Category: সারাবিশ্ব

  • অভিনেত্রীদের নিয়ে চলছে রমরমা ব্যবসা!

    অনলাইন ডেস্ক:
    মন ফুরফুরে হবে, শরীর ঝরঝরে হবে, জীবন হবে রঙে রঙে রঙিন। সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে সাফ। খানিক এমন অঙ্গীকার নিয়েই পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতা শহর জুড়ে জাল ছড়িয়েছে একাধিক এসকর্ট সার্ভিস (দেহ ব্যবসায়ীদের দালাল)। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই পাওয়া যাচ্ছে অভিনেত্রীসহ সকল বয়সী ও ছাত্রীদের সয্যাসঙ্গী হওয়ার সকল উপায়। ভারতীয় গণমাধ্যম এবেলা এমন খবর প্রকাশ করেছে।

    গণমাধ্যমটিতে বলা হয়, কলকাতা শহরে কাজ করে এমন একাধিক এসকর্ট সার্ভিস সংস্থার ওয়েবসাইট ঘাঁটলেই মিলবে এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। কোন নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে, কী শর্তে কাজ হবে, সব কথাই সেখানে বলা থাকে। রয়েছে অগ্রিম বুকিংয়ের ও ব্যবস্থা।

    ওয়েবসাইটে দেওয়া রয়েছে বয়স, চোখের রং কিংবা বুকের মাপ। ছবি ও বিবরণ দেখে বেছে নেওয়া যাবে পছন্দের জনকে। নানা ধরনের মহিলা রয়েছেন এই তালিকায়। গৃহবধূ, কলেজ ছাত্রী তো রয়েছেই। বিশেষ ভাবে উল্লেখ রয়েছে টিভি সিরিয়ালের অভিনেত্রী আর মডেলদের। আছে এয়ারহোস্টেস বা কলসেন্টার কর্মীদের নামও।

    পুরুষত্ব থাক বা না থাক, পকেটে টাকা থাকলেই এদের শয্যাসঙ্গী হতে পারবে যে-কেউ। কী ধরনের পরিষেবা মিলবে, তার তালিকাও রয়েছে কোনো কোনো সাইটে। ‘প্যাশনেট কিসিং’ থেকে ‘পজিশন ৬৯’, এমনকী মুখমৈথুনও রয়েছে সেই তালিকায়।

    দুই বছর আগে ভারতে এসকর্ট সার্ভিসের ওয়েবসাইটগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পর্ন সাইটগুলির মতো এক্ষেত্রেও তা কার্যকর হয়নি।

  • অবশেষে গ্রেফতার হলেন সেই সুন্দরী লেডি ডন

    অনলাইন ডেস্ক:

    ভারতের সুরাতের লেডি ডন অস্মিতা গোহিল।বয়স ২০ বছর।স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছেন কি না কেউ জানেন না।তবে তাকে একনামে সবাই চেনেন।অবশ্য শুধু চেনেন বললে ভুল হবে সুরাতের কিছু এলাকা কাঁপে তার নামে।এমনকি পুলিশের খাতায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার নামে।কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছেন অস্মিতা।কিন্তু পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান।সম্প্রতি এই ‘লেডি ডন’ অাবারো খবরের শিরোনামে।

    সোমবার সকালে সুরাতের একটি পানের দোকানে তলোয়ার নিয়ে ঢুকে ৫০০ টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে ফের গ্রেফতার হয়েছেন অস্মিতা ও তার বন্ধু রাহুল। গত মার্চে দোলের দিনও চপার জাতীয় ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েক জনের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান অস্মিতা।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুন জনপ্রিয় এই লেডি ডন। ফেসবুকে নিজেকে ‘স্বনির্ভর’ বলে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজের প্রচুর ছবিও রয়েছে। এমনকী সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বা তলোয়ার নিয়েও নিজের ছবি পোস্ট করেছেন অস্মিতা।

    নামীদামি বাইক এবং গাড়ি চালানোর শখ রয়েছে তার।ফেসবুকে আড়াই হাজার বন্ধু ও ১৭ হাজার ফলোয়ার রয়েছে ডনের।ফেসবুক-বায়োতে অস্মিতার স্বীকারোক্তি, ‘আমি জীবনটা অন্য ভাবে বাঁচতে পছন্দ করি, আশায় ভরসা করে নয়, নিজের শর্তে বাঁচি।’

  • যে কারণে সৌদি’সহ ৪ আরব দেশের পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করল কাতার

    অনলাইন ডেস্ক:
    সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন যে চার দেশ প্রায় এক বছর আগে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করেছিল সেসব দেশের পণ্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দোহা। কাতারের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শনিবার এক ঘোষণায় ওই চার দেশের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।

    সেইসঙ্গে এরইমধ্যে এসব দেশের যেসব পণ্য কাতারের ভেতরে রয়েছে সেসব বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওই মন্ত্রণালয়। এটি বলেছে, দেশের সব দোকান ও শপিং মল যেন ওই চার দেশের পণ্য তাদের তাক থেকে সরিয়ে ফেলে।

    সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর ২০১৭ সালের জুন মাসে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। রিয়াদের উদ্যোগে ওই চার দেশ এ কাজ করে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়।

    ওই চার দেশ ‘সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেয়া’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল’ করার প্রচেষ্টা চালানোর জন্য কাতারকে অভিযুক্ত করে এ পদক্ষেপ নেয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন এ দেশগুলোকে অনুসরণ করে আফ্রিকার কয়েকটি দেশও কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

    সৌদি-নেতৃত্বাধীন দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য কাতারকে কয়েকটি শর্ত দেয়। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে- আল জাযিরা নিউজ চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া, কাতারের মাটি থেকে তুর্কি সেনা বহিষ্কার, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে আনা এবং মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা।

    কিন্তু কাতার এসব দাবির কাছে নতি স্বীকার না করে ঘোষণা করে, আরব দেশগুলো কাতারের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আঘাত হেনেছে। এর জের ধরে ওই চার দেশ তাদের জল, স্থল ও আকাশপথ কাতারের জন্য বন্ধ করে দেয়।

    এ অবস্থায় ইরানসহ অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে কাতার। দেশটির সে প্রচেষ্টার সফলতার প্রমাণ হিসেবে চার আরব দেশের নিষেধাজ্ঞার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশগুলোর পণ্য নিষিদ্ধ করল দোহা।

  • বিশ্বের যেসব দেশে চলছে মাদকবিরোধী যুদ্ধ

    অনলাইন ডেস্ক:

    প্রায় ৫০ বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন মাদককে জনগণের এক নম্বর শত্রু আখ্যায়িত করে শুরু করেছিলেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। প্রায় ৫ দশকে এই যুদ্ধ ছড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিপাইনের বন্দুকভক্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তের মাদকবিরোধী যুদ্ধ রয়েছে সমালোচনার প্রথম সারিতে। যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিনের মাদকবিরোধী যুদ্ধ এখনও চলমান রয়েছে। এসব দেশে এই যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ জাতিসংঘ। বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৫ সালে অন্তত একবার মাদক গ্রহণ করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা ২৫ কোটি। এদের মধ্যে প্রায় তিন কোটি (২৯.৫ মিলিয়ন) মানুষ মাদকসংশ্লিষ্ট রোগে আক্রান্ত।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাদকবিরোধী যুদ্ধ অব্যাহত থাকলেও কয়েকটি দেশে এই যুদ্ধ বড় আকারে পরিচালিত হয়েছে ও হচ্ছে। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটির তথ্য তুলে ধরা হলো-

    যুক্তরাষ্ট্র

    মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ১৯৭১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এক ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু করেন। ওই সময় এর লক্ষ্য ছিল অবৈধ মাদকের ব্যবহার ও সেবন বন্ধ করা। দুই বছরের মাথায় নিক্সন নতুন লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেন। ড্রাগ পলিসি অ্যালায়েন্স নামের একটি জোটের দেওয়া হিসেব অনুয়ায়ী, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ৫১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।

    রিগ্যানের ঘোষণার পরই মাদকবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অর্থ ও লোকবল নিয়োগ বাড়িয়ে দেয়। ১৯৮০ থেকে সালে দেশটিতে মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধে গ্রেফতারকৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখের বেশি। ১৯৮৪ সালে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে শুধু না বলুন প্রচারণায় রূপ দেন নিক্সনের স্ত্রী ন্যান্সি। মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে মেক্সিকো, কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অভিযান চালায় ও সহযোগিতা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

