‘মাথানত করব না, কারণ আমি কোনো অপরাধ করেনি’

অনলাইন ডেস্ক:

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর এখন কারাগারে। বিষয়টি নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে শোবিজ অঙ্গনে। যেহেতু মামলার বাদী-বিবাদী উভয়ই একই অঙ্গনের মানুষ। তাই সমাঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিস্পত্তির পক্ষে মতামত দিয়েছেন অনেকে। তাছাড়া আসিফ শারীরীকভাবেও সুস্থ নন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এই অবস্থায় আসিফ কি সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করতে চান কিনা জানতে চাওয়া হলে আসিফের স্ত্রী কোন কথা বলতে রাজি হননি।

তবে তার পরিবারের একজন জানিয়েছন, আসিফের সাথে ৭ জুন দেখা হয়েছিল তাদের। আপোস-মীমাংসা কথা বললে আসিফ বলেছেন, ‘কোনো ধরনের মাথানত করব না। কারণ আমি কোনো অপরাধ করিনি।’ আর এ কথা আদালতে বিচারকের সামনেও বলেছেন বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর তেজগাঁও থানায় শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল মগবাজারে অবস্থিত অফিস থেকে আসিফকে গ্রেপ্তার করে।পরদিন বুধবার তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রলয় রায়। ঘটনার বৃত্তান্ত জানতে আসিফকে পাঁচ দিন হেফাজতে (রিমান্ডে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন দাখিল করেন প্রলয় রায়। বেলা ২টার দিকে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরীর এজলাসে শুনানি শেষে রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

আসিফের বিরুদ্ধে করা মামলায় শফিক তুহিন উল্লেখ করেছেন, গত ১ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর তার অনুমতি ছাড়াই তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করে অসাধুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে।

এরপর শফিক তুহিন গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন।

পরের লাইভ ভিডিওতে আসিফ অবমাননাকর, অশালীন বক্তব্য দেন। এ ছাড়া শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দেন। এতে শফিক তুহিনের মানহানি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *