Category: জাতীয়

  • নিহত শিক্ষিকার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল

    অনলাইন ডেস্ক:
    ফরিদপুরে সাজিয়া বেগম নামে সরকারি কলেজের এক শিক্ষিকা ও ফারুক হাসান নামে সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।রবিবার (৬ মে) রাত ১১টার দিকে শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলি এলাকায় একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় ব্যাংকার ফারুক হাসানের ফ্ল্যাট থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষিকার স্বামী মটরপার্টস ব্যবসায়ী শেখ শহিদুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

    নিহত ওই কলেজ শিক্ষিকার নাম সাজিয়া বেগম (৩৬)। তিনি সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি দুই ছেলে নিয়ে ওই বাসার একটি ফ্লাটে থাকতেন। তার স্বামী ঢাকায় ব্যবসা করেন। তাদের বাড়ি রাজধানীর সূত্রাপুর থানার বানিয়া নগর।নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম ফারুক হাসান (৩৮)। তার বাড়ি যশোরের শার্শায় হলেও থাকতেন রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার ৩৮নং বাসায়। তিনি সোনালী ব্যাংক ঢাকার মতিঝিল কর্পোরেট শাখার লিগ্যাল মেটারস বিভাগের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    এদিকে জোড়া খুন নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে। যার উত্তর মিলছে না এখনও। তবে শিক্ষিকা ও ব্যাংক কর্মকর্তার মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।ফরিদপুর কোতয়ালি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ এএফএম নাসিম বলেন, শিক্ষিকার লাশ দরজার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় এবং ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার বুকেও আঘাতের ক্ষত রয়েছে। ফ্লাট থেকে রক্ত মাখা চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিহত শিক্ষিকা ও ব্যাংক কর্মকর্তার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সেটা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। প্রথমে আমরাও ভেবেছিলাম শিক্ষিকাকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছে ব্যাংক কর্মকর্তা। কিন্তু বেশ কিছু আলামত থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। দুইটিই হত্যা বলে মনে করছি। বাকিটা তদন্ত করে আর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জনান, নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা তার পরিচয় গোপন করে এখানে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। কয়েকদিন আগেই সে এই বাসায় উঠেছে। আবার তার দেহেও আঘাতের ক্ষত ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিক্ষিকার স্বামী শেখ শহিদুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তবে তার কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি-না সে তথ্য এখনই বলতে রাজি হননি তিনি। তদন্ত শেষে বলা যাবে।

    এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। পুলিশ সব কয়টি অ্যাঙ্গেল থেকেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।নিহত শিক্ষিকা সাজিয়ার স্বামী শেখ মো. শহিদুল ইসলাম ও ফুফু আফসারী আহমেদ জানান, অন্যান্য দিনের মতো রোববারও যথারীতি কলেজে যান সাজিয়া। বিকেল ৪টায় স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হলে সাজিয়া বাসায় ফিরছেন বলে জানান। এরপর থেকে আর ফোন রিসিভ করেনি সে।

    বাড়ির মালিকের ছেলে ডেবিড হাসান জানান, নিহত কলেজ শিক্ষিকা এক বছর আগে এই বাসা ভাড়া নেন। তিনি তার দুই সন্তান নিয়ে বাসায় থাকতেন। তার স্বামী ঢাকায় ব্যবসা করে বিধায় মাঝে মধ্যে এই বাসায় আসতেন। ঘটনার দিন তার স্বামী ফরিদপুরের বাসাতেই ছিলেন।আর ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক এক মাস আগে ভাড়া নেন। এক মাস আগে বাসা ভাড়া নিলেও তিনি থাকতেন না। দুইদিন আগে তিনি বাসায় এসে উঠেছেন।

    এদিকে ফারুক হোসেন সোনালী ব্যাংকের ফরিদপুরের কোনো শাখায় কর্মরত ছিলেন না দাবি করেন সোনালী ব্যাংকের ফরিদপুর প্রিন্সিপাল শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শামসুল হক।তিনি জানান, ফারুক হোসেনের ছবি দেখে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে তিনি সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের লিগ্যাল মেটারস ডিভিশনে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, আমরা একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুত জানাতে পারবো সত্যটা কী।

  • অর্ধবয়সী ছেলের সঙ্গে প্রেম, দেখা করতে এসে গণধর্ষণ!

    অনলাইন ডেস্ক:
    ১৫ বছরের এক স্কুলছাত্রের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজশাহীতে এসে ৩৫ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এমনকি তাকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ও নারী।নগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় একটি লিচু বাগানে গণধর্ষণের শিকার ওই নারী এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি রয়েছেন।

    এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে খুলনা থেকে ওই নারী রাজশাহী এসেছিলেন।ওসি আরও বলেন, গত ২ মে সকালে ওই নারী থানায় গিয়ে জানান- তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। চার যুবক তাকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির হেফাজতে দেয়া হয়।

    পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ওই নারীর বাবা-মা ঢাকায় থাকেন। তাদের খবর দেয়া হয়েছে। তাদের রাজশাহীতে আসার কথা রয়েছে। তারা আসার পর মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।ধর্ষণের শিকার ওই নারীর অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি হুমায়ুন জানান, ওই এলাকার রংমিস্ত্রি গাজু মিয়ার ছেলে আকাশের সঙ্গে ওই নারীর মোবাইল ফোনে পরিচয় ঘটে।

    পরিচয়ের জের ধরে গত ১ মে ওই নারী রাজশাহীতে আসেন। দুপুরে আকাশের দুই বন্ধুর সঙ্গে ওই নারী গাজু মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে ওই নারী আকাশের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কের কথা জানান এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আকাশের বাবা-মা এতে রাজি না হয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন।পরে আকাশের দুই বন্ধু ওই নারীকে নিয়ে চলে যায়। রাতে স্থানীয় একটি লিচু বাগানে রেখে চার যুবক মিলে ধর্ষণ করে বলে ওই নারীর অভিযোগ।

    এ ঘটনার সঙ্গে তার ছেলে জড়িত ছিল না বলে দাবি করে আকাশের বাবা গাজু মিয়া বলেন, ওই মেয়ের বয়স প্রায় ৩৫ বছর। আর আমার ছেলে আকাশের বয়স ১৫ বছর। সে নবম শ্রেণির ছাত্র। তাদের দুপুরে খাওয়ানোর পর বাড়ি থেকে চলে যেতে বলা হয়। আকাশের দুই বন্ধু ওই মেয়েকে নিয়ে চলে যায়। এর পর কী হয়েছে সে ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।তবে পরের দিন চন্দ্রিমা থানার ওসি তাকে জানিয়েছে- ওই মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন

  • চাচি শাশুড়ির সঙ্গে পরকীয়ায় যুবলীগ নেতাকে পুড়িয়ে হত্যা

    অনলাইন ডেস্ক:
    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক যুবলীগ নেতাকে পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে দূর সম্পর্কের চাচি শাশুড়ির সঙ্গে পরকীয়ার জেরে আবুল হাসেম প্রকাশ বাচা মিয়াকে (৫৫) হত্যা করা হয়েছে।

    শনিবার (৫ মে) রাতে জেবু আক্তারকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে আবুল হাসেমের ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে জেবু আক্তার।এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ‘যুবলীগ নেতা আবুল হাসেম প্রকাশ বাচা মিয়ার সঙ্গে তার দূর সম্পর্কের চাচি জেবু আক্তারের পরকীয়া ছিল। আর এরই জেরে তাকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আগুনে পুড়ে আবুল কাসেমের মৃত্যু হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনিই বিস্তারিত জানিয়েছেন।’

    এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জেবু আক্তারও একই এলাকার বাসিন্দা। হাসেমের সঙ্গে তার পরকীয়া ছিল। কিন্তু, তিনি নানাভাবে তাকে হয়রানি করতেন। এতে অতিষ্ট হয়েই জেবু আক্তার যুবলীগ নেতাকে হত্যা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করছেন তিনি।’জেবু আক্তার জানিয়েছেন, জুসের সঙ্গে তিনি হাসেমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর সিলিন্ডার খুলে দিয়ে আগুন লাগানোর ব্যবস্থা করে ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

    এর আগে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ইছামতী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আবুল হাসেমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

    আর সে সময় রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানিয়েছিলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আবুল হাসেমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লাগা আগুনে তিনি দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।স্ত্রী-সন্তান বেড়াতে যাওয়ায় হাশেম রাতে একাই বাড়িতে ছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন ওসি।

  • জিনসাপ তাড়াতে ‘ঝাড়ফুঁকের’ রমরমা নাটক!

    অনলাইন ডেস্ক:
    অদৃশ্য সাপ আতঙ্ককে পুঁজি করে চুয়াডাঙ্গায় আলমডাঙ্গার পল্লী বলেশ্বরপুর গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে চলছে বাপ-ব্যাটার হাত চালানসহ ঝাড়ফুঁকের রমরমা নাটক। এর আড়ালে রয়েছে অর্থ-বাণিজ্যের ফাঁদপাতার পায়তারা। গত বুধবার থেকে এ ঝাড়ফুঁক নাটকের সাথে যুক্ত হয়েছে একই উপজেলার বেলগাছি শেখ পাড়ার সুফিয়া খাতুন নামের এক নারী কবিরাজ। তিনি ও ধ্যানের নামে জিনসাপের কথা বলে আতঙ্কের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। ফলে বলেম্বরপুর উত্তরপাড়া বা স্কুল পাড়ার আবাল বৃদ্ধ বনিতা এখন জিনসাপের খুশি করতে ছিন্নি-সালাতের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    জানা গেছে, আলমডাঙ্গা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম বলেশ্বরপুর। আলমডাঙ্গা আইলহাস ইউনিয়ের বলেশ্বরপুর স্কুলপাড়ায় গত বুধবার কে বা কারা সাপ আতঙ্ক ছড়ায়। অদৃশ্য সাপে কাটছে বলে আতঙ্ক ছড়ালে মহল্লায় বেশ ক’জন তাতে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কেউ মাঠে গিয়ে কাঠির খোঁচায় কাটলেও সাপে কেটেছে বলে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ওই বাপ-ব্যাটা ওঝার কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন। কেউ বাড়ির বাইরে রাস্তায় দাড়িয়েই সর্প দংশনের শিকার হয়েছে বলে ছুটতে শুরু করেন ওঁঝার বাড়িতে। এভাবে যত আতঙ্ক ছড়াতে থাকে, ততই আক্রান্ত হতে থাকে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ।তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এটা গণমনস্তাত্ত্বিক সমস্যা ছাড়া কিছুই নয়।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী জানায়, সাপ দেখা যাচ্ছে না। অদৃশ্য সাপে কেটেছে বলে সন্দেহ হতেই গায়ে জ্বালাপোড়া শুরু হচ্ছে। ওঝার কাছে গেলে হাতচালান দিয়ে, কারো ক্ষেত্রে বলছে বিষ বুক পর্যন্ত উঠেছে, আবার কারো বলছে গলা পর্যন্ত বিষ উঠে গেছে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির আতঙ্কের মাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ায় ঘাড় পর্যন্ত বাকা হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে গ্রামের কেউ কেউ গত বৃহস্পবার খবর দেন বেলগাছি শেখ পাড়ার গ্রামের নারী ওঝা সুফিয়া খাতুনকে। তিনি বৃহস্পতিবার খবরে পেয়ে রাতে বলেম্বরপুর গ্রামের ওঝা মনোয়ার মন্ডলের বাড়ি বসে শুরু করেন ধ্যানের নামে নাটক। এই মনোয়ার মণ্ডলই বাপ-ব্যাটা দু’জন মিলে কয়েকদিন ধরে ঝাড়ফুঁক নামে নাটক চালিয়ে যাচ্ছেন। ধ্যানের ভান করে দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরে তিনি বলেন, জিনসাপের উপদ্রব হয়েছে। এ জিনসাপ তাড়াতে হলে গ্রামে খাসি মেরে ছিন্নি করতে হবে। গত শুক্রবার চাল-ডাল তুলে খিচুড়ি রান্না করে ছিন্নি করা হয়েছে।

    বলেশ্বরপুর উত্তর পাড়ার মনোয়ার মন্ডল ঠিক কবে, কখন থেকে ওঝাগিরি শুরু করেছেন তা স্পষ্ট করে তেমন কেউ বলতে পারেনি। গত বুধবার তিনি রিপা নামের ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে সাপে কেটেছে বলে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। নিজের বাড়িতে এ ঝাড়ফুঁকের নাটক করা হয়। এই দৃশ্য দেখে ও সাপে কাটার গল্প শুনে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে ৯ বছরের শিশু বায়েজিদও সাপে কেটেছে বলে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। তাকে নেয়া হয় ওই ওঝার কাছে। শুর হয় ঝাড়ফুঁক। একই দিন মুক্তা (২৩) ও রকিবুল ইসলাম (১৭) সহ রবিবার (৬ মে) পর্যন্ত গ্রামটির ৩৩ জন কথিত জিনসাপের দংশনে অসুস্থ হয়েছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে ৩৩ জন কথিত জিনসাপে দংশন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা সবাই একই মহল্লার বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয়। তাদের শরীরে কোথাও কাটা-ছেঁড়ার দাগ পাওয়া যায়নি। অথচ তারা প্রচার করছেন, কারো পায়ে, কারো হাতে, কারো শরীরে দংশন করেছে জিনসাপ। সবাই অভিন্ন ভাষায় শরীর দুর্বল, মাথা ঝিমঝিম করা ও শরীর জ্বলে যাওয়ার কথা বলছেন।

    যারা জিনসাপের অস্তিত্ব নেই বলে মত দিয়েছেন, তারা বলছেন, এক শ্রেণির মানুষ বৃথা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া।এমন ভাষ্যের সত্যতা মিলল ওঝা মনোয়ারের বাড়িতে অবস্থানকালেই। সেখানে আসেন ঝিনাইদহের সাপুড়ে লিটন মল্লিক। তিনি দাবি করেন, গ্রামটিতে জিনসাপকে সন্তুষ্ট করতে ঝাঁপান (ডুলিবিশেষ, মনসাপূজার অনুষ্ঠানাদির অঙ্গবিশেষ) গানের আয়োজন করতে হবে। এতে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হবে।

    হাড়োকান্দি-বলেশ্বপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্র হৃদয় আলী বলেন, তার ছোট বোন রিপা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, সে গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে ভুগছে। হৃদয় আরো বলেন, আমিও জিনসাপে বিশ্বাস করি না।ওই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন বলেন, ইসলাম ধর্মে কোথাও জিনসাপের অস্তিত্ব নেই। এটা এক ধরনের কুসংস্কার।

    আলমডাঙ্গা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, যারা জিনসাপে কামড়িয়েছে বলে দাবি করছে, তারা আসলে গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে ভুগছে। এটা আসলে একজনের দেখাদেখি অন্যজন অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা।

    চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা: খাইরুল আলম বলেন, ‘বলেশ্বরপুর গ্রামে সাপের উৎপাতের খবর আমি শুনেছি’। সাপে দংশন করা রোগীর চিকিৎসার জন্য ইনজেকশন আছে হাসপাতালে। গ্রামে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে হবে। গ্রামটিতে মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।

  • প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় রাজমিস্ত্রি, অতঃপর…

    (জাগো কুমিল্লা.কম)
    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছেন এক রাজমিস্ত্রি। পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রবাসীর স্ত্রী ও তার প্রেমিক রাজমিস্ত্রিকে নির্যাতন করে তিন যুবক।

    রোববার ভোরে উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের খবর পেয়ে দুপুরে গৃহবধূ ও রাজমিস্ত্রিকে উদ্ধার করে গাংনী থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুরের রাজমিস্ত্রি সম্রাট মোল্লা বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের একটি মসজিদের নির্মাণকাজ করছেন দুই মাস ধরে। সেখানে অবস্থান করায় মসজিদের পাশের বাড়ির এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    রোববার ভোরে প্রবাসীর স্ত্রী ও প্রেমিক সম্রাটকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে গ্রামের তিন যুবক। এ সময় তাদেরকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

    গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার খবর পেয়ে দুইজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • ট্রাক ও মোটর সাইকেল সংর্ঘষে ছাত্রলীগ নেতাসহ নিহত ৩

    অনলাইন ডেস্ক:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ট্রাক ও মোটর সাইকেল সংর্ঘষে ৩ যুবক নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, আজ শনিবার বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    উপজেলার শাহপুর এলাকায় একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক অপর দিক আসা একটি মোটর সাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটর সাইকেল ৩ আরোহীর মধ্যে কসবার কুটি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

    মোটর সাইকেল আরোহী এনামূল হক ফয়সল ও সজলকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে আহত ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

    কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।

  • একেক দিন একেক ছাত্রীকে ফ্ল্যাটে নেয় শিক্ষক রবিউল

    অনলাইন ডেস্ক:

    শিক্ষক ছাত্রীর মহৎ সম্পর্ককে নষ্ট করে জাতিকে কলুষিত করেছে রবিউল নামের এক শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।জানা যায়, কথিত ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ধর্ষণের পর সেই ভিডিও মোবাইলে ধারণের মাধ্যমে ব্লাকমেইল করে বার বার অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করত ছাত্রীদের।

    দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ভিডিও দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে গত তিন বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছিলো রবিউল। পরে অন্য কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে ওই ছাত্রী। এরপর বেরিয়ে আসে শিক্ষক রবিউল ইসলামের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেক তথ্য। ফাঁস হয় একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে রবিউলের অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ও অডিও। সেইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় একাধিক ছাত্রী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম ৫ম ও ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রীদের দেখভাল করতো। সেইসঙ্গে ছাত্রীদের ফ্ল্যাটে নিয়ে দাওয়াত খাওয়াতো ও পড়াতো।

    এর মধ্যে বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীর ওপর নজর পড়ে তার। ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে রবিউল। এরপর তাকেও ফ্ল্যাটে নিয়ে দাওয়াত খাওয়ায় ১ সন্তানের জনক রবিউল।স্ত্রী অন্য উপজেলায় চাকরি করার সুবাদে রবিউলের ফ্ল্যাটে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতো সবাই। এর মধ্যে একদিন ৭ম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে রবিউলএরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। ধর্ষণের ওই ভিডিও ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করা হয় ওই ছাত্রীকে। এভাবে চলে তিন বছর। এর মধ্যে একাধিকবার ছাত্রীর গর্ভপাত ঘটায় রবিউল।

    কিছুদিন আগে অন্য ছাত্রীদের ফ্ল্যাটে ডেকে নেয়া দেখে আপত্তি জানায় ওই ছাত্রী। একপর্যায়ে ছাত্রী জানতে পারে, বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রীকে একই ধরনের কাজে বাধ্য করেছে রবিউল। তাদের সঙ্গেও রবিউলের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি সবাইকে জানানোর কথা বললে ওই ছাত্রীকে আবারও ধর্ষণ করে রবিউল। এভাবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রবিউল ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।অবশেষে উপায় না পেয়ে রবিউলের বিচার চেয়ে গত ১৩ মার্চ ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপরই একের পর এক বের হয়ে আসে রবিউলের অপকর্মের তথ্য।

    ৮ম, ৯ম ও দশম শ্রেণির আরও তিন ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে না করার শর্তে শিক্ষক রবিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কাছে। সেইসঙ্গে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে রবিউলের আপত্তিকর ছবি অডিও ও ভিডিও দেয় তারা।এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সহকারী শিক্ষকরা। তবে অভিযোগ ওঠার পরই বিদ্যালয় থেকে ছুটি না নিয়ে পালিয়ে যায় শিক্ষক রবিউল। সেইসঙ্গে অভিযোগকারী ছাত্রীদের ফোনে হুমকি দিচ্ছে রবিউল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মা জানান, রবিউল আমার মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানাই। ওর মত শিক্ষকের কঠিন বিচার হওয়া উচিত।

    আরেক ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, রবিউল শিক্ষক নামের কলঙ্ক। আমাদের মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রীর ভাষ্য, রবিউল সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম লেখাপড়ার খোঁজখবর নিত। পরে অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে বাসায় নিয়ে আমাকে পড়াতো। এর মধ্যে একদিন আমাকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিও অন্যদের দেখানোর ভয় দেখিয়ে আমাকে অনেকবার ধর্ষণ করে রবিউল। পরে আমি জানতে পারি, আমার সিনিয়র দুই আপুকে একইভাবে ধর্ষণ করেছে রবিউল। আমার বিদ্যালয়ের ৭ম, ৮ম ও নবম শ্রেণির ছাত্রীদের টার্গেট করে একেক দিন একেক ছাত্রীকে ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করে রবিউল। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাই। যাতে আর কারও ক্ষতি করতে না পারে রবিউল।উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান বলেন, ছাত্রীদের অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষক রবিউলকে প্রশ্ন করা হলে সে বিষয়টি স্বীকার করে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগেই কৌশলে পালিয়ে যায়। এখন শুনছি, ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমাকেও এ ব্যাপারে চুপ থাকতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাচ্ছে। তবে আমরা সব শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাদির খালাসী বলেন, আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। খুব শিগগিরই অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এ বিষয়ে মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, অপরাধ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে মুখ বন্ধ রাখলে অপরাধ দমন করা কঠিন। এ ব্যাপারে স্কুলছাত্রীরা অভিযোগ করলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। ওই শিক্ষক যে জঘন্য ঘটনার জন্ম দিয়েছে তা মারাত্মক অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • শাপলা চত্বরে আক্রমণ নিয়ে মুখ খুলল হেফাজত নেতা

    অনলাইন ডেস্ক:
    ২০১৩ সালে কতিপয় নাস্তিক যখন আল্লাহ, রাসূল, কোরআন-হাদিস অবমাননা এবং ইসলামের প্রতীকগুলোর ওপর জঘন্যতম আক্রমণ করে, তখনই এদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে হেফাজতে ইসলাম ৫ মে রাজধানী ঢাকা অবরোধ করেছিল। যা বাংলাদেশের হক্কানি ওলামা-পীর-মাশায়েখ, আশেকে রাসূল ও দেশপ্রেমিক ইমানদার জনতার জন্য রক্তঝরা এক ঐতিহাসিক দিন বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী।

    শুক্রবার (৪ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতের ওপর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার আক্রমণ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের বর্বরতার চেয়েও ভয়াবহ। সারা দিন অবরোধে অবস্থান নেয়া হেফাজত কর্মীরা যখন ক্ষুধা, পিপাসায় ক্লান্ত তখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মতিঝিলের আশপাশের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে বিটঘুটে অন্ধকার তৈরি করে ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

    বিবৃতিতে জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। হেফাজতে ইসলাম যে ১৩ দফা দাবি নিয়ে সেদিন ময়দানে নেমেছিল, সে দাবি আজও পূরণ হয়নি। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত হেফাজত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। ঈমান রক্ষার আন্দোলনে যারা শাহাদতবরণ করেছেন, তাদের আমরা ভুলে যেতে পারি না। এ ঘটনার বিচার বাংলার সবুজ চত্বরে একদিন হবে।

    বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে—

    ১. সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরান-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করা।

    ২. আল্লাহ্, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস।

    ৩. শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর শানে জঘন্য কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা।

    ৪. ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যাভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলন বন্ধ করা।

    ৫. ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা।

    ৬. সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।

    ৭. মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা।

    ৮. জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা।

    ৯. রেডিও-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা।

    ১০. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারিগুলোর ধর্মান্তকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।

    ১১. রাসুলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র ও তৌহিদি জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যা বন্ধ করা।

    ১২. সারাদেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ ও মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দেওয়াসহ তাদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করা।

    ১৩. অবিলম্বে গ্রেফতার সব আলেম-ওলামা, মাদ্রাসাছাত্র ও তৌহিদি জনতাকে মুক্তিদান, দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণসহ দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

  • মক্তবে ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, ছাত্রীর আত্মহত্যা; মসজিদের ইমাম আটক

    অনলাইন ডেস্ক:
    ময়মনসিংহের ত্রিশালে মক্তব শিক্ষক ও মসজিদের ইমামের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৪র্থ শ্রেণি এক ছাত্রী। লোকলজ্জার ভয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ঐ শিক্ষার্থী।শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। পুলিশ অভিযুক্ত ইমাম মোবারককে আটক করেছে।জানা যায়, উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের গয়সাপাড়া কাওরানবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তব পড়াতেন বালিপাড়া ইউনিয়নের বাবুল মিয়ার ছেলে মোবারক হোসেন (২৮)। শনিবার সকালে মক্তব ছুটির পর পানি নিয়ে মক্তবে যায় শিক্ষার্থী। বের হতে দেরি হচ্ছে দেখে তার চাচা সেলিম ভেতরে উঁকি দিয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে। পরে সেলিম বিষয়টি মসজিদ-মাদ্রাসার সভাপতি, এলাকাবাসী ও মেয়ের বড় ভাই জিলানী জানায়।

    লোকলজ্জার ভয়ে আনুমানিক ১০টার দিকে সবার চোখের আড়ালে ঘরে গিয়ে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে কিশোরী। টের পেয়ে বড় ভাই দরজা ভেঙ্গে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। সোহাগী কাওরানবাড়ী নজরুল ইসলামের মেয়ে। সে গয়সাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।প্রসঙ্গত, মোবারক ৬ বছর আগে গয়সাপাড়া এলাকার বাদশা মিয়ার মেয়েকে বিয়ে করেন। সেই সুবাদে গত বছর কাওরানবাড়ী জামে মসজিদের ইমামতি ও মক্তবে চাকরি পান তিনি। সহপাঠি রিনি জানায় মোবারক প্রায়ই এমন আচরণ করতো সোহাগীর সাথে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামী মোবারক হোসেনকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল কাদের জিলানী বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় বিকেলে মামলা দায়ের করেছে।সোহাগীর বড় ভাই জিলানী জানান, সকালে নাস্তা করে আর ঘরে শুয়ে থাকলে হঠাৎ মায়ের চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি সোহাগী ঘরের দরজা লাগিয়ে রেখেছে। আমাদের ডাকে সারা না দিলে দরজা ভেঙ্গে দেখি ঘরের আড়ার সাথে ফাসিতে ঝুলছে। পরে আমরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই।

    ত্রিশাল থানা পরিদর্শক জাকিউর রহমান জানান, প্রতিদিনের ন্যায় মাদ্রাসায় পড়তে গেলে এ ঘটনা ঘটে। আমরা আসামীকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে আটক করেছি।

  • অবশেষে তাসপিয়ার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ

    অনলাইন ডেস্ক:

    লাশ উদ্ধারের পর থেকে সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসপিয়া ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। সোশ্যাল মিডিয়াসহ প্রায় সব মিডিয়াতেই এখন আলোচিত খবর তাসপিয়া-আদনানের কিশোর বয়সের প্রেম কাহিনীর করুণ পরিণতি।

    আলোচিত এই মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে তদন্তকারী পুলিশ সদস্যরা। কারণ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সিসি টিভির ফুটেজ হাতে পেয়েছে তারা। সেগুলো পর্যালোচনায় বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে এসেছে। এখন অপেক্ষা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের। এটি পেলেই তাসপিয়া আত্মহত্যা করেছে, নাকি হত্যার শিকার তার রহস্য জানা যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ।

    সূত্র জানায়, নগরীর চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির একাধিক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এছাড়া নগরের সন্দেহভাজন বেশ কিছু এলাকা ও তাসপিয়াদের বাসার সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাসপিয়া আমিনকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে কারা নিয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তারও তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। কিন্তু, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (ভিসেরা ও সিআইডি) হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছে না তদন্তকারী পুলিশ।

    তাসপিয়ার বাসার সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ১ মে বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় তাসপিয়া। এরপর আর ফেরেনি। বাসার নিরাপত্তারক্ষী লোকমান হোসেনও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একই তথ্য দিয়েছেন।

    আর নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তাসপিয়া ও তার বন্ধু আদনান মির্জা সেখানে প্রবেশ করে। এরপর সন্ধ্যা ছয়টা ৩৭ মিনিটের দিকে তারা একসঙ্গে বেরিয়ে যায়।

    এরপর তাসপিয়াকে একটি সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে দিয়ে আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় তার পিছু নেয় আদনান।

    সন্ধ্যা ছয়টা ৪৮ মিনিটে ওআর নিজাম রোডে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাসফিয়ার বাসার গলির খানিক সামনে ধীরগতিতে চলছিল সিএনজি অটোরিকশাটি। বাসায় যেতে হলে ওয়েলফুড রেস্টুরেন্টের সামনের পথ পাড়ি দিয়ে মেডিকেল সেন্টারের গলি দিয়ে ঢোকার কথা। কিন্তু, সে পথে যায়নি তাসপিয়াকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি। একই সিএনজি অটোরিকশাতে রাত আটটা ১০ মিনিটে তাসপিয়াকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতপাড়ে দেখা গেছে।

    এ বিষয়ে সিএমপির পুলিশের এক কর্মকর্ত জানান, ঢাকা থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই সব কিছু জানানো হবে। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। যতটুকু জেনেছি তাসপিয়ার কাছে কোনো টাকা ছিল না। তাহলে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া কে দিল?

    উল্লেখ্য, গত ২ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়া তাসপিয়ার লাশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ।

    এর আগে বুধবার তাসপিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই কিশোরীর ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। নিহত তাসপিয়ার পিঠজুড়ে পাওয়া গেছে নির্যাতনের ছাপ। কিশোরীটির পিঠ, বুক ও স্পর্শকাতর অঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে ভয়াবহ নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটোও যেন নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ।

    এ ঘটনায় ৩ মে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় তাসপিয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    আদনান মির্জা মামলার আসামি ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচ কিডস’ নামের গ্যাংস্টারের (এডমিন) প্রধান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাংস্টারের সদস্য- শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও সোহায়েল প্রকাশ সোহেল।