Category: এক্সক্লুসিভ

  • কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ  হাইকোর্টের

    অনলাইন ডেস্ক:

    কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা ছয় (০৬) মাসের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (০৩ আগষ্ট) দুপুরে বিচারপতি মজিবুর রহমান ও বিচারপতি বশির উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

    আদালত আদেশে বলেছেন, গোমতী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় যেকোনো ধরনের দখলদারিত্ব কঠোরভাবে দমন করতে হবে। আদালত আরও বলেন, এই নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

    এই রিটের আবেদনকারী ছিলেন নদী রক্ষা ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া। রিটকারীর পক্ষে শুনানী করেন, সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোর্শেদ।

    তিনি বলেন, “গোমতী নদী এখন দখলদারদের দখলে চলে গেছে। নদী চিহ্নিত করে সীমানা নির্ধারণ সত্ত্বেও সেখানে গড়ে ওঠেছে অবৈধ দোকানপাট, স্থাপনা ও বাড়িঘর।”

    তিনি আরও বলেন, “আদালতের এই রায় শুধু গোমতী নয়, দেশের সব নদী রক্ষায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা আশা করছি প্রশাসন এখন আর দখলদারদের সঙ্গে আপস না করে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে।”

    আদালতের নির্দেশে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, অন্যান্য সরকারি দপ্তরগুলোকে এই ছয় মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

  • শেখ হাসিনার ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচারে ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা

    অনলাইন ডেস্ক:

    গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেইসঙ্গে তিনি আগে যতো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তা সব মাধ্যম থেকে সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন।

    সকালে এই নিষেধাজ্ঞা চেয়ে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে বলে জানান প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমান। প্রসিকিউশন বলছে, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) যেসব বলছেন তা হেইট স্টাক। সেগুলো বন্ধেই এ আবেদন করা হয়েছে।’

    এর আগে গত ১৭ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে ট্রাইবুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগের বিচার কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

    ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতারি পরোয়ানা আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ অপর দুই বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

  • খান বাহাদুর আহছান উল্লাহকে মুখে নয় বুকে ধারণ করতে হবে- এমপি বাহার

    মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা।

    শিক্ষা ও সমাজ কল্যানে খান বাহাদুর আহ্সান উল্লাহ ছিলেন অনন্য। তার সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মানুজসেবা পাচ্ছে। আহসানউল্লাহকে মুখে নয় বুকে ধারণ করতে হবে। কুমিল্লায় আহ্সানিয়া মিশনের সকল কর্মকান্ডে আমি আছি, থাকবো।’

    সোমবার দুপুরে কুমিল্লা টাউনহলে ঢাকা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে হযরত খানবাহার আহ্সানউল্লা (র.) অবদান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আকম বাহাউদ্দীন বাহার এ কথা বলেন।

    হযরত খান বাহাদুর আহ্সানউল্লা (র.) ১৬৮ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কুমিল্লায় এই আলোচনা সভা আয়োজন করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাংসদ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

    বিশেষ অতিথি বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘খান বাহাদুর আহ্সানউল্লা আমাদের যুগের কোনো মানুষের সাথে তুলনীয় না। তিনি একজন সূফী। তার গুণাবলি গ্রহন করতে পারলে আমরা হতে পারবো সৎ ও সুখি’। উপস্থিত ছিলেন

    আলোচনায় মূল বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আহসানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম খলিলুর রহমান।

    উপস্থিত ছিলেন নগর মাতৃসদনের প্রজেক্ট ম্যানেজার সুমন কুমার সাহা, নগর মাতৃসদনের ক্লিনিক ম্যানেজার ডাঃ ফারজানা আক্তারসহ অন্যান্যরা।

    উল্লেখ্য, হযরত খান বাহাদুর আহ্সানউল্লা (র.) ১৬৮ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কুমিল্লায় এই আলোচনা সভা ও দিনব্যাপি ফ্রি মেডিকেল সেবা প্রদান কর হয়।

  • হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণ পেলেন বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান ড.ইবনে সিনা

    মাহফুজ নান্টু

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং সাইন্টিস্ট হিসেবে যোগ দেয়ার আমন্ত্রন পেলেন বৃহত্তর কুমিল্লার চাঁদপুর জেলার বাবুরহাটের সন্তান ড. আবু আলী ইবনে সিনা।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে গত ৯ জুন ড.সিনা তার ফেইসবুকে লিখেন ” আলহামদুলিল্লাহ, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দেয়ার অফার পেয়েছি | কাজ করবো পৃথিবীর বিখ্যাত দুই ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ডানা ফারবার ক্যান্সার ইনস্টিটিউট এবং কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির হার্বার্ট আরভিন কম্প্রিহেন্সিভ ক্যান্সার সেন্টার এ| কাজের বিষয় অবশ্যই টেন মিনিট ক্যান্সার টেস্ট| সবাই দোয়া করবেন।

    ড. সিনহা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এর রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে বার্জার পেইন্টস এ চাকরীতে যোগদান করেন ।

    তবে শিক্ষকতা এবং গবেষণার প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি কিছুদিন পর শাবিপ্রবির বায়োকেমিস্ট্রি এ বায়োলজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে ২০১৩ সালে শিক্ষা ছুটি নিয়ে চলে যান অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে।

    পিএইচডি করার সময় থেকে তিনি ক্যান্সার গবেষণা শুরু করেন। বর্তমানে, একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল হেলথ এন্ড মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল এর ইমার্জিং লিডার হিসেবে ক্যান্সার গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন ড.সিনহা।

    ড.সিনহার বাবা চাঁদপুর বাবুরহাটের বাসিন্দা শিক্ষাবিদ শহীদুল্লাহ মাস্টার। মা সুরাইয়া আক্তার শিক্ষক। ড. সিনহার ছোট বোন শিখা অনির্বানও শিক্ষক।

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং সাইন্টিস্ট হিসেবে যোগ দেয়ার আমন্ত্রন পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে ড.সিনহা বলেন আজ ১৫ জুন আমার জন্মদিন। জন্মদিনের আগে এমন আমন্ত্রণ পাওয়া সত্যি খুব আনন্দবোধ করছি। পাশাপাশি সবার কাছে দোয়া চাই যেন সফল হয়ে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারি।

    এক ছেলের জনক ড.সিনহা আরো জানান, তার স্ত্রী সাবিহা সুলতানা একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বসবাস করছেন

  • বাংলাদেশে আজ যে সময়ে দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ

    অনলাইন ডেস্ক:

    আকাশ পরিষ্কার থাকলে আজ বুধবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার পর বাংলাদেশে দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উপচ্ছায়ায় চাঁদের প্রবেশ ঘটবে দুপুর আড়াইটার পর। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। ইয়াস আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ দুপুর নাগাদ উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

    ফলে বাংলাদেশের আকাশে মেঘ রয়েছে। গ্রহণের সময়ও যেসব অঞ্চলের আকাশে মেঘ থাকবে, সেখান থেকে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। তবে মেঘ সরে গেলে দেখে যাবে।দেশের যেসব অঞ্চল থেকে যখন চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে সেসব তথ্য তুলে ধরে জলবায়ু মহাশাখা জানিয়েছে, ২৬ মে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে ঢাকায় বেলা ২টা ৪১ মিনিটে শুরু হবে এবং শেষ হবে ৩টা ৫১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে। ময়মনসিংহে শুরু হবে বেলা ২টা ৪২ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৩টা ৫৩ মিনিটে। চট্টগ্রামে বেলা ২টা ৩২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে শুরু হবে এবং শেষ হবে ৩টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে।

    সিলেটে শুরু হবে বেলা ২টা ৩৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৩টা ৪৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। খুলনায় শুরু হবে বেলা ২টা ৪২ মিনিট ২৪ সেকেন্ড এবং শেষ হবে ৩টা ৫২ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। বরিশালে শুরু হবে বেলা ২টা ৩৯ মিনিটে এবং শেষ হবে ৩টা ৫৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে। রাজশাহীতে শুরু হবে বেলা ২টা ৪৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৩টা ৫৯ মিনিট ১২ সেকেন্ডে। আর রংপুরে শুরু হবে বেলা ২টা ৪৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৩টা ৫৯ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে।

  • কুমিল্লায় তিন সন্তান অন্তসত্ত্বা স্ত্রী রেখে ব্যবসায়ীর বউ নিয়ে পালালেন মসজিদের ইমাম !

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    তিন সন্তান ও অন্তসত্ত্বা স্ত্রী থাকার পরও ব্যবসায়ীর বউ নিয়ে পালালেন মসজিদের ইমাম মাও. মো.ফয়সাল আহমেদ কাউসারী। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাকসার গ্রামে । মো.ফয়সাল বাকসার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও ওয়াজ মাহফিলে আলোচক হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল ।

    স্থানীয়রা জানান, পরকিয়া প্রেমিকা সালামা বেগমের তিন সন্তানকে নিয়মিত কুরআন শিক্ষা দিতেন মাও. মো.ফয়সাল আহমেদ কাউসারী। এই সুযোগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন তারা । সালমা বাকসার গ্রামের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের স্ত্রী। এঘটনা পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারীর স্বামী মো.আলাউদ্দিন।

    মসজিদের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান জানান, গত দেড় বছর আগে বাকসার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার কলেজ পাড়া এলাকায়। তার ঘরে ২ মাসের অন্তসত্ত্বা স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। ব্যবসায়ীর মো.আলাউদ্দিনের সন্তানদের কোরআন শিক্ষার জন্য যাওয়া আসার মাঝে উভয়ের মধ্যে কথা বার্তা ও পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী ঘরে রক্ষিত স্বর্ণলংকার, নগদ টাকা আনুমানিক ১০/১২ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে হজুরের হাত ধরে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে ব্যবসায়ী আলাউদ্দির অসুস্থ হয়ে পড়েন ।

    দেবিদ্বার থানার এস আই মো. আলমগীর হোসেন জানান, এ ঘটনায় দেবিদ্বার থানায় ওই নারীর স্বামী মো. আলাউদ্দিন একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । ঘটনার তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • দিনাজপুরে আটক হলো কুমিল্লা-চাঁদপুরের রোডের বোগদাদ বাস

    অনলাইন ডেস্ক:

    সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দিনাজপুর থেকে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় দূরপাল্লার দুটি বাসকে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৯টায় শহরের ফুলবাড়ি বাসস্টান্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে বাস দুটিকে আটক করা হয়। শ্রমিক পরিবহনের ব্যানার লাগিয়ে কয়েকদিন ধরে এমন অনিয়ম করছে।

    এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাগফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, বোগদাদ ও আহসান পরিবহনের দুটি বাস যাত্রী নিয়ে দিনাজপুর থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী করোনার মধ্যে আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে বাস দুটি যাত্রা শুরু করছিল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পুলিশের সহযোগিতায় বাস দুটিকে আটকের পর ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় বাসে থাকা যাত্রীদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়। বাস দুটিতে প্রায় ৩০ জন যাত্রী ছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, জরিমানা শেষে বাস দুটিকে পুলিশের মাধ্যমে কোতোয়ালি থানায় পাঠানো হয়েছে। বাস দুটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও জানান, বাস আটক করা হলেও হেলপার ও চালকদের আটক করা হয়নি।

    নির্বাহী কর্মকর্তা মাগফুরুল হাসান আব্বাসী আরও জানান, মোটর শ্রমিকদের ইতোমধ্যে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে প্রণোদনার টাকা প্রদান করছে সরকার। সরকারি নীতিমালার আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনুর জামানসহ সংশ্লিষ্ট ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

  • ঘনিষ্ঠ বন্ধু শহীদুলের ডিভোর্সি স্ত্রীকে ‘মানবিক’ কারণে বিয়ে করেন মামুনুল

    অনলাইন ডেস্ক:

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর একটি রিসোর্টে গতকাল শনিবার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সময় তাঁকে এক নারীসহ আটক করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময় পর কয়েক হাজার হেফাজতকর্মী ‘রয়েল’ নামের ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে মাওলানা মামুনুলকে মুক্ত করে নিয়ে যান। এ সময় হেফাজতকর্মীরা রিসোর্টে ভাঙচুরও করেন।

    ঐ নারীকে ‘মানবিক’ কারণে বিয়েও করেছেন বলে রবিবার নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে ‘একটি মানবিক বিয়ের গল্প’ শিরোনামে লিখেছেন বিস্তারিত।

    মামুনুল বলেন, হাফেজ শহিদুল ইসলাম আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের একজন। সাংগঠনিক কাজে আমার দু-চারজন সহযোগীর অন্যতম। বেশ পুরনো আমাদের সম্পর্ক। সম্পর্কের গভীরতা পারিবারিক পরিধি পর্যন্ত । পরিবারসহ একে অপরের বাসায় যাতায়াত আমাদের দীর্ঘদিনের। সেই সূত্রে তার পারিবারিক অভিভাবকত্ব করতাম আমি।পারিবারিকভাবে খুঁটিনাটি বিষয়ে পরামর্শের জন্য তারা আমার দ্বারস্থ হতো। দুই সন্তানের ছোট সংসার নিয়ে চলছিল তাদের জীবন। একটা পর্যায়ে এসে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে শুরু হয় মনোমালিন্য।

    এই হেফাজত নেতা বলেন, মনোমালিন্য থেকে বাদানুবাদ এবং সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু। আজ থেকে তিন বছর আগের কথা। তখন তাদের সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি আমি। তাদের উভয়ের সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু কোনোভাবেই আর সেটি সম্ভব হয়নি । ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তাদের । ছাড়াছাড়ির পর দ্বিতীয় সংসার শুরু করেন হাফেজ শহীদুল ইসলাম। সেই বিবাহ আমি পড়াই। তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিনাতিপাত করছেন। সেই ঘরে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে আরেকটি সন্তান। অপরদিকে হাফেজ শহীদ ভাইয়ের স্ত্রী হয়ে যায় অনেকটা অসহায়।

    নিজের ফেসবুকে বলেন, এক রকমের কূলকিনারাহীন। রাগের মাথায় সংসার ভেঙে গভীর সংকটে পড়ে যান তিনি। ওই পরিস্থিতিতে তার জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই তিনি আমার শরণাপন্ন হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ নেন। আর সেই দুঃসময়ে সহযোগিতা করার মতো আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না তার। ইসলামী দৃষ্টিকোণ এবং অভিভাবকত্বের জায়গা থেকে আমি তার অর্থনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করি। জীবনের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনার জন্য নিয়মিতই আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে হয় তাকে।

    শরিয়তের দিক থেকে এই সম্পর্ক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন মামুনুল। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় একজন বেগানা নারীর সঙ্গে এভাবে সম্পর্ক রাখাকে শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে আমার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিই, যত দিন তার অভিভাবকত্বের প্রয়োজন হবে আমার, তাকে বেগানা হিসেবে রেখে অভিভাবকত্ব করব না ,বরং ইসলামী শরিয়তের আলোকে বৈধ একটা সম্পর্ক তৈরি করে নেব। বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলি এবং এ বিষয়ে তাদেরকে জানিয়ে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিবাহের কালেমা পড়ে বিবাহ করে নিই।

    মামুনুল বলেন, দুই বছর যাবত এভাবেই মানবিক ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আমি তার অভিভাবকত্ব করছি এবং একজন অসহায় নারীর দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি পুণ্যের কাজ করেছি বলে বিশ্বাস করি। আমি যা বললাম, এটা আল্লাহর নামে হাজারবার শপথ করে বলতে পারব। বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য কুল্লামার শপথও করতে পারি।

    হেফাজতের এই নেতা বললেন, বিষয়টি খোলাসা করার পরেও যুবলীগ, আওয়ামী লীগের গুণ্ডারা আমার সঙ্গে যে অমানবিক আচরণ করেছে এবং হামলা করেছে, গায়ে হাত তুলেছে, আমি এর বিচার চাই আল্লাহর কাছে, প্রশাসনের কাছে এবং জনগণের কাছে। পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের এই হামলা ও আচরণ প্রমাণ করে- বর্তমানে বাংলাদেশে মান-সম্মান কিংবা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করা সম্ভব না।