Category: জাতীয়

  • বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ

    অনলাইন ডেস্ক:

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট (প্রতীকী ছবি, ইন্টারনেন্ট থেকে সংগৃহীত)বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর সফলভাবে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে স্পেস এক্স। ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় অরল্যান্ডোতে কেনেডি স্পেস সেন্টার তথা নাসা’র ব্লক-৫ এ এই পরীক্ষা চালানো হয়। এখান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগামী সপ্তাহে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটকে মহাকাশে পাঠানো হতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি টুইট বার্তায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স এই তথ্য জানিয়েছে।

    টুইট বার্তায় বলা হয়েছে , ‘শুক্রবারের স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট নামের ওই পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯ এ ত্রুটি ধরা পড়েনি। এটি সম্পূর্ণ কার্যকর। এখন এই পরীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য স্পেস এক্সের সদর দফতর লস অ্যাঞ্জেলসে পাঠানো হয়েছে। তথ্য পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

    এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সময় শনিবার দুপুরে স্পেস এক্সকে একটা অ্যানালাইসিস রিপোর্ট দেবে। রিপোর্ট ইতিবাচক হলে ওরা আমাদের উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ জানিয়ে দেবে। তবে স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূক উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে।’

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর প্রকল্প পরিচালক মেজবাহ উজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের কথা জানিয়েছেন। তবে তা সফল হয়েছে কিনা তা এখনই বলা যাবে না। তারা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন।

    এরকম পরীক্ষা এর আগে আরও একাধিকবার হয়েছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্তভাবে উৎক্ষেপণের আগে এরকম টেস্ট আরও হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
    সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

  • যে কারণে রক্তের স্রোতে ভাসছে রাঙামাটি !

    অনলাইন ডেস্ক:
    সহিংস রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের জেরে রক্তের স্রোতে ভাসছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা খুন হওয়ার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গতকাল গুলি করে পাঁচজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাহাড়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। বড় দুটি হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। বৃহস্পতিবার নিহত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) নেতা শক্তিমান চাকমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে রাঙামাটিতে একটি মাইক্রোবাসে গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাঙামাটি শহর থেকে প্রায় ৫০ কি.মি দূরে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সীমান্তের কাছে বেতছড়ি এলাকায় ওই হামলায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা, জনসংহতি সমিতির সহযোগী সংগঠন যুব সমিতির (এম এন লারমা) মহালছড়ি শাখার সভাপতি সুজন চাকমা এবং সদস্য তনয় চাকমা ঘটনাস্থলেই মারা যান। মাইক্রোবাসের চালক সজীব এবং যুব সমিতির (এম এন লারমা) সদস্য রবিন চাকমা খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান বলে জানা

    গেছে। শক্তিমানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে সংগঠনের ১২ জন নেতা-কর্মী খাগড়াছড়ি থেকে ওই মাইক্রোবাসে করে রাঙামাটির নানিয়ারচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথে বেতছড়ি এলাকায় তাদের গাড়িতে ‘ব্রাশফায়ার’ করা হয়। তবে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির বলছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়ায় যাওয়ার পথে বেতছড়ি এলাকায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। এ সময় ঘটনাস্থলে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর বিদ্রোহী গ্রুপ নব্য মুকোশ বাহিনীর প্রধান ও ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক-এর আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ সংগঠনটির ১২ নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এ ব্যাপরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত জীবন্ত চাকমা ও নীরব কুমার চাকমা নিজেদের সাধারণ গ্রামবাসী দাবি করে জানান, তারা সবাই যাচ্ছিলেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। কিন্তু তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খাগড়াছড়ি সীমানা অতিক্রম করে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বেতছড়ি পৌঁছামাত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। সন্ত্রাসীরা প্রথমে চালককে গুলি করলে মাইক্রোবাসটি উল্টে যায়। পরে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে তাদের সঙ্গে থাকা তিনজন মারা যান। গুলিবিদ্ধদের খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাইক্রোবাসের চালকসহ দুজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে দুজনের মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ও তিনজনকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

    নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, খবর পেয়ে হতাহতদের উদ্ধারে তাত্ক্ষণিক পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেছে। রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে সেতু লাল চাকমা নামে একজন ও গাড়ির চালক মো. সজীব মারা যান।

    খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ ১০ জনকে আনা হয়েছিল তাদের মধ্যে দুজন মারা যান। আশঙ্কাজনক হওয়ায় আহতদের মধ্যে চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এম এন লারমা গ্রুপ অর্থাৎ সংস্কারপন্থির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা এ ঘটনার জন্য প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের প্রচার ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান নিরণ চাকমা।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দল ও ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমা। এ ঘটনার পরপরই ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিকের শীর্ষ নেতা ও নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ একই গ্রুপের চারজন নিহত হন। এ সময় আরও নিহত হন সাধারণ বাঙালি মাইক্রোবাস চালক মো. সজীব। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল লতিফ।

    এদিকে ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকা লিটন চাকমা বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শক্তিমান চাকমাকে হত্যা করার পর তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য তারা (ইউপিডিএফ) একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। উল্লেখ্য, ইউপিডিএফ থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

  • যেভাবে জানবেন এসএসসি ও সমমানের রেজাল্ট

    অনলাইন ডেস্ক:
    ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হচ্ছে রবিবার (৬ মে)। প্রতিবছর দুপুর ২টায় ওয়েবসাইট, মোবাইলফোন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফলাফল পাওয়া গেলেও এবার তা এক ঘণ্টা আগে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ এবার দুপুর ১টায় শিক্ষার্থীরা ফলাফল হাতে পাবে।

    এর আগে সকাল ১০টায় শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফল হস্তান্তর করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আর প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তরের পর শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবেন দুপুর ১২ টায়। এরপর দুপুর ১টা থেকে ওয়েবসাইট, মোবাইলফোন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ফল পাওয়া যাবে।

    এদিকে, এবারের ফলাফলেও লেটার গ্রেডের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক নম্বরও জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা। তবে তা শুধু শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে। অবশ্য, শারীরিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের নম্বর ওয়েবসাইটে যুক্ত থাকলেও এই দুই বিষয়ের নম্বর জিপিএ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে না বলে জানিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

    যেসব ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে ফলাফল: www.educationboardresults.gov.bd, ও সকল শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট–এ পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ফল প্রকাশের পরপরই (দুপুর ১টা থেকে) শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল (বিষয় ভিত্তিক নম্বরসহ) পাওয়া যাবে।

    এছাড়া স্ব–স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে ফলাফল পাওয়া যাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল ডাউনলোড পূর্বক প্রিন্ট করে আগের মতোই নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেয়ার সুযোগ পাবেন।

    মোবাইলের এসএমএস’র মাধ্যমে ফলাফল: সব অপারেটর (টেলিটক, রবি, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও এয়ারটেল) থেকে : মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC অথবা DAKHIL লিখে একটি space দিয়ে শিক্ষাবোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর (chi) লিখে একটি space দিয়ে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর লিখে একটি space দিয়ে পাসের সাল লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। সংক্ষেপে : চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ক্ষেত্রে SSC (space) chi (space) Roll (space) ২০১৮ লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

    মাদ্রাসাবোর্ডের ক্ষেত্রে: Dakhil (space) Mad (space) roll (space) ২০১৮ লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

    টেকনিক্যাল (কারিগরি) বোর্ডের ক্ষেত্রে: SSC (space) tec (space) roll (space) ২০১৮ লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

    এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। লিখিত সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা চলে ২৪ তারিখ পর্যন্ত। পরীক্ষায় সারা দেশের ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯ জন অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ এবং ছাত্রী ছিল ১০ লাখ আট হাজার ৬৮৭ জন।

  • সেই তাসফিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল!

    অনলাইন ডেস্ক:

    কক্সবাজারের টেকনাফে তাসফিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ মে) রাত পৌনে ৯টায় টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ মাঠে জানাজা শেষে কলেজ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ছাড়াও শোকাহত শত শত মুসল্লী অংশগ্রহন করেন। এর আগে বিকাল সাড়ে ৬টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে তাসফিয়ার লাশ পৈত্রিক নিবাস টেকনাফ পৌরসভার ডেইলপাড়া এলাকায় পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

    এসময় আত্মীয় স্বজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এসময় আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও এলাকাবাসী ভিড় জমান বাড়িটিতে। উপস্থিত সবার একটিই দাবী এই নির্মম খুনের সঙ্গে জড়িতদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।

    উল্লেখ্য, ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে এক মাসের মাথায় স্কুলছাত্রী তাসফিয়াকে শবেবরাতের রাতে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে পাষণ্ডরা। এমনকি ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশটি ফেলে দেয়া হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের উপকূলে।

    বুধবার (২ মে) সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে স্থানীয় পথচারীরা লাশটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

  • তাসপিয়া হত্যার ৬ নম্বর আসামি কে এই ফিরোজ?

