Category: হোমনা

  • কুমিল্লায় পরকীয়া প্রেমিকের হাতেই খুন হয়  মা- ছেলেসহ ৩ জন! ঘাতক আটক

    অনলাইন ডেস্ক:

    কুমিল্লায় মা-ছেলে ও ভাতিজিসহ তিনজনকে হত্যার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে হোমনার শ্রীমদ্দি চরের গাও এলাকা থেকে অভিযুক্ত আক্তার হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের বড় ঘাগুটিয়া গ্রামে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন- ঘাগুটিয়া এলাকার মো. শাহপরানের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার (৩৫), তাদের ৯ বছরের ছেলে সাহাত এবং ভাতিজী তিশা (১৪)।

    হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, নিহত মাহমুদার সঙ্গে গ্রেপ্তার আক্তার হোসেনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেম ছিল। এই সুবাদে আক্তারের কাছ থেকে মাহমুদা ৪০ হাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আক্তার তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আক্তারকে পাওনা টাকা ফেরত দেবেন বলে বাড়িতে ডাকেন মাহমুদা। এক পর্যায়ে দুজন তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মাহমুদার মাথায় আঘাত করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন প্রেমিক আক্তার।

    এ ঘটনা দেখে ফেলায় মাহমুদার ছেলে সাহাত এবং ভাতিজী তিশাকেও মাথায় আঘাত করে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান আক্তার। পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা তাদের লাশ দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

    তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহত মাহমুদার বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এরপর শুরু হয় তদন্ত। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আক্তারকে শনাক্ত করতে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    শনিবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আক্তার।

  • কুমিল্লায় বসত ঘর থেকে  মা ও শিশুসহ ৩ জনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার!

    মারুফ আবদুল্লাহ, কুমিল্লা

    কুমিল্লার হোমনায় মা ও শিশুসন্তানসহ তিন জনকে ঘরে ঢুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে উপজেলার বড় ঘাগুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন।

    নিহতরা হলেন– বড় ঘাগুটিয়া গ্রামের শাহ পরানের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৩৫), তাদের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৯) এবং ভাগনি তিশা আক্তার (১৪)।

    ওসি জানান, শাহ পরান ঢাকায় চাকরি করেন। বুধবার রাতে তার স্ত্রী, শিশু সন্তান এবং প্রতিবেশী মামাতো ভাইয়ের কিশোরী মেয়ে তিশা ঘুমিয়েছিলেন। রাতের কোনও এক সময় তাদের দুর্বৃত্তরা  হত্যা করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে খাটের ওপর রেখে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা তিন জনের মরদেহ একই কক্ষে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

  • কুমিল্লায় ব্যবসায়ীকে হাত পা কেটে হত্যা: সাতজনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড!

    মাহফুজ নান্টু:

    কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ব্যবসায়ী সাদেক মিয়া হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানারও আদেশ দেওয়া হয়।

    আজ রোববার (১৯ মে) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এই রায় দেন। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান কাজল জানান, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই ছোট গানিয়ারচর এলাকার ব্যবসায়ী মো. সাদেক মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাত পা কেটে ফেলে রাখা হয় ধনিয়াক্ষেতে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন সকাল ৮টায় মৃত্যুবরণ করে সাদেক মিয়া। এই ঘটনায় সাদেক মিয়ার স্ত্রী রেখা আক্তার ১৮ জনের বিরুদ্ধে হোমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

    পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানির পর আদালত সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনের যাবজ্জীবনকে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত তিন আসামি এবং বেকসুর খালাস পাওয়া একজন উপস্থিত ছিলেন।

    বাদী পক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান বাবুল বলেন রায়ে স্বজনরা সন্তুষ্ট। এখন রায় দ্রুত কার্যকর হলেই ভালো হবে। এদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা জানান, তারা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

  • বলী খেলায় কুমিল্লার বাঘা শরীফের রাজত্ব: এবারে কক্সবাজারে টানা দ্বিতীয় বার চ্যাম্পিয়ন !

    অনলাইন ডেস্ক:

    কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী ডিসি সাহেবের বলী খেলায় টানা দ্বিতীয় বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লা হোমনার বাঘা শরীফ বলী। শনিবার (১১ মে) বিকেলে কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে বলী খেলার ৬৯তম আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।

    ফাইনালে মুখোমুখি হন বাঘা শরীফ বলী ও কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ছনখোলা পাড়ার শাহেদ হোসেন কালু বলী। এতে চ্যাম্পিয়ন হন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাঘা শরীফ বলী।

    এর আগে এক নম্বর মেডেলের বাছাইয়ের প্রথম খেলায় মহেশখালীর শফি বলীকে পরাজিত করে এক নম্বর মেডেলের ফাইনাল খেলার টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি। ওই মেডেলের দ্বিতীয় বাছাইয়ে কুমিল্লা সদরের রাশেদ মালকে পরাজিত করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন কালু বলী।ফাইনালে আট মিনিট লড়াইয়ের পর বাঘা শরীফের কাছে হার মানতে হয় কালুকে ।এ খেলায় দুই নম্বর মেডেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মহেশখালীর মোহাম্মদ হোসেন বলী। তিন নম্বর মেডেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মহেশখালীর শফি উল্লাহ বলী।

    খেলার ৬৮তম আসরে টানা ৪০ মিনিটেও কেউ কাউকে কুপোকাত করতে না পারায় যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় কুমিল্লার বাঘা শরীফ ও কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার নুর মোহাম্মদ বলীকে।

    বলী খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম।

    তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গ্রাম্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। যারা খেলছেন তাদের যত্ন করা আমাদের উচিত। গ্রামীণ খেলাধুলাকে আরও প্রসার করতে উচ্চ পর্যায়ে সুপারিশ থাকবে।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহিদ ইকবাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিভীষণ কান্তি দাশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন ও খেলা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন কবির প্রমুখ।

    চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ বলীকে ২৫ হাজার টাকা প্রাইজ মানি ও ট্রফি, রানারআপ কালু বলীকে ১৫ হাজার টাকা ও ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

    দুই নম্বর মেডেলে চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ হোসেন বলীকে ১২ হাজার টাকার প্রাইজ মানি, ট্রফি, রানারআপ লালু বলীকে আট হাজার টাকা প্রাইজ মানি ও ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

    তিন নম্বর মেডেলে চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ শফি উল্লাহ বলীকে ১০ হাজার টাকা প্রাইজ মানি, ট্রফি এবং রানারআপ আমিন বলীকে সাত হাজার টাকা প্রাইজ মানি ও ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

  • জব্বারের বলী খেলায় এবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার বাঘা শরীফ!

    অনলাইন ডেস্ক:

    চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলায় এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার হোমনা থানা এলাকার বাঘা শরীফ বলী।  বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বলী খেলার এবারের ১১৫তম আসরের ফাইনালে কুমিল্লার আরেক বলী মো. রাশেদকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। 

    ফাইনালে প্রায় ১১ মিনিট লড়াই চলে দু’জনের মধ্যে। পরে একপর্যায়ে আর না পেরে রাশেদ নিজ থেকেই পরাজয় শিকার করে শরীফের হাত তুলে ধরেন। যে কারণে রেফারি শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। 

    এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়ে রাঙামাটির সৃজন চাকমাকে হারিয়ে ফাইনালে যান রাশেদ। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মো. রাসেলের প্রতিপক্ষ ছিলেন বাঘা শরীফ। দু’জনই প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে ফাইনালে অবতীর্ণ হন। এবারের ১১৫ তম আসরে অংশ নিতে অন্তত ১০০ জন বলী আসেন। তাদের মধ্যে ৮৪ জনকে নিবন্ধন করে আয়োজক কমিটি।

    গতকাল এসব বলী অংশ নেন এবারের বলী খেলায়। লালদীঘি ময়দানে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বলী খেলার এবারের আসরের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম-৬ রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।

    চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে প্রতি বছর ১২ বৈশাখে অনুষ্ঠিত হয় বলী খেলা। এই খেলায় অংশগ্রহণকারীদেরকে বলা হয় ‘বলী’। বলীখেলাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় বৈশাখী মেলাটিও বসে লালদীঘি মাঠের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। বাঙালি যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলা এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর বলী খেলা বা কুস্তি প্রতিযোগিতার প্রবর্তন করেন। ১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ নিজ নামে লালদীঘির মাঠে এই বলী খেলার সূচনা করেন তিনি।

  • কুমিল্লায় পরকীয়ার জেরে প্রবাসী স্বামীকে হত্যা: স্ত্রীসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    কুমিল্লার হোমনায় পরকীয়ার জেরে সৌদিপ্রবাসী মো. আবদুল জলিলকে হত্যার দায়ে স্ত্রী শাহনেওয়াজ বেগমসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (২৭ মার্চ) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন। রায় ঘোষণাকালে খালাসপ্রাপ্ত আসামি মো. শাহজাহান আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি পলাতক রয়েছেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন- কুমিল্লার হোমনা উপজেলার কারারকান্দি গ্রামের মো. কুদ্দুস মিয়া (৩২), একই উপজেলার মঙ্গলকান্দি গ্রামের মাইক্রোবাস চালক আবদুল খালেক (২৮), একই উপজেলার কারারকান্দি গ্রামের মো. রাজিব (২৬) এবং নিহতের স্ত্রী মোসা. শাহনেওয়াজ বেগম। বেকসুর খালাস পাওয়া আসামি হলেন হোমনা উপজেলার গোয়ারী ভাঙ্গা গ্রামের হোমনা কাঁচাবাজার পাইপ ফিল্টার টিউবওয়েল ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান (৪২)।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামি মো. শাহজাহানের সাথে নিহতের স্ত্রী শাহনেওয়াজ বেগমের পরকীয়া প্রেম ছিল। এর জের ধরে আসামিরা সৌদিপ্রবাসী মো. আবদুল জলিলকে (৪৫) ঢাকায় চিকিৎসা করানোর কথা বলে নিয়ে যায়। ২০১৩ সালের ৯ জুন হতে ১০ জুন যেকোনো সময়ে হোমনা উপজেলার বাহেরখোলা গ্রামের কেরার মাজার সংলগ্ন স্থানে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। বাদী তার বড়ভাই জলিলের লাশ শনাক্ত করেন।
    এ ব্যাপারে নিহতের ছোটভাই হোমনা উপজেলার চেৎপুর গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে মো. তাইজুল ইসলাম (৩৫) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হোমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল আল বাকি তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি কুদ্দুছ, আ. খালেক, রাজিব ও মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের স্ত্রী শাহনেওয়াজকে গ্রেপ্তার করেন। ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামি রাজিব, শাহনেওয়াজ ও আ. খালেকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে রায় দেন আদালত।

    এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. আবু ইউসুফ বলেন, আমরা আশা করছি উচ্চআদালত এ রায় বহাল রেখে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করবেন।অপরদিকে আসামি পক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. আ হ ম তাইফুর আলম বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে উচ্চআদালতে আপিল করব।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্রকে ডেকে নিয়ে হত্যা, ৫ আসামির ফাঁসির রায়

    মারুফ আবদুল্লাহ:

    কুমিল্লার হোমনায় স্কুলছাত্র আশিকুর রহমান হত্যার ঘটনায় পাঁচ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৪ জুন) এই আদেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার আসাদপুরের সুজন মিয়া (২৫), আল আমিন (৩০), সোহেল মিয়া (২৫), শাহিন মিয়া ২৭ ও সোহাগ মিয়া (২৮)। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। একই রায়ে আসামি আকিমুল হক মধু ও আবদুর রহমানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খালাস দেওয়া হয় সোহেল নামের একজনকে। 

    রায়ের সময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রাপ্ত আকিমুল হক মধু, আবদুর রহমান ও খালাসপ্রাপ্ত সোহেল উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক ছিলেন।

    মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আশিকুর রহমানকে প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে জবাই করে হত্যা করে দণ্ডপ্রাপ্তরা। ওই মামলায় বিচারক এই রায় দিয়েছেন।

  • সদর দক্ষিণে ট্রেনে ধাক্কায় বাবা-ছেলে, হোমনায় ট্রাক চাপায় মা- মেয়ে নিহত

    মারুফ আবদুল্লাহ, কুমিল্লা

    কুমিল্লা পৃথক দুর্ঘটনায় সদর দক্ষিণে ট্রেনে ধাক্কায় বাবা ছেলে ও হোমনায় ট্রাক চাপায় মা- মেয়ে নিহত হয়েছে।

    সদর দক্ষিণ:

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণের জেলখানা বাড়ি এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ জুন) বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

    নিহতরা হলেন- বরুড়ার বাতাইছড়ি এলাকার লতিফের ছেলে সোহাগ (৩৫) ও তার ছেলে সোহেল (১২)। 

    সদর দক্ষিণ থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী জানান, জেলখানা বাড়ি এলাকার রেল ক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেনটি অটোরিকশায় ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা বাবা-ছেলে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। সোহাগ অটোরিকশাটি চালাচ্ছিলেন। তারা ছাড়া আর কেউ ছিল না অটোরিকশায়।

    হোমনাঃ

    কুমিল্লার হোমনায় ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ জুন) উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- উপজেলা সদরের সজলের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার (১৮) ও ছয় মাস বয়সী মেয়ে সাওদা। দুর্ঘটনার পর স্বজনরা তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফেরদৌসী আক্তার তার শিশু সন্তান ও ছোট আরও ভাইবোনকে নিয়ে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের তাদের নানার বাড়ি থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে বাবার বাড়ি একই শ্রীমদ্দি গ্রামে যাচ্ছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় বিপরীত দিকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে তার দুই ভাইবোন সুস্থ রয়েছেন।

    হোমনা থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘাতক ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিক্শাটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের কোনও অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • কুমিল্লায় স্কুল ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা, ৩ বন্ধুর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় নবম শ্রেণির স্কুল ছাত্র জাহিদ হাসানকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় তিন বন্ধুকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) দুপুর ২টায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪ এর বিচারক মিসেস সেলিনা আক্তার এই রায় প্রদান করেন।

    রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. খাইরুল ইসলাম (১৮) উপস্থিত থাকলেও অপর দুই আসামি জিহাদ হোসেন (১৯) ও এমদাদ হোসেন (১৭) হাইকোর্ট থেকে জামিনে এসে পলাতক রয়েছেন।

    বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল নোমান।

    তিনি জানান, ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার সাপলেজী গ্রামের মো. আক্তারুজ্জামানের ছেলে ও দুলালপুরচন্দ্র মনি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মো. জাহিদ হাসানকে বাড়ির পাশ থেকে অপরহরণ করে তার তিন বন্ধুু। পরে মুক্তপণ না পেয়ে জাহিদকে হত্যা করে তারা। সে মামলায় গ্রেপ্তাররের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা করে তারা।

    জাহিদের বাবা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, হত্যাকারীরা আমার ছেলের বন্ধু। তারা টাকার লোভে আমার ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমি তাদের মৃত্যুদণ্ড আশা করেছিলাম।

  • কুমিল্লায় প্রথম বারের মত ময়ূরের খামারে ভাগ্য বদল শাহ আলীর!


    অমিত মজুমদার, কুমিল্লা

    কুমিল্লায় প্রথম বারের মতো ময়ূরের খামার করে তাক লাগালেন হোমনা উপজেলার বাবরকান্দি এলাকার যুবক মো. শাহ আলী। সখের বসে ২০১৯ সালে এক জোড়া ময়ূর কিনেন তরুণ উদ্যোক্তা এই যুবক। ময়ূরের পেখম তুলে নাচ প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে তাকে। সেই মুগ্ধতা থেকে পরবর্তীতে খামার করার জন্য আরও পাঁচটি ময়ূর সংগ্রহ করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের শতাধিক ময়ূর রয়েছে। বিক্রি করেছেন প্রায় ২০ লাখ টাকার ময়ূর। 

    বাবরকান্দি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ময়ুর খামারি বললে সবাই এক নামে চেনে শাহ আলীকে। দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন ময়ূরের পেখম তুলে নাচ দেখার জন্য। খামারের ভেতর মনের আনন্দে উড়ছে ময়ূর।

    উদ্যোক্তা শাহ আলী বলেন, আমার বাবা আগে গরুর খামার করেছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর ময়ূর পালন শুরু করি। ৭টি ময়ূর থেকে ডিম বাচ্চা ফুটিয়ে আমার খামারে বর্তমানে ১০৫টি ময়ূর রয়েছে। শৌখিন মানুষজন এগুলো কিনে পালন করেন। কোনোটির জোড়া ৫০ হাজার টাকা, আবার কোনোটির জোড়া লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। 

    তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত সর্বমোট ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছি। আরও ৩০ লাখ টাকার ময়ূর খামারে রয়েছে। এটা সৌখিন জিনিস, অনেকে সখের বসে কিনে নিয়ে যান। এক জোড়া বড় ময়ূর বিক্রি করেছি সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। আমি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করতে চাই।

    যারা ময়ূরের খামার করতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে শাহ আলী বলেন, ময়ূর লালন-পালন খুবই সহজ। এটা সৌখিন জিনিস। কেউ ভুল করে আগে খামারের পরিকল্পনা করবেন না। শুরুতে দুই-এক জোড়া পালন করে যদি মনে করেন পারবেন, তাহলে খামার করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।