Wednesday, 26 August 2026 ইপেপার

আদালতের আদেশ অমান্যের স্বীকারোক্তি; ক্ষমা চেয়ে পদ থেকে অব্যাহতি নিলেন সুজন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে চেয়ার থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দেওয়া বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক আমনিুল ইসলাম সুজন স্বীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তার নিকট লিখিত ভাবে অব্যহতিপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম। একই সাথে আদালতের আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসার দায় স্বীকার করে সুজন। ১০ আগষ্ট স্বাক্ষরিত অব্যহতিপত্রটি জমা দেন আমিনুল ইসলাম সুজন৷ সুজন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার মামলায় একাধিক বার গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে ছিলেন। সে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

অব্যাহতিপত্রে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক সুজন উল্লেখ্য করেন, ‘গত বছরের ২০ নভেম্বর আমি মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করি। উক্ত রিট পিটিশনে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ গত ২০ জানুয়ারী আমার আবেদনটি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন। আমি সেই অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সম্মানিত সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পূর্বের সভাপতি মোঃ জামসেদ আলমের বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ ও আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদানের কপি সংযুক্ত করে সভাপতি মহোদয়ের বরাবর আবেদন পত্র প্রদান করি। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ সঠিকভাবে বুঝতে না পারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে অনিচ্ছাকৃত ভুল-বশত যোগদানের একটি অবগত পত্র প্রেরণ করি। উক্ত পত্রকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে বর্তমান বিষয়টি পুনরায় মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা করে আমি স্বেচ্ছায় প্রধান শিক্ষক পদ হতে অব্যাহতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

আদালতের রিট পিটিশনের অপব্যাখ্যা করে বিদ্যালয়ে মব তৈরি করে সুজন। গত ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেয় তার অনুসারীরা। মারধর করা হয় তাকে। এরই প্রেক্ষিতে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক সুজনকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে আদালত করে আদালত৷ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলাম জানান, এখনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করে আছেন সুজন৷ শিক্ষকদের হাজিরা খাতা তার অধীনে লুকিয়ে রেখেছেন৷ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা যেন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না পারেন তার জন্য নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।

এই বিষয়ে জানতে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজনকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজনের অব্যাহতিপত্রটি পেয়েছি। মাউশি থেকে যে আদেশ আসবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷

প্রসঙ্গত, আমিনুল ইসলাম সুজন ২০০৪ সাল থেকে নিজেকে বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। তবে ২০২৩ সালে এক সহকারী শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, তিনি জাল নথিপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই পদটি দখল করেছিলেন। কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিস এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক তদন্তে তার নিয়োগ ‘জাল ও অনিয়মিত’ বলে প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *