প্রতিনিধি |
হাইকোর্টের আদেশের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দখলের অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে। সাত দিনের মধ্যে আদেশের অপব্যাখা ও প্রয়োগ বন্ধ না করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদের মাধ্যমে একটি আইনি নোটিশের মাধ্যমে এসব বলা হয়েছে।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম সুজন ২০০৪ সাল থেকে নিজেকে বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। তবে ২০২৩ সালে এক সহকারী শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, তিনি জাল নথিপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই পদটি দখল করেছিলেন। কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিস এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক তদন্তে তার নিয়োগ ‘জাল ও অনিয়মিত’ বলে প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত সুজন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর গোপনে ৫ বছরের ছুটি নেন। তবে ছুটির সময়েও তিনি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ করেন এবং ২০১৯ সাল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বেতন উত্তোলন করেন। এছাড়া তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থানের দায়ে একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলহাজতেও ছিলেন। আমিনুল ইসলাম সুজন বরখাস্তের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত কেবল একটি ‘রুল নিশি’ জারি করেন। কিন্তু তিনি আদালতের সেই রুল নিশি’র অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহার করছেন। আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, আদালত তাকে পুনর্বহালের কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়নি। বরং সুজন আদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পুনরায় পদে বসার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তাই আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া তাকে পুনর্বহাল করা আইনত অসম্ভব এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের অপপ্রয়োগ বন্ধ না করলে এবং তাকে পুনর্বহালের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ জানান, ‘ যেহেতো মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন আমিনুল ইসলামকে পূর্ণবহালের কোনো আদেশ দেন নাই, এখানে আইনের ভুল ব্যাখ্যা করে তিনি কোনো পদ পেতে পারেন না। ওনি যে আইনের অপব্যাখ্যা করছেন এগুলো আমরা লিখিতভাবে আদালতকে জানাবো’।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান জানান, রিট পিটিশনের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বলা হয়েছে৷ আমিনুল ইসলামকে পূর্ণবহালের কোনো আদেশ দেয়া হয় নাই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার উপর মারধরের ঘটনা সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমি পুলিশকে বলে দিয়েছি।
প্রসঙ্গত, গত রোববার কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিদ্যালয়ে সিসিটিভি ভাঙচুর, অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট লুটপাটের অভিযোগ উঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুজন ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