নিয়মিত ওয়ার্কসপও করছেন।’

    গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনের ব্যবস্থাপক ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলী নাসির উদ্দির বনি বলেন, ‘স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমাদের হাতেই। স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তিন মাসের মধ্যে এর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেবে বাংলাদেশ।’

    স্যাটেলাইট নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, উপগ্রহটি ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য সাতদিন সময় লাগবে। কয়েক দিন ধরে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর উপগ্রহটিকে পর্যায়ক্রমে বেতবুনিয়া ও গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

    বেতবুনিয়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন নিয়োজিত একাধিক প্রকৌশলী জাগো নিউজকে জানান, উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৩৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। এ জন্য সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন। এরপর থেকে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওই তিন গ্রাউন্ড স্টেশন স্যাটেলাইটকে তার কক্ষপথে সেট করবে। এর সাতদিন পর বাংলাদেশের পক্ষে স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেবে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন। এর মাঝেই চলতে থাকবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এ পক্রিয়া শেষ হতে ২০ দিন সময় লাগবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা ‘স্পেসএক্স’ এর ফ্যালকন-৯ রকেট ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চপ্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে মহাকাশের দিকে উড়াল দেবে। দুটি ধাপে এ উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া শেষ হবে। লঞ্চঅ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি) এবং স্যাটেলাইট ইন অরবিট। এলইওপি ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন সময় লাগবে।

    সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিংটেলের কান্ট্রি ম্যানেজার কাজী হাফিজ আল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রাউন্ড স্টেশন পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। যদিও আগামী প্রথম তিন মাস সরাসরি এবং পরের তিন বছর আমাদের পেছন থেকে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি হবে তিনটি ধাপে। প্রথম ধাপে আমাদের ছেলেরা ওদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শিখবে, পরের ধাপে সমানে সমান, অর্থাৎ ওরা একটা পরিচালনা করলে আমরা অন্যটা করবো, শেষ ধাপে বাংলাদেশি তরুণ বিজ্ঞানীরা দুটো গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেবে। তবে পেছন থেকে সাহয্য করবে থ্যালেসের বিজ্ঞানীরা। তিন বছর পর পুরোপুরি অর্থাৎ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে চলে আসবে।’

    নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক প্রকৌশলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন থেকেই স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত। মূলত আমরা সামনে থেকেই স্যাটেলাইটটি পরিচালনা করবো, বিদেশি বিজ্ঞানীরা পেছন থেকে আমাদের সহায়তা করবেন। গত দেড় বছরে বারবার বিষয়গুলো আমরা চর্চা করেছি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শুধু ওই বিষয়ে কাজ করছি।’
    আবহাওয়া ৭০% অনুকূলে, যথাসময়ে উৎক্ষেপণ : স্পেসএক্স

    তারা বলেন, ‘বর্তমানে ছয়জন প্রকৌশলী বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজের দেখভাল করছেন। এছাড়া অপারেশন ইউনিটের সবাই ঢাকার গাজীপুরে অবস্থান করছেন। স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে থ্যালেসের হাতে প্রশিক্ষিত প্রকৌশলীরা কে কোথায় দায়িত্ব পালন করবেন। দুই কন্ট্রোল স্টেশনে মূল অপারেশনে কাজ করবেন ১৮ জন।’

    এ প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘স্যাটেলাইট থাকবে মহাকাশে। তবে তার যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ হবে দেশের দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে। উপগ্রহটি ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথে (অরবিটে) ধরে রাখার কাজটি করবে গ্রাউন্ড স্টেশন। তবে উপগ্রহটি তার জায়গা থেকে মাঝে মাঝে সরে যেতে পারে। সেখানে আমাদের একটি ৭৫ কিলোমিটার জায়গা আছে। এর মধ্যে স্যাটেলাইটটিকে রাখতে হবে। কাজটিই এখান থেকেই করা হবে।’

    ‘এছাড়া স্যাটেলাইটের যাবতীয় মেইনটেন্যান্স কাজ দুই গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে করা হবে।’

    স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এটা তো আমাদের জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা। স্বাভাবিকভাবেই এখন বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি লোকবল আমাদের লাগবে। তবে আমরাও চাই এর শতভাগ যেন আমাদের আয়ত্তের মধ্যেই থাকে।’

    ‘অন্য কারো ওপর যেন নির্ভরশীল হতে না হয় সে চেষ্টা আমাদের রয়েছে। আগামী তিন বছর বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের জনবলের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। তো সে পর্যন্ত তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন’- যোগ করেন মন্ত্রী। সূত্র: জাগো নিউজ

  • ঢাকায় মাঝ আকাশে অল্পের জন্য রক্ষা পেলো ভারতীয় বিমান দুই বিমান!

    অনলাইন ডেস্ক:
    ঢাকার আকাশে অল্পের জন্য মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছে ভারতের দুইটি বিমান। গত ২ মে এই ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার (১১ মে) তা প্রকাশ করা হয়।কলকাতা থেকে আগরতলাগামী ইন্ডিগোর ফ্লাইট ৬ই৮৯২ এবং এয়ার ডেকানের ফ্লাইট ডিএন ৬০২ এর মধ্যে সংঘর্ষের এই শঙ্কা তৈরি হয়।

    ভারতীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো ও এয়ার ডেকানের দুটি বিমান মাঝ আকাশে একেবারে কাছাকাছি চলে এলেও স্বয়ংক্রিয় সতর্ক বার্তা পাওয়ার পর কৌশলে দুই বিমানের পাইলট তা এড়িয়ে নিরাপদ অবস্থানে যেতে সক্ষম হন।

    ভারতীয় সরকারি সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) বলছে, গত ২ মে বাংলাদেশের আকাশসীমায় এ দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ওইদিন কলকাতা থেকে আগরতলাগামী ইন্ডিগোর ফ্লাইট ৬ই৮৯২ ও এয়ার ডেকানের ফ্লাইট ডিএন ৬০২ এর সংঘর্ষের শঙ্কা তৈরি হয়।

    ওইদিন এ দুটি ফ্লাইটের মুখোমুখি দূরত্ব মাত্র ৭০০ মিটারে চলে আসে। এ ঘটনায় তদন্তের পর ভারতের বিমান তদন্ত সংস্থা বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি) ‘ভয়ানক’ বলে মন্তব্য করেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের এসব বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • গায়ের চামড়া খসে পড়ছে জাহাঙ্গীরের

    অনলাইন ডেস্ক:
    সারা গায়ের চামড়া-মাংস শক্ত হয়ে খসে খসে পড়ছে জাহাঙ্গীরের। অর্থাভাবে চিকিৎসা নেই। বিরল এই রোগের কারণে স্ত্রীও তাকে ত্যাগ করে চলে গেছে। এখন অসহায় অবস্থায় বৃদ্ধা মায়ের আঁচলের তলে মৃত্যুর অপেক্ষা করছেন তিনি।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা করা হলে হয়তো সুস্থ হতে পারে জাহাঙ্গীর। কিন্তু সেই চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তাই বেঁচে থাকার দুয়ার যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তার।

    যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ায় রেললাইনের পাশেই টিনের একটি ঘরের মধ্যেই দিন কাটে জাহাঙ্গীরের (৩৬)। ওই এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর ছিলেন যশোর-বেনাপোল রুটের বাসের চালক।

    তিনি জানান, প্রায় ১২ বছর আগে তার বাম হাতে কালো একটি স্পট দেখা দেয়। এরপর আস্তে আস্তে সেটি বড় ও শক্ত হয়ে যায়। প্রথম পর্যায়ে এই অবস্থা হাতে ও পিঠে থাকলেও গত ৩/৪ বছর হলো তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এখন সারা শরীরের চামড়া ও মাংস শক্ত হয়ে পচন ধরেছে। গোটা শরীরেই তার দগদগে ঘা। এই অবস্থায় গত এক বছর ধরে ওই ছোট্ট ঘরই তার দুনিয়া। কষ্ট ও যন্ত্রণা নিয়ে ওই ঘরেই জীবন কাটে তার।

    কিন্তু দিন এমন ছিল না জাহাঙ্গীরের। তিনি জানান, যশোর-বেনাপোল রুটের বাস চালিয়ে তাদের জীবন ও সংসার ভালোই কেটে যেতো। এরই মধ্যে ৮ বছর আগে একই এলাকার শিউলি খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর তাদের ছেলেও হয়। তার নাম রাখেন পরশ। কিন্তু এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরের দেহে বিরল এই রোগ আরও বিস্তার লাভ করতে শুরু করে। রোগের কারণে বছর চারেক আগে স্ত্রী শিউলিও তাকে ত্যাগ করে ছেলে নিয়ে চলে গেছে। নতুন করে সে (স্ত্রী) বিয়েও করেছে। এখন মা জয়গুন নেছাই তার শেষ আশ্রয়।জয়গুন নেছা জানান, সারা গায়ে এই রোগের কারণে জাহাঙ্গীর নড়াচড়াও করতে পারে না। সারাদিন এভাবেই বসে থাকে। খাটের উপরেই তার বাথরুম করতে হয়।

    কান্না কণ্ঠে তিনি বলেন, আগে ছেলের আয়ে সংসার চলতো। এখন সে বিছানায়। আরেক মেয়ে বাসা-বাড়িতে কাজ করে যে আয় করে তার সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাদের কোনো মতে দিন চলে। তাই চিকিৎসা আর করা হয়ে ওঠে না জাহাঙ্গীরের।

    ওই এলাকার সমাজকর্মী তোফাজ্জেল হোসেন মানিক জানান, ডা. সৈয়দ আল-আমিন, ডা. লতিফ উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ’র কাছে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারা বলেছেন, এই রোগের চিকিৎসা যশোরে হবে না। তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। সেটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এরপর আর অর্থাভাবে চিকিৎসা হয়নি তার।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহাঙ্গীর বলেন, ভালো মানুষগুলো যদি সাহায্য সহযোগিতা করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো তাহলে হয়তো আমাকে এভাবে যন্ত্রণায় দিন কাটাতে হতো না। এজন্য তিনি সকলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে এই ০১৭৬২-৬১২৮৯১ নম্বরে

  • মহাকাশে লাল সবুজের পদচিহ্ন : আনন্দে কাঁদলেন জয়

    অনলাইন ডেস্ক:

    মহাকাশের বুকে লাল সবুজের পদচিহ্ন আঁকতে ছুটে চলেছে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১। দীর্ঘ স্বপ্নযাত্রার সফল বাস্তবায়ন হলো অবশেষে। কোটি বাঙালির আনন্দ প্রকাশের এক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হলো শুক্রবারের রাত। যে রাতে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর সফল উৎক্ষেপণ হলো।

    অচেনা এক জগতে বিচরণ করবে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। যে মহাকাশের বুকে ঘুরছে বিশ্বের ৫৬টি দেশের দুই হাজারের বেশি স্যাটেলাইট, সেই মহাকাশের এলিট শ্রেণির ক্লাবে যুক্ত হলো এবার লাল-সবুজের বাংলাদেশ। শুক্রবার (১২ মে, ২০১৮) দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে রচিত হলো ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল এক অধ্যায়।

    বাংলাদেশের এ স্বপ্নযাত্রায় অনেকেই আজ আনন্দে আত্মহারা। চোখে বইছে আনন্দ অশ্রু। মুষ্ঠিবদ্ধ হাত শূন্যে ছুড়ে আজ বিশ্বের বুকে বাংলাদেশিরা জানান দিচ্ছে মহাকাশে স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশের সদস্য এখন আমরাও।

    মহাকাশপানে বঙ্গবন্ধু-১ যখন সফল যাত্রা শুরু করে ঠিক তার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্ঠা সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ধরে রাখতে পারেননি আবেগ। আনন্দ্র অশ্রু গাল বেয়ে পড়েছে তার।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক নতুন যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। দেশের এ নতুন যাত্রাকে এগিয়ে নেবে তরুণ প্রজন্ম। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু-১।

    বঙ্গবন্ধু-১ এর সফল উৎক্ষেপণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড-৩৯ এ থেকে কক্ষপথে উড়াল দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে গ্রাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়ায় তা বাতিল করা হয়।

    পুনর্নিধারিত সময়ে ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে রওনা হয় নিজস্ব কক্ষপথে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড ৩৯ এ থেকে মহাকাশের বুকে লাল সবুজের পদচিহ্ন আঁকতে ছুটে চলছে বঙ্গবন্ধু-১।

    মার্কিন মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স সফল উৎক্ষেপণের খবর দিয়ে টুইটে বলেছে, স্যাটেলাইটের প্রথম ধাপের পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্যালকন-৯ রকেট ইতোমধ্যে ভূপৃষ্ঠে ফিরে এসেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিটে সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছে বঙ্গবন্ধু-১।

    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এক টুইট বার্তায় স্পেসএক্স জানায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণে ফ্যালকন ৯ এর সব সিস্টেম ভালো রয়েছে। আজ উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়া ৭০ শতাংশ অনুকূলে রয়েছে।

    প্রথম চেষ্টায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্সের ইঞ্জিনিয়ার মাইকেল হ্যামারসলি বলেছিলেন, ‘উৎক্ষেপণ বাতিল করাটা মানসম্মত প্রক্রিয়ার একটি অংশ। এটা নিশ্চিত করা ভালো যে, ফ্যালকন ৯ উড়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। গ্রাউন্ড এবং ভেহিকল সিস্টেম ভালো রয়েছে। উৎক্ষেপণের সময় কোনো সমস্যা এড়ানোর জন্য ডাবল চেকিং বেশি গ্রহণযোগ্য।

    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের কাজ আবারো শুরু হয়। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখার অপেক্ষায় ছিল আজ পুরো দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

    বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। গত ২৮ মার্চ (বুধবার) কানের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস প্ল্যান্ট ত্যাগ করে স্যাটেলাইটটি। পরে স্যাটেলাইট বহনকারী কার্গো বিমান অ্যানতোনোভ নাইস বিমানবন্দর থেকে ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

    ওই দিন ফ্রান্সের স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। ২৯ মার্চ বোস্টনে যাত্রাবিরতির করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বহনকারী কার্গোবিমান। ৩০ মার্চ এটি ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল পৌঁছায়।

    ২০১৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নির্মাণের জন্য ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি সই করে। ওই বছর মূল স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শুরু হলেও এর প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে।

    বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাঠানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার কাছে থেকে মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি প্রায় ২১৯ কোটি টাকায) কেনা হয় এ স্লট। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উড়বে এখানেই।

  • বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করবে ১৮ বাংলাদেশি তরুণ

    ( জাগো কুমিল্লা.কম)
    নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে; মোবাইল সুবিধা যখন দেশে আসে বা বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো যখন একে একে চালু হতে শুরু করলো, তখনও বিদেশ থেকে টেকনেশিয়ান আমদানি করে তা চালানো হতো। কিন্তু আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রযুক্তিতে আর পিছিয়ে নেই।

    দেশ যখন প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে কোটি মানুষ, তখন গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশি ১৮ তরুণ।

    বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণে গত বছর গঠন করা হয় বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। গত এক বছরে বিসিএসসিএল সারাদেশ থেকে জোগাড় করেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনায় দক্ষ ৩০ তরুণকে। বিসিএসসিএলের অপারেশন ইউনিটে নিয়োগ পাওয়া ১৮ তরুণ দু’ভাগে গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পরিচালনা করবেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। বাকি ১২ জন থাকবেন গ্রাউন্ড স্টেশনের সিভিল ও ইঞ্জিনিয়ারিং সাইটে।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এসব মেধাবী তরুণকে খুঁজে আনা হয়েছে। লিখিত থেকে ভাইভা বোর্ডে ছিল দারুণ কড়াকড়ি। এসব তুরুণ গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্যাটেলাইট নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

    রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার শিপন চন্দ্র হালদার এ প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশের ৩০ মেধাবী তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। এ লক্ষ্যে তাদের ফ্রান্সে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া থ্যালেস অ্যালেনিয়ার কর্মকর্তারা দুই গ্রাউন্ড স্টেশনে শুরু থেকেই বাংলাদেশি তরুণদের নিয়ে কাজ করছেন। গত কিছুদিন ধরে থ্যালেস অ্যালেনিয়ার কর্মকর্তারা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের নিয়ে নিয়মিত ওয়ার্কসপও করছেন।’

    গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনের ব্যবস্থাপক ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলী নাসির উদ্দির বনি বলেন, ‘স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমাদের হাতেই। স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তিন মাসের মধ্যে এর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেবে বাংলাদেশ।’

    স্যাটেলাইট নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, উপগ্রহটি ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য সাতদিন সময় লাগবে। কয়েক দিন ধরে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর উপগ্রহটিকে পর্যায়ক্রমে বেতবুনিয়া ও গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

    বেতবুনিয়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন নিয়োজিত একাধিক প্রকৌশলী জাগো নিউজকে জানান, উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৩৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। এ জন্য সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন। এরপর থেকে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওই তিন গ্রাউন্ড স্টেশন স্যাটেলাইটকে তার কক্ষপথে সেট করবে। এর সাতদিন পর বাংলাদেশের পক্ষে স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেবে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন। এর মাঝেই চলতে থাকবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এ পক্রিয়া শেষ হতে ২০ দিন সময় লাগবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা ‘স্পেসএক্স’ এর ফ্যালকন-৯ রকেট ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চপ্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে মহাকাশের দিকে উড়াল দেবে। দুটি ধাপে এ উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া শেষ হবে। লঞ্চঅ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি) এবং স্যাটেলাইট ইন অরবিট। এলইওপি ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন সময় লাগবে।

    সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিংটেলের কান্ট্রি ম্যানেজার কাজী হাফিজ আল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রাউন্ড স্টেশন পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। যদিও আগামী প্রথম তিন মাস সরাসরি এবং পরের তিন বছর আমাদের পেছন থেকে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি হবে তিনটি ধাপে। প্রথম ধাপে আমাদের ছেলেরা ওদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শিখবে, পরের ধাপে সমানে সমান, অর্থাৎ ওরা একটা পরিচালনা করলে আমরা অন্যটা করবো, শেষ ধাপে বাংলাদেশি তরুণ বিজ্ঞানীরা দুটো গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেবে। তবে পেছন থেকে সাহয্য করবে থ্যালেসের বিজ্ঞানীরা। তিন বছর পর পুরোপুরি অর্থাৎ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে চলে আসবে।’

    নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক প্রকৌশলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন থেকেই স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত। মূলত আমরা সামনে থেকেই স্যাটেলাইটটি পরিচালনা করবো, বিদেশি বিজ্ঞানীরা পেছন থেকে আমাদের সহায়তা করবেন। গত দেড় বছরে বারবার বিষয়গুলো আমরা চর্চা করেছি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শুধু ওই বিষয়ে কাজ করছি।’
    আবহাওয়া ৭০% অনুকূলে, যথাসময়ে উৎক্ষেপণ : স্পেসএক্স

    তারা বলেন, ‘বর্তমানে ছয়জন প্রকৌশলী বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজের দেখভাল করছেন। এছাড়া অপারেশন ইউনিটের সবাই ঢাকার গাজীপুরে অবস্থান করছেন। স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে থ্যালেসের হাতে প্রশিক্ষিত প্রকৌশলীরা কে কোথায় দায়িত্ব পালন করবেন। দুই কন্ট্রোল স্টেশনে মূল অপারেশনে কাজ করবেন ১৮ জন।’

    এ প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘স্যাটেলাইট থাকবে মহাকাশে। তবে তার যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ হবে দেশের দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে। উপগ্রহটি ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথে (অরবিটে) ধরে রাখার কাজটি করবে গ্রাউন্ড স্টেশন। তবে উপগ্রহটি তার জায়গা থেকে মাঝে মাঝে সরে যেতে পারে। সেখানে আমাদের একটি ৭৫ কিলোমিটার জায়গা আছে। এর মধ্যে স্যাটেলাইটটিকে রাখতে হবে। কাজটিই এখান থেকেই করা হবে।’

    ‘এছাড়া স্যাটেলাইটের যাবতীয় মেইনটেন্যান্স কাজ দুই গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে করা হবে।’

    স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এটা তো আমাদের জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা। স্বাভাবিকভাবেই এখন বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি লোকবল আমাদের লাগবে। তবে আমরাও চাই এর শতভাগ যেন আমাদের আয়ত্তের মধ্যেই থাকে।’

    ‘অন্য কারো ওপর যেন নির্ভরশীল হতে না হয় সে চেষ্টা আমাদের রয়েছে। আগামী তিন বছর বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের জনবলের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। তো সে পর্যন্ত তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন’- যোগ করেন মন্ত্রী। সূত্র: জাগো নিউজ

  • মহাকাশেও লাল সবুজের গৌরবগাঁথা দেখল বিশ্ব

    ( জাগো কুমিল্লা.কম)
    মহাকাশের পথে পাড়ি জমাল বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। আজ শুক্রবার (১১ মে) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর কেপ কেনেডি সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে মহাকাশের পথে উড়াল দেয় বঙ্গবন্ধু-১।

    এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিয়ে অবস্মরণীয় এক অর্জন হলো বাংলাদেশের। বহু আগেই বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার মহাকাশেও লাল সবুজের গৌরবগাঁথা দেখল বিশ্ব। ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠালো বাংলাদেশ।

    এ পর্যন্ত কয়েকবার তারিখ বদলানোর পর আজ প্রতীক্ষার অবসান হলো। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন-৯ ব্লক-৫ রকেটের চেপে আকাশে উড়াল দেয় সাড়ে তিন হাজার কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইট।

    রকেটটি মহাকাশে বাংলাদেশের ভাড়া নেওয়া অরবিটার স্লট ১১৯.৯ ডিগ্রিতে নিয়ে যাবে স্যাটেলাইটটিকে।

    উৎক্ষেপণের ৮ দিন পর স্যাটেলাইটটি অরবিটাল স্লটে প্রতিস্থাপিত হয়ে সংকেত পাঠাতে শুরু করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে।

    জানা যায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে ২৬টি ‍কু-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার ও ১৪টি সি-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এটি সক্রিয় হলে দেশের টেলিভিশন ও ব্রডব্যান্ড যোগাযোগে উন্নতি ঘটবে। এ স্যাটেলাইটের কারণে ৩ ধরনের সেবা ও ৪০ ধরনের সুফল পাবে দেশবাসী।

    স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের হয়েছে। প্রথমত, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরে নতুন তারিখ ঠিক হয় এ বছরের ১ মার্চ। আবারও পরিবর্তন হয় সম্ভাব্য তারিখ। নতুন তারিখ ধরা হয় মার্চের শেষ সপ্তাহ বা ২৬-৩১ মার্চের মধ্যে যেকোনও দিন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও মহাকাশে ওড়েনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। বেশ কয়েকবার তারিখ নির্ধারণের পরও স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করতে দেরি হচ্ছিল। সর্বশেষ গত ১০ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আটকে যায় স্যাটেলাইটটির উৎক্ষেপণ। কারিগরি জটিলতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা স্পেসএক্স। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, উৎক্ষেপণের একেবারে চূড়ান্ত পর্বে এসে গ্রাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা হওয়ায় আকাশে উড়তে পারেনি স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।

    উৎক্ষেপণ স্থগিতের পর স্পেসএক্স এক টুইট বার্তায় বলেছে, ‘ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া এক মিনিট আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থমকে যেতে হয়েছে। রকেট এবং পেলোড ভালো অবস্থায় আছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৪ মিনিটে আবারও উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে একটি দল কাজ শুরু করেছে।’ সে অনুযায়ী আজ রাত ২টা ১৪মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয় স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।

    স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান। স্যাটেলাইটের কাঠামো তৈরি, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানটির। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০টি ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অন্যগুলো ভাড়া দেওয়া হবে। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করা হয়েছে গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে।

    ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রির অরবিটাল স্লটে (নিরক্ষরেখায়) উড়বে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের জন্য ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ১৫ বছরের জন্য অরবিটাল স্লট বা নিরক্ষরেখা (১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি) লিজ নিয়েছে বাংলাদেশ। ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে এ স্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সে সময় উৎক্ষেপণ সম্ভব হয়নি। ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি হলেও এ চুক্তি তিন ধাপে ৪৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। এই প্রকল্পে সরকারের যে টাকা খরচ হবে তা স্যাটেলাইট ভাড়া দিয়ে ৮ বছরে তুলে এনে এই প্রকল্পকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারলে বছরে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার সাশ্রয় হবে বাংলাদেশের। নিজস্ব স্যাটেলাইট না থাকায় এখন অন্য দেশের স্যাটেলাইট ভাড়া করে প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে দেশের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট ভাড়া করে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে আসছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট হলে ভাড়ার টাকা আর বিদেশে পাঠাতে হবে না। ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ডলার। এই পরিমাণ অর্থ সরকার প্রতি বছর রাজস্ব হিসেবে আয় করতে পারবে।

  • বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করবে ১৮ বাংলাদেশি তরুণ

    ( জাগো কুমিল্লা.কম)
    নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে; মোবাইল সুবিধা যখন দেশে আসে বা বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো যখন একে একে চালু হতে শুরু করলো, তখনও বিদেশ থেকে টেকনেশিয়ান আমদানি করে তা চালানো হতো। কিন্তু আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রযুক্তিতে আর পিছিয়ে নেই।

    দেশ যখন প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে কোটি মানুষ, তখন গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশি ১৮ তরুণ।

    বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণে গত বছর গঠন করা হয় বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। গত এক বছরে বিসিএসসিএল সারাদেশ থেকে জোগাড় করেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনায় দক্ষ ৩০ তরুণকে। বিসিএসসিএলের অপারেশন ইউনিটে নিয়োগ পাওয়া ১৮ তরুণ দু’ভাগে গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পরিচালনা করবেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। বাকি ১২ জন থাকবেন গ্রাউন্ড স্টেশনের সিভিল ও ইঞ্জিনিয়ারিং সাইটে।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এসব মেধাবী তরুণকে খুঁজে আনা হয়েছে। লিখিত থেকে ভাইভা বোর্ডে ছিল দারুণ কড়াকড়ি। এসব তুরুণ গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্যাটেলাইট নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

    রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার শিপন চন্দ্র হালদার এ প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশের ৩০ মেধাবী তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। এ লক্ষ্যে তাদের ফ্রান্সে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া থ্যালেস অ্যালেনিয়ার কর্মকর্তারা দুই গ্রাউন্ড স্টেশনে শুরু থেকেই বাংলাদেশি তরুণদের নিয়ে কাজ করছেন। গত কিছুদিন ধরে থ্যালেস অ্যালেনিয়ার কর্মকর্তারা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের নিয়ে নিয়মিত ওয়ার্কসপও করছেন।’

    গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনের ব্যবস্থাপক ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলী নাসির উদ্দির বনি বলেন, ‘স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমাদের হাতেই। স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তিন মাসের মধ্যে এর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেবে বাংলাদেশ।’

    স্যাটেলাইট নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, উপগ্রহটি ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য সাতদিন সময় লাগবে। কয়েক দিন ধরে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর উপগ্রহটিকে পর্যায়ক্রমে বেতবুনিয়া ও গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

    বেতবুনিয়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন নিয়োজিত একাধিক প্রকৌশলী জাগো নিউজকে জানান, উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৩৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। এ জন্য সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন। এরপর থেকে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওই তিন গ্রাউন্ড স্টেশন স্যাটেলাইটকে তার কক্ষপথে সেট করবে। এর সাতদিন পর বাংলাদেশের পক্ষে স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেবে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন। এর মাঝেই চলতে থাকবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এ পক্রিয়া শেষ হতে ২০ দিন সময় লাগবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা ‘স্পেসএক্স’ এর ফ্যালকন-৯ রকেট ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চপ্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে মহাকাশের দিকে উড়াল দেবে। দুটি ধাপে এ উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া শেষ হবে। লঞ্চঅ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি) এবং স্যাটেলাইট ইন অরবিট। এলইওপি ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন সময় লাগবে।

    সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিংটেলের কান্ট্রি ম্যানেজার কাজী হাফিজ আল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রাউন্ড স্টেশন পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। যদিও আগামী প্রথম তিন মাস সরাসরি এবং পরের তিন বছর আমাদের পেছন থেকে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি হবে তিনটি ধাপে। প্রথম ধাপে আমাদের ছেলেরা ওদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শিখবে, পরের ধাপে সমানে সমান, অর্থাৎ ওরা একটা পরিচালনা করলে আমরা অন্যটা করবো, শেষ ধাপে বাংলাদেশি তরুণ বিজ্ঞানীরা দুটো গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেবে। তবে পেছন থেকে সাহয্য করবে থ্যালেসের বিজ্ঞানীরা। তিন বছর পর পুরোপুরি অর্থাৎ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে চলে আসবে।’

    নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক প্রকৌশলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন থেকেই স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত। মূলত আমরা সামনে থেকেই স্যাটেলাইটটি পরিচালনা করবো, বিদেশি বিজ্ঞানীরা পেছন থেকে আমাদের সহায়তা করবেন। গত দেড় বছরে বারবার বিষয়গুলো আমরা চর্চা করেছি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শুধু ওই বিষয়ে কাজ করছি।’
    আবহাওয়া ৭০% অনুকূলে, যথাসময়ে উৎক্ষেপণ : স্পেসএক্স

    তারা বলেন, ‘বর্তমানে ছয়জন প্রকৌশলী বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজের দেখভাল করছেন। এছাড়া অপারেশন ইউনিটের সবাই ঢাকার গাজীপুরে অবস্থান করছেন। স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে থ্যালেসের হাতে প্রশিক্ষিত প্রকৌশলীরা কে কোথায় দায়িত্ব পালন করবেন। দুই কন্ট্রোল স্টেশনে মূল অপারেশনে কাজ করবেন ১৮ জন।’

    এ প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘স্যাটেলাইট থাকবে মহাকাশে। তবে তার যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ হবে দেশের দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে। উপগ্রহটি ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথে (অরবিটে) ধরে রাখার কাজটি করবে গ্রাউন্ড স্টেশন। তবে উপগ্রহটি তার জায়গা থেকে মাঝে মাঝে সরে যেতে পারে। সেখানে আমাদের একটি ৭৫ কিলোমিটার জায়গা আছে। এর মধ্যে স্যাটেলাইটটিকে রাখতে হবে। কাজটিই এখান থেকেই করা হবে।’

    ‘এছাড়া স্যাটেলাইটের যাবতীয় মেইনটেন্যান্স কাজ দুই গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে করা হবে।’

    স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এটা তো আমাদের জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা। স্বাভাবিকভাবেই এখন বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি লোকবল আমাদের লাগবে। তবে আমরাও চাই এর শতভাগ যেন আমাদের আয়ত্তের মধ্যেই থাকে।’

    ‘অন্য কারো ওপর যেন নির্ভরশীল হতে না হয় সে চেষ্টা আমাদের রয়েছে। আগামী তিন বছর বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের জনবলের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। তো সে পর্যন্ত তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন’- যোগ করেন মন্ত্রী। সূত্র: জাগো নিউজ

  • ‘কিছুক্ষণ পর উৎক্ষেপণ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘

    অনলাইন ডেস্ক:
    প্রথম দফায় চূড়ান্ত পর্যায়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে থমকে যাওয়া বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর উৎক্ষেপণের ক্ষণগণনা আবারো শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড-৩৯ এ থেকে কক্ষপথে উড়াল দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গ্রাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়ায় তা বাতিল করা হয়।

    নতুন করে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) মহাকাশপানে ছুটছে বঙ্গবন্ধু-১। সবকিছু ঠিক থাকলে আর কিছুক্ষণ পরই বাংলাদেশের প্রথম মহাকাশ যাত্রার প্রত্যক্ষদর্শী হবে বিশ্বের লাখো মানুষ।

    মহাকাশে বাংলাদেশের এ বিজয় যাত্রার সঙ্গী মার্কিন মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এক টুইট বার্তায় স্পেসএক্স জানায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণে ফ্যালকন ৯ এর সব সিস্টেম ভালো রয়েছে। আজ উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়া ৭০ শতাংশ অনুকূলে রয়েছে।

    টুইটে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া আজ আবারো রাত ২টা ১৪ মিনিটে শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্লোরিডা ট্যুডে এক প্রতিবেদনে বলছে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বৃহস্পতিবারের চেয়ে আজকের (১২মে) আবহাওয়া কম অনুকূলে রয়েছে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য যে আবহাওয়ার প্রয়োজন সেদিক বিবেচনায় আজকের আবহাওয়া ৬০ শতাংশ অনুকূলে রয়েছে।

    প্রথম চেষ্টায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্সের ইঞ্জিনিয়ার মাইকেল হ্যামারসলি বলেন, ‘উৎক্ষেপণ বাতিল করাটা মানসম্মত প্রক্রিয়ার একটি অংশ। এটা নিশ্চিত করা ভালো যে, ফ্যালকন ৯ উড়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। গ্রাউন্ড এবং ভেহিকল সিস্টেম ভালো রয়েছে। উৎক্ষেপণের সময় কোনো সমস্যা এড়ানোর জন্য ডাবল চেকিং বেশি গ্রহণযোগ্য।

    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের কাজ আবারো শুরু হবে।

    বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখার অপেক্ষায় ছিল আজ পুরো দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে উৎক্ষেপণের কাজ শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে কারিগরি ত্রুটির কারণে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের যাত্রা বাতিল করে স্পেসএক্স।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্ত পুরোপুরি কম্পিউটারে নিয়ন্ত্রিত হয়। এসময় যদি স্যাটেলাইটের কোনো অংশ স্বাভাবিক নয় বলে কম্পিউটার খুঁজে পায়, তাহলে উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়।

    তিনি বলেন, উৎক্ষেপণের মাত্র ৪২ সেকেন্ড আগে তা বাতিল করা হয়েছে। স্পেসএক্স সবকিছু যাচাই-বাছাই করবে এবং শুক্রবার একই সময়ে উৎক্ষেপণের প্রচেষ্টা আবারো শুরু হবে। ঝুঁকি নিতে না চাইলে এটা রকেট উৎক্ষেপণের সময় একেবারে স্বাভাবিক একটি ঘটনা।