দেবিদ্বার প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: মোকতল হোসেনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন করেছে দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার পৌর এলাকার সড়কে এ কর্মসূচী পালন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচীতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা বলেন, চলতি বছরের ১৫ মার্চ মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: মোকতল হোসেনের বিরুদ্ধে কিছু শিক্ষার্থী ও বহিরাগত কিছু লোক অভিযোগ আনে। অভিযোগে তারা বলেন, এই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং একই দিন শ্রেণিকক্ষের সকল শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়ে ওই ছাত্রীকে পুনরায় শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। মূলতপক্ষে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত সাজানো ঘটনা। বিদ্যালয় চলাকালে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে কিংবা অফিসের দরজা-জানালা বন্ধ করে এমন ঘটনা করা সম্ভবপর নয়। এছাড়া ওইদিন বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করেও এমন কোন ঘটনা পাওয়া যায়নি বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমাদের জানিয়েছে। অথচ এই সাজানো ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতি অল্প সময়ে শতশত ককটেল বিস্ফোরণ, বিদ্যালয় ভাংচুর, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, প্রধান শিক্ষক ও তার জামাতার দুটি মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যা আমাদের কাছে পূর্বকল্পিত মনে হচ্ছে।
আমরা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোকতল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রদ্যাহারসহ নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।
মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল মোমেন, সহসভাপতি আবু সেলিম ভূইয়া, আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আকবর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।
স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সভাপতি মু.রুহুল আমিনের উপর হামলা এবং সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বিচার দাবি করে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দেবিদ্বার উপজেলা আ’লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে।এ সময় বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারিরা।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ছড়িয়ে পড়ে। পরে রিয়াজ উদ্দিন পাইলট হাইস্কুলে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে । যেখানে দেখা গেছে, (গত শনিবার সন্ধ্যায়)জাতীয় সংসদ ভবনের এলইডি হলে দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ উৎশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি করে এমপি রাজীর সাথে হাতাহাতির পর বের হয়ে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনতে যান কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সভাপতি মু.রুহুল আমিন। এ সময় আবুল কালাম আজাদ ক্ষিপ্ত হয়ে রুহুল আমিনকে গালমন্দ করে বুকে ধাক্কা দেন। এ সময় আশেপাশের নেতারা এসে রুহুল আমিনকে জড়িয়ে ধরে আবুল কালাম আজাদকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এরপরও আবুল কালাম আজাদ ক্ষিপ্ত হয়ে সভাপতির দিকে একাধিকবার তেড়ে আসেন। পরে সভাপতিকে অন্য কক্ষে নিয়ে যান নেতাকর্মীরা। এছাড়া বৈঠকে বিভিন্ন অসাংগঠনিক দাবি জানিয়ে সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুলকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। পরে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয। কিন্তু বাইরে গিয়ে তিনি ও তার লোকজন এমপি রাজীর বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার শুরু করেছে। এমনকি বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুল তথ্য সরবরাহ করছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদের এমন অসাংগাঠনিক কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেন বিক্ষোভকারিরা।
