Category: রাজনীতি

  • শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র আমার কাছে নেই: রাষ্ট্রপতি

    অনলাইন ডেস্ক:

    রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে এ-সংক্রান্ত কোনও দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই। মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি এ মন্তব্য করেন।

    সাক্ষাৎকারটি গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) পত্রিকার রাজনৈতিক ম্যাগাজিন সংস্করণ ‘জনতার চোখ’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

    মতিউর রহমান চৌধুরীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র যদি সত্যিই জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটির অনুলিপি কারও না কারও কাছে থাকার কথা। কিন্তু তিন সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চালালেও এর খোঁজ কেউ দিতে পারেনি তাকে। এমনকি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও যোগাযোগ করা হয়েছে, যেখানে সাধারণত প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি। তাই শেষমেশ রাষ্ট্রপতির কাছেই সরাসরি এর উত্তর জানার সুযোগ মেলে।

    ৫ আগস্ট ছাত্র-আন্দোলন ও গণবিক্ষোভের মুখে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। সংবিধানের ৫৭ (ক) ধারা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, তার কাছে শেখ হাসিনার কোনও পদত্যাগপত্র বা সংশ্লিষ্ট কোনও প্রমাণ পৌঁছায়নি।

    রাষ্ট্রপতির ভাষ্যে, ‘আমি বহুবার পদত্যাগপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। হয়তো তার সময় হয়নি।’

    কথোপকথনের সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বঙ্গভবনে ফোন আসে, তখন বলা হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আসবেন। এরপরই বঙ্গভবনে প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু এক ঘণ্টার মধ্যে আরেকটি ফোন আসে যে তিনি (শেখ হাসিনা) আসছেন না।

    তখনকার অস্থির সময়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চারদিকে অস্থিরতার খবর। কী হতে যাচ্ছে জানি না। আমি তো গুজবের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে পারি না। তাই সামরিক সচিব জেনারেল আদিলকে বললাম খোঁজ নিতে। তার কাছেও কোনো খবর নেই। আমরা অপেক্ষা করছি। টেলিভিশনের স্ক্রলও দেখছি। কোথাও কোনও খবর নেই। একপর্যায়ে শুনলাম, তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। আমাকে কিছুই বলে গেলেন না।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার যখন বঙ্গভবনে এলেন, তখন জানার চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন কি না? একই জবাব—শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। মনে হয় সে সময় পাননি জানানোর।’

    তিনি বলেন, ‘সবকিছু যখন নিয়ন্ত্রণে এল, তখন একদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এলেন পদত্যাগপত্রের কপি সংগ্রহ করতে। তাকে বললাম, আমিও খুঁজছি।’

    মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ বিষয়ে আর বিতর্কের সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী চলে গেছেন এবং এটাই সত্য। তবু এই প্রশ্নটি যাতে আর কখনও না ওঠে, তা নিশ্চিত করতে আমি সুপ্রিম কোর্টের মতামত চেয়েছি।’

    রাষ্ট্রপতির পাঠানো রেফারেন্সের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ৮ আগস্ট এ সম্পর্কে তাদের মতামত দেন। তাতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক শূন্যতা দূর করতে এবং নির্বাহী কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টামণ্ডলীকে শপথবাক্য পাঠ করাতে পারবেন বলে আপিল বিভাগ মতামত দেন।

    শেখ হাসিনাকে যে কথা বলতে দেওয়া হয়নি‘উনি তো কিছুই বলে গেলেন না’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, ‘পালিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে রেডিও-টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন শেখ হাসিনা। বলেছিলেন, দীর্ঘ নয়, অল্প সময় কথা বলবেন তিনি। কিন্তু পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং সেনাপ্রধানের অনাগ্রহে সে সুযোগ পাননি শেখ হাসিনা। তখন তাকে বলা হয়, চারদিকে লোকজন জড়ো হয়ে গেছে। সবাই মারমুখী। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা গণভবনে পৌঁছে যেতে পারে। তার নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাকে সে সুযোগ দেওয়া যাবে না। হাসিনা বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। কিন্তু কিছুই করার ছিল না। বক্তৃতার একটি খসড়া তৈরি করেছিলেন তিনি।’

    ‘নানা সূত্রে জানা যায়, এতে তিনি বলতে চেয়েছিলেন, তার ইচ্ছায় নয়, বলপূর্বক তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। কারা এবং কোন বিদেশি শক্তি তার সরকারকে উৎখাত করতে চেয়েছে, এটাও তিনি দেশবাসীকে জানাতে চেয়েছিলেন। তার শাসনকালে দেশের কী কী উন্নয়ন হয়েছে, তারও বয়ান ছিল। সকাল থেকে দুপুর, এ সময় নানাভাবে দর-কষাকষিও চলছিল। বারবার ফোন আসছিল নয়াদিল্লি থেকে। বলা হচ্ছিল, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঢাকার তরফে দিল্লিকে বলা হয়েছিল, তারা যেন বিমান পাঠিয়ে হাসিনাকে নিয়ে যান। সে অনুরোধে সাড়া দেয়নি দিল্লি। এরপর বাংলাদেশের উদ্যোগে বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০ বিমানে তাকে দিল্লি পাঠানো হয়। হাসিনাকে বহনকারী বিমানে আরও দুজন ছিলেন। তার ছোট বোন শেখ রেহানা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক।’

  • ন্যাশনাল ডক্টরস’ ফোরাম কুমিল্লা শাখার নতুন কমিটি 

    (হাসিবুল ইসলাম সজিব, কুমিল্লা)

    ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম কুমিল্লা শাখার ২০২৪-২৫ সালের কমিটি গঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার একটি সম্মেলন কেন্দ্রে এনডিএফের চিকিৎসক সমাবেশে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কার্যকরী কমিটিতে সভাপতি পদে ডা. জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অধ্যাপক ডা. জহিরুল আলমের নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন জামায়াত ইসলামীর মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং ডা. মজিবুর রহমান।
    কমিটির উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন ১২জন। তারা হলেন-  প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ বেলাল, প্রফেসর ডা. আতাউর রহমান, প্রফেসর ডা. মিজানুর রহমান,ডা. এন এম শাহাজাহান, প্রফেসর ডা. মাহবুবুল ইসলাম মজুমদার, প্রফেসর ডা. সফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ডা. ফজলুর রহমান মজুমদার, ডা. মাহফুজুল হক, ডা. এম এ মান্নান, ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, ডা. মেজর (অব) নুরুস সাফী ও ডা. মাসুদ হাসান। 

    কমিটির সহ-সভাপতি পদে প্রফেসর ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও ডা. জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ডা. মো. জুয়েল রানা, ডা. গিয়াস উদ্দিন ও ডা. মো.আরিফ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে  ডা. কাউছার হামিদ, বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক পদে ডা. শাহ আলম, অর্থ সম্পাদক পদে ডা. জাবেদ আহমেদ, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, অফিস সম্পাদক পদে ডা. আল আমিন সোহাগ, প্রচার সম্পাদক পদে ডা. হাসেম আব্দুল্লাহ, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ডা. মোবারক হোসেন, মহিলা ডাক্তার বিষয়ক সম্পাদক পদে ডা. সানজিদা সুলতানা, সহ-মহিলা ডাক্তার বিষয়ক সম্পাদক পদে ডা. তাসাফী বিনতে আনোয়ার, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে ডা. আশরাফুল ইসলাম, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে ডা. সাইদুর রহমান এবং সদস্য পদে ডা. আবু মোহাম্মদ, ডা. মো. সাইফুল হক, ডা. মহিউদ্দিন, ডা. আহসান উল্লাহ রুমী, ডা. জানে আলম, ডা. আবুল হাসেম মনসুর, ডা. মাকসুদ উল্লাহ, ডা. শরীফ মজুমদার, ডা. নাজমুল হোসাইন সৈকত,ডা. আয়শা কবির ও ডা. নাহিন তানিয়া।

    উল্লেখ্য, প্রফেসর ডা. ইউসুফ আলী ১৯৮৯সালে  ১৯ মে ৩৫ জন নিয়ে চিকিৎসক নিয়ে  ন্যাশনাল ডক্টরস’ ফোরাম  প্রতিষ্ঠিত করেন। এনডিএফ প্রতিষ্ঠার হওয়ার  পর থেকেই কুমিল্লায় কার্যক্রম শুরু হয় । এনডিএফ সংঘটিত করেন ডা. এন এম শাহজাহান, ডা. ফজলুর রহমান মজুমদার
    ডা. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ডা. মুজিবুর রহমান। ১৯৯৭ সালে একটি কমিটি গঠিত হয় এবং ১৯৯৯ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়।

  • ‘কারাগার থেকেই দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন খালেদা জিয়া’

    অনলাইন ডেস্ক:
    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগার থেকে দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, ‘কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে গেলে তিনি তাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়াও চেয়েছেন।’

    শুক্রবার (১৫ জুন) বেলা ১২টায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, ‘মিথ্যা, সাজানো ও জাল নথি তৈরি করে সরকারের নির্দেশে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করা হয়েছে। মূল মামলায় জামিন পেলেও ঈদের আগে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি এবং তার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়নি।’
    রিজভী আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে যতই বাদানুবাদ থাক, দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল পছন্দমতো দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিশ্চিত হবে ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে দেশনেত্রী মুক্তি পাবেন। কিন্তু মূল মামলায় জামিন পাওয়ার পরও সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে তার কারামুক্তি আটকে দিয়েছে।’

    সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে বরং চিকিৎসা নিয়ে পানি ঘোলা করছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘৭৩ বছর বয়স্ক একজন জনপ্রিয় নেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সরকারের চরম নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। অমানবিক ও নির্মম নিষ্ঠুরতার প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বড় বড় স্বৈরশাসকদেরও হার মানিয়েছেন শেখ হাসিনা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় পছন্দ অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন। এমনকি প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন। অথচ খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দিরেখে, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা করতে না দিয়ে শেখ হাসিনা চরম প্রতিহিংসার খেলায় মেতে উঠেছেন।’

    ঈদুল ফিতরের আগে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম. মাদারীপুর সদর পৌর বিএনপি নেতা আল আমিনকেও গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এর নিন্দা গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি করছি।

  • ‘খালেদা জিয়া মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন’

    অনলাইন ডেস্ক:
    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৫ জুন কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার আত্মীয়ের বরাত দিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই অবস্থায় বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে দলের পক্ষ থেকে আগামী ১০ জুন রবিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে।

    বিএনপি এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য দলের পক্ষ থেকে আহ্বানও জানান রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয়রা তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে তারা দেশনেত্রী সম্পর্কে যে বর্ণনা দেন তা শুধু মর্মস্পর্শীই নয়, হৃদয়বিদারক। সরকারের জিঘাংসার কশাঘাতের তীব্রতা যে কত ভয়াবহ সেটি বোঝা যাবে শুধুমাত্র তার প্রতি অমানবিক আচরণের মাত্রা দেখলেই।

    তিনি আরও বলেন, নিকটাত্মীয়রা বলেছেন ৫ জুন খালেদা জিয়া দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি তিন সপ্তাহ ধরে ভীষণ জ্বরে ভুগছেন, যা কোনোক্রমেই থামছে না। চিকিৎসাবিদ্যায় যেটিকে বলা হয় টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক)। দেশনেত্রীর দুটো পা এখনও ফুলে আছে এবং তিনি শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারছেন না।

    রিজভী চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে তিনি যে কথাগুলো বলছেন তা সম্পূর্ণরূপে সত্য। তার অসুস্থতা নিয়ে ইতিপূর্বেও যে কথাগুলো বলা হয়েছে তা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ হলে তার স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না। সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে মনে হয় সরকার এবং সরকার প্রভাবিত প্রশাসনযন্ত্র দেশনেত্রীকে নিয়ে কোনো গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

    এদিকে, বিকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তারা পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে পৌঁনে ৬টার দিকে বের হন। এ সময়ে তারা কারও সঙ্গে কথা বলেননি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, তাদের দুই ছেলে অভিক এস্কান্দার, অরিক এস্কান্দার ও ভাগনে ডা. মামুন। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

  • ২৫ দিনের জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

    অনলাইন ডেস্ক:
    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামী ৪ জুন পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১০ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে এ আদেশ দেন বিচারক আখতারুজ্জামান।

    এদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানান, খালেদা জিয়াকে বারবার আদালতে হাজির না করায় মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। এ জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করতে বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    আসামিপক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান,বাংলাদেশের আইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ধরনের মামলা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি এ মামলায় খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনের আবেদন করেন তিনি।

    এর আগে অসুস্থতার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় যুক্তিতর্ক পিছিয়ে আজ ১০ মে দিন ধার্য করে আদালত।

    উল্ল্যেখ, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ চার আসামির বিরুদ্ধে ২০১০-এ রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।

  • আদালতে ব্যাপক ‘হট্টগোল’ জামিন হল না খালেদার!

    অনলাইন ডেস্ক:
    জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি ছিল আজ। যার ফলে সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ছিল দেখার মত। আদালত প্রাঙ্গণে ঢোকার সময় এক এক করে সবাইকে তল্লাশি করা হয়। তবে বাইরের পরিবেশ ঠাণ্ডা থাকলেও ভেতরের পরিবেশ ছিল অশান্ত।

    মঙ্গলবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আপিল শুনানি শুরু হয়। কিন্তু আইনজীবীদের ব্যাপক হট্টগোলের মাঝে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবী ঘোষণা করা হয়েছে।

    প্রথমে আদালতে বক্তব্য রাখেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। তিনি খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল চেয়েছেন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে দুইবার আদালতে উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রতিবাদ করে উঠেন। অ্যাটর্নি জেনারেল তার বক্তব্যে বলেন, ‘খালেদা জিয়া রেস্টে আছেন’ এবং ‘এটি সবচেয়ে ফেয়ার ট্রায়াল’।

    তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার পক্ষে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। তিনি আদালতকে বলেন, দুদকের আইনজীবী ও অ্যাটর্নি জেনারেল যেসব বক্তব্য রেখেছেন তা রাজনৈতিক। রাষ্ট্রের আইন প্রধান আইন কর্মকর্তা হয়ে তিনি এসব বক্তব্য রাখতে পারেন না। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেকে এ মামলার বাদি উল্লেখ করে বলেন তিনি এসব বলতে পারেন। এ নিয়ে অন্য আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করলে আদালত আজকের মতো শুনানি স্থগিত করে দেন।

    খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে আরও উপস্থিত ছিলেন- ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ সিনিয়র আইনজীবীরা।

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের লিভ টু আপিল এবং খালেদা জিয়ার জামিন বহাল চেয়ে তার পক্ষে দায়ের করা অপর একটি আপিল আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ দিন নির্ধারণ করেছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

    গত ১৯ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসাথে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলার সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল (আপিলের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন) গ্রহণ করা হয়।

    আদেশের পর ওই দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অনুরোধে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, ৮ মে এই মামলা শুনানির জন্য তালিকার শীর্ষে থাকবে। কোনো ধরনের মুলতবি ছাড়া বিরতিহীনভাবে শুনানি হবে। ৮ মে না হলেও ৯ মের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তি করব।

    গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। একই রায়ে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর চার আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হলে ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। জামিন আদেশে আদালত বলেন, আদেশ দেয়ার সময় আমরা যেসব বিষয় বিবেচনা করেছি সেগুলো হলো- এক. সাজার পরিমাণ (বিচারিক আদালতে তাকে যে স্বল্প মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে); দুই, মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটি আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি; তিন. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন ও জামিনের অপব্যবহার করেননি এবং চার. তার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা হলো।

    আদালত আরও বলেন, তিনি ৭৩ বছর বয়সী একজন নারী এবং দীর্ঘ দিন ধরে নানা রোগে আক্রান্ত। এসব বিবেচনা করে তাকে চার মাসের জামিন দেয়া হলো।

  • খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি চলছে

    অনলাইন ডেস্ক:
    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিলের (লিভ টু আপিল) ওপর শুনানি চলছে।

    মঙ্গলবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের চার বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

    এদিকে সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিচারপ্রার্থীসহ সবাইকে আদালত চত্বরে প্রবেশ করতে হয় কড়া তল্লাশির মধ্য দিয়ে।

    উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে পরের দিন রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আবেদন করে। ওইদিন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর জামিন আদেশ স্থগিত না করে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
    ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে এবং পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে আসামিপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে এ আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত বলে আদেশে বলেন আদালত।

    এর আগে একই মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকেই খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে আছেন। এদিকে কারাবন্দী হিসেবে খালেদা জিয়ার তিন মাস পূর্ণও হবে আজ।

  • কুমিল্লা-৯ : লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কোন্দলে বিপর্যস্ত আ. লীগ- বিএনপি

    আবদুর রহমান: প্রতিনিধি, কালের কন্ঠ।।

    কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সব কটি সংসদ নির্বাচনেই বিজয়ী প্রার্থীর দল সরকার গঠন করেছে। ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন মো. তাজুল ইসলাম। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, পরিবারভিত্তিক রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি, ‘সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে নানা কর্মকাণ্ড চালানো এবং জামায়াত-বিএনপির লোকজন দলে ভিড়িয়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে ফেলার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সে কারণে তৃণমূল থেকে এ আসনে দলের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি উঠেছে।

    অন্যদিকে প্রকাশ্যে গ্রুপিং ও কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন বিএনপি নেতারা। দলের কেন্দ্রীয় নেতা কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিম ও আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালামের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে আসনটিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দলটি।

    এ প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করে মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়া জামায়াত গোপনে বেশ জোরেশোরেই রাজনৈতিক তত্পরতা চালাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীও প্রস্তুত রেখেছে দলটি। জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই নড়বড়ে। অবশ্য গত মাসে দলের চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করার পর বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এ টি এম আলমগীর লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    আওয়ামী লীগ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তাজুল ইমলাম ছাড়াও নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকজন জোর তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে দলের বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য, ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ফারুক, বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও কে এম গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া কামাল উল্লেখযোগ্য। এই তিনজন গত নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

    দলের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে বর্তমান লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস ভূঁইয়ার হাত ধরে দলে আসেন মো. তাজুল ইসলাম। ওই বছর ১২ জুনের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। এর পর থেকে ধীরে ধীরে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটির তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হওয়ার পর পরিবারভিত্তিক রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি, নিজ পরিবারের সদস্য ও কর্মচারী দিয়ে ‘সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং জামায়াত-বিএনপির লোকজন দলে ভিড়িয়ে রাজনীতি করছেন তিনি।

    ২০০৫ সালে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আবুল কাশেম ভুঁইয়া। গত বছর তাঁকে না জানিয়ে আপন মামাতো ভাই আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সভাপতি করে দুই সদস্যের বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করেন সংসদ সদস্য। সে সময় আবুল কাশেম ভুঁইয়াসহ আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিযোগ তোলে, একাত্তরে এলাকায় একজন শীর্ষস্থানীয় রাজাকার ছিলেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর বাবা। এর প্রতিবাদে গত বছরের ২৭ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে। একই সময় সংসদ সদস্য কমিটি ঘোষণা করেন লাকসাম উপজেলা ও পৌর শাখা আওয়ামী লীগের। তাজুল ইসলাম নিজেই লাকসাম উপজেলা কমিটির সভাপতি হন। আর পৌর কমিটিতে তাঁর শ্যালক মহব্বত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করেন তিনি।

    অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্য তাজুল ইসলামের হয়ে লাকসাম ‘নিয়ন্ত্রণ’ করেন তাঁর শ্যালক মহব্বত আলী ও রাজনৈতিক সহকারী মনিরুল ইসলাম রতন। আর মনোহরগঞ্জ ‘নিয়ন্ত্রণ’ করেন মামাতো ভাই আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ভাতিজা আমিরুল ইসলাম ও সংসদ সদস্যের বিশ্বস্ত উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল। এ ছাড়া তিনি এমপি হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মী ও লোকজনকে তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্মোধন করতে হয়।

    মনোনয়নপ্রত্যাশী দেলোয়ার হোসেন ফারুক বলেন, “বর্তমান সংসদ সদ্যস্যের কারণে কুমিল্লা-৯ আসনে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। এমপির দলে ভেড়ানো জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের চাপে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দুই উপজেলার বেশির ভাগ স্থানে আওয়ামী লীগ চালায় জামায়াত, বিএনপি আর রাজাকারপুত্র। তাদের অনেকে নৌকা প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। এ ছাড়া তিনি নিজ পরিবারকেন্দ্রিক ‘সিন্ডিকেট’ দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ দল পরিচালনা করে আওয়ামী লীগের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। তাই আমি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি দল ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণের কল্যাণে কাজ করব। এ আসনকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত করব।’

    আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া কামাল বলেন, ‘এমপি তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগকে জামায়াত-বিএনপির আখড়ায় পরিণত করেছেন। দলটাকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছেন। জনগণের উন্নয়নের নামে নিজের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে সিন্ডিকেট করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এখন নৌকার প্রার্থীর পরিবর্তন চায়। আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। ১৯৭৮ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি এ আসনকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত করব।’

    দলের টিকিটে নির্বাচন করতে আগ্রহী মো. শাহ আলম ২০০৬ সালেও দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সেই ১৯৮৬ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের তৃণমূল ও ত্যাগী কর্মীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আজ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দলের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা বড় অসহায়। তাই জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের আমার অনুরোধ, আপনারা তৃণমূলে জরিপ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিন। না হয় এ আসনে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে দল।’

    এসব অভিযোগ এবং মনোনয়ন প্রসঙ্গে জানতে গত ৩০ এপ্রিল সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে এর আগে বিভিন্ন সময়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা করেছি। ছাত্রলীগকে মেধাভিত্তিক রাজনীতিতে উত্সাহিত করে দেশ গঠনে কর্মক্ষম ও সক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। দলের মধ্যে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। দল ও এলাকার সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে অনেক সংগঠিত হয়েছে। তারা আমাকে ভালোবাসে। আমাকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে দলের কমিটি গঠন করে গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মানুষ এখন স্বস্তিতে আছে। উন্নয়নকাজ চলছে, চলবে।’ তবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযোগগুলো নিজেদের মনগড়া এবং সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

    বর্তমানে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন বিভিন্ন দল থেকে লোক আসে সুবিধা নেওয়ার জন্য আর তারা তখন আওয়ামী লীগ হয়ে যায়। এ ছাড়া নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দিতে গিয়েও আমাদের কিছুটা ছাড় দিতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তাজুল ইসলাম ছাড়া আমাদের কাছে হেভিওয়েট কোনো প্রার্থী নেই। তাই যিনি আছেন, সবাই মিলে তাঁকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’

    সংসদ সদস্যের কথিত সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, দলের নেতারা দল পরিচালনার জন্য লোক ঠিক করেন। যোগ্যতা থাকার কারণেই এমপির আত্মীয়রা দলের কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আর সংসদ সদস্য একটি সম্মানীয় পদ, যার কারণে মানুষ ও নেতাকর্মীরা সম্মান দিয়েই ওনাকে ‘স্যার’ বলে সম্মোধন করলে এতে দোষের কিছু নেই।

    বিএনপি : বর্তমানে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসন থেকে দলের প্রতীকে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম আনোয়ারুল আজিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সদস্য ও তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ড. রশিদ আহমদ হোসাইনী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও আমরা জিয়ার সৈনিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সফিকুর রহমান সফিক।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে আনোয়ারুল আজিম ও আবুল কালামের মধ্যে। তবে ২০০১ সালে সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আজিমের হাতেই।

    অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে আজিমের সঙ্গে গ্রুপিংটা জোরালোভাবে শুরু করেন আবুল কালাম। আবার নির্বাচনের পর হারিয়ে যান তিনি। কালামের দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ৪৫৮ ভোটের ব্যবধানে হারতে হয় আনোয়ারুল আজিমকে।

    স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আনোয়ারুল আজিম যেখানে মাঠের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে আবুল কালাম আছেন লবিংয়ে ব্যস্ত। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপক্ষে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী দিতে হলে আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প নেই। এলাকায় দল-মত-নির্বিশেষে বেশ সুনামও রয়েছে তাঁর।

    নেতাকর্মীরা জানায়, আবুল কালাম গত বছরের শুরু থেকে জোরালো গ্রুপিং শুরু করেছেন আজিমের সঙ্গে। তবে লাকসামের পাশাপুর গ্রামে কালামের নিজ বাড়িতে কয়েকটি সভা-সমাবেশ ছাড়া নিজ উপজেলা সদরে তেমন কোনো অবস্থান নিতে পারেননি তিনি। আর কয়েকবার চেষ্টা করলেও আজিমের অনুসারীদের তোপের মুখে মনোহরগঞ্জে প্রবেশ করতে পারেননি বললেই চলে। আজিমের বাড়ি মনোহরগঞ্জে।

    গত বছর আবুল কালাম তাঁর অনুসারীদের নিয়ে দুই উপজেলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ‘আংশিক’ কমিটি করেছেন। তবে বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রণ আজিমের অনুসারী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে থাকা আগের কমিটিগুলো বাতিল বা বিলুপ্ত না করায় তারাও নিজেদের নেতা দাবি করছে। এতে বলা যায়, দুই নেতার দুই কমিটিতে চলছে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি।

    আজিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ইলিয়াছ পাটোয়ারী বলেন, ‘লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপিতে আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প কোনো নেতা নেই। আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ তাঁকে তাদের মনে ঠাঁই দিয়েছে। আজিম ভাইয়ের নেতৃত্বেই সব দলীয় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে এ আসনে চিন্তা করলে বিএনপিকে একটি নিশ্চিত আসন হারাতে হবে।’

    লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘চৈতি কালাম আওয়ামী লীগের এজেন্ট। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সরাসরি আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট কিনেছেন। বর্তমানে আমাদের দুর্গের মতো থাকা দলকে ধ্বংস করতে আবারও গ্রুপিং শুরু করেছেন তিনি।’ আবুল কালাম বিএনপির জন্য ‘বিষফোড়া’ বলে দাবি করেন তিনি।

    আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করছি। আর আমার কাছে বর্তমানে দলীয় মনোনয়নের চিন্তার চেয়ে বেশি জরুরি হলো, দলের সব নেতাকর্মীকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখা। কারণ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ হলো বিএনপির ভোটব্যাংক। আর আমি রাজনীতি করি দল ও মানুষের কল্যাণে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আমার ওপরই আস্থা রাখবে।’

    আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম বলেন, ‘দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশেই আমি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে আমি বহু আগ থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। আমি দলের পুরনো লোক। আগেও মাঠে ছিলাম, এখনো আছি। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং বিজয়ী হব।’ তিনি আরো বলেন, ‘লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আমি সবাইকে নিয়েই দল গোছাচ্ছি। আজিম দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তিনি এখন বিএনপির কেউ না। প্রতিটি কমিটিতে আমাদের লোকজন রয়েছে। আজিমের অনুসারীদের কমিটিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া তিনি পদত্যাগ করেছেন আবার তা প্রত্যাহারের জন্যও আবেদন করেছেন। লাকসাম-মনোহরগঞ্জে তাঁর শূন্যস্থান পূরণ হয়ে গেছে। সবাই এখন আমার সঙ্গে কাজ করছে।’

    রশিদ আহমদ হোসাইনী বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে কোনো গ্রুপিং করি না। যারা বিএনপির বহিষ্কার ও সংস্কার রাজনীতি করে তারা কখনো দলীয় স্বার্থে রাজনীতি করে না, বরং তারা ব্যক্তিস্বার্থে ফায়দা হাসিল করতে রাজনীতি করছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে এখন বিএনপির বড় ইস্যু দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। কুমিল্লা-৯ আসনে আমি অনেক জনপ্রিয়। প্রাপ্তি-প্রত্যাশার রাজনীতি না করায় নেতাকর্মীরা আমাকে পছন্দ করে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং সুষ্ঠু ভোট হলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

    সফিকুর রহমান সফিক সর্বত্র দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপি থেকে অন্য যাঁরা মনোনয়ন চাচ্ছেন তাঁরা কেউই বিএনপির পরীক্ষিত লোক নন। আমি দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। অন্যরা বিভিন্ন দল থেকে বিএনপিতে এসেছেন। আমার ঠিকানা বিএনপি। কারণ ভাড়াটে দিয়ে বিএনপির মতো একটি দল চলতে পারে না। আগামী নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনে বিএনপির সব নেতাকর্মী মূল্যায়িত হবে।’

    জাতীয় পার্টি : দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা-৯ আসনে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। নির্বাচন প্রসঙ্গে দলে সদ্য যোগ দেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এ টি এম আলমগীর বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী।

    এর আগে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে তিনবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারিয়েছেন গোলাম মোস্তফা। তিনিও দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

    জামায়াত ও অন্যান্য : এ আসনে জামায়াত এরই মধ্যে তাদের প্রার্থী হিসেবে জনপ্রশাসন ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং কেন্দ্রীয় জামায়াতের শুরা সদস্য এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে। তিনি ফেনীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) থাকাকালে জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন।

    লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় নীরবে কাজ করছে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ আসনে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরই জামায়াতের অবস্থান।

    কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আবদুস সাত্তার জানান, সোলায়মান চৌধুরীকে ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন দিলে জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে তিনি লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগও করেছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।

    অন্যদিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে সেলিম মাহমুদের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে দলটির তেমন কোনো সাংগঠনিক তত্পরতা চোখে পড়ে না। সূত্র: কালের কণ্ঠ