    ২০০৯ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রশাসন ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার না করার ইঙ্গিত দেয়। ২০১১ সালে গ্লোবাল কমিশন অন ড্রাগ পলিসি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বিশ্বের মাদকবিরোধী যুদ্ধগুলো ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি ও সমাজের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

    সর্বশেষ গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পুনরায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    কলম্বিয়া

    কোকেন উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ কলম্বিয়া। এই মাদকের বিরুদ্ধে ও মাদকের কারণে গত তিন দশকের যুদ্ধে দেশটিতে যত সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন তা অন্য কোনও দেশে ঘটেনি। ১৯৯০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দেশটিতে মাদক সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা সাড়ে চার লাখ ছাড়িয়েছে। শুধু নিহতের সংখ্যা দিয়ে দেশটির মাদকযুদ্ধের ব্যাপ্তি অনুধাবন করা যায় না। ১৯৮০-র দশক থেকে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আড়াই থেকে চার মিলিয়ন মানুষ। নিরাপত্তার জন্য এসব মানুষ নিজেদের বাড়িঘর রেখে ছুটেছেন অন্যত্র। একই সময়ে কয়েক হাজার হেক্টর বন কেটে ফেলা হয়েছে। এসব বনে কোকা উৎপাদন ও কোকেন তৈরির কারখানা ছিল। প্রতি হেক্টর কোকা ক্ষেতের জন্য তিন হেক্টর বন ধ্বংস করা হয়েছে। আর দেশটির অর্থনীতিতে এই যুদ্ধের প্রভাব যে ছিল ভয়াবহ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    কলম্বিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি জড়িত যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সহযোগিতা পায় কলম্বিয়া এই যুদ্ধে। কিন্তু ১৪ বছর এবং ৯.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরও কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদন বাড়ছে। এই শতাব্দীর শূন্য দশকের শুরুর দিকে কোকা উৎপাদন কিছুটা কমলেও ২০১৪ সালে বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে তা আরও বেড়েছে। ধারণা করা হয়, দেশটির মাদ্রক সম্রাটদের হাতে ৫ মিলিয়ন হেক্টর ভূমি রয়েছে।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, সবখানেই সরকার ঘোষিত ‘প্ল্যান কলম্বিয়া’ ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া কলম্বিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে না। তবে এই অবস্থানের বিরোধিতাকারীদের সংখ্যাও কম না।

    মেক্সিকো

    মাদকের বিরুদ্ধে আলোচিত যুদ্ধের একটি চলমান রয়েছে মেক্সিকোতে। ২০০৬ সালে দেশটিতে মাদকবিরোধী যুদ্ধে নামানো হয় সেনাবাহিনীকে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফেলিপ চালডেরন ২০০৬ সালের শেষ দিকে সাড়ে ছয় হাজার সেনা সদস্যকে মিচোয়াচান রাজ্যে মোতায়েন করেন। সরকারি তথ্য অনুসারে, ওই বছর ১১ হাজার ৮০৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটে, ২০১৬ সালে গুমের সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৩৪০টি। অপরাধীচক্র, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে গুমের সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার। মেক্সিকোর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের জীবিত বা মৃত খুঁজে পাওয়ার ছিল তখন মাত্র ২৫ শতাংশ।

    প্রেসিডেন্ট ফেলিপের শাসনামলে (১ ডিসেম্বর, ২০০৬- ৩০ নভেম্বর, ২০১২) মেক্সিকোর মাদকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬০ হাজার। ২০১৩ সালে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার। আর নিখোঁজ হয়েছেন ২৭ হাজার।

    ব্রাজিল

    যুক্তরাষ্ট্রের দেখানো পথে ও চাপে ব্রাজিলেও ১৯৭০-এর দশকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু এখানেও সাফল্য আসেনি। ২০১৪ সালে দেশটিতে প্রায় ৬০ হাজার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কতটি হত্যাকাণ্ড মাদকসংশ্লিষ্ট তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে রিও ডি জেনিরো শহরের ৪৮০টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৪০০টিই ছিল মাদক সংশ্লিষ্ট।

    মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, ব্রাজিলে মাদকবিরোধী যুদ্ধের পুলিশের অভিযান মানেই মৃত্যু। সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০১৪ সালেই ব্রাজিল পুলিশ ৩ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। যদিও পুলিশ বরাবরই দাবি করে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের জের ধরে।

    মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতারের বিষয়ে ব্রাজিলের সামরিক পুলিশের মেজর রবার্তো ভ্যালেন্টে জানান, যদি আমরা নিচের সারির একজন কর্মীকে গ্রেফতার করি তাহলে কারাগার থেকে বের হওয়ার তাকে মাদকচক্রের পক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়। শীর্ষ পাচারকারীরা কারাগার থেকেই তাদের ব্যবসা চালায়। পুলিশ যদি তাদের হত্যা করে তাহলে লাশ সরানোর আগেই নতুন কেউ দায়িত্ব নিয়ে নেয়।

    ফিলিপাইন

    প্রায় দুই বছর আগে ফিলিপাইনের ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে। তার এই যুদ্ধ ছিল অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধের নিহতের সঠিক সংখ্যা এমনকি পুলিশও জানে না। সন্দেহভাজন মাদকসেবী ও বিক্রেতার লাশ অন্ধকারে, ব্রিজের নিচে ও ময়লার স্তূপে পড়ে থাকে। অনেক সময় নিহতের গলায় কার্ডবোর্ডে লেখা থাকে, ‘আমি একজন মাতাল। আমাকে পছন্দ করবেন না।’

    লাশের সংখ্যা বাড়ছে কালুকান, মালাবন, নাভোটাস ও ভালেনজুয়েলা জেলায়। রাজধানী ম্যানিলা থেকে দূরে ঘনবসতিপূর্ণ এসব জেলা আবাসিক ও শিল্প এলাকা হলেও হত্যাক্ষেত্র হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে।

    ফিলিপাইনে মাদকবিরোধী যুদ্ধে এ পর্যন্ত কতজন নিহত হয়েছেন তা নিয়ে গ্রহণযোগ্য কোনও তথ্য নেই। মানবাধিকার সংগঠন ও নিহতের পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে।

    মাদকযুদ্ধে শুরুর পর পুলিশ যখন সমালোচনায় পড়ে তখন তাদের সমর্থনে দুয়ার্তে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আপনারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন। দায়িত্ব পালনের সময় আপনারা যদি ১ হাজার মানুষকেও হত্যা করেন তাহলে আমি আপনাদের রক্ষা করবো।

    ফিলিপাইনে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে। কোনও গ্রেফতার বা বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে না তাদের।

    মানবাধিকার গোষ্ঠী, সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের নিহতের সংখ্যা নিয়ে পৃথক পরিসংখ্যান রয়েছে। সরকার নিজেই জানিয়েছে, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে মাদক সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৩৫৫টি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং ৩ হাজার ৯৬৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পুলিশি অভিযানে।

    দেশটির সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত মাদকবিরোধী যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ৩২২টি। গড়ে প্রতিদিন ৩৯.৪৬ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

    বাংলাদেশ:

    বাংলাদেশে মাদক ব্যবসায়ের বিস্তৃতি তীব্রতর হওয়ায় এ বছরের ১৪ মে র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্য র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেন। এ ঘোষণার পর গত ১৪ মে থেকে আজ ২৩ মে পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানের সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪৬ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি এরা সবাই মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত এবং পুলিশ বা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার কারণে পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছে।

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট, ডয়চে ভেলে, আইরিশ টাইমস।

  • ১৫ মাসে সৌদি আরবে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ৮ লাখ বিদেশি

    অনলাইন ডেস্ক:

    ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে চাকরি হারিযেছেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার বিদেশি শ্রমিক। দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থা জেনারেল অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ইন্সুরেন্সের করা এক জরিপে এই তথ্য জানা যায়।

    সংস্থাটি জানায়, চলতি বছর প্রথম তিন মাসেই বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭৭ লাখ ১০ হাজারে। ২০১৬ সালে যা ছিল ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার। তবে চলতি বছর বেড়েছে সৌদি শ্রমিকের সংখ্যা। প্রথম তিন মাসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬০ হাজান। ২০১৬ সালে ছিল ১৬ রাখ ৮০ হাজার।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণের ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, স্থানীয়দের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করতে সৌদি আরবের সিদ্ধান্তের প্রতিফলনই ঘটেছে এই পরিসংখ্যানে। গত দুই বছরে চাকরি হারিয়েছেন অনেক বিদেশি শ্রমিক।

    সৌদি সরকার বেশ কয়েকটি খাতে দেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি জোর দিয়েছেন। কারণ সেখানে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১২.৮ শতাংশ। রিটেইল সেক্টরে শুধু সৌদি নাগরিকদের কাজ করার অধিকারও নিশ্চিত করেছে তারা। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

    গত বছর কর্মক্ষেত্রে দেশীয় শ্রমিকদের বেশি পরিমাণে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের পরিকল্পনা নেয় সৌদি আরব। দেশটির সরকার নতুন কিছু অভিবাসী আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে যার ফলে সে দেশে প্রায় ৫০ লাখ অভিবাসীর এক বিরাট অংশকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

  • স্ত্রী-সন্তানকে রেখে শাশুড়িকে নিয়ে পালাল জামাই!

    অনলাইন ডেস্ক:
    দুই বছর আগে বিয়ে হয়েছে। তাদের ঘরে এক বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু স্ত্রীকে ছেড়ে যে শাশুড়ির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে জামাই তা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। আর তাইতো সুযোগ বুঝে স্ত্রী ও সন্তানকে ফেলে শাশুড়িকে নিয়ে পালিয়ে গেল জামাই!

    এরপর থেকে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছে সেই বধূ। শাশুড়ি-জামাইয়ের এই কাণ্ড লোক মুখে ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো লোক হাসাহাসি শুরু হয়ে গিয়েছে গ্রামে।ভারতের পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে।

    স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে রেখে শাশুড়িকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় ইতোমধ্যেই নির্যাতিতার বধূর তরফে কেতুগ্রাম থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগে, স্বামী প্রসেনজিৎ হাজরা, অনুরূপার মা মঙ্গলী হাজরাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে পালিয়েছে। অনুরূপার সন্দেহ, কাজের লোভ দিয়ে কোথাও নিয়ে গিয়ে তার মাকে বিক্রি করে দিয়েছে স্বামী। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

    অনুরুপার বাবার বাড়ি কেতুগ্রাম থানার বহরান গ্রামে। বাবা কৃষ্ণ বর্মন পেশায় হকার। তিনি ফুচকা বিক্রি করেন। অনুরূপার মা মঙ্গলী দেবী গৃহবধূ। অনুরুপা তাদের একমাত্র মেয়ে সন্তান। উচ্চ মাধ্যমিক পাস অনুরুপা দেবী।

    জানা গেছে, কেতুগ্রামের বাসিন্দা মলিন হাজরার ছেলে প্রসেনজিতের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার প্রথম পরিচয় হয়। তারপর ২০১৬ সালে অনুরূপা দেবী পালিয়ে বিয়ে করেন প্রসেনজিৎকে। প্রথমে বাড়িতে রাজি না থাকলেও পরে পরিবারের পক্ষে থেকে মেনে নেয়া হয় তাদের বিয়ে।

    অনুরুপা বাবা কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘প্রসেনজিৎ মোবাইল ফোনে আমার মেয়ের কাছে আনন্দ মণ্ডল নামে ও নিজেকে ঠিকাদার হিসাবে প্রথমে পরিচয় দিয়েছিল। বিয়ের পর জানতে পারি ওদের মুল পেশা শুকর-পালন ও জনমজুরি। তবু মেয়ের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে জামাইকে ব্যবসায় নামিয়ে ছিলাম। নিজের বাড়ির কাছে ঘর তৈরি করে দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু তার আগেই আমাদের সর্বনাশ করে চলে গিয়েছে প্রসেনজিৎ।’

    এদিকে অনুরূপা জানান, শ্বশুরবাড়ি থেকে তার এক বছরের ছেলে রণজিৎকে নিয়ে তিনি গত ৪ মে বাবার বাড়িতে আসেন। স্বামীও সঙ্গে ছিল। দু’দিন পর এই ঘটনা ঘটে।

    জানা যায়, গত ৬ মে দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর অনুরূপা দেবী তার মা ও ছেলেকে নিয়ে শুয়েছিলেন। পাশের ঘরে শুয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। কৃষ্ণ বর্মন ব্যবসার কাজে বাইরে ছিলেন। বিকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনুরূপা দেখতে পান তার মা ও স্বামী বাড়িতে নেই। তারপর তিনি বাবাকে খবর দেন। প্রতিবেশীদেরও জানানো হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও দু’জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এপরপর গত ৯ মে কেতুগ্রাম থানায় অনুরূপাদেবী নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পাশাপাশি তিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে মাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে পালানোর অভিযোগ জানিয়েছেন।

    যদিও এ ব্যাপারে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ জানিয়েছে দু’জনের খোঁজে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

    এ নিয়ে অনেকেই বলাবলি করছেন তাহলে জামাই-শাশুড়ির এই পরকীয়া কি আদৌ জানতেন না পরিবারের সদস্যরা?

    কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘আমার স্ত্রী আমার কাছে দু’একবার বলেছিল প্রসেনজিৎ তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছে। আমি বলেছিলাম ও ছেলের মতো। মেয়ের স্বার্থে ওকে বোঝাতে। ভেবেছিলাম নেশার ঘোরে প্রসেনজিৎ বলে ফেলেছিল। কিন্তু এতবড় অপরাধ করতে পারে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।’

    অনুরূপা বলেন, ‘আমি, বাবা ও আমার সন্তান এই তিন জনের এখন অসহায় অবস্থা। কিভাবে বেঁচে থাকব সেটাই এখন চিন্তার।’

  • স্কুলে সন্ত্রাসী হামলা, গুলিতে শিক্ষার্থীসহ নিহত ১০

    অনলাইন ডেস্ক:
    যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সান্তা ফি হাই স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও কয়েকজন। এই ঘটনায় যারা মারা গেছে তাদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। পুলিশের একজন কর্মকর্তাও এতে আহত হয়েছেন। বিবিসি ও রয়টার্স এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ জন এ ঘটনায় নিহত হয়েছে। টেক্সাসের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

    স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে টেক্সাসের সান্তা ফে হাই স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। সান্তা ফে হাই স্কুলটি টেক্সাসের হাউস্টন শহরের ৬৫ কি.মি দক্ষিণে অবস্থিত। ক্লাস চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে হামলাকারী ওই স্কুলের ছাত্র কিনা তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।ওই স্কুলের সহকারী অধ্যক্ষ ক্রিস রিচার্ডসন জানিয়েছেন, হামলাকারী বন্দুকধারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    স্কুলে হামলার পর সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে একজন ছাত্রকে আটক করে তাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আরেকজন শিক্ষার্থীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার একটি স্কুলে গত ফেব্রুয়ারি মাসের হামলার পর কোনো স্কুলে এটাই সবচেয়ে বড় আক্রমণ।

    স্কুলের বিভিন্ন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল আটটার দিকে হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শোনা যায় এবং স্কুলের সতর্কীকরণ ঘণ্টা বেজে ওঠে। এ সময় হুড়োহুড়ি করে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতিতে স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করা হয়।
    সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, গোলাগুলিতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ জনের নিহত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সাত দিনে এই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি স্কুলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটল। আর চলতি বছরে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে এমন ঘটনা ঘটেছে ২২টি।

    একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সকালে স্কুলটির একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে গুলি চালায় একজন সশস্ত্র ব্যক্তি। গুলির শব্দে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। হতাহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আক্রমণকারীর হাতে শটগানের মতো অস্ত্র ছিল বলেও জানা গেছে।

  • ফের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত : নিহত শতাধিক

    অনলাইন ডেস্ক:
    কিউবায় অভ্যন্তরীণ রুটের ১০৪ জন যাত্রীবাহী একটি ফ্লাইট শুক্রবার বিধ্বস্ত হয়েছে। ফ্লাইটটি রাজধানী হাভানা থেকে দেশটির পূর্বাঞ্চল ওলগিনে যাচ্ছিল। রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পরপরই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয় এবং বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল বহু হতাহতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে শতাধিক নিহতের খবর জানিয়েছে বিবিসি।

    সংবাদ সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান পরিবহন সংস্থা কিউবানা ডি এভিয়েশন এর বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ হাভানার হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। এ সময় সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। কিউবান কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত সংবাদপত্র- গ্রানমা জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় তিনজন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের অবস্থা খুবই সংকটজনক।

    এ দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু উদ্ধারকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ওই ফ্লাইটে ১০৪ জন যাত্রী ও নয়জন বিদেশি ক্রু রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপর কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় জায়গাটি।

    এদিকে গত মাসে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়া মিগেল দিয়াস-কানেল ঘটনাস্থলে গেছেন। তিনি এ ঘটনায় বহু হতাহতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনা কবলিত বোয়িং ৭৩৭-৪০০ উড়োজাহাজটি ২৬ বছরের পুরনো। এটি মেক্সিক্যান একটি কোম্পানি থেকে ইজারা নিয়ে চালাতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।

  • যে কারণে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে গেলেন ট্রাম্প

    অনলাইন ডেস্ক:
    ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। একই সাথে ইরানের উপর পারমাণবিক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে যে পরমাণু চুক্তি করা হয়েছে সেটি বজায় থাকলে দেশটি পারমাণবিক শক্তি অর্জন করবে। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তি কখনোই করা উচিত হয়নি। ইরান সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং আল-কায়েদাকে ইরান সমর্থন দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

    ট্রাম্প বলেন, আমরা যদি এখন কিছু না করি, তাহলে আমরা জানি ভবিষ্যতে কী হবে। ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে একজন নাগরিক হিসেবে তার জন্য বিব্রতকর বলে মনে করেন ট্রাম্প।

    ২০১৫ সালে ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল পৃথিবীর বৃহৎ শক্তির দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি । বারাক ওবামা যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন সে সময় ইরানের সাথে পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিগুলো পরমাণু চুক্তি করেছিল।

    সে চুক্তির মূল বিষয় ছিল, ইরান পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ রাখবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন ইরানের যে কোন পরমাণু স্থাপনায় যে কোন সময় পরিদর্শন করতে পারবে। অর্থাৎ ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানকে নজরদারীর মধ্যে রাখতে পারবে। এর বিনিময়ে ইরানের উপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়া হয়েছিল।

    কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার পক্ষ থেকে আবার নতুন করে অর্থনৈতিক ইরানের উপর অবরোধ আরোপ করেছেন।
    ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি থেকে আমেরিকা যাতে সরে না যায় সেজন্য ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি বেশ কিছুদিন ধরে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন।

    কিন্তু আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর আহ্বানে কোন গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। তিনি এতদিন ধরে যুক্তি তুলে ধরেছেন যে ইরানের সাথে যে চুক্তি করা হয়েছে সেটি শুধু দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রমের উপর এবং এ চুক্তি মাত্র সাত বছরের জন্য।

    সে চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে কিছু নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প এ চুক্তিকে ত্রুটিপূর্ণ এবং একপেশে হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থামানো যাবে না।

    ইরানের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো ইরানের সাথে ব্যবসা করছে তাদের ছয়মাস সময় দেয়া হয়েছে যাতে তারা সেসব ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে। সেটি না করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। কোন দেশ যদি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টাকে সহায়তা করে তাহলে আমেরিকা তাদের উপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

  • ধূমপানকারীর ফুসফুসের অবস্থা নিয়ে ভিডিও ভাইরাল !

    অনলাইন ডেস্ক:
    ধূমপান মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তাই ধূমপান নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সিগারেটের প্যাকেটেও রয়েছে সতর্কবাণী। তবুও থেমে নেই ধূমপায়ীদের তৎপরতা। নিয়মিত ধূমপান করলে মানুষের ফুসফুসের কী অবস্থা হয় এবার তারই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনায় বসবাসরত নার্স আমান্দা এলার ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ছয় লাখবার শেয়ার হয়েছে ভিডিওটি।

    ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি লাল রংয়ের সুস্থ ফুসফুসের পাশাপাশি এক ধূমপায়ীর ফুসফুস রাখা হয়েছে, যেটি কালো হয়ে গেছে। কালো ফুসফুসটি এমন এক ব্যক্তির যিনি বিশ বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে এক প্যাকেট করে সিগারেট পান করেছেন।

    ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে ধূমপান সংক্রান্ত এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভিডিওটি প্রকাশ করেন এলার। নতুন গবেষণা জানাচ্ছে, যেসব মানুষ ধূমপানের হার কমিয়ে দেন, তাদেরও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থেকে যায়। যারা দিনে মাত্র একটি সিগারেট পান করেন তাদেরও হৃদরোগসহ স্ট্রোকের আশঙ্কা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর পঞ্চাশ লাখের মতো মানুষ মারা যায়। এই বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও ধূমপায়ীর সংখ্যা এখনো বড় আকারে কমেনি। বিশ্বে ধূমপায়ীর সংখ্যা একশো কোটির বেশি।

    ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন:

    https://www.facebook.com/amanda.orr.56/videos/10212156330049017/?t=0