অবশেষে তাসপিয়ার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক:

লাশ উদ্ধারের পর থেকে সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসপিয়া ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। সোশ্যাল মিডিয়াসহ প্রায় সব মিডিয়াতেই এখন আলোচিত খবর তাসপিয়া-আদনানের কিশোর বয়সের প্রেম কাহিনীর করুণ পরিণতি।

আলোচিত এই মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে তদন্তকারী পুলিশ সদস্যরা। কারণ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সিসি টিভির ফুটেজ হাতে পেয়েছে তারা। সেগুলো পর্যালোচনায় বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে এসেছে। এখন অপেক্ষা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের। এটি পেলেই তাসপিয়া আত্মহত্যা করেছে, নাকি হত্যার শিকার তার রহস্য জানা যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ।

সূত্র জানায়, নগরীর চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির একাধিক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এছাড়া নগরের সন্দেহভাজন বেশ কিছু এলাকা ও তাসপিয়াদের বাসার সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাসপিয়া আমিনকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে কারা নিয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তারও তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। কিন্তু, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (ভিসেরা ও সিআইডি) হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছে না তদন্তকারী পুলিশ।

তাসপিয়ার বাসার সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ১ মে বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় তাসপিয়া। এরপর আর ফেরেনি। বাসার নিরাপত্তারক্ষী লোকমান হোসেনও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একই তথ্য দিয়েছেন।

আর নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তাসপিয়া ও তার বন্ধু আদনান মির্জা সেখানে প্রবেশ করে। এরপর সন্ধ্যা ছয়টা ৩৭ মিনিটের দিকে তারা একসঙ্গে বেরিয়ে যায়।

এরপর তাসপিয়াকে একটি সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে দিয়ে আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় তার পিছু নেয় আদনান।

সন্ধ্যা ছয়টা ৪৮ মিনিটে ওআর নিজাম রোডে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাসফিয়ার বাসার গলির খানিক সামনে ধীরগতিতে চলছিল সিএনজি অটোরিকশাটি। বাসায় যেতে হলে ওয়েলফুড রেস্টুরেন্টের সামনের পথ পাড়ি দিয়ে মেডিকেল সেন্টারের গলি দিয়ে ঢোকার কথা। কিন্তু, সে পথে যায়নি তাসপিয়াকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি। একই সিএনজি অটোরিকশাতে রাত আটটা ১০ মিনিটে তাসপিয়াকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতপাড়ে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে সিএমপির পুলিশের এক কর্মকর্ত জানান, ঢাকা থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই সব কিছু জানানো হবে। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। যতটুকু জেনেছি তাসপিয়ার কাছে কোনো টাকা ছিল না। তাহলে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া কে দিল?

উল্লেখ্য, গত ২ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়া তাসপিয়ার লাশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে বুধবার তাসপিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই কিশোরীর ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। নিহত তাসপিয়ার পিঠজুড়ে পাওয়া গেছে নির্যাতনের ছাপ। কিশোরীটির পিঠ, বুক ও স্পর্শকাতর অঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে ভয়াবহ নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটোও যেন নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ।

এ ঘটনায় ৩ মে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় তাসপিয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আদনান মির্জা মামলার আসামি ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচ কিডস’ নামের গ্যাংস্টারের (এডমিন) প্রধান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাংস্টারের সদস্য- শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও সোহায়েল প্রকাশ সোহেল।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *