Category: কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা

  • কুমিল্লা -চাঁদপুর সড়কের বাঁশপুরে ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল দুই শ্রমিকের

    কুমিল্লা প্রতিনিধি

    রাস্তায় আচমকা চিৎকার। স্থানীয়রা দৌড়ে এসে উদ্ধার করলেন দুই শ্রমিকের লাশ। ঘটনাটি কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ী দক্ষিণ ইউনিয়নের বাঁশপুর এলাকার।

    শনিবার (৩১ মে) রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লাকসাম ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদেল আকবর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, ‘বরুড়া উপজেলার বাঁশপুর বাজারের পশ্চিম পাশে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই এলাকাটি অন্ধকার। স্থানীয়রা চিৎকারের আওয়াজ শুনে আসে। এসে দেখে দুজনের লাশ পড়ে আছে রাস্তায়। পরে আমরা খবর পেয়ে আসি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তারা শ্রমিক। একটি ঢালাই কাজ করে মেশিন নিয়ে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন। উল্টোপথে আসা একটি ডাম্পট্রাক দেখে ভয় পেয়ে লাফ দেয়। এ সময় ডাম্পট্রাকে চাপা পড়ে নিহত হয় দুজনে। তবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের আনুমানিক বয়স ৪০।’

  • কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে ছিন্ন বিছিন্ন  ৩ জনের দেহ!

    অনলাইন ডেস্ক:

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে তিন যুবক নিহত হয়েছেন। তাদের দেহ ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে রয়েছে।

    বুধবার (২৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মাধবপুর বাংলো ঘর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল হক ।

  • প্রতিদিন জিয়াউর রহমানের নাম নিলে বেহেশত নিশ্চিত :  কুমিল্লায় বিএনপি নেতা কামরুল হুদা

    অনলাইন ডেস্ক:

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম প্রতিদিন নিলে বেহেশত নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখার সভাপতি কামরুল হুদা। বুধবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এরই মধ্যে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এ বক্তব্য ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

    ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে কামরুল হুদাকে বলতে শুনা যায়, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম নিলেই প্রতিদিন, বেহেশত নিশ্চিত। আমি বিশ্বাস করি। কারণ উনি দেশের জনগণের সাথে হঠকারিতা করেন নাই।’ আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে কামরুল হুদা বলেন, শেখ সেলিম, শেখ হেলালসহ এ শেখ পরিবার লুট করে দেশটাকে শেষ করেছে, এ শেখ পরিবারে কেউ মুক্তিযোদ্ধা নাই। যুদ্ধ না করেই আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল হয় কি করে ? ৯৬ সালের নির্বাচনের পর আবেদন করে আওয়ামী লীগের অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। শেখ হাসিনা সাড়ে তিনশ’ মন্ত্রী এমপি নিয়ে পালিয়েছেন। স্থানীয় জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একটা দল (জামায়াত) আমাদের সাথে ছিল। তারা অতীতে আমাদের উপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছে। চৌদ্দগ্রামবাসী জানে তাদের ভোটের হার কতো।’ আগামি নির্বাচনের সময় প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ২শ’ করে ছোট লাঠি প্রস্তুত করার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সভায় উপস্থিত দলের একাধিক নেতা বলেন, ‘কোন মুসলিম এমন বক্তব্য দিতে পারে ? তাঁর এমন বক্তব্যে আমরা বিস্মিত, দলের প্রতি অতি আবেগ দেখাতে গেলে যা হয়। যেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এর পাশেই মসজিদ। জোহরের নামাজের সময় হলে তিনি (কামরুল হুদা) মোয়াজ্জিনকে মাইকে আজান না দিয়ে মুখে আজান দিতে বলেন। এসময় অনুষ্ঠানের বিরতি না দিয়েই অনুষ্ঠান চলমান রাখা হয়। এতে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।’

    অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বিএনপি কামরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মক্কা শরীফে হাজার হাজার হাজিদের সুবিধার্থে বেশ কিছু নিম গাছ লাগিয়েছিলেন। ওই কারণে উনার নাম নিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে, এটা কি ভুল বলেছি।’

    রাতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, ‘আমি এমন বক্তব্যটি এখনো শুনিনি, ভিডিওটি দেখতে হবে।’

  • কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

    (মারুফ আবদুল্লাহ, কুমিল্লা)


    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রবিবার (৯ জুন) সকাল ৮টায় উপজেলার বাকশীমুল ইউনিয়নের জামতলার ৬৬ নম্বর পিলার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    সকাল পৌনে ১১টায় মুঠোফোনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাকশীমুল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল করীম।

    তিনি বলেন, ‘নিহত মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) বাকশীমুল ইউনিয়নের মীরপুর গ্রামের মৃত চারু মিয়ার ছেলে। তার মরদেহ এখনও কাঁটাতার-সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে। যে এলাকায় তার মরদেহ পড়ে আছে সেটা সম্ভবত ভারতের অংশে। তিনি ঠিক কি কারণে সীমান্তে গিয়েছেন এখনও জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। খবর নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

    ৬০ বিজিবি’র অধিনায়ক এএম জাবের বিন জব্বার বলেন, ‘সকালে আনোয়ার হোসেন ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এতে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ এর সাথে আলোচনার চেষ্টা চলমান রয়েছে।’

    অধিনায়ক এএম জাবের বিন জব্বার জানান, নিহত আনোয়ার ভারত থেকে চোরাইপথে আনা চিনি বহনকারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. আবুল কাশেম জানান, জামতলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মো. আনোয়ার হোসেন নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। আমি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।

    বুড়িচং থানার ওসি আবুল হাসনাত খন্দকার বলেন, ‘সকালে আমরা ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তার লাশ কাঁটাতার সংলগ্ন এলাকায় পাওয়া গিয়েছে। তবে কি কারণে এমনটা ঘটেছে তা আমরা এখনো জানতে পারিনি।’

  • কুমিল্লায় কৌশলে ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পলাতক ব্যবসায়ী!

    মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

    দীর্ঘদিন ধরে ইমিটেশনের অলংকারের ব্যবসা করছেন ইয়াদ আলী (৪০)। সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে আশপাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে করেছেন প্রতারণা। তাঁর দোকানে আসা ক্রেতাদের দেখানোর কথা বলে আশপাশের চারটি দোকান থেকে ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে লাপাত্তা তিনি।

    গতকাল শনিবার (১ জুন) এ ঘটনা ঘটে কুমিল্লা নগরীর ছাতিপট্টি এলাকার স্বর্ণপট্টিতে। গত রোববার এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে নগরীর ছাতিপট্টি এলাকায় ইমিটেশনের অলংকারের ব্যবসা করছেন ইয়াদ আলী ও তার ভাই আকরাম হোসেন। গতকাল শনিবার দুপুরে ইয়াদ আলী তাঁর দোকানে আসা ক্রেতাদের দেখানোর কথা বলে ছাতিপট্টি এলাকার বিপাশা শিল্পালয়, ফারুক জুয়েলার্স, কুমিল্লা জুয়েলারি ও অপর্ণা শিল্পালয় থেকে অন্তত ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার তাঁর দোকানে নিয়ে যান। পরে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিনি দোকান থেকে নেওয়া স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দেননি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

    বিপাশা শিল্পালয়ের ম্যানেজার প্রসনজিৎ বনিক বলেন, ইয়াদ এসে বলেন তার দোকানে ক্রেতা এসেছে। ক্রেতারা যেসব মডেলের অলংকার চাচ্ছেন সেগুলো তার দোকানে নেই। তাই তিনি আমাদের দোকানে এসে বিভিন্ন ডিজাইনের অন্তত ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ক্রেতাদের দেখানোর কথা বলে নিয়ে যান। বিকেল ৪টায় গিয়ে দেখা যায় তার দোকান বন্ধ। রাতেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি।

    বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জুয়েলারি সমিতির নেতারা। বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি, কুমিল্লার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ জামান বলেন, ‘আমরা সমিতির পক্ষ থেকে খোঁজ-খবর রাখছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করব এই প্রতারককে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হোক।’

    কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘আমরা একটি প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছি। ইয়াদ নামে এক যুবক বিভিন্ন দোকান থেকে অন্তত ৫০ ভরি স্বর্ণ ও কিছু নগদ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। ছেলেটির বাড়ি পাবনায়। আমরা তদন্ত করছি।’

  • কুমিল্লায় মাটি কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল শ্রমিকের !

    অনলাইন ডেস্ক:

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বজ্রপাতে আনোয়ারুল হক (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের খিরনশাল-লনিশ্বর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আনোয়ারুল লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার বারগরিয়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে।মুন্সিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সাহাব উদ্দিন মজুমদার রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    নিহতের সহকর্মী মজিবুর জানান, লনিশ্বর গ্রামের মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের কৃষি জমিতে সকাল থেকে আমরা ১০-১২ জন মাটি কাটছিলাম। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হয়। এক পর্যায়ে বজ্রপাতে আনোয়ারুল গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবুল হাসেম বলেন, বজ্রপাতে আহত আনোয়ারুল নামে ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।

  • চৌদ্দগ্রামে যুবলীগনেতা জামাল হত্যা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৯

    অনলাইন ডেস্ক:
    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগনেতা জামাল হত্যা মামলায় নয়জনের ফাঁসি ও নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদাণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    আজ রোববার (১২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) জহিরুল হক সেলিম। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ১৮ জনের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নয়জনের মধ্যে একজন আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত নয়জনই অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পাঁচজনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন চৌদ্দগ্রাম আলকরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, আলকরা ইউনিয়নের কুলাসার গ্রামের সালাউদ্দিন, আব্দুর রহমান, মফিজুর রহমান খন্দকার, জিয়াউদ্দিন শিমুল, জাহিদ বিন শুভ, রেজাউল করিম বাবলু, মো. রিয়াজ উদ্দিন মিয়াজী ও মমতা আমির হোসেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আলকরা ইউনিয়নের কুলাসার গ্রামের নুরুল আলম, কফিল উদ্দিন, নুরুন্নবী সুজন, ইকবাল আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খন্দকার, মোশারেফ হোসেন, মো. আলাউদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী হোসেন।

    মামলা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন আলকরার কুলাসার গ্রামের নজরুল ইসলাম শিমুল আজিম উদ্দিন আনোয়ার হোসেন সোহেল আতিকুর রহমান নান্টু ও ইউসুফ হারুন মামুন।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম আলকরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জামাল উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। সেই সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় যুবলীগনেতা জামাল উদ্দিনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে জামাল উদ্দিনের ওপর হামলা করে তাঁকে আহত করেন আসামিরা। এ বিষয়ে জামাল উদ্দিন নিজে বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলার করার পর চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি রাত ৮টায় বাড়ি থেকে জামালকে ঢাকায় যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের পদুয়ায় সড়কের উপর চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে অন্য আসামিরা গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত জামালের বড় বোন জোহরা আক্তার বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসলি (পিপি) জহিরুল হক সেলিম বলেন, মামলায় ২০ জনের সাক্ষগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নয়জনের মৃত্যুদণ্ড, নয়জনকে যাবজ্জীবন এবং পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত একজন ও খালাস পাওয়া দুজন আদলতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক।

  • তনু হত্যার ৮ বছর: কী বেদনায় বেঁচে আছি, কেউ জানে না: তনুর মা

    মাহফুজ নান্টু:

    কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে জঙ্গলে ফেলে রাখার ৮ বছর পার হলেও এ ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।২০১৬ সালের ওই ঘটনায় বুধবার কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার বাবা-মা।

    তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘পিবিআই আমাদের ডেকে নেয়। আমরা যাই আসি। কথা বলি। মেয়ে হত্যায় জড়িত কাউকে ধরতে পারেনি। কী বেদনা নিয়ে বেঁচে আছি, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’

    তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে রহস্য বের হতো, তাদেরকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। পরিবারের প্রতিটি সদস্য ও আত্মীয়স্বজন এমনকি শিক্ষকরাও সাক্ষ্য দিয়েছে, আর কী বাকি রইল।’

    পরে তিনি জানান, বুধবার মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুই মসজিদে দোয়া ও এতিম শিশুদের ইফতারের আয়োজন করেছেন তিনি।

    তনুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশন করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তারমরদেহ পান।

    পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা।

    তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

    সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে ২০২০ সালের নভেম্বরে মামলাটির দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়া হয়। পিবিআই ঢাকার একটি টিম দায়িত্ব পাওয়ার শুরুর দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ঘুরে যান।

    ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট তনুর খালাতো বোন লাইজু জাহানের সাক্ষ্য নেয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। মামলায় সাক্ষ্য দিতে লাইজু তার সিলেটের স্বামীর বাড়ি থেকে এক দিন আগে কুমিল্লায় পৌঁছান।

    পূর্ব নির্ধারিত সময়ে লাইজু, তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম ও তনুর ছোট ভাই রুবেল হোসেন কুমিল্লার নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই অফিসে পৌঁছান। পরে তাদের বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা অসুস্থ, তাই সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে না। এরপর অন্ধকারে ঢাকা পড়ে মামলার কার্যক্রম।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মজিবুল হক বলেন, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা আসামিদের শনাক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

  • বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ১২৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    বর্ণিল আয়োজনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ১২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রায় বাহাদুর আনন্দ চন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে কেক কেটে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।


    দক্ষিণ পূর্ব বাংলার শ্রেষ্ঠ এ বিদ্যাপিঠটি ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশে-বিদেশে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে।

    কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু জাফর খানের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, কলেজের উপাধ্যক্ষ মৃনাল কান্তি গোস্বামী, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবৃন্দ।

    এসময় কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু জাফর খান বলেন, ইতিহাসের ধারক ও বাহক অবিভক্ত ভারত বর্ষের প্রাচীন এ বিদ্যাপিঠ। শুধু শিক্ষা বিস্তারে নয় এ অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ উন্নয়নে এ কলেজটি ভূমিকা চির স্মরনীয়। এ কলেজটি শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ অগনিত আলোকিত মানুষ জন্ম দিয়েছে।

  • কুমিল্লায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুলকে কুপিয়ে হত্যা; ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    মাহফুজ নান্টু,  কুমিল্লা

    কুমিল্লার রেইসকোর্সে বাসার সামনে হামলার শিকার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

    ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    স্বজনরা জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় শাপলা টাওয়ারে পরিচালনা কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে ডা. জহিরুল ও তার স্ত্রী হিমিকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় জহিরুলকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়, তবে কুমেকে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এদিকে ঘটনার দিন রাতে ডা. জহিরুলের স্ত্রী ফারহানা আফরিন হিমি বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

    আসামিরা হলেন সালাউদ্দিন মোর্শেদ ভূঁইয়া ওরফে পাপ্পু ও তার স্ত্রী সুমী, ছেলে আরহাম ও আহনাফ এবং সিলভার ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ।

    কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আহমেদ সনজুর মোর্শেদ জানান, এ ঘটনায় আটক পাপ্পুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।