Category: দেবিদ্বার

  • বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ার থেকে তুলে দিলেন মহিলা দলের নেত্রী; ভিডিও ভাইরাল

    কুমিল্লার দেবিদ্বারে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামকে চেয়ার থেকে তুলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি সুফিয়া বেগম ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ার থেকে তুলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।

    ভাইরাল হওয়া ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি চেয়ারে কয়েকজন ব্যক্তি বসে আছেন। তাদের মধ্যেই দেবিদ্বার উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বসে ছিলেন। এ সময় উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি সুফিয়া বেগম হাতের ইশারায় তাকে উঠে যেতে বলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম চারদিকে তাকাতে থাকেন। একপর্যায়ে সুফিয়া বেগম তাকে হাতে ধরে বাম পাশে নিয়ে যান। পুরো ঘটনাটি দূর থেকে কেউ একজন মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এবং অনুষ্ঠান উপভোগ করতে উপস্থিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। এ সময় মহিলা দলের ওই নেত্রী তাকে চেয়ার ছেড়ে দিতে বলেন।

    এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম  বলেন, উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বছরে দুটি বড় অনুষ্ঠান হয়- একটি বিজয় দিবস, অন্যটি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। আমি সকালে গিয়ে দেখি একটি চেয়ার ফাঁকা ছিল। পাশে একজন মহিলা বসা ছিলেন। তিনি আমাকে অনুরোধ করেন ফাঁকা চেয়ারটিতে বসতে। আমি সেখানে বসি। কিছুক্ষণ পর সুফিয়া বেগম এসে আমাকে পেছনের চেয়ারে চলে যেতে বলেন। তিনি বারবার হাত নেড়ে ও উচ্চস্বরে উঠে যেতে বলছিলেন। পরে তিনি আমাকে ধরে অন্য একটি চেয়ারে বসান। উপস্থিত সবাই তখন আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। বিষয়টি আমার আত্মসম্মানে লেগেছে। তাই কিছুক্ষণ পরই অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে আসি।

    অভিযুক্ত কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি সুফিয়া বেগম  বলেন, ওই চেয়ারে আমি নিজেই বসা ছিলাম। এক সাংবাদিক এসে আমাকে বলেন, আপা আসেন, আপনার একটি সাক্ষাৎকার নেব। আমি উঠে সাক্ষাৎকার দিতে যাই। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখি তিনি (বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম) আমার চেয়ারে বসে আছেন। তাই আমি তাকে অন্য একটি চেয়ারে বসতে বলি। তিনি উঠতে চাইছিলেন না। এজন্য আমি তাকে হাতে ধরে অন্য চেয়ারে বসিয়ে দিই।

    তিনি আরও বলেন, একটি দুষ্টচক্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিডিওটি ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমি তো তাকে পরে নিজ হাতে অন্য একটি চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছি, সেই দৃশ্যটি তারা ভিডিও করেনি। তিনি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও করেননি। তিনি আমার আত্মীয়। কিন্তু কে বা কারা ভিডিওটি ভাইরাল করেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

    এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী  বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে। কোনোভাবেই তাদের অসম্মান করা উচিত নয়। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দেবিদ্বার উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদের আহ্বায়ক আব্দুর রবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সূত্র- dp

  • কুমিল্লায় শ্বশুরের সেপটিক ট্যাংকে মিলল জামাইয়ের গলিত লাশ

    দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

    কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিখোঁজের একমাস পর শ্বশুরের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মেয়ে-জামাই আব্দুল করিম ভূইয়ার (৫২) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

    বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। 

    এর আগে গত ১৩ আগষ্ট তিনি নিখোঁজ হলে বড় ভাই আমির হোসেন ভূইয়া থানায় একটি জিডি করেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মৃত আবুল কাশেম ভূইয়ার ছেলে আব্দুল করিম ভূইয়া।

     তিনি গত ১৩ আগস্ট বাড়ি থেকে খরমপুর মাজার এলাকায় যাওয়ার কথা বলে বাহির হয়ে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখোঁজি করে না পেয়ে ১৬ আগষ্ট তার বড় ভাই আমির হোসেন ভূইয়া দেবিদ্বার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। 

    পরে গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজ আব্দুল করিমের বড় ভাই আমির হোসেন ভূইয়ার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে জানায় তার ছোট ভাই করিমকে  শশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করে লুকিয়ে লাশ রেখেছে। ওই ফোনের সূত্র ধরে আমির হোসেন ভূইয়া রাতেই দেবিদ্বার থানায় এসে পুলিশ নিয়ে তার ছোট ভাই আব্দুল করিম ভূইয়া শশুর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে অনেক খোঁজাখোঁজির এক পর্যায়ে শশুর মৃত ইউনুছ মিয়ার সেপটিক ট্যাংকের ভিতরে লাশ দেখতে পায় পুলিশ। 

    বিষয়টি দেবিদ্বার থানার ওসিকে জানানো হলে রাত সাড়ে ৩টায় ওসি শামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস ও দেবিদ্বার সার্কেলের এএসপি শাহিন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। এই সময় আব্দুল করিম ভূইয়ার দুই শ্যালক মোজ্জামেল ও ইসরাফিল এবং করিমের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার, বড় ছেলে তানভির, ছোট ছেলে তৌহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।

    নিহতের বড় ভাই আমির হোসেন ভূইয়া জানান, গত ১৩ আগষ্ট বাড়ি থেকে আখউড়ার খড়মপুর মাজার এলাকায় যাওয়ার কথা বলে বাহির হয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখোঁজি করে না পেয়ে ১৬ আগষ্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করি। বুধবার একটি অজ্ঞাত ফোনের সূত্র ধরে তার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তিনি ফাঁসির দাবি জানান। 

    এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি শামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, নিখোঁজের একমাস পর একটি ফোনের সূত্র ধরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত করিম মিয়ার দুই শ্যালক, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।   

  • তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেবিদ্বারের ধামতীতে ওয়ার্ড আ,লীগের সেক্রেটারিকে কুপিয়ে আহত

    দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

    কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের দুয়ারিয়া গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু হানিফ মাষ্টার সহ ৮ জন আহত হয়েছেন। আবু হানিফ মাষ্টারকে দা দিয়ে কুপিয়ে মাথায় জখম করা হয়। এতে মাথায় ১৩ টি সেলাই করা হয়।

    মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    এ হামলায় আরো আহত হয়েছেন একই গ্রামের মোঃ আলীম, মিজান, উখারী গ্রামের হাসিনা বেগম, দুয়ারিয়া গ্রামের আয়শা আক্তার, নুরজাহান, শাহজালাল এবং নুরু।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ছোট বাচ্চাদের খেলাকে কেন্দ্র করে দুয়ারিয়া গ্রামের দেলোয়ারের নেতৃত্বে বাবুল, রনি, সৌরভ, রাহাত, রকিব, হাকিম এ হামলা করে। প্রকৃত পক্ষে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আবু হানিফ মাষ্টারের সাথে দেলোয়ার গ্রুপের বিরোধ চলছিল। আবু হানিফ মাষ্টার সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক এবং উপজেলা নির্বাচনে ঘোড়া প্রতিকের পক্ষে কাজ করে। অপর দিকে দেলোয়ার গ্রুপ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের পক্ষে কাজ করে। সেই থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। সেই কোন্দলের সূত্র ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে কেউ এখনো কোন অভিযোগ করেনি।

  • দেবিদ্বারের ধামতীতে কার্যালয়ে যেতে পারছেন না চেয়ারম্যান মিঠু, কাজ বন্টনে স্থানীয় আওয়ামী নেতা!


    স্টাফ রিপোর্টার:
    কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নে চরম অনিয়ম চলছে বলে নানা অভিযোগ রয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মিঠুকে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করতে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। আর ভিতরে কোনরকমে যদি প্রবেশ করেও কোন কাজ পরিচালনা করতে পারছে না।

    আওয়ামী লীগের অপর অংশের নেতাকর্মীরা ইউপির কাজ বন্টন করছে। এমন নানা ধরণের অভিযোগ স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি টিসিবির কার্ড ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চালও ভাগাভাগি করেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কয়েকজন ওয়ার্ড মেম্বার। এমনই অভিযোগ উঠেছে।
    ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠু সমর্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিগত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠুকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে তেমন যেতে পারেন না। উনার কাজকর্ম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়। টিসিবি কার্ড ও চাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও কয়েকজন মিলে ভাগ করে নিজের মত করে বন্টন করেছে। সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান মিঠু সমর্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপর নানা নির্যাতন, হামলা-মারধর চলছেই। উনার জমি দখল ও কলা গাছ কেটে নিয়ে গেছে। ভয়ে-আতংকে তিনি এলাকাছাড়া।


    ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠু জানান, ইউনিয়নবাসী আমাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে তাদের সেবা করার জন্য। আমি বিগত সময়ে চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চভাবে জনগণের সেবা করতে। জনগণও আমাকে সব কাজে সহায়তা করেছে। কিন্তু গত সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনের পর আমি বেশ বিপদে আছি। আমাকে আমার কার্যালয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কোন কাজকর্ম আমি করতে পারছি না। পদে পদে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে আমাকে। এই দুইদিনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউনিয়নের কয়েকজন সুবিধেভোগি ওয়ার্ড মেম্বার টিসিবি ও চাল নিজেরাই ভাগাভাগি করে বন্টন করেছে। আমাকে একবারও জিগেস করেনি। আমি সব সময় কার্যালয়ে যোতে চাই। জনগণের সেবা করতে চাই। আমি যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি তা মৌখিকভাবে এসিল্যান্ড সাহেবকে এবং পুলিশ সুপার ও বিভাগীয় কমিশনারকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি।
    এ বিষয়ে ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: তোফায়েল হোসেন, ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার আমির হোসেন চৌধুরী ও ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: জামাল হোসেন জানান, চেয়ারম্যান মিঠু সাহেব অনেকদিন ধরে অসুস্থ্য। তিনি হাসপাতালে ভর্তি। তাই ইউনিয়ন পরিষদে আসতে পারে না। আমরা সবাই মিলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
    স্থানীয় সূত্র জানায়, অনেককেই ১০ কেজি করে চাল না দিয়ে ২৫০/৩০০ গ্রাম করে কম দেয়া হয়েছে। এছাড়া যারা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে তাদেরকে টিসিবি কার্ড ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারকৃত চাল দেয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

    স্থানীয় বেশ কয়েকজন মহিলা জানান, আমরা গরীব মানুষ। কিন্তু টিসিবি কার্ড পাইনি। চালও পাইনি। আমাদের অপরাধ আমরা নৌকার পক্ষে কাজ করছি। চেয়ারম্যান সাহেবও নাই , আর আমরাও চাল পাই না।
    এ বিষয়ে ধামতী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান সাহেবকে কার্যালয়ে আসতে কেউ বাঁধা দিচ্ছে কি না তা আমি বলতে পারবো না। আর টিসিবি ও চাল বিতরণ কে ভাগাভাগি করছে, তাও জানি না। কোন জায়গায় সমস্যা তা জানি না। চাল কম দেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বলেন, অনেক বস্তায় চাল কম থাকে। তাই অনেককে ২০০/১০০ গ্রাম করে চাল কম দেয়া হয়েছে।


    এ বিষয়ে ধামতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান সরকার জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু অনিয়মিত। বেশিরভাগ সময় ইউনিয়ন পরিষদে আসে না। আমরা উনাকে কোন বাঁধা দেইনি আসতে। আর টিসিবি ও প্রধানমন্ত্রীর চাল ভাগাভাগি ও বিতরণ আমি করিনি। সব মেম্বাররা মিলে করেছে। তারা সবাই ভাগাভাগি করে নেওয়ার পর আমাকে এসে ২৫০/৩০০ কার্ড দিয়েছে। তারা বলছে গরীব মানুষের মাঝে বিতরণ করে দিতে। আমি না করেছি। তারা জোর করে দিয়ে গেছে। আমার বিরুদ্ধে আণীত অভিযোগ মিথ্যা। দলীয় অর্ন্তকোন্দল নিরসনে কোন ভূমিকা নিয়েছেন কিনা ? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরাই মিঠুকে চেয়ারম্যান বানিয়েছি। অথচ গত সাংসদ নির্বাচনে সে এমপি সাহেবের( স্বতন্ত্র এমপি আবুল কালাম আজাদ) বিরুদ্ধে কাজ করেছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনেও সে আনারস প্রতিকের( এমপি আজাদের ছোট ভাই মামুন) বিপক্ষে কাজ করেছে। এসব কারণে এমপি সাহেবের সাথে তার দূরত্ব রয়েছে। তারপরেও এমপি সাহেব তার বিপক্ষে আজও কোন কথা বলেনি। সর্বোপরি আমরা তাকে কোন বাঁধা দেইনি।

  • মেডিকেল সার্টিফিকেটে জখম নেই, বিচার নিয়ে শঙ্কায় সাবেক পুলিশ সদস্য 

    নিজস্ব  প্রতিবেদক: 

    মেডিকেলে চিকিৎসার সার্টিফিকেটের কারসাজিতে প্রতিপক্ষের হামলার গুরুতর আহত হওয়া কুমিল্লার সাবেক এক পুলিশ সদস্য ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় দিন পার করছেন। কুমিল্লার দেবিদ্বারের নূরপুর গ্রামের ভুক্তভোগী সাবেক পুলিশ সদস্য শাহজাহান কবির জানান, অতিরিক্ত জখমের শিকার হওয়ার পরেও তা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা রিপোর্টে উল্লেখ্য নেই৷ মাথায় পাঁচটা সেলাই, চোখে রক্ত জমাট ও মুখ থেতলে গেছে। কিন্তু মেডিকেল রিপোর্টে লেখা ‘নরমাল আহত’। এতে করে ন্যায্য বিচার পাবেন কি-না তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে ভুক্তভোগীর মেডিকেল চিকিৎসা সার্টিফিকেট প্রতিপক্ষের সদস্যরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে কৌশলে চিকিৎসকের কাছ নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। 

    ভুক্তভোগী ও মামলা সুত্রে জানা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার নূরপুর এমএ বারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির জের ধরে দ্বন্দ্ব তৈরী হয় দু’পক্ষের মাঝে। গত ১২ এপ্রিল নুরপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন স্কুল সভাপতি হতে না পেরে স্কুল দাতা সদস্য ও সাবেক পুলিশ সদস্য শাহজাহান কবিরে উপর ১৫-২০ জন নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালায়৷ হামলায় মোসলেম উদ্দিনের ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আগাতে মাথায় জখম, মুখ থেতলে যায় ও চোখে রক্ত জমাট হয়। এসময় তাকে বাঁচাতে আসা গোলাম মোস্তফা ও সফিকুল ইসলামও গুরুতর আহত হন। ঘটনায় মোসলেম উদ্দিনসহ দশজনকে আসামী করে গত ২৩ এপ্রিল দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

    ভুক্তভুগী শাহজাহান কবির জানান, ‘সারা জীবন পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে মানুষের সেবায় কাজ করেছি। প্রতিপক্ষের হামলায় মৃত্যু শয্যা থেকে ফিরে এসেছি। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার আমার চিকিৎসা পত্রে লিখেছেন ‘নরমাল আহত’। যেখানে মাথায় পাঁচটা সেলাই হয়েছে, মুখ থেঁতলে গেছে, চোখে রক্ত জমাট হয়েছে। সেটা নরমাল আহত হয় কিভাবে? এখন ন্যায় বিচার পাবো কি-না জানি না।  মেডিকেল চিকিৎসা সার্টিফিকেট পূণরায় নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করবো।’

    এই বিষয়ের জানতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ পরিচালক শেখ মো ফজলে রাব্বীর মুঠোফোন ও খুদে বার্তায় যোগাযোগের চেস্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

  • দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাচনে দেবরের জন্য ভোট চাচ্ছেন এমপির স্ত্রী

    মারুফ আবদুল্লাহ:

    জমে উঠেছে কুমিল্লার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীর সঙ্গে ভোট চাইতে পুরোদমে মাঠে নেমেছেন পরিবারের লোকজনসহ স্বজনেরা।

    প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে দেবিদ্বারে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মামুনুর রশিদের (আনারস প্রতীক) জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন ভাবি সাদিয়া সাবা। তিনি কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদের সহধর্মিণী। বুধবার (২২ মে) বিকালে দেবিদ্বার পৌর এলাকার দোকানে দোকানে গিয়ে মালিক, কর্মচারী ও সাধারণ ভোটারদের নিকট আনারস প্রতীকের প্রার্থী দেবর মামুনুর রশিদের জন্য ভোট চান তিনি। দেবিদ্বারকে আধুনিক, উন্নত, মাদকমুক্ত ও স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আনসার মার্কাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে সকলকে অনুরোধ করেন।

    এ সময় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদের সহধর্মিণী সাদিয়া সাবার সঙ্গে গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সামছুন্নাহার, রাজামেহার ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেখা আক্তার, রাজামেহার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইয়াছমিন আক্তার, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আঁখি নূর, সুমাইয়া আক্তার, পারভীন আক্তার, তানিয়া আক্তার, পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জয় হানিফ, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মহিউদ্দিন খান সবুজ, পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান রাকিব, রাসেল আহমেদ সরকার, নাজমুল হাসান সরকার, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মো. সজল মিয়া, সাইফুল ইসলাম ও মো. নাঈম হাসান প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, মামুনুর রশিদ ছাড়াও এই উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলীর স্ত্রী শাহিদা আক্তার ও তার মেয়ে খাদিজা বিনতে রোশন।

  • দেবিদ্বারে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহিদার পক্ষে প্রচারণায় সাবেক এমপি রাজী ফখরুল!

    অনলাইন ডেস্ক:

    কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহিদা আক্তারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন সাবেক সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার।

    শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার ভানী ইউনিয়ন, রাজামেহের, ধামতী, সুলতানপুর ও গুনাইঘর ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন তারা । এ সময় গাড়ি ও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে গণসংযোগ ও স্থানীয়দের সাথে প্রচারণায় অংশ নেন তারা। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য যে, আগামী ২৯ মে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • দেবিদ্বারে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নেতাকর্মী ও এজেন্টদের  ভুয়া আইনশৃঙ্খলাবাহিনী পরিচয়ে হুমকির অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:        

    কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ মে। ভোটের আগে এক অভিনব প্রতারণা শুরু হয়েছে।  ঘোড়া প্রতিকের  চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিদা আক্তারের সমর্থিত নেতাকর্মী , ভোটার ও এজেন্টদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে  হুমকি প্রর্দশন করা হচ্ছে।  সাদা পোষাকে কটি পরিহিত কখনো নিজেদের ডিবি পুলিশ, কখনো পুলিশ, কখনো গোয়েন্দা পরিচয় দিয়ে হুমকি দিচ্ছে। গ্রেফতারের  ভয় দেখানো হচ্ছে  ঘোড়া প্রতিকের নেতাকর্মীদের।    

         গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাকরসার গ্রামের কালাম ও হেলাল জানান, ২১ মে রাতে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে আমাদের হুমকি দেয়া হয়। কেন্দ্রে যেতে না করা হয়।    

    চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিদা আক্তার জানান, এভাবে ভয়-ভীতি দেখালে কিভাবে কাজ করবো ? বিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন বিভিন্ন উপায়ে ভয়-ভীতি প্রর্দশন করছে। প্রশাসনের নাম বিক্রি করছে। যদিও প্রশাসন জানে কি না সন্দেহ রয়েছে আমার ।   আশা করি প্রশাসন এসব বিষয়গুলো নজরে এনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করবেন।   এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের এর প্রস্তুতি চলছে।

    এ বিষয়ে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া জানান, আমরা গতকাল বরুড়া ও সদর দক্ষিণ নির্বাচনের কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।   আমাদের কোন টিম দেবিদ্বার যায়নি।

  • দেবিদ্বারে ঘোড়া প্রতিকের দুই কর্মীকে পিস্তল ঠেকিয়ে রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ!


    স্টাফ রিপোর্টার:
    কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুণাইঘর উত্তর ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিদা আক্তারের মতবিনিময় সভায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষরা ঘোড়া প্রতিকের দুই কর্মীকে পিস্তল ঠেকিয়ে রড ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।


    শুক্রবার (১৭ মে) রাতে ইউনিয়নের বনকুট এলাকায় এ হামলা-মারধরের ঘটনা ঘটে।
    এ ঘটনায় আহতরা হলেন, দেবিদ্বার উপজেলার গুণাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ছেপাড়া গ্রামের মৃত. তাজুল ইসলামের ছেলে মো: দুলাল মিয়া (৩৫) ও একই গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে মো: আজিজ (৩০)। আহতদের দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
    এ ঘটনায় বাদি হয়ে দুলাল মিয়া ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারা হলেন, গুনাইঘর এলাকার মৃত. ইসমাইলের ছেলে মাকবুল হোসেন (8৮), মৃত. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো: রাসেল (৪২), মৃত. লতিফ সরকারের ছেলে গাজী আসিফ বিন লতিফ((২৮), গজারিয়া এলাকার সফর আলীর ছেলে মো: কাউসার মেম্বার(৩৬), বাকসার পাঠান বাড়ির মো: শাহানুর (৩০), মৃত. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শফিউল্লাহ (৪৫)।
    আহত দুলাল মিয়া ও মোঃ আজিজ জানান, আমরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের কর্মী ও সমর্থক ৷ সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল মহোদয়ের বাড়িতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিদা আক্তারের মতবিনিময় সভায় যাওয়ার পথে আসামিরা পিস্তল, ছুরি, রামদা, রড ও লাঠিসোটা আমাদের উপর আক্রমণ করে। তারা আমাদের পথরোধ করে আমাদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মতবিনিময় সভায় যেতে নিষেধ করে। আমরা তাদের কথা শুনব না বলাতে তারা এলোপাথারীভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আমাদের আহত করে। আমাদের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে । তারা আমাদের মারধর করে আমাদের সঙ্গে থাকা নগদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং পরনের কাপড় চোপড় ছিড়ে ফেলে ৷ ভবিষ্যতে যাতে ঘোড়া প্রতিকের কোন মিছিল-মিটিংয়ে না যাই, সে নির্দেশনা দিয়ে তারা চলে যায়।
    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন মিয়া জানান, এ ঘটনায় দুই পক্ষ দুটি অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    উল্লেখ্য যে, আগামী ২৯ মে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টারের স্ত্রী শাহিদা আক্তার ও স্থানীয় এমপি আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই মামুন।

  • দেবিদ্বারে অপহরণের পর যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ; সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আটক

    অনলাইন ডেস্ক:
    কুমিল্লার দেবিদ্বারে যৌথ ব্যবসার টাকা লেনদেনের জেরে আবু সায়েম (৩৯) নামের এক যুবককে প্রথমে অপহরণর পরে নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহত সায়েমের ছোট ভাই মো. আবু কাউছার বাদি হয়ে চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ও তার ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুনসহ চারজনের নাম উল্লেখপুর্বক আরও অজ্ঞাত ৭/৮জনের নামে দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বাঙ্গুরী গ্রামে। ওই দিন রাত ২টার দিকে উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো.খোরশেদ আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তবে তাঁর ছেলে মামুন পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত সায়েম উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের চাষারপাড় গ্রামের আবদুর রহিম সরকারের ছেলে। আবু সায়েমের দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ গেইটের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী ।

    নিহত আবু সায়েমের শ্বশুর স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মো. ছিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সোমবার (৮এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে আমার মেয়ের জামাই সায়েমকে অপহরণ করে চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ৭/৮জন সন্ত্রাসী। অপহরণের খবর পেয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আমরা তাকে খোঁজাখুঁজি করি। এক পর্যায়ে বিকাল ৫টায় খোরশেদ চেয়ারম্যান আমাকে ফোনে জানায়, সায়েম তার ছেলে মামুনের সাথে কাছে আছে। মামুন আমার জামাইর নিকট যৌথ ব্যবসার যে টাকা পাবে সে টাকা ফেরত দিলে ছেড়ে দেয়া হবে। পরে রাত সাড়ে ৭টায় চেয়ারম্যান খোরশেদ আমাকে যাত্রাবাড়ির বাবু বাজার এলাকার একটি বাসায় সায়েমের সাথে দেখা করায়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় আজ মঙ্গলবার সকালে চেয়ারম্যানের বাড়িতে লেনদেনের বিষয়টি মিমাংসা করা হবে। আমি সায়েমকে আমার সাথে নিতে চাইলে চেয়ারম্যান বলে ‘সায়েম তার জিম্মায় থাকবে’। সেখান থেকে তাঁরা রাতেই সায়েমকে নিয়ে প্রাইভেটকারে দেবিদ্বার চলে আসে। প্রাইভেটকারে জায়গা না থাকায় আমি বাসে করে দেবিদ্বারে রওয়ানা হই। আমি কুমিল্লা ময়নামতি এলাকায় আসার পর রাত সাড়ে ১০টায় চেয়ারম্যান আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, সায়েম চা খাওয়ার কথা বলে তাদের নিকট থেকে পালিয়ে গেছে। পরে রাত সোয়া ১টায় চেয়ারম্যান আবার ফোনে জানায় সায়েম খুবই অসুস্থ তাকে আমি ও আমার স্ত্রী দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি, তুমি দ্রæত হাসপাতালে আসো। পরে আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখি সায়েমের মরদেহ নিচে পড়ে আছে। মরদেহের চোখ-মুখ ফোলা, গলায় ও পিঠে অসংখ্য দাগ। পরে আমি থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে খোরশেদ চেয়ারম্যানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    সায়েমের ছোট ভাই আবু কাউছার সরকার জানান, গত কয়েক বছর আগে আমার বড় ভাই ব্যবসায়ী কাজে টাকার প্রয়োজন হলে সাবেক চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের ছেলে মামুনের নিকট থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যৌথ ব্যবসায় পার্টনার করে। বর্তমানে ব্যবসার অবস্থা কিছুটা অবনতি হলে ওই টাকার জন্য মামুন আমার ভাইকে চাপ সৃষ্টি করলে তাকে ৭ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয় এবং বাকি টাকার জন্য একটি খালি চেক দেয়া হয়। পরে মামুন ওই চেক দিয়ে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা করে। ওই মামলা চলমান থাকাবস্থায় মামুন ও তার বাবা আমার ভাইকে সন্ত্রাসী নিয়ে অপহরণ করে। রাতে সায়েম ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলেন আমার পিকাপভ্যানটি (যার নম্বার ১২-০৯৯৭) মামুনকে দিয়ে দিলে তাকে ছেড়ে দিবে। এই কথা শুনে আমি পিকআপ ভ্যানটি মামুনকে দিয়ে দেই। এরপরও আমার ভাইকে চেয়ারম্যান ও তার ছেলে সন্ত্রাসী নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা এ ঘটনায় খোরশেদ চেয়ারম্যান ও তার ছেলের ফাঁসি দাবি করছি।

    নিহত সায়েমের আইনজীবি এ্যাডভোকেট আলী আজম খান বলেন, আমাকে ফোনে জানায়, তাকে মামলার বাদি মামুন অপহরণ করেছে। আমি তাকে ৯৯৯ ফোন দিতে বলি। সে তার লোকেশন যাত্রাবাড়ি বউ বাজার এলাকার তরমুজ পট্টিতে আছে জানিয়ে লাইন কেটে দেয়। পরে আমি ৯৯৯ ফোন করে যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণের বিষয়টি জানাই।

    এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নয়ন মিয়া বলেন, সায়েম নিহতের ঘটনায় তার ছোট কাউছার সরকার বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নং ১২ তারিখ- ০৯-০৪-২৪)। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সায়েমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে।