নিজস্ব প্রতিবেদক:
এমভি বিল্ডার্স শুধু কুমিল্লা শহরে ইট-পাথরের ভবন নির্মাণ করছে না, বরং আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এমভি বিল্ডার্স নতুন উদ্যোগ হিসেবে চালু করেছে ‘এমভি রাইজিং স্টার স্কলারশিপ-২০২৬’।
এ উপলক্ষে শনিবার রাতে নগরীর উত্তর চর্থায় এমভি বিল্ডার্সের কার্যালয়ে সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ কুমিল্লার নাগরিক সমাজের সম্মানিত সুধীমণ্ডলীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা ও নৈশভোজের আয়োজন করে।
মতবিনিময় সভায় এমভি বিল্ডার্স কুমিল্লার সিইও সৈয়দ অপূর্ব ইসলাম বলেন, আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে একটি নতুন যাত্রা শুরুর ঘোষণা দিতে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।
তিনি বলেন, এমভি বিল্ডার্স সম্পর্কে বলতে গেলে—প্রতিষ্ঠানটি শুধু ভবন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছে। সেই ভাবনা থেকেই ‘এমভি রাইজিং স্টার স্কলারশিপ-২০২৬’ চালু করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বর্তমানে কুমিল্লা শহরে এমভি বিল্ডার্সের বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। যে শহর তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছে, সেই শহরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, আমরা খেয়াল করেছি, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। একটি মেধা এভাবে ঝরে পড়া মানে একটি সম্ভাবনার মৃত্যু। এমভি বিল্ডার্স এই ঝরে পড়া রোধ করতে চায়। আমরা চাই না, টাকার অভাবে কুমিল্লার কোনো রাইজিং স্টার অন্ধকারে হারিয়ে যাক।
তিনি যোগ করেন, অনেক সময় অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের শিক্ষার্থীরাও যথাযথ উৎসাহের অভাবে পড়াশোনায় আগ্রহ হারায়। তাই তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘এমভি রাইজিং স্টার স্কলারশিপ’ সম্পর্কে তিনি জানান, এটি সম্পূর্ণ অলাভজনক একটি উদ্যোগ। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।
স্কলারশিপ কার্যক্রমের মূল দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন—
প্রথমত, পরীক্ষা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হবে।
দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে, কোনো ধরনের সুপারিশ বা তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না।
তৃতীয়ত, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এককালীন শিক্ষাবৃত্তি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হবে, যাতে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি পূর্ণতা পায় না। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং সুন্দর মনন গড়ে তুলতে সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। তাই ভবিষ্যতে এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় সংগীত, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
সিইও সৈয়দ অপূর্ব ইসলাম বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই প্রোগ্রামের পেছনে এমভি বিল্ডার্সের কোনো ব্যবসায়িক বা লাভজনক উদ্দেশ্য নেই। এটি আমাদের সামাজিক কার্যক্রমের অংশ।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের স্থপতি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষক। তারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে। তাদের সুন্দর মানসিক বিকাশ এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। তাদের গড়ে তোলা মানেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এই সংবাদটি কুমিল্লার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিন, যাতে একজন প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীও এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। একই সঙ্গে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে কুমিল্লার রাইজিং স্টারদের আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি। এমভি বিল্ডার্স শুধু ভবন গড়ে না, স্বপ্নও গড়ে।
মতবিনিময় সভায় এমভি বিল্ডার্সের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, মাহাবুবুর রহমান, এমভি একাডেমির পরিচালক ও স্কলারশিপের প্রধান সমন্বয়ক প্রভাষক মো. মোজাফফর হোসেন, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট কেন্দ্র কুমিল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমিন, উদিচী শিল্প গোষ্ঠী কুমিল্লার সভাপতি শেখ ফরিদ, জাসাস কুমিল্লা মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংগীতশিল্পী ইসতিয়াক আহমেদ পল্লব, আবৃত্তিশিল্পী মাহতাব সোহেল, সংরাইশ সালেহা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন মোল্লা, পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. দুলাল, মো. নজির আহমেদ, এমভি একাডেমির ম্যানেজমেন্ট কো-অর্ডিনেটর আরফাতুল চৌধুরী বাবু, একাডেমিক হেড সাহাবুদ্দিন আহমেদ পৃথবীসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয় করেন সাংস্কৃতিক সংগঠক এস.এ.এম আল মামুন।
কুমিল্লা
০১৭১১-৫৮৬৬৫১