    অনলাইন ডেস্ক:
    লাশ উদ্ধারের পর থেকে সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শেণির ছাত্রী তাসপিয়া ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। সোশ্যাল মিডিয়াসহ প্রায় সব মিডিয়াতেই এখন আলোচিত খবর তাসপিয়া-আদনানের কিশোর বয়সের প্রেম কাহিনীর করুণ পরিণতি।পুলিশের তথ্য মতে, গত মঙ্গলবার (১ মে) বিকেলে তাসপিয়া নিখোঁজের পর তার মায়ের ফোন পেয়ে আদনান তাদের বাসায় যায়। এ সময় তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন প্রথমে আদনানকে নিয়ে চায়না রেস্টুরেন্টে যান। সেখান থেকে আবারও বাসায় আসেন। সেখানে আদনানকে আটকে রাখেন তিনি।

    খবর পেয়ে স্বঘোষিত যুবলীগ নেতা ফিরোজ ও যুবলীগ কর্মী ইকরাম তাসপিয়াদের বাসায় আসেন। এ সময় আদনানকে ছেড়ে দিতে সময় বেঁধে দেন তারা।পরে দুই ঘণ্টার মধ্যে তাসপিয়াকে বাসায় ফেরত দেয়ার কথা বলে আদনানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তারা। এরপর রাতেই লাপাত্তা হয়ে যান তারা।ওই রাত শেষে বুধবার সকালে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নেভাল একাডেমির অদূরে ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় থেকে তাসপিয়ার নিথরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করলেও দুপুর ২টার সময় পরিচয় মিলে।তাসপিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে আসে এই কিশোরীর ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। নিহত তাসপিয়ার পিঠ, বুক ও স্পর্শকাতর অঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে ভয়াবহ নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটোও যেন নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ।

    তাসপিয়ার মৃত্যুর পর আড়ালে হাঁটছেন ফিরোজ। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত পাড়ে কঠিন পাথরের উপর পড়ে থাকা তাসপিয়ার নিথর দেহ উদ্ধারের পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। ইতোমধ্যে তাকে গ্রেফতারে বেশ কিছু স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ মে) দুপুরে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন কন্যা হত্যার অভিযোগে সুনির্দিষ্ট ছয়জনকে আসামি করে পতেঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

    ওই মামলার ষষ্ঠ নম্বর আসামি ফিরোজ। প্রধান আসামি আদনান মির্জার বড় ভাই তিনি। ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচকিডস’ নামের গ্যাং স্টারের (এডমিন) প্রধান আদনান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাং স্টারের ক্যাডার।পুলিশ জানায়, স্বঘোষিত যুবলীগ ক্যাডার ফিরোজ অস্ত্রসহ এক সময় র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন। ভারতে বন্দি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের সহযোগী ছিলেন তিনি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ২০১৩ সালের জুলাই মাসে অস্ত্রসহ দুবার আটক হন পুলিশের হাতে।জেল থেকে বেরিয়ে ২০১৫ সাল থেকে ফিরোজ যুবলীগের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। সে সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের ছবি ব্যবহার করে বিলবোর্ড টাঙিয়ে সমালোচনায় এসেছিলেন ফিরোজ।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের চাঁদাবাজি ও খুনের অপারেশনে সক্রিয় ছিলেন ফিরোজ। এক সময় যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিলেও সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো সাজ্জাদ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ফিরোজের মাধ্যমে।২০১৫ সালে চট্টগ্রামে নতুন রূপে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে ফিরোজ গড়ে তুলেন ‘রিচ কিডস’ গ্যাংস্টার নামে ফেইসবুক ভিত্তিক এক কিশোর বাহিনী। আর ওই বাহিনীর এডমিনের দায়িত্বে ছিলেন তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনান।

    বৃহস্পতিবার তাসপিয়ার বাবার দায়েরকৃত মামলায় এই রিচ কিডস গ্যাংস্টারের চার সদস্যকেও আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শওকত মিরাজ ও আসিফ মিজান, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসির ছাত্র ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম এবং স্বঘোষিত যুবলীগ নেতা ফিরোজের সহযোগী যুবলীগ কর্মী সোহায়েল প্রকাশ সোহেল।ইংলিশ মিডিয়ামের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদর্শন তরুণীদের তথ্য-উপাত্ত বড় ভাইদের সরবরাহ করা, মোটরসাইকেলে করে ঘোরাঘুরি, তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি, এলাকায় হিরোইজম প্রদর্শন করাই হলো এই গ্রুপের কাজ।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা বেশ কিছু ইস্যুকে সামনে নিয়ে এগুচ্ছি। তার মধ্যে অটো চালক, আদনানের ‘রিচ কিডস’ গ্যাং ও কথিত ‘বড় ভাই’ নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়াও আরো কিছু ইস্যু আছে যেগুলো এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

  • বাতিল হতে পারে ৫ হাজার এসএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা

    অনলাইন ডেস্ক:
    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে নানা মহলের সমালোচনার মুখে তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৪ মে) কমিটির দেয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় ৪ থেকে ৫ হাজারের মত শিক্ষার্থী সুবিধা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি। এসব শিক্ষার্থীর ফলাফল বাতিলের সুপারিশও করেছে কমিটি।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসএসসি পরীক্ষার ১৭টি বিষয়ের মধ্যে ১২টি বিষয়ের শুধু এমসিকিউ অংশের ‘খ’ সেটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। তবে কোন বিষয়ের সৃজনশীল অংশ ফাঁস হয়নি। বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পায়নি।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে বা কাছাকাছি সময়ে শুধুমাত্র ক্লোজ গ্রুপে নগণ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রশ্ন পেয়েছে। এ ধরণের ক্লোজ গ্রুপে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অতি নগণ্য। প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ১০০ জনের মত সদস্য রয়েছে। এ রকম ৪০-৫০টি গ্রুপে প্রশ্ন শেয়ার হয়েছে। ফলে ক্লোজ গ্রুপের মাধ্যমে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্ন পত্র পেয়ে থাকতে পারে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে সকল পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ বাধ্যতামূলক থাকায় যারা প্রশ্ন পেয়েছে তারা উত্তর প্রস্তুতের জন্য ১০ থেকে ২০ মিনিটের মত সময় পেয়ে থাকতে পারে। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর বের করা সহজ নয়। ফলে তাদের সামগ্রিক ফলাফলে এটা খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারবে না।

    এই প্রতিবেদনের আলোকে ৪ টিসুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সুপারিশগুলো হল:

    ১) ক্লোজ গ্রুপের ৪ থেকে ৫ হাজার প্রশ্ন পাওয়া সুবিধাভোগীদের জন্য ২০ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা পুণরায় গ্রহণ করে তাদেরকে ভোগান্তিতে ফেলা সমীচীন হবে না বিবেচনায় সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষার কোনো বিষয়ের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত হবে না।

    ২) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসের সুবিধাভোগী সকল পরীক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে পরবর্তীতে তাদের ফলাফল বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

    ৩) কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে এবং প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৪) মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে সন্দেহজনক মোবাইল নম্বরগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং লেনদেনকারীর পেশা যাচাই করে দেখতে হবে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িত অনেককেই গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। সুবিধা পাওয়া যেসব শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যাবে তাদের পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।

    মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে কঠোর শিক্ষামন্ত্রী। তাই যেসব পরীক্ষার্থী প্রশ্ন পেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে বলে তথ্য-প্রমান পাওয়া যাবে পরবর্তীতে তাদের পরীক্ষা বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া যারা প্রশ্ন ফাঁস করেছেন বলে প্রমান পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

    জানা গেছে, বিভিন্ন সময় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২টি মামলা হয়েছে। এর সাথে জড়িত ১৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। জড়িত পরীক্ষার্থীদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত শিক্ষকদের চাকরি থেকে বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানা গেছে।

    এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন, তারা পার পেয়ে গেছেন তা ভাবার কারণ নেই। নানা ভাবে চেকিং চলছে। প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই, এখনও চলছে।

    উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৪ মার্চ শেষ হয়। সারা দেশে তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে মোট ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন। আগামী ৬ মে (রবিবার) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

  • পরকীয়ার টানে স্বামী-মেয়েকে ফেলে উধাও বিলকিস

    অনলাইন ডেস্ক:
    বিলকিস (৩৬) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মেদপুর কৈডিমা গ্রামের আনোয়ারুল হকের স্ত্রী। পরকিয়ার টানে ১৮ বছরের সংসার ফেলে উধাও হয়েছেন তিনি। তাদের সংসারে ১৬ বছর বয়সের একটি মেয়ে রয়েছে। রোববার (২৯ এপ্রিল) রাত থেকে খোঁজ মিলছে না তার।স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই বছর আগে গুরুদাসপুর উপজেলার বৃণ্ডচাপিলা গ্রামের ছইর উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম আনোয়ারুলের বাড়ির পাশে দোকান দেন। দোকানে মালামাল কেনার সূত্রে বিলকিসের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

    বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামে একাধিকবার সালিশও বসে। কিন্তু তারা গোপনে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত রোববার রাতে সবার অগোচরে বিলকিস খাতুন স্বামী ও মেয়েকে ফেলে পরকীয়া প্রেমিক শহিদুল ইসলামের হাত ধরে পালিয়ে যান।শুক্রবার (৪ মে) বিলকিসের স্বামী আনোয়ারুল হক বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, শহিদুল আমার সাজানো সংসার ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। তারপরও বুঝিয়ে-সুজিয়ে বাড়ি আনার জন্য বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে ফিরছি, কিন্তু পাচ্ছি না।

    এ বিষয়ে বিলকিস ও পরকীয়া প্রেমিক শহিদুলের সঙ্গে কয়েক দফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

  • রং নাম্বারে পরিচয়, অতঃপর ভয়ঙ্কর পরিণতি!

    অনলাইন ডেস্ক:
    দুই বছর আগে মোবাইল ফোনের রং নাম্বারে রাজবাড়ীর এইচএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীর সাথে পরিচয় হয় শরিয়তপুর জেলার শখিপুরের হযরত আলী রারীর লম্পট ছেলে আল মামুনের। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই ছাত্রীকে জোড়পূর্বক মারপিট করে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।ওই অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পরই থানা পুলিশের সদস্যরা শরিয়তপুর জেলার শখিপুর এলাকা থেকে ওই ছাত্রীকে বুধবার ভোরে উদ্ধার করেছে।

    ওই মামলার অন্যান্য আসামিরা হলো, আল মামুনের বাবা হযরত আলী রারী, আল মামুনের বোন জামাই আনিচুর রহমানসহ অজ্ঞাত নামা আরো ৩/৪জন।দুপুরে রাজবাড়ী থানায় অবস্থান করা ওই ছাত্রী বলেন, ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে মাঝে মধ্যে তারা কথা বলতো এবং তার সাথে দেখা করত আল মামুন রাজবাড়ীতে আসতো। তবে তিনি মামুনকে পাত্তা দিতেন না। যে কারণে সে সাম্প্রতিক সময়ে মামুনের সাথে কথা বলাও বন্ধ করে দেন। এতে মামুন ক্ষিপ্ত হয়।গত সোমবার দুপুরে সে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সে জেলা শহরের ডাকবাংলো মোড়ে এলাকায় পৌছতেই হঠাৎ করেই মামুন ও তার সহযোগিতা তার গতিরোধ করে এবং জোড়পূর্বক মারপিটের পাশাপাশি মুখ চেপে ধরে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে শরিয়তপুর জেলার শখিপুর এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রাখে।

    ওই ছাত্রীর বোন জানায়, তার বোনকে তুলে নিয়ে যাবার পর বিকালের দিকে আল মামুন নিজ পরিচয় দিয়ে তার বোনকে তুলে নিয়ে যাবার কথা জানায় এবং তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকেও অপহরণের বর্ণনা শুনতে পান। পরবর্তীতে পৃথক আরো চারটি মোবাইল নাম্বার থেকে তাকে এবং তার বাবার নম্বর ফোন করে হুমকী-ধামকী প্রদান করা হয়।রাজবাড়ী থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয় জানার পর পরই থানায় মামলা রেকর্ড করা এবং ওই ছাত্রীকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে তারা তৎপড় হয়ে ওঠেন। যার অংশ হিসেবে শরিয়তপুর জেলার শখিপুর এলাকা থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন।তবে আসামিরা আত্মগোপন করায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গতকালই রাজবাড়ী হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পূর্ণ করা হয়েছে। সেই সাথে আদালতে ওই ছাত্রীর জবানবন্দীও রেকর্ড করা হয়েছে।