কুমিল্লার দেবিদ্বার নামাজ পড়তে বলায় এক কিশোরকে মারধরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আজিজুল হক হৃদয় (১৪) উপজেলার মুগসাইর গ্রামের অটো চালক রিপন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ‘বুধবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম পোমকাড়া গ্রামে হৃদয় হাঁটতে যায়। এসময় ঐ গ্রামের ইদ্রিস আলীকে ‘নামাজ পড়তে আসো, একদিন তো মরতে হবে’ বলায় রেগে যায় সে। এক পর্যায়ে ইদ্রিস ও তার সাথে থাকা বন্ধুরা মিলে হৃদয়কে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে৷ এতে হৃদয়ের বুকে ও শরীরে আঘাত প্রাপ্ত হয়। আহত অবস্থায় হৃদয়কে স্থানীয়রা বাড়ি পৌছে দেয়’।
বুধবার মারধরের শিকার আজিজুল হক হৃদয় (১৪) বৃহস্পতিবার (২৩জুন বিকেলে মারা যায়।
সুত্রমতে, অভিযুক্ত ইদ্রিস মাদকসেবন ও মাদক কারবারের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।
হৃদয়ের মা রিনা বেগম জানান, ‘ নামাজ পড়তে বলায় ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। গতকাল এসে আবার আমাকে সাবধান করে দিয়ে বলেছে, আমি যেন আমার ছেলেকে শাসন করি। আমার ছেলের বিচার চাই’।
দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ ধর শুক্রবার সকালে জানান, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’।
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে ছুড়িকাঘাতে খুনের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার ভিংলাবাড়ি গ্রামে বৃহস্পতিবার তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম জাহাঙ্গীর আলম। তার বয়স ৩২ বছর।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাতে জানাযায়, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার বড় ভাই আলমগীর হোসেনের মনমালিন্য চলে আসছিল। এরই মধ্যে তাদের পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগিও করা হয়।
কিন্তু আজ সকালে বাড়ির সীমানায় দেয়াল উঠানোকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই আলমগীর হোসেন উত্তেজিত হয়ে ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের পেটে ছুরিকাঘাত করেন।
পরে প্রতিবেশীরা জাহাঙ্গীর আলমকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যা সংঘটিত হয়েছে। এর বাইরে কোনো বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে আলমগীর হোসেন পলাতক। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।’
করোনায় মৃত লাশ দাফন করে আলোচনায় আসা কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ‘হ্যালো ছাত্রলীগে’র প্রতিষ্ঠাতা আবু কাউছার অনিক এবার সিলেটের বন্যার্তদের খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ালেন। বুধবার (২২ জুন) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছানাকান্দি, মোকামবাড়ি, উচ্চগ্রাম ও কোপার বাজার আশ্রয় কেন্দ্রসহ পানিবন্দি গ্রাম গুলোর এক হাজার পরিবারে গরম খিচুড়ি পৌছে দেন অনিক ও তার সহকর্মীরা। এসময় তাদের মাঝে মোমবাতি, দিয়াশলাই, স্যালাইন, ঔষধ সামগ্রীসহ শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয় তাদের পক্ষ থেকে। মুরগি ও সবজির সমন্বয়ে বড় আকাড়ের ১৪টি ডেকচিতে রান্না করা হয় খিচুড়ি। তারপর নৌকায় করে সেসব ডেকচি নিয়ে যাওয়া হয় বানভাসীদের আশ্রয় কেন্দ্র ও পানি বৃদ্ধির ফলে বিচ্ছিন্ন গ্রাম গুলোতে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার উচ্চগ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, ‘বন্যার কারনে শুকনো খাবার খেয়ে দিন পাড় করছিলাম। ঘরে রান্নার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। গরম খিচুড়ি খেয়ে কি যে তৃপ্তি লাগছে বলে বোঝাতে পারবো না’।
হ্যালো ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা আবু কাউছার অনিক জানান, ‘কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশক্রমে আমরা বন্যায় কষ্টে থাকা মানুষ গুলোর পাশে দাঁড়াতে চেস্টা করেছি। কুমিল্লা উত্তর জেলা ও দেবিদ্বার উপজেলা যুালীগের পক্ষ থেকে মানুষের মুখে অল্প খাবার তুলে দিতে পেরে শান্তি লাগছে’।
বন্যার্তদের জন্য খিচুড়ি খাওয়ানোর বিষয়ে অনিক বলেন, ‘মানুষ বন্যার জন্য অনেক দিন শুকনো খাবার খেয়ে আছে। তাই রান্না করে কিছু খাওয়ানো যায় কি না সেই চিন্তা থেকে খিচুড়ি দেওয়া’। প্রসঙ্গত, কুমিল্লায় করোনায় মৃত লাশ দাফন, করোনাক্রান্ত রোগীদের ঔষধ প্রদান, টেলিমেডিসিন সেবা, রোগীদের রক্তদান ও সেই সময়ে কৃষকদের ধান কেঁটে আলাচনায় আসে অনিকের ‘হ্যালো ছাত্রলীগ’। বন্যার্তদের এবছর কুমিল্লা জেলা ও দেবিদ্বার উপজেলা যুবলীগের সমন্বয়ে সহায়তায় প্রদান করা হয়। এসময় যুবলীগ নেতা হাজী আবুল কাশেম ওমানী, মাসুম রানা ওমানী, মিজানুর রহমান সরকারসহ অন্যান্যরা সহায়তা করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধনহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশের পর কুমিল্লায় অবৈধ ক্লিনিক ও হাসপাতাল বন্ধে মাঠে নেমেছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত পরশু থেকে চলা অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪৫টি অবৈধ ক্লিনিক ও হাসপাতাল বন্ধ করা হয়েছে। রোববার (২৯ মে) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন।
তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলায় ৪০৪টি বৈধ হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল হাসপাতাল ও ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার রয়েছে। এদের মধ্যে ১৮৪ টি হাসপাতাল, ২০৬ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ১২ টি ডেন্টাল হাসপাতাল ও ২টি ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার।
কুমিল্লা শহরসহ ১৭ টি উপজেলার যেসব ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্স নেই এমন ৪৫ টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া এখনও যাদের লাইসেন্স নেই তিন দিনের মধ্যে সেগুলো বন্ধ করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এমন অভিযান চলমান থাকবে।
কুমিল্লা দেবিদ্বারে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গৃহবধূ সাদিয়া মারা গেছেন। শনিবার ( ৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টায় ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আইসিইউতে মারা যায় ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তিনি জানান, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শুনিছে সাদিয়া মারা গিয়েছে। এ ঘটনা আগের মামলার সাথে পরিবার আরেকটি হত্যা মামলা যোগ করতে পারবে ।বুধবার (২৭) রাতে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত স্বামী আসাদ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলেনি । আমরা তাকে আদালতের মাধ্যমের কারাগারে প্রেরণ করেছি। পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
অভিযুক্ত আসাদ সরকার গুনাইঘর গ্রামের নুরু সরকারের ছেলে। নিহত সাদিয়া একই উপজেলার পদ্মকোট গ্রামের মো. অপুল সরকারের মেয়ে।
নিহত সাদিয়ার ভাই খাইরুল বলেন, ডাক্তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেও আমার বোনকে বাঁচাতে পারেনি । সে মৃত্যুর আগের ভিডিও বার্তায় তার স্বামীকে অভিযুক্ত করে জবানবন্দি দিয়েছে । আশা করি গ্রেফতারকৃত আসামীকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। বর্তমানে সাদিয়ার মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। সন্ধ্যায় কুমিল্লা দেবিদ্বারের গ্রামের বাড়ির পারিবারিক করবস্থানে দাফন করানো হবে।
অভিযুক্ত স্বামী
ঘটনার একদিন পর হাসপাতাল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাদিয়া ভিডিও বার্তায় বলেছিল , আসাদ আমাকে কয়েকবার বলেছেন যে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করবে। গত ৫ মাস ধরে যৌতুকের জন্য আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছেন। আমার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই শুধু বলত, বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আয়। টাকা না দেওয়ায় আমার শরীরে কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় আমার স্বামী। আমি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আমাকে বাঁধা দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত গত শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা সদরের বানিয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় সাদিয়া’কে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠে স্বামীর বিরুদ্ধে । ঘটনার দুইদিন পর সাদিয়ার বাবা মো. ফরিদুল আলম অপুল সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার রাতে আসাদ সরকারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে বসতভিটার একটি অংশ বিক্রি করে একমাত্র ছেলে ইয়াকুবকে লিবিয়া পাঠান মা শাহিনুর বেগম। কিন্তু অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে মাফিয়ারা অপহরণ করে ইয়াকুবকে। ছয় মাস ধরে ছেলের খোঁজ না পেয়ে পাগলপ্রায় মা সুদূর লিবিয়া গিয়ে মাফিয়াদের হাতে বন্দি ছেলেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন।
সেই সঙ্গে মাফিয়াদের কাছে আটকে থাকা আরও প্রায় ২৫০ জন বাঙালিকে উদ্ধার করা হয়েছে। মা শাহিনুরের এমন সাহসী ভূমিকা ও ভালোবাসার দৃষ্টান্ত কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত ২১ মার্চ ছেলেকে নিয়ে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কালিকাপুর নিজ গ্রামে ফেরেন শাহিনুর বেগম।
সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কালিকাপুর এলাকার শাহিনুর বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উৎসুক গ্রামবাসী ভিড় করেছে। ছোট একটি টিনের ঘরে রয়েছে একটি কক্ষ। সেখানে কোনো রকম ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বসবাস করেন শাহিনুর। ছেলেকে উদ্ধারের আশা দেখিয়ে দালালরা তার কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছে। এখন প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে এই পরিবারটি।
শাহিনুর বেগম বলেন, আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে । স্বামী লিবিয়ায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। চাচা শ্বশুরের কাছে বসতভিটার একটি অংশ বিক্রি করে ২০১৯ সালে ছেলেকে লিবিয়া পাঠাই। সেখানে গিয়ে তেলের কোম্পানিতে কাজ শুরু করে। আমার স্বামী ও ছেলে লিবিয়ায় কাজ করে যে টাকা পাঠাতো তা দিয়ে আমার সংসার ভালোই চলছিল। ২০২১ সালের শুরুতে আমার ছেলে মোবাইলে বলে- ‘মা আমি অবৈধ পথে সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যেতে চাই। সেখানে ভালো টাকা ইনকাম। আমিও না করেনি। তখন জাহাঙ্গীর নামে এক দালালকে চার লাখ টাকা দিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে যাওয়ার পথে নৌকা লিবিয়ার কোস্টগার্ডের কাছে ধরা পড়ে।
সেখানে নির্যাতন সহ্য করে ২২ দিন জেলে থাকার পর কোস্টগার্ডকে ৪ লাখ টাকা দিয়ে ইয়াকুবকে ছাড়িয়ে আনে তার বাবা আবুল খায়ের। এ ঘটনার আট মাস পর ইয়াকুব আবারও স্বপ্ন দেখে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার। তখনই ঘটে যায় লোমহর্ষক ঘটনা। ইতালি যাওয়ার পথে মাফিয়াদের হাতে ধরা পড়ে ইয়াকুব। তখন আমার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ছেলে ইয়াকুব বলেন, মাফিয়ারা আমাকে আটক করে মোবাইল ও টাকা-পয়সা সব রেখে দেয়। এ সময় সেখানে আমাকেসহ প্রায় ৩০০ জনকে মাটির নিচে একটি ছোট অন্ধকার রুমে রাখা হয়। চোখের সামনে কত মানুষ একটু খাবারের জন্য হাহাকার করেছে। কত মানুষ অসুস্থ হয়ে মরতে দেখেছি । বসে বসে মৃত্যুর প্রহর গুনেছি। ঠিক মতো খাবার দিত না।
তিনি বলেন, মাফিয়াদের কাছে অনেক আগে আটক হওয়া সাতজন বাঙালি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করত। তারা আমাদের অনেক মারধর করত। কারণ মাফিয়ারা বলেছিল আমাদের ঠিক মতো শাসন করতে পারলে তাদের ছেড়ে দেবে। তাই তারা কথায় কথায় মারত। মারধরের ক্ষত চিহ্ন ও পোঁকামাকরের কামড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরে। ৩০০ জনের জন্য ৩০০ রুটি দিলে সেই ৭ জন বাঙালি প্রায় ৩০-৪০টি রুটি রেখে দিত। বাকি রুটি আমরা ভাগ করে খেতাম। মাফিয়ারা বাঙালি দালালের মাধ্যমে জিম্মি করার বিষয়টি সবার পরিবারকে জানায়। ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে আমার পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েও আমাকে ছাড়ত না। তখন শত চেষ্টা করে কারও সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। বসে বসে মা-বাবার কথা মনে করে কান্না করতাম।
মা শাহিনুর বেগমের বলেন, প্রায় ছয় মাস আমার ছেলের সন্ধান না পেয়ে আমি পাগলের মতো হয়ে যাই। লিবিয়াতে আমার স্বামী আবুল খায়ের ছেলের শোকে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দালালদের টাকা দিয়েও আমার ছেলেকে খোঁজার কোনো উপায় পাচ্ছিলাম না। তাই সিদ্ধান্ত নিই আমি ছেলের খোঁজে নিজেই লিবিয়া যাব। তখন গ্রামবাসী বলত আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। আরও কত কথা। আমার মন বলত আমার ছেলে বেঁচে আছে। তাই কুমিল্লা গিয়ে আমি নিজে পাসপোর্ট করি। তারপর আমার জামাইয়ের সহযোগিতায় ভিসা ও বিমানের টিকেট সংগ্রহ করি।
২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি লিবিয়ায় রওনা হই। ছেলের চিন্তায় আমি বিমানে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন বিমানবালারা আমাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখেন। তারা আমাকে অনেক হেল্প করেন। প্রথমে দুবাই যাই। মিশনে ২৪ ঘণ্টা ঠান্ডার মধ্যে বসে ছিলাম। খাওয়া-দাওয়া কিছু করতে পারিনি। মাথায় শুধু একটা চিন্তা- এত টাকা খরচ করে লিবিয়া যাচ্ছি, সেখানে গিয়ে ছেলেকে কীভাবে খুঁজব। কিছু বাঙালির সহযোগিতায় লিবিয়ার বেনঘাজিতে স্বামীর কাছে যাই। তখন আমার স্বামী খুব অসুস্থ ছিলেন। তাই নিজেই ছেলের খোঁজে বের হয়ে পড়ি।
ছেলে ইয়াকুব বলেন, কয়েকমাস চেষ্টা করার পর আমাদের দেখাশোনা করত- এমন একজনের থেকে একটি মোবাইল চেয়ে নিতে সক্ষম হই। তখন বাবাকে কল দিয়ে বলি, মাফিয়ারা আমাকে আটকে রেখেছে। আমার জায়গার নাম বলি এবং কোনো দালালকে টাকা না দিয়ে অন্য কোনো পদ্ধতিতে আমাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অনুরোধ করি। মাত্র ১৭ সেকেন্ড কথা বলতে পেরেছি।
মা শাহিনুর বেগম বলেন, ছেলের কল পাওয়ার পর আমি আরও পাগলের মতো হয়ে যাই। তখন আমি প্রতিজ্ঞা করি যে কোনো উপায়ে মাফিয়াদের থেকে আমার ছেলেকে উদ্ধার করব। তখন লিবিয়ায় প্রতিষ্ঠিত কয়েকজন বাঙালিকে আমার ছেলে বিষয়টি খুলে বলি। তাদের সহযোগিতায় আমি বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে যোগাযোগ করি। দূতাবাস ও আইওএমের কর্মকর্তারা সব শুনে আমাকে সাহায্য করেন। তখন সেখানে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে আমার ছেলের ছবি এনে দেন। আমি ছবি দেখে চিনতে পারিনি। ছেলের এতো অবস্থা খারাপ ছিল। ছবিতে ছেলের অবস্থা দেখে চার দিন অসুস্থ ছিলাম।
আইওএমের কর্মকর্তারা লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় ইয়াকুবকে উদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে সেখানে বন্দি থাকা আরও ২৫০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়। আমার ছেলে উদ্ধার হলেও তার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। তারা আমাকে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। ছেলের কান্নার শব্দ শুনে আমিও কেঁদে ফেলি। তাকে একনজর দেখার জন্য বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। ছেলে তখন ত্রিপোলিতে ছিল, আর আমি বেনঘাজিতে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় গত ১০ মার্চ আমার ছেলেকে দেশে পাঠানো হয়। আমিও তাদের সহযোগিতায় ১৬ মার্চ বাংলাদেশে এসে আমার ছেলের দেখা পাই। তখন দুইজনে জড়িয়ে ধরে কান্না করেছি। ঢাকা ক্যাম্পে এক সপ্তাহ থাকার পর কুমিল্লায় নিজ গ্রামে এসে তার চিকিৎসা করাই । এখনও সে মানসিকভাবে অসুস্থ। অনেক কিছু মনে রাখতে পারে না।
মায়ের সাহসী ভূমিকা নিয়ে ইয়াকুব বলেন, আমার মা পৃথিবীর সেরা মা। আমি মরে যাব সেটা ভেবেছি, কিন্তু আমার মা আমাকে উদ্ধার করার জন্য টাকা ধার করে লিবিয়া যাবে স্বপ্নেও ভাবিনি। আবারও প্রমাণ হলো মায়ের ভালোবাসার কোনো তুলনা করা যায় না ।
প্রতিবেশী ওমর ফারুক বলেন, লিবিয়া গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে মা ঘরে ফিরেছেন- বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে এই ছেলের জন্য। মায়ের এমন ভালোবাসা বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
শাহিনুর বেগম বলেন, কোনো মায়ের সন্তান যেন অবৈধভাবে ইতালি না যায়। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ- আমার ছেলের জন্য যেন একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। আমি আর তাকে বিদেশ পাঠাব না। বাংলাদেশি কিছু দালাল আমার ছেলেকে খুঁজে দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমি তাদের নামে মামলা করব। আমার কষ্টের টাকা ফেরত চাই। আমরা বর্তমানে ২০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছি। আমার ঘরটি ছাড়া আর কিছু নেই। সবাই সহযোগিতা করলে ঋণের চিন্তা থেকে মুক্ত হব।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সুগন্ধা বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী রবিউল ও সজিব নামে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) বেলা ১টা নাগাদ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের জাফরগঞ্জ বেগমাবাদ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসটিতে আগুণ দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মাসুদ আলম।
তিনি জানান, কুমিল্লাগামী যাত্রীবাহী সুগন্ধা বাস দেবিদ্বারমুখী একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে চালক রবিউল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত সজিব কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টায় মারা যান। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে বাসের আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
নিহত রবিউল উপজেলা পৌরসভার চেয়ারম্যান বাড়ির জয়দল মিয়ার ছেলে। সজিব দেবিদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর গ্রামের আবুল কাশের ছেলে। তারা দুইজন জাফরগঞ্জ এলাকার মীর গফুর কলেজের শিক্ষার্থী।
দেবিদ্বার পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল বলে শুনেছি। বাসটি বেপরোয়া ছিল। এ ঘটনাটি তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।