Author: bikedokan@gmail.com

  • নতুন ফাঁদে প্রবাসীরা

    অনলাইন ডেস্ক:

    আপনি কি প্রবাসী? বাড়তি উপার্জনের জন্য দেশের বাইরে গেছেন? তাহলে প্রবাস থেকেই দেশে টাকা পাঠান বিকাশের মাধ্যমে। আমরা দিচ্ছি রিসেলার প্যানেল। এই ব্যবসা করে মাসে আপনি অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি বিজ্ঞাপন দেখে এর নিচে থাকা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন কাতারে থাকা সুমন।

    পরে সুমন হোয়াটসঅ্যাপে ওই নম্বরে যোগাযোগ করেন। জানতে পারেন ওই ব্যবসায়ীর নাম মিলন, বাড়ি নোয়াখালী। কাতার থেকে এর বেশি কিছু জানা সম্ভব না হওয়ায় শুধু কথার ভিত্তিতে শুরু করে দেন ব্যবসা।সুমন জানান, প্রথমে মিলন নামের ওই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সুমনের বিকাশ রিসেলার প্যানেলে ৩০ হাজার টাকা যোগ করে দেন মিলন। কাতার থেকে যারা বাড়িতে তাত্ক্ষণিক টাকা পাঠাতে চান সুমন তাদের কাছ থেকে প্রতি হাজারে সামান্য কিছু বেশি অর্থ রেখে প্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দেন। এদিকে মিলনের রিসেলার প্যানেল ছিল স্বয়ংক্রিয়। এতে টাকা পাঠানোর নির্দেশনা পাওয়া মাত্র মেশিন নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠিয়ে দিত।‘এভাবেই চলল কয়েক মাস। বাড়তে থাকল তার ব্যবসার পরিধি। রিসেলার প্যানেলে বাড়তে থাকল টাকার পরিমাণ। ফলে মিলনকেও দিতে হতো বেশি পরিমাণ অঙ্কের টাকা।’ —জানান তিনি।

    তবে সুমনের ব্যবসার মোড় ঘুরে যায় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। বিশ্বস্ততার সম্পর্কের একপর্যায়ে তিনি মিলনের কাছে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর পর মিলনের নম্বরটি আর খোলা পান না সুমন। যা আজ অবধি বন্ধ। কোনোভাবেই আর যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।সুমন আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভাই! সেই যে ব্যবসা ছেড়েছি, এখন আর ব্যবসা করি না। এখন আর মানুষকে ভরসা পাই না। ফেসবুকে এমন অনেক আইডি দেখি যারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর রিসেলার দিয়ে থাকেন। কিন্তু বাড়তি লাভের আসায় আর ওই পথে হাঁটিনি।’তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমি নই। এমন প্রতারণার শিকার অনেকেই। বিশেষ করে আমাদের মতো প্রবাসীরা। তাদের লোভ দেখিয়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রগুলো। কিছুদিন লাভের লোভ দেখিয়ে সবশেষ নিঃস্ব করে দেয় তারা।’ শুধু কাতার নয়; মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অবস্থানকারী বাংলাদেশি প্রবাসীরা এমন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন যারা, তাদের অনেকে এই ব্যবসা থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু অনেকে আবার নিজেদের লোকজনের মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করে নিশ্চিত হয়ে আবার ব্যবসা করছেন। আবার কেউ অল্প টাকা পরিশোধ করে নিজের কাজের পাশাপাশি এই ব্যবসাও করে যাচ্ছেন। জামিল নামে দুবাইপ্রবাসী একজন জানান, ভাই ভাই বিকাশ রিসেলার নামে একজন রিসেলার ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। এরপর তিনি তার কাছ থেকে বিকাশের রিসেলার নেন এবং ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা শুরুর কয়েক মাসের মাথায় ভাই ভাই বিকাশ রিসেলারের ফারুক নামের ওই ব্যক্তি তার ১০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হন।

    তিনি বলেন, ‘আমার অল্প টাকা গেছে। তবে আমি আরেকজনকে এই ব্যবসা শিখিয়েছিলাম। সেও এই ব্যবসা করত। সে অন্তত ৩৫-৪০ হাজার টাকা ধরা খেয়েছে।’ প্রবাসীরা কী কারণে বিকাশে টাকা পাঠান— এমন প্রশ্নের উত্তরে জামিল বলেন, বিদেশ থেকে অল্প টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে গেলে সময়ের পাশাপাশি বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাড়তি কিছু অর্থও খরচ হয়। তবে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে গেলে সহজেই টাকা পাঠাতে পারেন তারা। ফলে তারা এ মাধ্যমটিকে পছন্দ করছেন এবং ব্যবসায়ীরা বিকাশ রিসেলার মাধ্যমটিকেও গ্রহণ করছেন। এদিকে ফেসবুকে ইংরেজিতে বিকাশ রিসেলার ও বিকাশ লিখে সার্চ দিয়ে অনেক অ্যাকাউন্টের দেখা মেলে। যারা বাড়তি লোভের স্বপ্ন দেখিয়ে মুখরোচক নানা বিজ্ঞাপন আকারে পোস্ট দিয়ে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করেছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমো নম্বর দেন। তবে হোয়াটসঅ্যাপে বাংলাদেশি নম্বর দেখলে তারা এ বিষয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখান। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের প্রবাসী পরিচয় দিলে বা দেশের বাইরের নম্বর হলে তাদের আগ্রহের কমতি থাকে না। তবে বিকাশ রিসেলারের অনুমোদনের বিষয়ে জানা যায়, দেশের বাইরে বিকাশের কোনো এজেন্ট বা বুথ নেই এবং বিকাশ রিসেলার বলে কিছু নেই। ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো নিজেদের নম্বর ব্যবহার করে এ ধরনের কাজ করছে। এ বিষয়ে বিকাশ ওইসব নম্বর বা ফেসবুক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

  • কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আপেল চুরির দায়ে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

    (বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা )
    কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের মেরকট বাজারের ফল ব্যবসায়ী জহিরের দোকান থেকে ১টি আপেল খাওয়ার অপরাধে হত্যা করা হয় মো. ইদ্রিছ মিয়া (৫৫) নামের এক বৃদ্ধকে। হত্যার পর লাশ বাড়ীর পাশের ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইদ্রিছ মিয়া ওই গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি বিপতœীক ও ৮ সন্তানের জনক ছিলেন।
    স্থানীরা জানায়, বুধবার মধ্যরাতে ক্ষুধার্থ ইদ্রিস মিয়া পাশের মেরকট বাজারে গিয়ে জহিরের ফল দোকানের সামনে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় আপেলের টুকরি থেকে ১টি আপেল নিয়ে খাওয়ার সময় দোকানী জহির ঘুম থেকে উঠে তাকে মারধর করে এবং বাড়ীতে তার ভাই জসিমের কাছে ফোন করে। পরে জহিরের ভাই জসিম, নিজাম, রুবেল, রশিদ ও পিতা আবদুল মান্নান বাড়ী থেকে বাজারে এসে ইদ্রিস মিয়াকে বেদড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘাতকরা তার মরদেহ কাঁধে করে নিয়ে বাড়ীর পাশের ডোবায় পেলে দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় বাড়ীর পাশের ডোবায় ইদ্রিছ মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করে বাড়ীতে রাখে এবং বাদ মাগরিব জানাযা শেষে দাফন করা হয়।
    সরেজমিনে গেলে একই গ্রামের মৃত সুজ্জত আলীর ছেলে ও নিহত ইদ্রিসের শ্যালক মোবারক উল্লাহ বলেন, সকালে ইদ্রিসের লাশ বাড়ীর পাশের ডোবায় পড়ে থাকতে দেখে আমাকে খবর দেয়া হলে আমিসহ বাড়ীর লোকজন তার মরদেহ উদ্ধার করি এবং দাফনের ব্যবস্থা করি। তবে তিনি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দাবী করেন তিনি। এসময় মরদেহের ছবি তুলতে এবং নিহতের ছেলে মেয়েদের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সহ বেশ কয়েকজন মিলে সাংবাদিকদের বাধার সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া হয়।
    ঘটনার সময় ওই বাজারে তাস খেলতে থাকা স্থানীয় ৪ ব্যক্তি ও বাজারে থাকা ২ দোকান কর্মচারী এবং ওই গ্রামের অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক ২টা থেকে আড়াইটার সময় নিহত ইদ্রিসকে পাশের বাড়ীর আবদুল মান্নান মনু তার ছেলে জসিম উদ্দিন ও তার ভাইয়েরা মিলে মারতে দেখেছি। এরপর সকালে আমরা জানতে পারি নিহত ইদ্রিসের লাশ ডোবায় পাওয়া গেছে। তারা আরো জানান, সকালে লাশ উদ্ধারের পর বিষয়টি জানাজানি হলে নিহত ইদ্রিসের শ্যালক মোবারক উল্লাহর ঘরে তার উপস্থিতিতে সাবেক মেম্বার আব্দুল বাতেন ও কয়েকজন প্রতিবেশী মিলে স্থানীয়ভাবে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে আবদুল মান্নান মনুর সাথে রপাদফা করা হয়। এসময় মনু মিয়া নগদ ১ লক্ষ টাকা মোবারক উল্লাহর নিকট বুঝিয়ে দেয়। বাকী ২ লাখ টাকা ১ মাসের মধ্যে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
    এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জসীম উদ্দিন ও তাঁর পিতা আবদুল মান্নানকে তাদের বাড়ীতে গিয়ে পাওয়া যায়নি এবং জসীম উদ্দিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।
    এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, এখনো থানায় কোন অভিযোগ আসেনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

  • কুমিল্লায় পুলিশ-মাদক ব্যবসায়ীর গোলাগুলি; তিন পুলিশ আহত

    অলনাইন ডেস্ক:
    কুমিল্লায় পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাসহ ৩ পুলিশ আহত হয়েছেন। জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী বৌয়ারা বাজার এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

    ডিবি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্যের বড় একটি চালান যাচ্ছে- গোপন সূত্রে পাওয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল শুক্রবার বিকালে আদর্শ সদর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী বৌয়ারা বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ফেনসিডিলসহ একজনকে আটক করলে চোরাকারবারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের উপর হামলা ও গুলিবর্ষন শুরু করে। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুঁড়ে।

    জেলা ডিবি’র ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় ডিবি পুলিশের এসআই ইসহাক মিয়া, এএসআই ফয়েজুর রহমান, কনস্টেবল মিল্লাত আহত হন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। রাত সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

  • কুমিল্লায় গরু মোটাতাজাকরণের কোটি টাকার ৬ লাখ ট্যাবলেট জব্দ

     (মো: শাহীন আলম, চৌদ্দগ্রাম )

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক কোটি পনের লাখ বিশ হাজার টাকা মুল্যের ৫ লাখ ৭৬ হাজার পিছ গরু মোটাতাজাকরণের স্টেরয়েড ট্যাবলেট আটক করেছে বিজিবি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবি ১০ ব্যাটেলিয়ানের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ শহীদুল আলম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি আরও জানান, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে বিজিবির একটি বিশেষ দল চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার নাটাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ ৭৬ হাজার পিছ অবৈধ স্টেরয়েড ট্যাবলেট মালিকবিহীন অবস্থায় আটক করে। ট্যাবলেটের মূল্য এক কোটি পনের লাখ বিশ হাজার টাকা। ভারতীয় মালামাল উদ্ধারে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।