Category: কুমিল্লার খবর

  • কুমিল্লায় যৌতুকের বলি হলেন অন্তঃসত্তা গৃহবধূ

    (বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা )
    কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের নাসরিন আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শশুর বাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ। নিহত নাসরিন উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের বাম গ্রামের মৃত. আইউব আলীর মেয়ে।

    নিহতের চাচা ফুলমিয়া জানান, গত বছর বটতলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে ইলিয়াস হোসেন সাগরের সাথে নাসরিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সে নেশা করে বাড়ীতে এসে নাসরিনকে মারধর করতো। গত ৫/৬ দিন আগে ঘর দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা আমাদের কাছ থেকে নেয় সাগর।

    ওই টাকা নেশা করে উড়িয়ে দেয়। এনিয়ে নাসরিনের সাথে মনমালিন্য চলছে সাগরের। এরপর শনিবার দুপুরে নাসরিনের শশুর বাড়ী থেকে ফোন করে বলে নাসরিন মারা গেছে। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে দেখি সেখানে পুলিশও আছে। নাসরিনের গলায় দাগ রয়েছে এবং আট মাসের অন্তঃসত্তা ছিল বলেও দাবী করেন তিনি।

    এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এস.আই) মিজানুর রহমানের জানান, বটতলী ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল আলমের খবরে আমরা ওখানে যাই এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

  • কুমিল্লায় প্রেমিকার সাথে অভিমান করে স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা

    (আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, বুড়িচং)
    কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ইছাপুরা গ্রামে প্রেমিকার সাথে অভিমান করে গলায় ফাস দিয়ে প্রেমিক মো: ইসমাইল হোসাইন প্রান্ত (১৫) আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ইছাপুরা পশ্চিমপাড়া মৃত ফারুকের ছেলে ও একই ইউনিয়নের ভরাসার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মো: ইসমাইল হোসাইন প্রান্ত জেলার আদর্শ সদর আড়াইওরা নানার বাড়ি একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারপর থেকে মোবাইলে আলাপন চলে। বিস্তারিত জানতে চাইলে স্থানীয় মেম্বার আক্তার হোসেন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে এসেছি এবং জানা গেছে যে, ৪ মে ২০১৮ ইং শুক্রবার দিনে ওই মেয়েটির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা শেষে তার সাথে রাগ করে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে ফেলে। পরে তার চাচা আনোয়ার হোসেন হাত কাটা দেখে তাকে শাসন করেন। এই দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘরের তীরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে থাকে।
    এরপর তার পরিবারের লোকজন রাতের খাবারের জন্য তার রুমে ডাক দিতে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানার নিয়ে যায় এবং সুরত হাল রিপোর্ট তৈরি করে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ হয়েছে বলে ওসি তদন্ত পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন ভূইয়া জানান।

  • লন্ডনের সিটি নির্বাচনে কুমিল্লার পাপ্পু কাউন্সিলর নির্বাচিত

    (মোঃ শাহীন আলম,চৌদ্দগ্রাম)
    লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস্ নামের সিটি নির্বাচনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মোহাম্মদ ইকবাল মোহাম্মদ ইকবাল মোর্শেদ পাপ্পু কাউন্সিলর পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার এলাকার বৈদ্দেরখীল গ্রামের লন্ডন প্রবাসী মোর্শেদ আলম বাবুর পুত্র। গত নভেম্বর থেকে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় তিনি তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়েছে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস্ সিটি নির্বাচন। সেখানে লেবার পার্টির প্রার্থী হয়ে ব্ল্যাকওয়াল ওয়ার্ডে নির্বাচন করেন মোহাম্মদ ইকবাল মোর্শেদ পাপ্পু। তিনি ১২’শ ৮০ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এনশাম পেয়েছেন ১১’শ ভোট। এদিকে মোহাম্মদ ইকবাল মোর্শেদ পাপ্পু কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তার সহপাঠী ও আত্মীয়স্বজনরা।

  • যত দোষ নন্দ ঘোষ!

    এক শ্রেণির মানুষ দেশের যাবতীয় দোষ ছাত্রলীগের কাঁধে তুলে দিতে পারলে বিমলানন্দ লাভ করেন। ইদানীং তাদের প্রধান আলোচনা হচ্ছে ছাত্রলীগে শিবির ঢুকে গেছে। এবং এজন্য কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতারা এবং সাবেক ছাত্র নেতারা দায়ী।আমি বলতে চাই অনুপ্রবেশ ঘটে থাকলে রাজনৈতিকভাবে অনভিজ্ঞ এমপিদের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে। কুমিল্লার এক থানায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতিকে সেই কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি করা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ জানতে পেরে সেই কমিটি বাতিল করেছিল।

    শিবির ছাত্রদলের নেতারা বিভিন্ন এলাকার এমপি সাহেবদের হাতে ফুল দিয়ে প্রকাশ্যে যোগদান করেছে, অথচ সব দোষ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের!আজকের ছাত্রলীগকে যে সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে, আগে সে সব সমস্যা ছিল না।

    কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রই এখন ছাত্রলীগ, অন্য কোনো দলই নেই। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ নেয়া, তাদের ভেতর তদন্ত করে বের করা, কার মনের ভিতর কি আছে, এটা খুবই কঠিন কাজ।সব চাইতে বড় সমস্যায় ছাত্রলীগ পড়েছে কোটা আন্দোলনের পরে। কিন্তু ছাত্রলীগের প্রতি কি মূল সংগঠনের কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যে তোমরা এই আন্দোলনের পক্ষে থাক অথবা বিপক্ষে থাক?

    ছাত্রলীগ একটি প্রাচীন অথচ আধুনিক সংগঠন। এই সংগঠনের ইতিহাস ঐতিহ্য আছে।বঙ্গবন্ধুর আমলে এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ৪১ জন। আমি যখন ছাত্রলীগ করি ডাকসু ভিপি সুলতান ভাইদের আমলে তখন সদস্য সংখ্যা ৬১।বাহাদুর-অজয় কমিটির সময় এটি ছিল ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। কেন্দ্রীয় কোনো সদস্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছে শুনলে আমরা বিশ্বরোডে দাঁড়িয়ে থাকতাম, আপ্যায়ন করার জন্য।লিয়াকত-বাবু দুজনই জেলে থাকা অবস্থায় ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। তারা জেলে থাকা অবস্থায়ই ২০১ সদস্যের কমিটি সম্পন্ন হয়ে যায়।

    পরবর্তী কমিটিগুলোতে সদস্য সং খ্যা আরো বাড়ে, এবারের কমিটিতে সহ সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকই মোট দুইশ জন হবে।কমিটিকে এত লম্বা চওড়া কেন করা হলো? এখন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্যদের জেলার ছাত্রনেতারাও পাত্তা দিতে চায় না, পদের গুরত্ব নষ্ট হয়েছে।সুযোগ বুঝে কিছু মানুষ সমসাময়িক কালের সবচাইতে দক্ষ সংগঠক, একজন জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতাকে বিতর্কিত করতে চেষ্টা করছেন। তারা নেত্রীর কান ভারী করার চেষ্টা করছেন।আমি বলতে চাই কমিটি যে পদ্ধতিতেই করা হোক তার আয়তন না কমালে সংগঠন গতিশীল হবে না। কমিটি গঠন ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করতে হবে।

    কেন্দ্রীয় কমিটি সর্বোচ্চ ১০০, জেলা ৫০ এবং থানা ও কলেজ ৪০ সদস্য বিশিষ্ট করা উচিৎ। সে কমিটির একজন সদস্যকেও ছাত্ররা অনেক গুরুত্ব দিবে।আমি মনে করি ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সোহাগ এবং জাকির সংগঠনের জন্য দিনরাত কাজ করেছেন। সমস্যা সমাধানে সাধ্যমত ভূমিকা রেখেছেন। তাদের বিদায় বেলায় যারা সমালোচনা করছেন, তারা সচেতনভাবে অন্যায় কাজ করছেন।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
    লেখক: আনিসুর রহমান
    যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ

  • কুমিল্লা-৯ : লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কোন্দলে বিপর্যস্ত আ. লীগ- বিএনপি

    আবদুর রহমান: প্রতিনিধি, কালের কন্ঠ।।

    কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সব কটি সংসদ নির্বাচনেই বিজয়ী প্রার্থীর দল সরকার গঠন করেছে। ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন মো. তাজুল ইসলাম। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, পরিবারভিত্তিক রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি, ‘সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে নানা কর্মকাণ্ড চালানো এবং জামায়াত-বিএনপির লোকজন দলে ভিড়িয়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে ফেলার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সে কারণে তৃণমূল থেকে এ আসনে দলের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি উঠেছে।

    অন্যদিকে প্রকাশ্যে গ্রুপিং ও কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন বিএনপি নেতারা। দলের কেন্দ্রীয় নেতা কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিম ও আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালামের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে আসনটিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দলটি।

    এ প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করে মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়া জামায়াত গোপনে বেশ জোরেশোরেই রাজনৈতিক তত্পরতা চালাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীও প্রস্তুত রেখেছে দলটি। জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই নড়বড়ে। অবশ্য গত মাসে দলের চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করার পর বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এ টি এম আলমগীর লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    আওয়ামী লীগ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তাজুল ইমলাম ছাড়াও নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকজন জোর তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে দলের বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য, ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ফারুক, বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও কে এম গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া কামাল উল্লেখযোগ্য। এই তিনজন গত নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

    দলের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে বর্তমান লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস ভূঁইয়ার হাত ধরে দলে আসেন মো. তাজুল ইসলাম। ওই বছর ১২ জুনের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। এর পর থেকে ধীরে ধীরে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটির তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হওয়ার পর পরিবারভিত্তিক রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি, নিজ পরিবারের সদস্য ও কর্মচারী দিয়ে ‘সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং জামায়াত-বিএনপির লোকজন দলে ভিড়িয়ে রাজনীতি করছেন তিনি।

    ২০০৫ সালে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আবুল কাশেম ভুঁইয়া। গত বছর তাঁকে না জানিয়ে আপন মামাতো ভাই আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সভাপতি করে দুই সদস্যের বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করেন সংসদ সদস্য। সে সময় আবুল কাশেম ভুঁইয়াসহ আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিযোগ তোলে, একাত্তরে এলাকায় একজন শীর্ষস্থানীয় রাজাকার ছিলেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর বাবা। এর প্রতিবাদে গত বছরের ২৭ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে। একই সময় সংসদ সদস্য কমিটি ঘোষণা করেন লাকসাম উপজেলা ও পৌর শাখা আওয়ামী লীগের। তাজুল ইসলাম নিজেই লাকসাম উপজেলা কমিটির সভাপতি হন। আর পৌর কমিটিতে তাঁর শ্যালক মহব্বত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করেন তিনি।

    অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্য তাজুল ইসলামের হয়ে লাকসাম ‘নিয়ন্ত্রণ’ করেন তাঁর শ্যালক মহব্বত আলী ও রাজনৈতিক সহকারী মনিরুল ইসলাম রতন। আর মনোহরগঞ্জ ‘নিয়ন্ত্রণ’ করেন মামাতো ভাই আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ভাতিজা আমিরুল ইসলাম ও সংসদ সদস্যের বিশ্বস্ত উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল। এ ছাড়া তিনি এমপি হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মী ও লোকজনকে তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্মোধন করতে হয়।

    মনোনয়নপ্রত্যাশী দেলোয়ার হোসেন ফারুক বলেন, “বর্তমান সংসদ সদ্যস্যের কারণে কুমিল্লা-৯ আসনে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। এমপির দলে ভেড়ানো জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের চাপে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দুই উপজেলার বেশির ভাগ স্থানে আওয়ামী লীগ চালায় জামায়াত, বিএনপি আর রাজাকারপুত্র। তাদের অনেকে নৌকা প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। এ ছাড়া তিনি নিজ পরিবারকেন্দ্রিক ‘সিন্ডিকেট’ দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ দল পরিচালনা করে আওয়ামী লীগের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। তাই আমি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি দল ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণের কল্যাণে কাজ করব। এ আসনকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত করব।’

    আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া কামাল বলেন, ‘এমপি তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগকে জামায়াত-বিএনপির আখড়ায় পরিণত করেছেন। দলটাকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছেন। জনগণের উন্নয়নের নামে নিজের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে সিন্ডিকেট করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এখন নৌকার প্রার্থীর পরিবর্তন চায়। আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। ১৯৭৮ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি এ আসনকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত করব।’

    দলের টিকিটে নির্বাচন করতে আগ্রহী মো. শাহ আলম ২০০৬ সালেও দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সেই ১৯৮৬ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের তৃণমূল ও ত্যাগী কর্মীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আজ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দলের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা বড় অসহায়। তাই জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের আমার অনুরোধ, আপনারা তৃণমূলে জরিপ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিন। না হয় এ আসনে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে দল।’

    এসব অভিযোগ এবং মনোনয়ন প্রসঙ্গে জানতে গত ৩০ এপ্রিল সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে এর আগে বিভিন্ন সময়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা করেছি। ছাত্রলীগকে মেধাভিত্তিক রাজনীতিতে উত্সাহিত করে দেশ গঠনে কর্মক্ষম ও সক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। দলের মধ্যে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। দল ও এলাকার সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে অনেক সংগঠিত হয়েছে। তারা আমাকে ভালোবাসে। আমাকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে দলের কমিটি গঠন করে গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মানুষ এখন স্বস্তিতে আছে। উন্নয়নকাজ চলছে, চলবে।’ তবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযোগগুলো নিজেদের মনগড়া এবং সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

    বর্তমানে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন বিভিন্ন দল থেকে লোক আসে সুবিধা নেওয়ার জন্য আর তারা তখন আওয়ামী লীগ হয়ে যায়। এ ছাড়া নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দিতে গিয়েও আমাদের কিছুটা ছাড় দিতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তাজুল ইসলাম ছাড়া আমাদের কাছে হেভিওয়েট কোনো প্রার্থী নেই। তাই যিনি আছেন, সবাই মিলে তাঁকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’

    সংসদ সদস্যের কথিত সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, দলের নেতারা দল পরিচালনার জন্য লোক ঠিক করেন। যোগ্যতা থাকার কারণেই এমপির আত্মীয়রা দলের কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আর সংসদ সদস্য একটি সম্মানীয় পদ, যার কারণে মানুষ ও নেতাকর্মীরা সম্মান দিয়েই ওনাকে ‘স্যার’ বলে সম্মোধন করলে এতে দোষের কিছু নেই।

    বিএনপি : বর্তমানে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসন থেকে দলের প্রতীকে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম আনোয়ারুল আজিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সদস্য ও তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ড. রশিদ আহমদ হোসাইনী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও আমরা জিয়ার সৈনিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সফিকুর রহমান সফিক।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে আনোয়ারুল আজিম ও আবুল কালামের মধ্যে। তবে ২০০১ সালে সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আজিমের হাতেই।

    অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে আজিমের সঙ্গে গ্রুপিংটা জোরালোভাবে শুরু করেন আবুল কালাম। আবার নির্বাচনের পর হারিয়ে যান তিনি। কালামের দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ৪৫৮ ভোটের ব্যবধানে হারতে হয় আনোয়ারুল আজিমকে।

    স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আনোয়ারুল আজিম যেখানে মাঠের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে আবুল কালাম আছেন লবিংয়ে ব্যস্ত। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপক্ষে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী দিতে হলে আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প নেই। এলাকায় দল-মত-নির্বিশেষে বেশ সুনামও রয়েছে তাঁর।

    নেতাকর্মীরা জানায়, আবুল কালাম গত বছরের শুরু থেকে জোরালো গ্রুপিং শুরু করেছেন আজিমের সঙ্গে। তবে লাকসামের পাশাপুর গ্রামে কালামের নিজ বাড়িতে কয়েকটি সভা-সমাবেশ ছাড়া নিজ উপজেলা সদরে তেমন কোনো অবস্থান নিতে পারেননি তিনি। আর কয়েকবার চেষ্টা করলেও আজিমের অনুসারীদের তোপের মুখে মনোহরগঞ্জে প্রবেশ করতে পারেননি বললেই চলে। আজিমের বাড়ি মনোহরগঞ্জে।

    গত বছর আবুল কালাম তাঁর অনুসারীদের নিয়ে দুই উপজেলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ‘আংশিক’ কমিটি করেছেন। তবে বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রণ আজিমের অনুসারী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে থাকা আগের কমিটিগুলো বাতিল বা বিলুপ্ত না করায় তারাও নিজেদের নেতা দাবি করছে। এতে বলা যায়, দুই নেতার দুই কমিটিতে চলছে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি।

    আজিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ইলিয়াছ পাটোয়ারী বলেন, ‘লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপিতে আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প কোনো নেতা নেই। আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ তাঁকে তাদের মনে ঠাঁই দিয়েছে। আজিম ভাইয়ের নেতৃত্বেই সব দলীয় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে এ আসনে চিন্তা করলে বিএনপিকে একটি নিশ্চিত আসন হারাতে হবে।’

    লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘চৈতি কালাম আওয়ামী লীগের এজেন্ট। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সরাসরি আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট কিনেছেন। বর্তমানে আমাদের দুর্গের মতো থাকা দলকে ধ্বংস করতে আবারও গ্রুপিং শুরু করেছেন তিনি।’ আবুল কালাম বিএনপির জন্য ‘বিষফোড়া’ বলে দাবি করেন তিনি।

    আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করছি। আর আমার কাছে বর্তমানে দলীয় মনোনয়নের চিন্তার চেয়ে বেশি জরুরি হলো, দলের সব নেতাকর্মীকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখা। কারণ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ হলো বিএনপির ভোটব্যাংক। আর আমি রাজনীতি করি দল ও মানুষের কল্যাণে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আমার ওপরই আস্থা রাখবে।’

    আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম বলেন, ‘দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশেই আমি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে আমি বহু আগ থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। আমি দলের পুরনো লোক। আগেও মাঠে ছিলাম, এখনো আছি। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং বিজয়ী হব।’ তিনি আরো বলেন, ‘লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আমি সবাইকে নিয়েই দল গোছাচ্ছি। আজিম দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তিনি এখন বিএনপির কেউ না। প্রতিটি কমিটিতে আমাদের লোকজন রয়েছে। আজিমের অনুসারীদের কমিটিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া তিনি পদত্যাগ করেছেন আবার তা প্রত্যাহারের জন্যও আবেদন করেছেন। লাকসাম-মনোহরগঞ্জে তাঁর শূন্যস্থান পূরণ হয়ে গেছে। সবাই এখন আমার সঙ্গে কাজ করছে।’

    রশিদ আহমদ হোসাইনী বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে কোনো গ্রুপিং করি না। যারা বিএনপির বহিষ্কার ও সংস্কার রাজনীতি করে তারা কখনো দলীয় স্বার্থে রাজনীতি করে না, বরং তারা ব্যক্তিস্বার্থে ফায়দা হাসিল করতে রাজনীতি করছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে এখন বিএনপির বড় ইস্যু দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। কুমিল্লা-৯ আসনে আমি অনেক জনপ্রিয়। প্রাপ্তি-প্রত্যাশার রাজনীতি না করায় নেতাকর্মীরা আমাকে পছন্দ করে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং সুষ্ঠু ভোট হলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

    সফিকুর রহমান সফিক সর্বত্র দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপি থেকে অন্য যাঁরা মনোনয়ন চাচ্ছেন তাঁরা কেউই বিএনপির পরীক্ষিত লোক নন। আমি দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। অন্যরা বিভিন্ন দল থেকে বিএনপিতে এসেছেন। আমার ঠিকানা বিএনপি। কারণ ভাড়াটে দিয়ে বিএনপির মতো একটি দল চলতে পারে না। আগামী নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনে বিএনপির সব নেতাকর্মী মূল্যায়িত হবে।’

    জাতীয় পার্টি : দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা-৯ আসনে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। নির্বাচন প্রসঙ্গে দলে সদ্য যোগ দেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এ টি এম আলমগীর বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী।

    এর আগে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে তিনবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারিয়েছেন গোলাম মোস্তফা। তিনিও দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

    জামায়াত ও অন্যান্য : এ আসনে জামায়াত এরই মধ্যে তাদের প্রার্থী হিসেবে জনপ্রশাসন ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং কেন্দ্রীয় জামায়াতের শুরা সদস্য এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে। তিনি ফেনীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) থাকাকালে জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন।

    লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় নীরবে কাজ করছে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ আসনে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরই জামায়াতের অবস্থান।

    কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আবদুস সাত্তার জানান, সোলায়মান চৌধুরীকে ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন দিলে জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে তিনি লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগও করেছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।

    অন্যদিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে সেলিম মাহমুদের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে দলটির তেমন কোনো সাংগঠনিক তত্পরতা চোখে পড়ে না। সূত্র: কালের কণ্ঠ

  • কুমিল্লায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ এমবিবিএস ডাক্তারসহ আটক ৩

    অনলাইন ডেস্ক:
    কুমিল্লায় ইয়াবাসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)র চিকিৎসক মোস্তফা কামাল (৩৮) ও তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ।শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা-বাগুর বাস স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

    এসময় তাদের কাছ থেকে ১২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করে পুলিশ।পুলিশ জানায়, চিকিৎসক মোস্তফা কামাল ওরফে কাজল চুয়াডাঙ্গা জেলার ধামড়হুদা উপজেলার দলিয়াপুর গ্রামের কিতাব আলীর ছেলে।তিনি ২৪তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসা সেবা শুরু করেন।বর্তমানে তিনি বিএসএমএমইউতে কর্মরত।

    আটক অপর দু’জন হলেন— মাদারীপুর জেলার কালকিনী উপজেলার উত্তর বাঁশগাড়ি গ্রামের মুজিবুল হকের ছেলে মঈন উদ্দিন (৪২) ও রাজধানীর আদাবর থানাধীন মোহাম্মদপুর শেখেরটেক এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে গাড়িচালক হাসু মিয়া (৩৯)।চিকিৎসক মোস্তফার বন্ধু মঈন উদ্দিন নিজেকে একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার বলে পুলিশের কাছে পরিচয় দেন।

    চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, মহাসড়কে নিয়মিত টহলরত অবস্থায় সন্দেহজনকভাবে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৯-৯৭২২) গতিরোধ করে তল্লাশি চালানোর পর তাদের প্রত্যেকের পকেটে ৪০০ পিস করে মোট ১২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ তারা জানান, কক্সবাজারের টেকনাথ থেকে তারা ইয়াবা নিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় চান্দিনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান এসআই মনিরুল।

  • কুমিল্লায় বজ্রপাত ও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    ( জাগো কুমিল্লা.কম)

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে অমল (৩০) নামের এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি উপজেলার মহিসাশহর এলাকার বারি কান্তির পুত্র। শুক্রবার (৪ মে) বিকেলে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় ইউপি মেম্বার শাহজাহান সেলিম জানান, কৃষি শ্রমিক অমল পাশাকোট গ্রামের জাহাঙ্গীরের জমিনে কাজ করছিল। শুক্রবার বিকেলে বজ্রপাতের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মনিরুল ইসলামও নিহতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।

    উল্লেখ্য গত সোমবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের শ্রীফলতলা প্রকাশ রামপুর এলাকায় কৃষি জমিনে ধান কাটা অবস্থায় বুলু মিয়া নামের আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।এদিকে চৌদ্দগ্রামে সিএনজি খাদে পড়ে নাছিমা সুলতানা (১৭) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কাইচ্ছুটি গ্রামের আবুল খায়েরের মেয়ে।

    শুক্রবার (৪ মে) সকাল ১০.৩০টায় উপজেলার চিওড়া-ঢালুয়া সড়কের চিওড়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মনিরুল জানান, নিহত নাছিমা শশুর বাড়ি চিওড়া থেকে সিএনজি যোগে পিত্রালয় কাইচ্ছুটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এসময় সিএনজি গাড়িটি চিওড়া বাজার পার হলে সড়কের পাশে থাকা একটি ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

  • নাঙ্গলকোটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড:৭ দোকান পুড়ে ছাই !

    (বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা)
    কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় শুক্রবার সকালে সাব রেজিষ্টি অফিসের সামনে দলিল লেখক সমিতির দোকান ঘর ও একটি খাবার হোটেল পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। সকালে এয়াছিন ভেন্ডারের দোকান থেকে বিদ্যুৎ সট সার্কিট আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে আগুন লেগে ৭টি দোকান ঘর পুড়ে ছাই গেছে।

    লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। আগুন লেগে এয়াছিন ভেন্ডারের দোকান, মজুমদার ষ্টোর, মাইন উদ্দিন কম্পিউটার, ছাব্বির কম্পিউটার, সম্রাট কম্পিউটার, মতিন হোটেল। এ বিষয়ে লাকসাম ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার মোবারক আলী জানান প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে। তদন্ত করলে ক্ষতির পরিমান জানা যাবে।

    দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জানান, এসব দোকানে দলিল,স্টাম্প, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, জেনারেটর, ফটোকপি মেশিন সহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে কমপক্ষে ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

  • নাঙ্গলকোটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড:৭ দোকান পুড়ে ছাই !

    (বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা)
    কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় শুক্রবার সকালে সাব রেজিষ্টি অফিসের সামনে দলিল লেখক সমিতির দোকান ঘর ও একটি খাবার হোটেল পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। সকালে এয়াছিন ভেন্ডারের দোকান থেকে বিদ্যুৎ সট সার্কিট আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে আগুন লেগে ৭টি দোকান ঘর পুড়ে ছাই গেছে।

    লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। আগুন লেগে এয়াছিন ভেন্ডারের দোকান, মজুমদার ষ্টোর, মাইন উদ্দিন কম্পিউটার, ছাব্বির কম্পিউটার, সম্রাট কম্পিউটার, মতিন হোটেল। এ বিষয়ে লাকসাম ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার মোবারক আলী জানান প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে। তদন্ত করলে ক্ষতির পরিমান জানা যাবে।

    দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জানান, এসব দোকানে দলিল,স্টাম্প, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, জেনারেটর, ফটোকপি মেশিন সহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে কমপক্ষে ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।