Category: বিনোদন

  • আসিফ গ্রেফতারের খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে যা বললেন জনপ্রিয় শিল্পীরা

    অনলাইন ডেস্ক:
    সংগীতশিল্পী শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবর। তার এ গ্রেপ্তারকে বাংলা গানের ভবিষ্যতের জন্য সুফল বয়ে আনবে না বলে মত দিয়েছেন অনেক শিল্পী। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর বিরোধীতা করে নিজস্ব মতামত জানিয়েছেন। সেই সাথে এর আশু সমাধানও চেয়েছেন।

    জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর লিখেছেন ‘প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, ঝগড়া, মারামারি… এটাই কি সমাধান? কী হচ্ছে এসব? কোথায় যাচ্ছি আমরা?’

    সংগীতশিল্পী পারভেজ ফেসবুকে লিখেছেন ‘আমাদের সংগীত জগতে চলমান বিবাদ নিয়ে এতদিন কিচ্ছু বলিনি, নীরবে সয়ে গেছি। আজ মুখ খুলতে বাধ্য হলাম। অনেক দিন ধরেই দুঃখভারাক্রান্ত মনে শ্রদ্ধেয় তিন শিল্পী আর তাদের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ সয়ে আসছিলাম। আমরা সবাই এতটা আগ্রাসী কেন? গত রাতে আসিফ ভাই গ্রেপ্তার হলেন! কারণটাও জানতে পারলাম। মনটা ভেঙে গেল। আমরা নাকি শিল্পী! তা হলে আমাদের সেই শৈল্পিক মনটা কি স্বার্থান্বেষণ আর অর্থ-বিত্তের লালসায় ঢাকা পড়ে গেল? কেন, কেন, কেন! আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি, কোনো দ্বন্দ্ব-বিবাদই মীমাংসার ঊর্ধ্বে নয়। বিশ্বযুদ্ধের মতো দ্বন্দ্বের অবসান হতে পারে আর আপনাদের দ্বিমতের অবসান নেতিবাচকভাবেই হতে হবে, এমন তো হতে পারে না। তিনজন মেধাবী, গুণী, দেশবরেণ্য সংগীত ব্যক্তিত্ব এভাবে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়াতে আমাদের এই ক্ষয়িষ্ণু, ধুঁকতে থাকা সংগীতাঙ্গনের কতটা ক্ষতি হচ্ছে সেটা কি আমরা বুঝতে পারছি না? শ্রদ্ধেয় আসিফ ভাই, আমার সংগীত জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে অভিভাবক হয়ে আমাকে আগলে রেখেছিলেন। শফিক তুহিন ভাই, প্রীতম ভাই, আমার অত্যন্ত কাছের দুজন বড় ভাই, আমার শুভাকাঙ্খী। আপনারা সবাই কি পারতেন না একটা ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে? এত কি কঠিন ছিল কাজটা? আমরা ছোটরা কী শিখলাম, কী শিখব তা হলে?’

    সংগীতশিল্পী কোনাল লিখেছেন ‘শুধু মনে হচ্ছে, আজকে আমি বা আমরা কেউ এমন পরিস্থিতিতে পরলে সবার আগে আসিফ ভাই এগিয়ে আসতেন, আর বলতেন, “ঘাবড়াবা না একদম… আমি আছি, দেখছি কী করণীয়. ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে!” এমন কথা তিনি অনেক বিপদগ্রস্ত মানুষকে বলেছেন, এবং তিনি তার সাধ্যমতো করেছেন! ঠিক বেঠিক জানি না… আমি বিচারক নই! কিন্তু ভাই ভাইয়ের মাংস খাওয়া-খাওয়ি মোটেও ভালো লাগছে না! সংগীত পরিবারটা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে! গায়ক আসিফ না, মানুষ আসিফের কথা বলছি, যিনি আমার চোখে দেখা অন্যতম হেল্পফুল পারসন। একজন লিডার, একজন পরোপকারী। আমি মানি, একজন শিল্পীর যেমন শালীন, নম্র, শুভাশিস হলে শোভা পায়, তেমনি ক্ষমাশীল হওয়াটাও শিল্পীর অন্যতম চরিত্র। ভুল তো মানুষেরই হয়। আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধে নই! আসিফ ভাই আপনি ফিরে আসুন, এসে সব ঠিক করে দিন, ভালোবাসা থাকুক অবিরাম।

    ‘ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক, আসিফ আকবর ভাই ফিরে আসুক আমাদের মাঝে শিল্পী সমাজের সিনিয়রদের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই’ এ কথাগুলো বলেছেন গায়ক সংগীত পরিচালক শান।

    ‘সখি ভালোবাসা কারে কয়’খ্যাত গায়ক মিলন লিখেছেন ‘ভাইয়ের মতো একজন বাংলা গানের যুবরাজ গ্রেপ্তার হওয়া মানে বাংলা গান ও বাংলার সব শিল্পীর জন্য অপমানজনক। দ্রুত এর সমাধান কামনা করছি।

    সংগীতশিল্পী মুহিন বলেছেন, ‘সংগীত জগতের নক্ষত্র আসিফ আকবর ভাই। যারা বোঝেন নাই তাদের উদ্দেশ্য কী? জাতি তা জানতে চায়। আমিও ব্যতিক্রম নই। খুব শিগগির তার খোলস উন্মোচন হবে নিশ্চিত। বাংলাদেশের গান, বাংলাদেশের প্রাণ বলছি তাদের কে যে উন্মাদনা কমিয়ে দেশের গানের ভবিষ্যতের কতটুকু অপমান করলেন একটু ভেবে দেখবেন। আছি সব সময় তারুণ্যের সঙ্গে, জয় হবে নিশ্চয়… এখন শুধু অপেক্ষা।’

    গায়ক সংগীত পরিচালক অয়ন চাকলাদার আসিফের গ্রেপ্তার নিয়ে বলেন, ‘টেবিলে বসেই যে ভুল বোঝাবোঝির সমাধান সম্ভব; সেটাকে মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সত্যিই দুঃখজনক। আসিফ আকবর ভাইয়ের মতো একজন সিনিয়র জনপ্রিয় শিল্পীকে এভাবে মধ্যরাতে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া এটা অবশ্যই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যতের জন্য কোনো সুখকর ঘটনা কিংবা উদাহরণ নয়। রোজার সময়ে ঈদের কয়েক দিন আগে এমন কিছু দেখব বলে আশা করিনি। আসিফ ভাইকে মুক্তি দিয়ে দ্রুত নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান করুন শিল্পী-সমাজ। আমি ছোটখাটো আর্টিস্ট, মিউজিশিয়ান ইন্ডাস্ট্রির। এর বেশি আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।’

    সংগীতশিল্পী রাফাত বলেন, ‘আসিফ আকবরকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানাই।’

    সংগীতশিল্পী শশী লিখেছেন, ‘শ্রদ্ধেয় আসিফ আকবর, আপনি বীরের মতন আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ। ভালোবাসা অবিরাম।’

    সংগীতশিল্পী বিউটি ভীষণ মন খারাপ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সকালে খবরটা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আসিফ আকবর ভাই ফিরে আসুক আমাদের মাঝে। এটাই আশা করছি।’

    খন্দকার বাপ্পি লিখেছেন, ‘মামলা, হামলা এগুলো কোনো সমাধান নয়, এমনিতে গানের জগতের অবস্থা বড়ই নাজুক। এটাকে নতুন করে আরও প্রশ্নবিদ্ধ না করে সিনিয়রদের উচিত এক জায়গায় বসে সমাধান করা।আসিফ ভাই সবার মাঝে দ্রুত ফিরে আসবে এই কামনা করছি।’

    নিশিতা বড়ুয়া লিখেছেন, ‘আসিফ ভাই-শফিক তুহিন ভাই, প্লিজ ভাই, আসেন রোজার মাসে আর নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে এক হয়ে যাই। ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ, একজন ক্ষমা করে এগিয়ে আসেন পাথর গলে যাবে প্লিজ।’

    উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে আসিফের মগবাজারের নিজস্ব অফিস থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আসিফকে গ্রেপ্তার করে তাকে নিয়ে যায় সিআইডি কার্যালয়ে। শফিক তুহিন তার মামলায় অভিযোগ করেছেন, ১ জুন রাত নয়টার দিকে একটি চ্যানেলের ‘সার্চ লাইট’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ অনুমতি ছাড়া তার সংগীতকর্মসহ অন্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, আসিফ তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটালে রূপান্তর করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। ঘটনা জানার পর শফিক তুহিন ২ জুন রাতে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ করে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেন। পরের দিন রাত ১০টার দিকে আসিফ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তাকে গালাগালি করেন।

    ‘আসিফ রক্তের ভাই’

  • ‘আসিফ রক্তের ভাই’

    লিভার ইনফেকশন হয়ে মা যখন হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছিল ডাক্তার প্রফেসর আব্দুর রব একটা কথাই বলেছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব রক্তদাতা জোগাড় করে রক্ত দেয়া যাবে তত দ্রুত রোগী ইম্প্রুভ করবে। রক্তের গ্রূপ বি-পজেটিভ, পরিমান পাঁচ ব্যাগ। আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব,পরিচিত সবাইকে ফোন দিতে থাকলাম। এক ব্যাগ ম্যানেজ হলে চার ব্যাগ বাকি থাকে, কেউ কেউ বলে কুমিল্লায় না ঢাকায় হলে ভালো হতো, কেউ কেউ বলে আজকে না কালকে।

    অসহায়, নিরুপায় হয়ে ফেবুতে পোষ্ট দিলাম গর্ভধারিনী মা’র জন্যে রক্ত চেয়ে। শতশত শেয়ার, কমেন্টস কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিলোনা। ঘন্টা খানেক পর আসিফ ভাইয়ের টেক্সট ” টেনশন করবেন না ভাইজান, বি-পজেটিভ পাঁচ ব্যাগ ম্যানেজ হয়েছে। বাসার নাম্বার+হাসপাতালের ঠিকানা দেন রক্তদাতারা সময়মতো পৌঁছে যাবে। এরপর রক্ত দেয়া থেকে শুরু করে মা যতদিন হাসপাতাল ছিল ততদিন রুটিন করে মায়ের খবর নিয়েছেন। আসিফ ভাইয়ের খাতিরে রক্ত দাতারা এক গ্লাস জুস্ কিংবা পানি পর্যন্ত পান করেনি আমার বোন-ভাবী’র কাছ থেকে।

    এরপর যতবারই কথা হয়েছে আমাদের “রক্তের ভাই” বলে সংবোধন করি আমি। উনি উনার ট্রেড মার্ক হাসি দিয়ে আরো বেশি আপন করে নেন। মহান প্রভুর অশেষ কৃপায় মা এখন অনেকটা সুস্থ্য। মায়ের প্রতি ওয়াক্ত নামাজের মোনাজাতে থাকে আসিফ আকবর ও নাম না জানা রক্তদাতারা।

    আমি কনফিডেন্টলি বলছি,যে আসিফ মুমুর্ষ মায়ের রক্তদাতা সে আসিফ অবশ্যই ন্যায় বিচার পাবেন ইনশাআল্লাহ।মায়ের দোয়া বিফলে যায়না।
    ………মনির খান নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডিতের দেয়া পোস্ট থেকে নেয়া

  • ‘বাংলা গানের যুবরাজ গ্রেফতার হওয়া সব শিল্পীদের জন্য অপমানজনক’

    অনলাইন ডেস্ক:
    সফিক তুহিনের করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গ্রেফতার করা হয় জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে। ইতোমধ্যে আসিফের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি। আসিফ গ্রেফতার হওয়ার পর পরই এ নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলেছে সমালোচনার ঝড়। কেউ আসিফের পক্ষ আবার কেউ বিপক্ষে মত দিচ্ছেন।

    এদের মধ্যে বাদ পরেননি এ প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তানজীব সারোয়ারও। বুধবার রাত ৭ টার দিকে তিনি তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আসিফের পক্ষ হয়েই কথা বলেছেন।

    তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আবারও তথাকথিত তথ্য প্রযুক্তি আইনের কু-ব্যবহার। গতকাল রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে বাংলা গানের অন্যতম বিষ্ময়কর প্রতিভা আসিফ আকবর ভাইকে। আসিফ ভাইয়ের মতো একজন বাংলা গানের যুবরাজ গ্রেফতার হওয়া মানে বাংলা গান ও বাংলার সব শিল্পীদের জন্য অপমানজনক। আসিফ ভাইয়াকে গ্রেফতারের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক।

    তানজীবের ‌স্ট্যাটাসটিতে তাদের ব্যাক্তিগত মত দিয়েছেন।

  • কারাগারে শারীরিক ও মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে আসিফ; গুরুতর অসুস্থের শঙ্কা

    ( জাগো কুমিল্লা.কম)
    চার দেয়ালে বন্দী জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর। পরিবার বলছে, আসিফের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা অথচ তাঁর কাছে ওষুধ দিতে পারেননি। এ নিয়ে চিন্তিত স্ত্রী সালমা আসিফ। আদালতেও আসিফের আইনজীবীরা চিকিৎসা সনদ দিয়ে দাবি করেছেন, আসিফ অসুস্থ। তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, আসিফ কারাগারে ভালোই আছেন।

    ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ গান দিয়ে আসিফ রাতারাতি তারকা বনে যান। ২০০১ সালে গানের জগতে প্রবেশের মাত্র পাঁচ বছর পর আসিফ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। প্রশ্ন হলো, আসিফ কেন আজ কারাগারে? কারণ, গীতিকার শফিক তুহিন অভিযোগ করেছেন, আসিফ অন্যের গান বিক্রি করে দিয়ে অনেক টাকা কামিয়েছেন। ফেসবুকে শফিক তুহিন এর প্রতিবাদ করলে হুমকি দেন আসিফ।

    বুধবার বিকেলে আসিফকে নেওয়া হয় কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছেন, আসিফ ভিআইপি মর্যাদার আসামি নন। শিল্পী ও ভদ্রলোক হিসেবে পেশাদার অপরাধীদের সঙ্গে আসিফকে রাখা হয়নি। তুহিনের মামলায় গ্রেপ্তার আসিফকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। অবশ্য পুলিশ আসিফকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল, আদালত সাড়া দেননি।

    বেলা দুইটার দিকে আসিফকে আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশ বের করে নিয়ে আসে। দেখা গেল, হাজতখানা থেকে হাসতে হাসতেই আদালতের এজলাসে ওঠেন আসিফ। পরনে ছিল জিনস প্যান্ট আর লাল রঙের পাঞ্জাবি। আসিফকে অন্য আসামিদের সঙ্গে আসামির কাঠগড়ায় রাখা হয়। লোহার খাঁচায় থাকা আসিফ তখনো হাসতে থাকেন।
    আসিফ এবং তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে বারবারই বলছিলেন, আসিফ অসুস্থ। মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড ব্যথা, আছে উচ্চ রক্তচাপও। আর আসিফের অসুস্থতার প্রমাণ হিসেবে চিকিৎসকের সনদ আদালতের কাছে তুলে ধরা হয়।

     

    আসিফকে রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে পুলিশ যুক্তি তুলে ধরার পর আসিফের আইনজীবীরা বক্তব্য দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে আসিফ নিজেই আদালতের কাছে তাঁর যুক্তি তুলে ধরেন। আসিফ বলেন, গীতিকার শফিক তুহিন তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন। ফেসবুকে শফিক তুহিন তাঁর সম্পর্কে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি মামলা করতে পারতেন কিন্তু করেননি।

    আসিফের আইনজীবীরা বলছিলেন, আসিফ দেশের জনপ্রিয় শিল্পী। তিনি অসুস্থ। বারবারই তাঁকে জামিন দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়।

    তখন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী বলেন, আসিফকে তিনি ভালোভাবেই চেনেন। বিচারক জানতে চান, আসিফ কেন গান বন্ধ করেছেন? দরাজ কণ্ঠে আসিফ তখন বিচারককে জানান, নতুন করে পাঁচ বছর আগে থেকে গান গাওয়া শুরু করেছেন।

    এ সময় আইনজীবীরা আদালতে বলতে থাকেন, আসিফকে জামিন দেওয়া হোক। আদালতে ছিলেন আসিফের স্ত্রী বেগম সালমা আসিফ ও অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেকের মালিক সুলতান মাহমুদ বাবুল, গায়ক তরুণ মুন্সি এবং সোহেল মেহেদী। আসিফকে এক নজর দেখতে আদালতে ভিড় জমান ভক্তরা।

    সব কথা শোনার পর আদালত আসিফকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন নাকচ করেন। একই সঙ্গে জামিনের আবেদনও নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠান।

    আদেশ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আসিফকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। এরপর প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় আসিফকে।

    ওষুধ নেই
    আসিফ অসুস্থ। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ। ওষুধ না খেলে রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। আসিফের স্ত্রী সালমা আসিফ বলছিলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে আসিফের কাছে ওষুধ নেই। ওষুধ না খেতে পারলে যেকোনো সময় আসিফ আরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়বেন। আসিফকে নিয়ে তিনি খুব চিন্তিত।

    আদালতের কাছে আসিফ তাঁর চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র জমা দেন। সেখানে দেখা যায়, আসিফ নিয়মিত থেরাপি নেন। নয় বছর ধরেই থেরাপি নিয়ে চলছেন। আর চিকিৎসকেরা আসিফকে লিভারের নিয়মিত পরীক্ষা করানোর সুপারিশ করেছেন। স্ত্রী সালমা আসিফ বললেন, আসিফের ঘাড়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। মাঝেমধ্যেই তা তীব্র আকার ধারণ করে।

    কারাগার সূত্র বলছে, আর পাঁচজন সাধারণ কয়েদিকে যেখানে রাখা হয় আসিফকেও সেখানে রাখা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবির বুধবার রাতে বলেন, আসিফকে পেশাদার অপরাধীদের সঙ্গে রাখা হয়নি। তাঁকে অন্য সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গেই রাখা হয়েছে। আসিফ কারাগারে সুস্থই আছেন।

    যেভাবে গ্রেপ্তার আসিফ
    মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টা। আসিফ এফডিসির কাছে নিজের অফিসে বসে কাজ করছিলেন। অফিসের দরজা বন্ধই ছিল। বাইরে থেকে কল বেল চাপ দেওয়া হলে অফিসের লোকজন দরজা খুলে দেন। তখন সিআইডির একটি দল আসিফের অফিসে ঢোকেন। এরপর অফিসে তল্লাশি চালান বলে ঘটনাস্থলে থাকা আসিফের পরিচিত একজন বন্ধু প্রথম আলোকে জানান।

    আসিফকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার খবর তাঁর স্ত্রী সালমা জানেন অফিসের একজনের কাছ থেকে। সালমা বললেন, ‘হঠাৎ আমাদের অফিস থেকে একজন ফোন করে বলেন, আসিফকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে সিআইডি। তখন আমি বারবারই আসিফের মোবাইলে ফোন দিই কিন্তু মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।’

    আসিফের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
    আসিফের বিরুদ্ধে গীতিকার শফিক তুহিনের অভিযোগ, আসিফ অনুমতি না নিয়ে তাঁর গানসহ ৬১৭টি গান বিক্রি করেছেন। শুক্রবার রাতে তুহিন বিষয়টি জানার পর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে গায়ক আসিফও তাঁর মত তুলে ধরেন। তুহিনের দাবি, আসিফ তাঁর সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।

    মামলায় তুহিন দাবি করেন, শনিবার রাতে আসিফ ফেসবুকে লাইভে এসে তুহিনকে হুমকি দেন। আসিফের লাখো অনুসারী দেখেছেন, পড়েছেন, যাতে তুহিনের মানহানি হয়েছে।

    আসিফের বিরুদ্ধে তুহিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার পাশাপাশি প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন। আসিফের বিরুদ্ধে তুহিনের আরও অভিযোগ, আসিফের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম আর্ব এন্টারটেইনমেন্ট। এর প্রধান হিসেবে আসিফ অন্যের গান ডিজিটালে রূপান্তর করে অনেক টাকা কামিয়েছেন।
    আসিফের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হীরু অবশ্য বলেছেন, আসিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। যে অভিযোগ তা কপিরাইট আইনের।
    আসিফকে নির্দোষ দাবি করে তাঁর আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেখান যে তুহিনকে কী হুমকি দিয়েছেন আসিফ, তা মামলায় বলা হয়নি।
    আর আসিফ তো আদালতে দাবি করে বসলেন, তুহিনই ফেসবুকে তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি তো মামলা করতে পারতেন, কিন্তু করেননি। আবার আসিফ এটাও বললেন, ফেসবুক লাইভে তাঁর আগে তুহিনই এসেছিলেন।

    আদালতে আসিফ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কয়েক মিনিট ধরে যুক্তি তুলে ধরেন। আসিফের সাফ কথা, হয়রানি করার জন্য তুহিন মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসিয়েছেন। অন্যের গান বিক্রি করে একটি টাকাও কামাননি।

  • এসব লজ্জাকর পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি: প্রীতম

    অনলাইন ডেস্ক:
    গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত শিল্পী প্রীতম আহমেদকে শনিবার রাতে ফেসবুকের একটি লাইভে ‘বেয়াদব’ বলে আখ্যা দেন শিল্পী আসিফ অাকবর। এছাড়া প্রীতমের নামে নানা অভিযোগও করেন তিনি। এসব প্রসঙ্গে বুধবার এক বেসরকারি টিভির লাইভ অনুষ্ঠানে প্রীতম আহমেদ বলেন, ‘শিল্পী হিসেবে আমি প্রথমেই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, এসব লজ্জাকর পরিস্থিতির জন্য। আমাদের শিল্পীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটবে তা আমরা ভাবতেও পারি না।’

    এসময় তিনি বলেন, ‘আসিফের বিরুদ্ধে শফিক তুহিনের যে অভিযোগ ছিল তা হলো সামাজিকভাবে অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া। এরকম ২-৩ লাখ হুমকি আমার এবং অন্যান্য শিল্পীদের নামেও পাবেন।

    প্রীতম আরো বলেন, ‘আমি অনেক দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলছি, একজন মানুষের জন্য আমরা রাত-দিন জেগে সুর করে দিয়েছি। তিনি গান গাইবেন তার গানটা হিট হবে, আমরা গর্ব করবো। আজকে সেই মানুষটার জন্যই আমাদের অভিযোগ লিখতে হচ্ছে। কারণ একটাই, উনি আমাদের সামাজিক জীবন, ব্যবসায়িক জীবনকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। মানুষ এখন আমাদের পাগল ভাবে, সাইকো ভাবেন।’

    প্রীতম বলেন, ‘আসিফ লাইভে বলেছেন, ‘আমি নাকি ড্রাগস নেই এবং যার কাছ থেকে নেই তাকেও নাকি তিনি চিনেন। অথচ আমি সিগারেটও খাই না। এই বিষয়গুলো উনি ব্যক্তিগতভাবে করেছেন।’তবে, আমি চাই আসিফ ন্যায় বিচার পাক, শফিক তুহিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেও ন্যায় বিচার পাক।’

    সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন ‘চ্যানেল ২৪’ সার্চলাইট নামে ১ জুন রাতে ২০ মিনিটের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন থেকে সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিন জানতে পারেন আসিফ আকবর অনুমতি ছাড়াই তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন।

    এর প্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা একটি মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত দেড়টায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তেজগাঁও থানার সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিনের করা একটি মামলায় আসিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মামলা নম্বর ১৪।সোমবার সন্ধ্যায় শফিক তুহিনের করা এ মামলায় আসিফ আকবর ছাড়া আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

    বুধবার তাকে আদালতে উপস্থাপন করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম।
    কিন্তু আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • ‘আসিফ ভাই আপনি ফিরে আসুন’

    অনলাইন ডেস্ক:
    তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর  (মঙ্গলবার) রাত দেড়টায় গ্রেপ্তার হন। গীতিকার, কন্ঠশিল্পী শফিক তুহিনের দায়ের করা তিন মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল। সোমবার সন্ধ্যায় শফিক তুহিন মামলাটি করেন তেজগাঁও থানায়। মামলায় আসিফ ছাড়া আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন।

    শিল্পী আসিফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ-এর গায়িকা কোনাল শিল্পী আসিফকে নিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন আজ বুধবার দুপুর দুইটায়। ‘তারকা কথন’-এর পাঠকদের জন্য এই শিল্পীর স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো:

    শুধু মনে হচ্ছে, আজকে আমি বা আমরা কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়লে সবার আগে আসিফ ভাই এগিয়ে আসতেন। আর বলতেন, ঘাবড়াবা না একদম। আমি আছি, দেখছি কি করণীয়। ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে! এমন কথা তিনি অনেক বিপদগ্রস্থ মানুষকে বলেছেন। এবং তিনি তার সাধ্যমতো করেছেন!

    ঠিক বেঠিক জানিনা, আমি বিচারক নই! কিন্তু ভাই ভাইয়ের মাংস খাওয়া মোটেও ভালো লাগছে না! সংগীত পরিবারটা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে! গায়ক আসিফ না, মানুষ আসিফ এর কথা বলছি। যিনি আমার চোখে দেখা অন্যতম আশাবাদী মানুষ (হোপফুল পার্সন)। একজন লিডার, একজন পরোপকারী।

    আমি মানি, একজন শিল্পীর যেমন শালীন, নম্র, সুভাষী হলে শোভা পায়, তেমনি ক্ষমাশীল হওয়াটাও শিল্পীর অন্যতম চরিত্র। ভুল তো মানুষেরই হয়। আমরা কেউই ভুলের উর্দ্ধে নই! আসিফ ভাই আপনি ফিরে আসুন। এসে সব ঠিক করে দেন। ভালোবাসা থাকুক অবিরা

  • আবারও মাহফুজুর রহমানের একক সংগীতানুষ্ঠান

    ( জাগো কুমিল্লা.কম)

    গেল বছরে তার গানের অনুষ্ঠান প্রচারে আসার পর রাতারাতি সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। আলোচনা, সমালোচনায় ভেসে গিয়েছিলেন। তবুও নিজের গান ও গায়কীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। বলেছিলেন কারো সমালোচনায় গান ছেড়ে দেয়ার পাত্র তিনি নন।

    তিনি ড. মাহফুজুর রহমান। তার গান গাওয়া নিয়ে অনেক ট্রল হয়েছে। সেগুলোকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছেন তিনি। আর নতুন করে নতুন উদ্যমে হাজির হচ্ছেন আসছে রোজা ঈদেও। জানা গেছে, আসছে ঈদেও ড. মাহফুজুর রহমানের একক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তারই মালিকানাধীন চ্যানেল এটিএন বাংলা।

    ঈদের তৃতীয় দিন রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে একক সংগীতানুষ্ঠানটি প্রচার হবে। এর নাম রাখা হয়েছে ‘মনে পড়ে তোমায়’। এবারের অনুষ্ঠানে এক এক করে ১০টি গান গেয়ে শোনাবেন মাহফুজুর রহমান। সঙ্গে থাকবে বিশ্বের নানা দেশের মনোরম সব লোকেশনে চিত্রায়িত ভিডিও।

    এই অনুষ্ঠানে মাহফুজুর রহমান গাইবেন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ীর সুর করা দুটি গান। ‘তুমি ছুঁয়ে দিলে’ এবং ‘এক মুঠো প্রেম’ শিরোনামের গান দুটি লিখেছেন মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।

    এছাড়া রাজেশ ঘোষের কথা, সুর ও সংগীতে গাইবেন ‘হৃদয় জুড়ে আছো’ এবং ‘কি যে ব্যথা’ শিরোনামের দুটি গান। আর বাকি ছয়টি গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন মান্নান মোহাম্মদ। গানগুলো হলো ‘তুমি বিনা আমার জীবন’, ‘বিশ্বাস করো’, ‘ইচ্ছে করে’, ‘সেই কবে থেকে’, ‘মনে কি পড়ে তোমায়’ এবং ‘বন্ধু জানো কি’। গানগুলো লিখেছেন শেখ রেজা শানু,নাজমা মোহাম্মদ, দেলোয়ার আরজুদা শরফ এবং শহীদুল্লাহ ফরায়জী।

    উল্লেখ্য তার গাওয়া গান নিয়ে ২০১৬ সালের ঈদুল আজহায় প্রচার হয় ‘হৃদয় ছুঁয়ে যায়’ শিরোনামের অনুষ্ঠান। এরপর গত বছর রোজার ঈদে প্রচার হয় সংগীতানুষ্ঠান ‘প্রিয়ারে’। সেগুলো তেমন করে আলোচনায় না এলেও গের বছরের কোরবানীর ঈদে প্রচার হওয়া তার একক সংগীতানুষ্ঠান ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’ দেশে-বিদেশে বাংলা গানের শ্রোতাদের মাঝে সাড়া ফেলে দেয়। অনুষ্ঠানটি টেলিভিশনের টিআরপিতেও শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে যায়।

    আসিফ আকবর ২০০১ সালে প্রকাশিত তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’-এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

    জনপ্রিয় এই শিল্পী কুমিল্লা জেলায় ১৯৭২ সালের ২৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। তিনি সালমা মিতুকে বিয়ে করেন। তাদের রণ এবং রুদ্র নামে দুই সন্তান রয়েছে।

    ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পরপর ছয় বছর অ্যালবাম বিক্রির দিক থেকে শীর্ষে ছিলেন আসিফ। তার প্রথম অ্যালবাম ৫৫ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল, যা অডিও ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

  • ব্রাজিলকে হারাতে পারলেই বিয়ে

    অনলাইন ডেস্ক:
    ঈদ খুশির আনন্দে ভেসে যাওয়ার দারুণ এক উৎসব। সেই উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে দোরগোরায় হাজির ফুটবল বিশ্বকাপ। ঈদ আর বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একই সময়ে। বাড়তি আনন্দকে উদযাপন করতে আয়োজনের শেষ নেই। তেমনি করে টিভি নাটকেও ঈদ উপলক্ষে দেখা যাবে ফুটবল নিয়ে অনেক গল্প।

    এরইমধ্যে অনেক নির্মাতাই জনপ্রিয় সব তারকাদের নিয়ে নির্মাণ করেছেন বেশ কয়টি ফুটবল ভিত্তিক নাটক-টেলিছবি। সেই ধারাবাহিকতায় ইফতেখার শুভ রচনা ও পরিচালনা করেছেন নাটক ‘ভিলেজ কাপ’। এতে অভিনয় করেছেন একঝাঁক জনপ্রিয় তারকা। সেখানে রয়েছে ফারুক আহমেদ, জোভান, বড়দা মিঠু, তারিক স্বপন, জামিল হোসেন, জাহারা মিতু, তাসনুভা এলভিন প্রমুখ।

    নাটকের গল্পে দেখা যাবে করম আলী সরদারের (ফারুক আহমেদ) ১১ ছেলেকে নিয়েই ‘ভিলেজ কাপ’র মূল গল্প। একটি রহস্যময় জেদের কারণে তিনটি বিয়ের মাধ্যমে এই ১১ জন ছেলের জনক হয়ে ওঠা তার। কিন্তু ১১ ছেলের ফুটবল খেলার দিকে কোনো মন নেই। বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে তাদের নেই তেমন কোনো অর্জন। কিন্তু আর্জেন্টিনা সমর্থিত করমের সাফ কথা ‘ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হবার আগে কোন বিয়ে নয়’।

    সেই লক্ষ নিয়ে খেলতে খেলতে তারা ফাইনালে পৌঁছেও যায়। বাবার ইচ্ছে যেমনই হোক, ছেলেরা ফাইনাল জিতে নিতে চায় বিয়ে করা যাবে ভেবেই। তাদের লক্ষ এখন ভিলেজ কাপ।

    এ দিকে ব্রাজিল সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান (বড় দা মিঠু) রেফারিকে নিয়ে নীল নকশা আঁটে। সেই কথা জেনে ফেলে তার দুই কন্যা নিশি (তাসনুভা এলভিন) ও রেশমা (জাহারা মিতু)। কন্যাদ্বয় আর্জেন্টিনার সমর্থক। তারাও করমের দলকে জেতাতে বাবার বিপক্ষে রেফারিকে নিয়ে নতুন নকশা তৈরি করে। ফাইনালে কে হারবে? আর্জেন্টিনা নাকি ব্রাজিল? বিয়ের অনুমতি মিলবে তো আর্জেন্টিনা সমর্থক করম আলীর পুত্রদের? দেখতে হবে নাটকটি।

    নির্মাতা জানালেন, আসছে ঈদে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে প্রচার হবে ‘ভিলেজ কাপ’ নাটকটি।- জাগো নিউজ

  • যে কারণে জয়ের ওপর ক্ষেপেছেন তানিয়া

    অনলাইন ডেস্ক:
    সম্প্রতি অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়ের অনুষ্ঠান ‘উইথ নাজিম জয়’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন অভিনেত্রী-নৃত্যশিল্পী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী। বাপ্পা মজুমদারের সাথে ডিভোর্স ও তানিয়া হোসাইনের সঙ্গে এ গায়কের বাগদান নিয়ে কথা বলেন তিনি।
    আর এ নিয়ে বেশ দারুণ ক্ষেপেছেন তানিয়া। জয়ের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টও দিলেন।

    তিনি লেখেন, ‘উপস্থাপনা নিয়ে আমার সিনিয়র কাউকে জ্ঞান দিতে যাব, এত বড় দুঃসাহস আমার নাই ভাই। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে, স্টেজ শো, কর্পোরেট ইভেন্টস, কনসার্ট, টিভি লাইভ অ্যান্ড প্রোগ্রাম আমরা যারা এই কাজটি অত্যন্ত পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতা এবং ধৈর্যের সাথে করে চলেছি, তারা জানি কতখানি অভিজ্ঞতা, শব্দচয়ন, শব্দের সঠিক প্রয়োগ, বাক্য গঠন, বাক্যের উদ্দেশ্য-বিধেয় নিয়ে ভেবে তারপর আমরা কাজটি কত যত্ন সহকারে করার চেষ্টা করে থাকি।’

    অতিথি বা যার সম্পর্কে কথা বলা হয় তাকে অপমান করার কোন অধিকার উপস্থাপকের নেই, এমনটাই বলেন তানিয়া। তার ভাষ্যে, ‘আপনার তো কোনো অধিকার নেই তাকে অসম্মান করে কথা বলার, অথবা এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা যা একটি ন্যাশনাল টিভি চ্যানেলে অনএয়ার হওয়া কতটা শোভন বা সমীচীন সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।’

    তিনি লেখেন, “এ ক্ষেত্রে, ‘ফান’ আর ‘অপমান’-এর পার্থক্য বোঝার দায়িত্ব একজন উপস্থাপকের পাশাপাশি প্রোগ্রাম প্রোডিউসারের ওপরও বর্তায়। একজন প্রোডিউসার পুরো প্রোগ্রামের দায়ভার বহন করেন। খালি ৫, ৪, ৩, ২, ১, ০ অ্যাকশন বলাই প্রোডিউসারের একমাত্র কাজ না ভাই। যত মহান প্রেজেন্টারই হোক, কন্ট্রোল তো প্রোডিউসার ভাই আপনার হাতে, নাকি তাও নাই?”

    জয় তার শো’র কাটতির জন্য এমনটা করছেন দাবি তানিয়ার। তিনি লেখেন, ‘ব্রিলিয়ান্ট অ্যাংকরিং হয় যখন, তখন কিন্তু এই আপনাকেই বাহবা দিতে পিছুপা হই না আমরা। তাই বলে, ফান শো বলে অন্যের মর্যাদাহানি করে নিজেদের শো’র কাটতি, জনপ্রিয়তা বলে দাবি কামানোর অপচেষ্টা কতখানি প্রোফেশনাল অথবা ডিগনিটির এর আওতায় পড়ে?’

    সবশেষ লেখেন, ‘কী নিয়ে ফানটা করছেন ভাই? সত্যি-মিথ্যা পুরোটা না জেনে, অন্যের ব্যাপারে যথেচ্ছাচার শব্দের প্রয়োগ ঘটিয়ে খুব হাসি তামাশা, না ভাই!’

    সম্প্রতি তানিয়ার বাগদানের আংটির ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর আলোচনার ঝড় ওঠে। গুঞ্জন ওঠে বাপ্পাকে বিয়ে করছেন তিনি। এর কয়েকদিন পর বাপ্পা জানান, আগের স্ত্রী চাঁদনীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছে জানুয়ারিতে। সম্প্রতি তানিয়ার সঙ্গে তার বাগদান হয়েছে। এ নিয়েই ছিল এবারের ‘উইথ নাজিম জয়’।

  • শাকিবের ‘ভাইজান ঈদে এলো রে’ ইউটিউবে প্রকাশ (ভিডিও)

    অনলাইন ডেস্ক:

    ঈদুল ফিতরে বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে না ‘ভাইজান এলো রে’। তবে ঈদের গান শোনা গেল সিনেমাটির প্রধান চরিত্র শাকিব খানের ঠোঁটে।

    শুক্রবার ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছে ‘ভাইজান ঈদে এলো রে’ শিরোনামের গানটি। রাজিব দত্তের কথায় সুর-সংগীত করেছেন স্যাভি। কণ্ঠ দিয়েছেন বলিউড সিনেমার জনপ্রিয় গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য।

    গানটিতে শাকিবের সঙ্গে নেচেছেন পায়েল সরকার। কথায় ও আয়োজনে ঈদের আমেজ ফুটে ওঠেছে। কোরিওগ্রাফি করেছেন আদিল শেখ। গানটি চিত্রায়িত হয়েছে কলকাতায়।

    জয়দীপ মুখার্জি পরিচালিত ‘ভাইজান এলো রে’তে আরো অভিনয় করেছেন শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি।

    কলকাতার এসকে মুভিজের লগ্নিতে নির্মিত হয়েছে ‘ভাইজান এলো রে’। বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার আবেদন করে অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়ে আমদানিকৃত সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাবে।

    সিনেমাটি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলকাতায় মুক্তি পাবে। তবে আদালতের এক আদেশের কারণে একই সময়ে বাংলাদেশে মুক্তি পাবে না ‘ভাইজান এলো রে’। ওই আদেশে বলা হয়, ঈদ, পয়লা বৈশাখ বা কোনো দেশিয় উৎসবে বিদেশি সিনেমার মুক্তি দেওয়া যাবে না। এ রায় পেতে আবেদন করেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার সেলিনা আক্তার।

    জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের দুই-এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘ভাইজান এলো রে’ মুক্তির চেষ্টা করছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

    ভিডিওটি  দেখতে এখানে ক্লিক করুন: