Category: সারাবিশ্ব

  • গাজায় ফের বর্বরোচিত হামলা, শিশুসহ নিহত অন্তত ৮১

    অনলাইন ডেস্ক:

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায় কমপক্ষে ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলায় মধ্যরাতের পর থেকে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫১ জন।

    আর দক্ষিণ গাজায় হাসপাতালে চালানো হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩০ জন। মূলত হাসপাতালে হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই উত্তর গাজায় ওই হামলা চালায় ইসরায়েল। বুধবার (১৪ মে) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা তীব্রতর করেছে এবং মধ্যরাত থেকে কমপক্ষে ৫১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে চিকিৎসকরা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন উত্তর গাজায় নিহত হয়েছেন।

    আল জাজিরা বলছে, দক্ষিণ গাজার ইউরোপীয় এবং নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনী বোমা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৩০ জনকে হত্যা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই সর্বশেষ হামলাগুলো শুরু হয়েছে। হাসপাতালে হওয়া ওই হামলায় নিহত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসা নিতে আসা একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

    এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫২ হাজার ৯০৮ জনে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৯ হাজার ৭২১ জন।

    দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৮০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও প্রায় ৭ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

  • ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মারা গেছেন

    ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মারা গেছেন। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    দিল্লির একাধিক সূত্র বলেছে, শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি হওয়ায় ৯২ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। 

    কিন্তু যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখনই শ্বাসকষ্ট গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠেছিল বলে জানা যায়। তড়িঘড়ি আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।

    ১৯৩২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত পঞ্জাবের গাহ্-তে শিখ পরিবারে জন্ম মনমোহনের, যা বর্তমানে পাকিস্তানের অংশ। ছোট বয়সে মাকে হারান। ঠাকুমার কাছেই মানুষ মনমোহন। প্রথমে উর্দু মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষা। গুরুমুখী, পাঞ্জাবিও জানতেন।  দেশভাগের পর ভারতের অমৃতসরে চলে আসে মনমোহনের পরিবার।

    মনমোহন সিং ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে প্রথম যোগদান করেন। পরে তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি ভারতের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

    চলতি বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। গত এপ্রিলে রাজ্যসভা থেকে অবসরে যান তিনি।

  • ভিসা ছাড়াই পাকিস্তানে যাতায়াত করতে পারবে বাংলাদেশিরা

    অনলাইন ডেস্ক:

    দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তান নতুন ভিসা নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এর আওতায় বাংলাদেশসহ ১২৬টি দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া পাকিস্তানে যাতায়াত করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার আহমদ মারুফ।

    সোমবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) এর সঙ্গে সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার আহমদ মারুফ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি এসব কথা জানান।

    সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বন্যা পুনর্বাসন, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, ভিসা সহজীকরণ, সরাসরি ফ্লাইট চালু, কৃষি গবেষণায় সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।  

    বৈঠকের শুরুতে উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। তিনি রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যার বিষয়ে অবহিত করলে রাষ্ট্রদূত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বন্যা দুর্গতদের জন্য উপকরণ দিয়ে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। 

    হাইকমিশনার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এর প্রভাব পাকিস্তানে পড়েছে উল্লেখ করে বলেন, সে সময় অনেক পাকিস্তানি নাগরিক বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ-উৎসব করেছে।

    বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে রাখাই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে মর্মে দু’জন একমত প্রকাশ করেন। 

    রাষ্ট্রদূত বিগত ১৫ বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে শুষ্কতা পরিলক্ষিত হয়েছে, তার উত্তরণ ঘটিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানান। তাছাড়া দুই পক্ষ পারস্পরিক ভিসা সহজীকরণের বিষয়ে সম্মত হন। এসময় রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তান নতুন ভিসা নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এর আওতায় বাংলাদেশসহ ১২৬টি দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া পাকিস্তানে যাতায়াত করতে পারবে। 

    রাষ্ট্রদূত পারস্পরিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি জানান, সর্বশেষ ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু ছিলো যা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) অপারেট করত।

    বৈঠকে মানব পাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাস দমন ও কৃষি গবেষণা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

    সাক্ষাৎকালে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের কাউন্সেলর কামরান ধাঙ্গাল ও জাইন আজিজসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • সৌদি আরবে কুমিল্লার প্রবাসীকে মারধর করার অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে সন্ত্রাসী হামলায় সেলিম সজীব নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    ৪ এপ্রিল, স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ রক্তাক্ত জখম অবস্থায় আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করেন।

    আহত সেলিম সজীব কুমিল্লার মনোহরগন্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লার স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় ডেস্ক ইনচার্জ ছিলেন। পরে সৌদি আরব গমন করেন।

    সোমবার দিবাগত রাতে ওই রিয়াদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপূর্বে ওইদিন সন্ধ্যায় হামলার ঘটনাটি ঘটেছে রিয়াদ আল জনদরিয়া লিভিরিকা কফি শফ এর সামনে । সিসি টিভি ফুটেজ এ আসামিদের সনাক্ত করেছে পুলিশ।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আহত প্রবাসী সেলিম সজীব। তিনি জানান, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আমাকে মারধর করে সাথে থাকা দুই হাজার রিয়াল এবং মোবাইল নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

  • যে কারণে গুহার ভেতরে গিয়েছিল কিশোর ফুটবলাররা !

    অনলাইন ডেস্ক:

    অবশেষে দুঃস্বপ্নের গুহা থেকে মুক্তি মিলল। মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিল থাই খুদে ফুটবলাররা। থাইল্যান্ডের জলমগ্ন গুহা থাম লুয়াংয়ের চার কিলোমিটার ভেতরে দুই সপ্তাহ আটকে থাকার পর রোববার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে সন্ধ্যা নাগাদ প্রথমে দুই কিশোরকে বাইরে বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ছয়জনকে উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করে থাই রয়্যাল নেভি। এর পর রাতের জন্য স্থগিত করা হয় উদ্ধার অভিযান। ১০-১২ ঘণ্টা পরই ফের তা শুরু হওয়ার কথা।

    ১২ ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে ঝুঁকি নিয়েই সকাল ১০টার দিকে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ। দক্ষ দেশি-বিদেশি ১৩ ডুবুরিসহ ১৮ জন ঢোকেন গুহার ভেতরে। গুহার বাইরে অপেক্ষায় থাকেন স্বজনরা। প্রস্তুত রাখা হয় ট্রলি, অ্যাম্বুলেন্স, আসে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। অভিযান চলাকালে মানবিক কারণেই উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে থাইল্যান্ডবাসীর। আর এ উদ্ধার অভিযানের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সারাবিশ্ব।

    গত ২৩ জুন বেড়াতে গিয়ে সেখানে আটকে পড়ে ১২ কিশোর এবং তাদের ফুটবল কোচ। তারা গুহায় ঢোকার পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি এবং এতে সৃষ্ট বন্যায় ডুবে যায় গুহামুখ। ভেতরেও ঢুকে পড়ে পানি।

    বন্যার পানিতে আটকে যাওয়া গুহার যে শুকনো উঁচু জায়গাটিতে গত দু সপ্তাহ ধরে এই দলটি আশ্রয় নিয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে ১৮ জন অভিজ্ঞ ডুবুরি কাজ করছে।

    একেকজন কিশোরকে দুই জন করে ডুবুরি তাদের তত্বাবধানে বের করে আনছেন। পুরো পথ পার হতে তাদের অন্তত ছয় ঘন্টা করে সময় লাগছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আটকে পড়া ১৩ জনকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বের করে আনা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


    কিন্তু তারা কেন ওই গুহায় গিয়েছিল সেই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোন উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ১২ জন কিশোর ফুটবলার তাদের টিমের কোচসহ গুহার ভেতরে গিয়েছিল জুন মাসের ২৩ তারিখ।

    কিশোর ছেলেরা ফুটবল প্র্যাকটিস করতে সকাল দশটার দিকে ন্যাশনাল পার্কে গিয়েছিল। তারপর কী হয়েছিল তারা এখনো কেউ জানে না। গুহার প্রবেশ-মুখের সামনে ১১টি সাইকেল রাখা দেখতে পান নাঙ্গনন ন্যাশনাল পার্কের একজন কর্মী।

    তারপর ওই কর্মী কিশোরদের একজনের পিতামাতাও ন্যাশনাল পার্কের কর্মকর্তাদের জানান যে তারাও তাদের ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

    তবে, ধারণা করা হচ্ছে প্র্যাকটিস শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফুটবলের দলের একজন সদস্যের জন্যে সারপ্রাইজ পার্টির আয়োজন করতে তারা গুহার ভেতরে ঢুকেছিল।

  • এবার কোথায় যাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধরা ?

    অনলাইন ডেস্ক:

    মালয়েশিয়ায় শনিবার শেষ হচ্ছে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণের সকল প্রক্রিয়া। শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত পুত্রাযায়া ইমিগ্রেশন অফিসে চলবে ফিঙ্গারিংয়ের কার্যক্রম। তবে এবার অবৈধদের আর ক্ষমা নয় বলে জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

    ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হওয়া দীর্ঘ মেয়াদি এ বৈধকরণ প্রকল্পে যে সকল অভিবাসী কর্মী ও নিয়োগকর্তারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের আর সময় দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

    এমনকি অবৈধ অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং দেশের নিরাপওা রক্ষার তাগিদে কোন পক্ষের সঙ্গে আপসে যাবে না অভিবাসন বিভাগ এবং দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবৈধদের ধরতে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তারা।

    দেশটির অভিবাসন বিভাগ রোববার থেকে পর্যবেক্ষণ করবে অবৈধরা স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের। এর মধ্যে কেউ গ্রেফতার হলে দেশটির অভিবাসন আইন অনুযায়ী ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৫৫-বি এর অধীনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার হাজার রিঙ্গিত জরিমানা বা ১২ মাসের পর্যন্ত জেল অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।

    একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিপুল সংখ্যক কর্মী বৈধ হওয়ার জন্য কোম্পানি মারফত এবং কোম্পানি ছাড়া বহু (দালাল) এজেন্টের কাছে টাকা পয়সা ও পাসপোর্ট দেয়ার পরেও তারা বৈধ হতে পারেননি। এসব কোম্পানি ও এজেন্ট শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে রোববার থেকেই মাঠে নামবে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

    শুক্রবার দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৭ লাখ ৪৮ হাজর ৮৯২ কর্মী ও ৮৩ হাজার ৯১৯ নিয়োগ দাতারা বৈধকরণ প্রকল্পে নিবন্ধিত হয়েছে।

    একটি সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিতদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৩২ জন অবৈধ কর্মীকে বৈধতার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তাদেরকে ৩০ আগস্টের মধ্যে থ্রি প্লাস ওয়ান এর আওতায় নিজ নিজ দেশে পাঠাতে নিয়োগকর্তাদের বলে দিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

    এদিকে সময়-সীমা শেষ হওয়ার দু’দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে মালয়েশিয়ার সর্বত্র ধরপাকড়। এ ধরপাকড়ে বাংলাদেশিসহ প্রায় ৪’শরও অধিক অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার হয়েছে।

    বৈধকরণ ও ধরপাকড় অভিযানের বিষয়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর মো. সায়েদুল ইসলাম জানান, রি-হিয়ারিং কর্মসূচিকে সফল করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    পাশাপাশি ছুটির দিনেও মালয়েশিয়ার প্রত্যন্ত প্রদেশে দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমাদের কর্মীদের সেবা দিয়েছেন। শ্রমিকদের সচেতন করতে প্রচারপত্র বিলি করা হয়। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা হয়।

    কমিউনিটি সভা করে কর্মীদেরকে সচেতন, অবহিতকরণ ও উদ্বুদ্ধ করা হয়। নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভাসমূহে তাদের আওতাধীন সকল অবৈধ কর্মীদের বৈধতা প্রদানের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়।

    প্রশ্নের জবাবে সায়েদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ আড়াই বছর মালয়েশিয়া সরকার সময় দিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে হাই কমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলামের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এবং ইমিগ্রেশনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এতদিন সময় বাড়ানো হয়েছিল।

    তিনি বলেন, দূতাবাস থেকে সবসময় বলে দেয়া হয়েছে কেউ যেন তথ্য গোপন না করে। তথ্য গোপন করলেই তার পাসপোর্ট পেতে সমস্যা সৃষ্টি হবে। এছাড়া দালালের শরণাপন্ন না হওয়ার জন্যও বলা হয়েছে। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে দূতাবাসের শরণাপন্ন হয় কর্মীরা। তখন আর কিছু করার থাকে না।

    সায়েদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ যারা আটক হয়েছেন তারা দেশে ফেরত যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে না ৫ মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিক!

    অনলাইন ডেস্ক:
    বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালত ট্রাম্পের এ নীতিকে অসাংবিধানিক হিসেবে বিবেচনা করলেও উচ্চ আদালত এর বিপরীত মত দিয়ে একটি রুল জারি করেছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মঙ্গলবার উচ্চ আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে পাঁচজন ও বিপক্ষে চারজন বিচারক রায় দেন।

    এই নিষেধাজ্ঞার কারণে পাঁচ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনের অধিকাংশ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে এর সঙ্গে উত্তর কোরিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকরাও রয়েছেন।

    সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে বিজয় হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু শরণার্থী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে শুরু থেকেই ব্যাপক সমালোচনা করছে।

    প্রধান বিচারক জন রবার্টস তার মতামতে লিখেছেন, এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।

    ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রথম পদক্ষেপ নেন। দুই দফা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির পর আদালতের বাধার মুখে পড়েন ট্রাম্প। সেই পদক্ষেপের বিষয়ে তৃতীয় ধাপের আইনি লড়াই চলে।

    গত বছরের এপ্রিলে এই বিষয়ে শুনানির পর জুনে সুপ্রিম কোর্ট এক রুলিং দেয়। এতে বলা হয়, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ফেডারেল অভিবাসন আইন ভঙ্গ করছে। একই সঙ্গে মার্কিন সংবিধানের ধর্মীয় বৈষম্য নিরসন ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই নিষেধাজ্ঞা। এরপর সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ছয়টি মুসলিম দেশ চাদ, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সাম্প্রতিক আদেশ জারি করেন ট্রাম্প।

    এরপর আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট পাঁচ মুসলিম দেশসহ সাতটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিল।

  • ভিসা নিয়ে শঙ্কায় লক্ষাধিক প্রবাসী

    অনলাইন ডেস্ক:
    বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি। আর তাই অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে জুলাই মাস থেকে ‘ওপস মেগা থ্রি-জিরো’ নামে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করবে দেশটির প্রশাসন।

    দেশটির অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হওয়া বৈধকরণ প্রকল্পে যেসব কর্মী ও নিয়োগকর্তারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের আটক করাই এ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।

    মালয়েশিয়ায় কোনো প্রবাসী ১০ বছরের বেশি ভিসা পাবেন না। ইতোমধ্যে যারা ১১ ও ১২তম ভিসা (স্টিকার) পেয়েছেন সেগুলোও বাতিল করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। গত ২২ জুন দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ এ বিষয়ে একটি নোটিশ জারি করেছে।

    নোটিশে ১১ ও ১২ নম্বর ভিসা প্রাপ্তদেরও দেশে ফেরত যেতে হবে বলে বলা হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগের এমন ঘোষণায় দেশটিতে বিদেশি কর্মীরা বিপাকে পড়েছেন। ফেরত যাওয়ার শঙ্কায় বিদেশি কর্মীদের মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক বাংলাদেশিও রয়েছেন।

  • অবৈধভাবে নৌকাযোগে বিদেশ; সাগরে ডুবে ৩৫ বাংলাদেশির মৃত্যু (ভিডিও)

    অনলাইন ডেস্ক:

    অবৈধভাবে নৌকাযোগে সাগরপথে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে ৭দিনে কয়েক দফায় নৌকা ডুবিতে অন্তত ৩৫ বাংলাদেশি অভিবাসী মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এদেরই একজন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা এক বাংলাদেশি এ তথ্য জানান।

    ওই ব্যক্তি জানান, গত সপ্তাহে ৭০ জনের বেশি বাংলাদেশিসহ প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে ৪টি ট্রলার লিবিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়।

    এ ঘটনার দু’দিন পর একটি ট্রলার লিবিয়া উপকূলে ফিরে গেলে ৩৫ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে মধ্যসাগরে ২০ বাংলাদেশির সলিলসমাধি হলেও কূলে এসে প্রাণ হারান বাকি ১৫ জন।

    নিহত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে মৌলভীবাজারের বড়লেখার চান্দগ্রামের ফারুক হোসেন ও বিয়ানীবাজার পৌরসভার ইমন নামের দুই যুবকের পরিচয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    এ বিষয়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের শ্রম সচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। তবে এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।

    ওই ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশিরা চাইছেন যেন তাদেরকে কোনো ধরনের হয়রানি না করে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা করা হয়।

    গত বছরের আগস্ট মাসের জাতিসংঘের জরিপে দেখা গেছে, আফ্রিকান নারী-পুরুষ ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি এমন ঝুকিপূর্ণ যাত্রা করেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৩ নম্বরে রয়েছে।

    বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নৌকাডুবির ঘটনায় বিয়ানীবাজার ও বড়লেখার একাধিক তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ তরুণদের মধ্যে এমনই একজন হলেন- ইমন।

    নিখোঁজ ইমনের ছোট ভাই ঝুমন বলেন, গত তিন মাস আগে তার ভাই ইমন দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যান। তাকে ইউরোপে পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক দালাল তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেয়। পরে ওই দালাল বহু লোকের সঙ্গে ইমনকে নৌকায় করে সাগরপথে ইউরোপ পাঠায়।

    ভাইয়ের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তার পরিবার।

    ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন:

    https://youtu.be/f4jque-q0wY

     

  • অবৈধ প্রবাসীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

    অনলাইন ডেস্ক:
    ইউএই বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত অবৈধ প্রবাসীদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছে সেই দেশের কর্তৃপক্ষ। প্রবাসীদের জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকে তিন মাসের জন্য এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করা হয়েছে।

    এই তিন মাস কোনরকম জেল জরিমানা ছাড়া অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীরা আমিরাত ছাড়তে পারবেন কিংবা এদেশে অবস্থানকে বৈধ করার সুযোগ পাবেন বলে জানায় আমিরাতের ‘ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ’ কর্তৃপক্ষ।

    দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

    ঘোষিত সময়ের মধ্যে অবৈধ প্রবাসীরা চাইলে নামমাত্র ফি দিয়ে তাদের কাগজপত্র বৈধ করে নিতে পারবে অথবা কোনো ধরনের জেল-জরিমানা ছাড়াই ইউএই ত্যাগ করতে পারবে।

    এই কর্মকর্তা আরো জানান, সব অবৈধ প্রবাসীকে বৈধতা দিতে ‘বৈধতা নিশ্চিত করে নিজেকে সুরক্ষা করুন’ শীর্ষক এই সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি খুব শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেওয়া হবে। ওই তিন মাসের মধ্যে কেউ এই সুযোগ গ্রহণ না করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে তাকে জেল-জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

    ২০১৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় ৬২ হাজার অবৈধ অভিবাসী নিজেদের বৈধ করে নেয়। ওই সময় দুই মাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, ২০১২ সালের মধ্য অগাস্ট থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় সব ধরণের ভিসা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ শ্রমবাজারটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।