দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ যমুনা গ্রুপ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করবে না বলে জানা গেছে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইভ্যালির বাজারে ইভ্যালির রেপুটেশনের খারাপ অবস্থা। যমুনা গ্রুপের পক্ষ থেকে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা থাকলেও কোনো টাকা বিনিয়োগের আগেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে প্রতিষ্ঠানটি।
যমুনা গ্রুপের পরিচালক মনিকা ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি যমুনা গ্রুপ নিজেরাই ই-কমার্স কোম্পানি খোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও জানান।
এর আগে, গত ২৭ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এমন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল।
সূত্র জানায়, যমুনা গ্রুপ খোঁজ নিয়ে ইভ্যালির ভেতরে সমস্যার কথা জানতে পেরেছে। ভালো কোনও অডিট ফার্ম প্রতিষ্ঠানটির অডিট করতে চায় না।
যমুনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষের দাবি, ইভ্যালির নেটওয়ার্ক ছাড়া কিছুই নেই। এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে যমুনা গ্রুপের রেপুটেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় তারা সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছে।
সূত্র জানায়, সমস্যা কবলিত ইভ্যালির ৫১ শতাংশ শেয়ার কেনার কথা ছিল যমুনা গ্রুপের। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করারও পরিকল্পনা ছিল। এরপর ধাপে ধাপে মোট এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা ছিল। সূত্র: কালের কন্ঠ
অনলাইন ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী মারা গেছেন। হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বাবুনগরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হেফাজতে ইসলামের আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক জুনাইদ বাবুনগরীর মৃত্যু হয়েছে।দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিএসসিআর নামে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।এর আগে দুপুর ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বাবুনগরী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।’বাবুনগরী হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিকস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।
চট্টগ্রামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০টি স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক সাইফুল ইসলামসহ ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫টি স্বর্ণের বার।
মঙ্গলবার রাতে ডিবি পুলিশের এসব কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা করেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোতাহের হোসেন, মিজানুর রহমান, নুরুল হক এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অভিজিত বড়ুয়া ও মাসুদ রানা।
ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার নুরুন্নবী বলেন, ‘রবিবার বিকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস। ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশের ওই সদস্যরা তার গাড়ি থামান। এ সময় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০টি স্বর্ণের বার ছিনিয়ে নেন তারা। এ ঘটনায় গোপাল কান্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে চার জনকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে অন্য দুজনকে আটক করা হয়। ব্যবসায়ীর করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।’
বাকি পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে এসপি বলেন, ‘স্বর্ণের বারগুলো বৈধ নাকি অবৈধ তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ডিবি পুলিশের ওই ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক: মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত মোবাইল ডাটা কেটে না নিয়ে পরবর্তীতে কেনা ডাটা প্যাকেজের সঙ্গে ফেরত দিতে অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেছেন, ‘এটা তারা আগে ফেরত দিত। আমি নিজেও এই ডাটা ফেরত পেয়েছি। এখন কেন দেয় না এটা বরং আমার তাদের কাছে প্রশ্ন।’
সোমবার (২ আগস্ট) দেশের মোবাইল অপারেটরদের কার্যক্রম তদারকি করতে যন্ত্রপাতি কেনা সংক্রান্ত এক চুক্তি শেষে টেলিফোনে একথা বলেন তিনি। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এজন্য কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান টিকেসি টেলিকমের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিটিআরসি
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একই সাথে আমি এটাও উত্থাপন করেছি; আজেবাজে মেয়াদ দিয়ে প্যাকেজগুলো করা হয়, সেগুলো যাতে করা না হয়। তার সাথে এটাও যোগ করেছি, তাদের কল ড্রপের যাতে টাকা ফেরত দেয়। এসব যুক্তিসঙ্গতভাবে ভোক্তার অধিকার। সুতরাং ভোক্তাকে সেই অধিকার দিতে হবে। কারণ, একতরফা প্রফিট করার জন্য কাউকে লাইসেন্স দেয়া যায় না।’
এর আগে গত ৩১ জুলাই করোনা মহামারির মধ্যে ঘরে বসে থাকা আয়-রোজগারহীন গ্রাহকের অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেট ডাটা ও টকটাইমের মারপ্যাঁচ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে ডাটা বা টকটাইম কেনার পরে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত ডাটা ও টকটাইম পরবর্তী রিচার্জের সময় পাওয়া যাচ্ছে না কেন? হিসাবটা খুবই সহজ। উত্তর খুবই সহজ, অব্যবহৃত এমবি দিয়ে বিভিন্ন প্যাকেজ তৈরি করে পুনরায় বিক্রি করা হয়েছে গ্রাহকদের কাছে।’
আজকের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন বক্তব্য দেন। বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার এতে সভাপতিত্ব করেন। সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের কমিশনার প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য দেন।
বিটিআরসির পক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক মো. গোলাম রাজ্জাক ও টিকেসি টেলিকমের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির তালহামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮০ দিনের মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এহসানুল কবীর এবং টিকেসি টেলিকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির তালহামি বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, ৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয়ের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রদত্ত উপস্থাপনা থেকে জানা যায়, সিস্টেমটি বাস্তবায়িত হলে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় সব তথ্য বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে ভয়েস ও ডাটা ট্রাফিক, নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং মান সম্পর্কিত তথ্য সর্বোপরি বিটিআরসির প্রাপ্য রাজস্ব সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।
ফলে বিটিআরসির নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে এবং সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ ব্যবস্থা আরও দক্ষ এবং দ্রুত হবে। শহর এলাকার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল, দ্বীপ, হাওর-বাঁওড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও দুর্গম এলাকার টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের প্রকৃত অবস্থা তাৎক্ষণিক যাচাই করা সম্ভব হবে।
অপারেটরদের নেটওয়ার্কের লাইভ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সেবার মান আরও সুচারুভাবে যাচাই করা যাবে এবং গ্রাহক সেবার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।
অপারেটররা বাস্তবে যেসব ট্যারিফ বাস্তবায়ন করছে এবং এসব ট্যারিফ প্যাকেজ বিটিআরসি কর্তৃক অনুমোদিত কি-না অথবা গ্রাহকরা অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কি-না তা যাচাই করা সম্ভব হবে এবং এ বিষয়ক অভিযোগসমূহের নিষ্পত্তি কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং নানাবিধ অবকাঠামোগত ব্যবস্থা ও সেবার সঠিক মানোন্নয়নে সিস্টেমটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় র্যাবের অভিযান চলছে।বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে অভিযান চালানো শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অব্যাহতি দিয়ে গত রোববার আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতি বহির্ভূত হওয়ায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জয়যাত্রা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য হয়েছিলেন গত ১৭ জানুয়ারি। তার আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের দিকে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। আবদুল মতিন খসরু মারা গেলে ওই আসনে মনোনয়নের জন্য দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তবে মনোনয়ন পাননি।
সম্প্রতি ফেসবুকে নেতা বানানোর ঘোষণা দিয়ে ছবি পোস্ট করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। সূত্র: সমকাল
১১ জুলাই অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলা পুলিশ। পুরো জেলায় মোতায়েন করা হয় পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য। তবে খেলার দিন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাতে সংঘর্ষে জড়ায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেওয়াই গ্রামে হওয়া ওই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- মিনার মিয়া, মো. আলম, রবিউল, জালাল মুন্সি ও ফুরকান মুন্সি। এদের মধ্যে মিনার মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মাছিহাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিনুল হক পাভেল জানান, কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় খেওয়াই গ্রামের সর্দার বাড়ির শিপন (১৯) ও মুন্সি বাড়ির হৃদয়ের (১৮) বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হৃদয় আর্জেন্টিনা এবং শিপন ব্রাজিল দলের সমর্থক। এ ঘটনার জেরে রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। সকালে গ্রামে পুলিশ এসেছে। এখন গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে (সেজান জুসের কারখানা) লাগা আগুনে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন জানান, এখন পর্যন্ত কারখানার ভেতর থেকে ৫০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের বেশিরভাগই শিশু শ্রমিক। পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।আগুনের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শাহ-আলম বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে কারখানার চারতলায় আবারও আগুন বাড়তে থাকে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, ১-৪ তলার মধ্যে ৪৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৫ ও ৬ তলায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো প্রবেশ করতে পারেনি। ওই দুই তলায় আরও মরদেহ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার পর ওই কারখানায় আগুন লাগে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনজনের মৃত্যুর খবর আসে।
গতকাল প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছিলেন, হাশেম ফুডস লিমিটেডের ৭ তলা ভবনের নিচ তলার একটি ফ্লোরে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সময়ের সাথে সাথে আগুনের লেলিহান শিখা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়ায় গোটা কারখানাটি অন্ধকার হয়ে যায়। শ্রমিকরা ছোটাছুটি করতে শুরু করেন। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই স্বপ্না রানী ও মিনা আক্তার নামে দুই নারী শ্রমিক নিহত হন।
রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মোরসালিন (২৮) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
প্রাণে বাঁচতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন অনেকে। লাফিয়ে পড়ে আহত হওয়া অন্তত ছয়জনকে গতকাল ঢামেকে ভর্তি করা হয়।
আগুন লাগার পর থেকেই শঙ্কা ছিল কারখানার ভেতর অনেক শ্রমিক হয়তো আটকা পড়েছেন। রাত ৯টার দিকে দেখা যায়, ভবনের সামনে ও পেছন দিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি ও প্রচণ্ড কালো ধোঁয়া থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।
কারখানাটির সপ্তম তলায় একটি কেমিক্যাল গোডাউন ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। এই গোডাউনের কারণে আগুনের ব্যাপকতা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট
কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারাদেশে কঠোর লকডাউন পালন করা হবে। এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
জরুরি পণ্যবাহী ব্যতীত সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে যানবাহন শুধু চলাচল করতে পারবে। জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না। গণমাধ্যম এর আওতা বহির্ভূত থাকবে।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আদেশ আগামীকাল শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হবে।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে এ তথ্য জানান।
নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরণ ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে নতুন করে কমপক্ষে ১৪ দিনের ‘শাট ডাউন’ সুপারিশ করেছে করোনায় গঠিত কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) কোভিড কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মােহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ১৪ দিন জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সব কিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ রােগের বিশেষ ডেলটা প্রজাতির সামাজিক সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে ও দেশে ইতােমধ্যেই রােগের প্রকোপ অনেক বেড়েছে। এই প্রজাতির জীবাণুর সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণে সারা দেশেই উচ্চ সংক্রমণ, পঞ্চাশাের্ধ্ব জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। রােগ প্রতিরােধের জন্য খণ্ড খণ্ড ভাবে নেওয়া কর্মসূচির উপযােগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
অন্যান্য দেশ, বিশেষত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অভিজ্ঞতা কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এর বিস্তৃতি প্রতিরােধ করা সম্ভব নয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলােচনা করা হয়েছে। তাদের মতামত অনুযায়ী, যে সব স্থানে পূর্ণ ‘শাট ডাউন’ প্রয়ােগ করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে।