Category: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

  • কুমিল্লায় হাসপাতালের সরকারি ঔষধ যে ভাবে বাহিরে চলে যায়

     

    (আবু সুফিয়ান রাসেল, কুমিল্লা)
    কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল লাখো রোগীর ভরসাস্থল। বৃহত্তর এ হাসপাতালে নেই কোন তথ্য কেন্দ্র, নতুন রোগীদের জন্য টিকেট কাউন্টার, ডাক্তারের রুম, বিভিন্ন ওয়ার্ড, বিভিন্ন বিভাগ খুঁজে বের করা কঠিন কাজ।

    এর মাঝে হাসপাতালের ঔষধ বিতরণ কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে পুরাতন ভবনের এমন এক কর্ণারে যা, প্রথম কেউ হাসপাতালে গেলে তার জন্য খুঁজে বেরকরা মুশকিল। হাসপাতালের ঔষধ সরকারি ভাবে দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্য ঔষধ দেওয়ার কথা থাকলেও তা দরিদ্র রোগীরা পাচ্ছে না।

    গরিব রোগীরা ডাক্তারের নিকট কাকুতি মিনতি করে সরকারি ঔষধের স্লিপ নেন। প্রায় সময় দেখা যায়, ঔষধ বিতরণ কেন্দ্র সে ঔষধ নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ২১৬ নম্বর রুমের ওয়ার্ড বয়ের নিকট রয়েছে।

    কয়েক ভান্ডেল ঔষধ বিতরণের টোকেন , যে কাগজে ডাক্তারের সিল দেওয়া আছে। হাসপাতালের কর্মচারীরা আসেন দামি ঔষধগুলো নাম লিখে ডাক্তারের স্বাক্ষর নকল করে বা যে কোন ডাক্তার থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে, সরকারি ঔষধ বাহিরে ফার্মেসীতে বিক্রি করেন।

    সাম্প্রতিক বর্হিবিভাগের এক চিকিৎসককে দেখা যায়, ধারাবাহিক ভাবে একাধিক কর্মচারির স্লিপে ঔষধের অনুমোদন দিতে। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে ঔষধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায়। আর কেউ অতিরিক্ত ঔষধ নিয়ে বাহিরে বিক্রি করে।ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া টোকেনে অতিরিক্ত ঔষধ কেন দেওয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে ঐ ডাক্তার বলেন, হাসপাতালের স্টাফরা একটু বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। আগে ঔষধ নিয়ে বাসায় রেখে দেয়, যখন প্রয়োজন হয়, তখন খায়। (মোবাইল অডিও রেকর্ড থেকে ধারণকৃত)

    এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারি জানান, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কারো অগ্রিম ঔষধ দেওয়ার বা নেওয়ার অধিকার নেই। এটা অন্যায়। আমরা খোঁজ নিয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

  • কুমিল্লাসহ সারা দেশে হোমিও চিকিৎসা ও শিক্ষার নামে কি হচ্ছে ?

    (অাবু সুফিয়ান রাসেল, কুমিল্লা )
    কুমিল্লা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বার্ষিক প্রকাশনা “সুস্বাস্থ্য ২০১৭ কুমিল্লা”  মধ্যে কুমিল্লায় সরকার অনুমদিত  সকল সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল, কলেজ, ক্লিনিকের তালিকা প্রকাশ করেছে। এ প্রকাশনায় নেই সনাতনপ্রথার চিকিৎসা হোমিও কলেজের নাম।

    কুমিল্লায় দু’টি হোমিও কলেজ রয়েছে। নাঙ্গলকোট বাদশা অামেনা হোমিও কলেজ, হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,  পুরাতন চৌধুরীপাড়া, কুমিল্লা। সম্প্রতি একই রোগী একই রোগ নিয়ে তিনজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে গেলে, তিন জনের পরামর্শ তিন রকম হয়। ফলে অালোচনায় চলে অাসে হোমিও চিকিৎসা। ।

    একজন সুস্থ ব্যাক্তির শরীরে যে ওষুধ প্রয়োগ করলে তার মধ্যে যে লক্ষণ দেখা দেয়, সে ঔষুধ অসুস্থ ব্যক্তির উপরে প্রয়োগ করলে তা অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোগ নিরাময়ের কাজ করে। হ্যানিম্যানের  এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। হ্যানিম্যানের বিশ্বাস সকল অসুখের মূলে রয়েছে “মিয়াসম” নামক একধরনের প্রতিক্রিয়া এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধ এই মিয়াসম দূর করার জন্য কার্যকর।

    হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মূলনীতিকে অনেক আগেই বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল প্রমানিত করা হয়েছে এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও খুঁজে পাওয়া যায়নি।যদিও কিছু কিছু গবেষণায় এর কার্যকারিতার পক্ষে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এবং বৈজ্ঞানিক মহলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে অবৈজ্ঞানিক, আজগুবি আর হাতুড়ে চিকিৎসা হিসেবে গন্য করা হয়। রোগী চিকিৎসায় এর প্রয়োগের নীতিহীনতা বিজ্ঞানীরা সমালোচনা করে থাকেন এবং অনেকেই একে প্রতারণার সামিল মনে করেন।
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৯ সালে একটি বিবৃতিতে জানায় যে, হোমিওপ্যাথি কোনো বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা নয়।

    ভারত ও বাংলাদেশে এক শতাব্দীপূর্ব থেকে এই চিকিৎসা চলছে। বাংলা ভাষায় বহু বই রয়েছে এ বিষয়ে যার উপর ভিত্তি করে চলে এ চিকিৎসা। বাংলাদেশে প্রচলিত হোমিও শিক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে রয়েছে নানা সমালোচনা ও অব্যবস্থাপনা।

    হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার উপরেই নির্ভর করেন এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। হোমিওপ্যাথি ভক্তদের বক্তব্য এটা খুব ধীরে কাজ করে ও সঠিক কাজটা পরিপূর্ণভাবে করে। ম্যাটস, মেডিকেল, প্যারামেডিক্যাল সহ চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে কোন শাখায় পড়ার জন্য বিজ্ঞান বিভাগ বাধ্যতামূলক হলেও হোমিও চিকিৎসার জন্য এমন কোন ধরা বাঁধা অাইন নেই। নেই বয়সের কোন হিসাব নিকাশ,  দেখা যায় একই ব্যাচে দাদা-নাতি ভর্তি হতে। রয়েছে পাঠ্যক্রম ও পাঠপুস্তক নিয়ে নানা প্রশ্ন।

    কিন্তু বছরের পর বছর বের হচ্ছে কয়েক হাজার ডাক্তার। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে, গ্রামে গঞ্জে রয়েছে অগণিক হোমিও  ডাক্তার।  অভিযোগ রয়েছে বছরের শুরুতে ভর্তি আর বছরের শেষে গিয়ে পরীক্ষা দিলেই হয়ে যায় হোমিও ডাক্তার। টাকা দিলেই পরীক্ষা দেওয়া যায়। ক্লাস করতে হয় না।

    কুমিল্লায় হোমিও কলেজ ও শিক্ষার্থী  সংখ্যা বিষয়ে জানতে চাইলে, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. অাব্দুল মজিদ বলেন, হোমিও প্রতিষ্ঠানগুলো বার্ষিক শিক্ষা জরিপে অংশ গ্রহণ করে না। হোমিও শিক্ষা বিষয়ে কোন তথ্য অামাদের দফতরে নেই। একাদিক প্রতিষ্ঠানে একই সাথে ভর্তি বিষয়ে তিনি জানান, এটা বেঅাইনি।

    হোমিও অধ্যাপক ফারভীন সুলতানা মনে করেন, সরকার যদি এ্যালেপাথির মত, হোমিও চিকিৎসার প্রতি গুরুত্বরোপ করেন, তাহলে এ বিভাগ থেকেও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। প্রতি জেলায় একটি করে সরকারি হোমিও কলেজ স্থাপন করলে মানুষ সহজে চিকিৎসা পাবে।

    হোমিও ৩য় বর্ষের ছাত্র হাফেজ রুহুল অামিন বলেন, এখন পর্যন্ত এ্যালেপাথির পার্শপতিক্রিয়া কারণে বহু ঔষধ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে হোমিওর কোন ঔষধ নিষিদ্ধ হয়নি। কারণ হোমিও ঔষধে কোন পার্শপতিক্রিয়া নেই।

    দেশের সকল শিক্ষাব্যবস্থা ফল প্রকাশে গ্রেডিং/ ডিভিশন পদ্ধতিতে হয়ে থাকলেও হোমিও ডাক্তারদের ফল প্রকাশ হয় পাশ বা ফেল। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে রোগীকে ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়া ব্যধ্যতামূলক হলে ও বেশির ভাগ হোমিও ডাক্তার ব্যবস্থাপত্র না দিয়ে সরাসরি ঔষধ দিয়ে দেন।

    ফলে রোগী ঐ ডাক্তারের নিকট জিম্মি হয়ে যায়। অন্য ডাক্তারের নিকট চাইলেও যেতে পারে না। অাবার ডাক্তার যদি ভুল ঔষধ দিয়ে থাকেন, তার ও কোন প্রামাণ থাকে না। অভিযোগ রয়েছে ক্লাস না করে, ইন্টির্ণ শেষ না করে, বসে যান বানিজ্যিক
    হোমিও দোকান নিয়ে।

    কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাক্তার মাহবুবুল ইসলাম মজুমদার জানান, হোমিওর জন্ম জার্মানিতে তবে তারা এ চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করেনি। এবং এমবিবিএস কোর্সে হোমিও মেডিসিন নিয়ে কোন অধ্যায় নেই। তিনি মনে করেন হোমিওর কিছু ঔষধের কার্যকারিতা অাছে। কিছু ঔষধ কোন কাজে অাসে না।

    সারা দেশে ৬৩টি অনুমধিত হোমিও কলেজ রয়েছে।  হোমিও বোর্ড ও চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে জানতে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করেও বাংলাদেশ হোমিও বোর্ড কর্মকর্তাদের  সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা স্থাপন করা যায়নি। বোর্ড টিনটি নম্বরে কল দিলে কেউ রিসিভ করেনি। বোর্ড ওয়েবসাইটে প্রদত্ত নম্বর প্রশাসনিক কর্মকর্তার নম্বর কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ফোন রিসিভ করেননি। সেকশন অফিসার মোবাইল রিভিব করলেও এ বিষয় তার দায়িত্ব না বলে মন্তব্য করেন। এবং সরাসরি বোর্ডে গিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার জন্য বলেন।

    এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, হোমিও প্রতিষ্ঠানগুলো অামাদের দায়িত্বে নেই। হোমিও স্বতন্ত্র বোর্ড রয়েছে। তারা দেখাশোনা করে। হোমিও চিকিৎসকরা নামের শুরুতে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করার বিষয়ে তিনি বলেন, এমবিবিএস কোর্স ব্যতিত অন্য কোন কোর্স করে নামের শুরুতে ডাক্তার ব্যবহার করা যাবে না। যদি হোমিও চিকিৎসকরা ডাক্তার ব্যবহার করে, তাহলে ব্রাকেটে ডিএইসএমএস বা হোমিও শব্দ রাখতে হবে। যেন সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত না হয়।

  • চোখের পাতা লাফায় কেন?

    অনলাইন ডেস্ক:

    তুলির বাম চোখের পাতা ধরে লাফাচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। তীব্র দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে তার। কারণ সবাই বলে, বাম চোখ লাফালে নাকি খারাপ কিছু ঘটে। আর চিন্তাটা তা নিয়েই। সারাক্ষণই মনে হচ্ছে এই বুঝি কিছু ঘটবে! মোবাইল ফোন বাজলে বা দরজার কলিং বেল বাজলে বুকটা ধক করে উঠছে, কোনো দুঃসংবাদ আসেনি তো? এরকম অবস্থায় এক বিকেলে গরম চা পড়ে হাত পুড়ে যায় তুলির।

    তুলির হাত পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় আপনার মধ্যেও কি প্রচলিত কুসংস্কারটি নড়ে উঠল? মনে রাখবেন বাম চোখ লাফালে বিপদ আসে এটা স্রেফ কুসংস্কার। চোখ লাফানো একটি শারীরিক প্রক্রিয়া। তুলির হাতে চা পড়ার ঘটনার সঙ্গে তার অসাবধনতা বা মানসিক অস্থিরতা দায়ী। অথচ এভাবেই একটি ভ্রান্ত ধারণা কখনো কখনো বিশ্বাসে পরিণত হয়ে যেতে পারে।

    চোখের পাতা লাফানো এক ধরনের অসুখ। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে ‘মায়োকিমিয়া’ (Myokymia)। মূলত পেশীর সংকোচনের কারণেই চোখের পাতা লাফায়। দুই-একবার হঠাৎ চোখের পাতা লাফালে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু সেটা যদি মাত্রাতিরিক্ত হয় এবং তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

    চোখের পাতা লাফানোর কয়েকটি কারণ:

    মানসিক চাপ: আমরা যখন কঠিন মানসিক চাপের ভেতর দিয়ে যাই তখন শরীর বিভিন্ন উপায়ে তার প্রতিক্রিয়া দেখায়। চোখের পাতা লাফানো মানসিক চাপের লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।

    ক্লান্তি: পরিমিত ঘুমের অভাব বা অন্য কোন কারণে ক্লান্তি থেকেও চোখের পাতা লাফানো শুরু হতে পারে। ঘুমের অভাবে চোখের পাতা লাফালে পরিমিত ঘুম হলেই সেরে যাবে।

    দৃষ্টি সমস্যা: দৃষ্টিগত কোন সমস্যা থাকলে চোখের উপর চাপ পড়তে পারে। টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনের স্ক্রীনের আলোও চোখের দৃষ্টিতে প্রভাব ফেলতে পারে। আর এই সব সমস্যা থেকে চোখের পাতা লাফানো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    ক্যাফিন এবং অ্যালকোহল: অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন ক্যাফিন এবং অ্যালকোহল অতিরিক্ত সেবনে চোখের পাতা লাফাতে পারে। তাই ক্যাফিন এবং অ্যালকোহলের ব্যবহার মাত্রা কমিয়ে এনে এ সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব।

    চোখের শুষ্কতা: কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে, অতিরিক্ত অ্যালকোহলের প্রভাবে, চোখে কন্ট্যাক্ট ল্যান্স ঠিকমতো না বসলে কিংবা বয়স জনিত কারণে চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। চোখের শুষ্কতা চোখের পাতা লাফানোর জন্য দায়ী বলে চক্ষু চিকিৎসকরা মনে করেন।

    পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা: কিছু কিছু প্রতিবেদনে পুষ্টির ভারসাম্যহীনতাকে চোখের পাতা লাফানোর একটি কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব জনিত কারণে এমনটি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

    এলার্জি: যাদের চোখে এলার্জি আছে, তারা চোখ চুলকায় বা হাত দিয়ে ঘষে; ফলে চোখ থেকে পানির সাথে কিছুটা হিস্টামিনও নির্গত হয়। ধারণা করা হয় হিস্টামিন চোখের পাতা লাফানোর জন্য দায়ী।

    চোখের পাতা লাফানোর উপর ভালো বা মন্দ সংবাদের কোনটিই জড়িত না থাকলেও যদি মাত্রাতিরিক্ত চোখের পাতা লাফায় তবে সেটি আপনাকে মন্দ সংবাদই দেবে যে, আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে সেটা অবশ্যই হবে সুসংবাদ। সুস্থ থাকুন।

  • যে বদঅভ্যাস গুলো কিডনিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

    অনলাইন ডেস্ক :
    আপনার বদঅভ্যাস কি কিডনিকে ধ্বংস করছে? শরীরে কোনো বিষাক্ত বর্জ্য জমতে দেয় না কিডনি। তাই কিডনি আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। প্রতিদিন আমাদের দুটি কিডনি ১২০-১৫০ কোয়ার্ট রক্ত, বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল ফিল্টার করে ১-২ কোয়ার্ট পেশাব উৎপাদন করে। ইলেকট্রোলাইট নিয়ন্ত্রণ এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখার হরমোন উৎপাদনও করে কিডনি। এছাড়া লাল রক্ত কনিকা উৎপাদন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে কিডনি।

    এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কীভাবে ভালো থাকবে তা জানাটা যে জরুরি সেটা বলাই বাহুল্য। এখানে রইল প্রতিদিনের এমন ১০টি অভ্যাসের বিবরণ যেগুলো আপনার কিডনিকে ধ্বংস করছে।

    ১. অতিরিক্ত মদপান

    প্রতিদিন এক পেগের বেশি মদপান করলে কিডনি বিকল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ অ্যালকোহল কিডনি এবং লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে।

    ২. পেশাব ধরে রাখা

    সময় মতো পেশাব না করে তা চেপে রাখলে কিডনির ওপর যে চাপ পড়ে তার ফলে কিডনি বিকল হওয়া এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার মতো বিপদ ডেকে আনতে পারে।

    ৩. পর্যাপ্ত পানি পান না করা

    আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করেন তাহলে দেহ থেকে যেসব বর্জ্য এবং বিষ বের হয়ে যাওয়ার কথা ছিল সেসব না বের হয়ে জমা হতে থাকবে। যার ফলে কিডনির মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    ৪. অতিরিক্ত চিনি খাওয়া

    গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দুইবাবের বেশি মিষ্টি পানীয় পান করেন তাদের পেশাবে প্রোটিন দেখা দেয়। কিডনি বিকল হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি এটি।

    ৫. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া

    শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করলে কিডনি ড্যামেজ হতে পারে। কারণ তা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

    ৬. ঘুম কম হওয়া

    দীর্ঘদিন ধরে ঘুম কম হলে কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। কেননা কিডনিতে দিনের বেলায় যে ড্যামেজ হয় তা মেরামতের জন্য রাতে ভালো ঘুম দরকার হয়।

    ৭. ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

    আপনি যেসব খাবার খান সেসবের ওপরই কিডনির ভালো থাকা না থাকার বিষয়টি নির্ভর করে। আপনার শরীরে যদি ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ এর ঘাটতি থাকে তাহলে আপনার দেহ ঠিকঠাক মতো কাজ করবে না।

    ৮. অতিরিক্ত কফি পান

    ক্যাফেইন কিডনির ওপর চাপ এবং রক্তচাপ বাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কফি পান করলে কিডনি বিকল হয়ে পড়তে পারে।

    ৯. ব্যাথানাশক ওষুধের অপব্যবহার

    যন্ত্রণা এবং ব্যাথা দূর করার জন্য যেসব ওষুধ সেবন করা হয় সেসবের বেশ কয়েকটিতে আছে বিপজ্জনক সব রাসায়নিক। যা থেকে দেহে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এসবের ওষুধের মারাত্মক ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর একটি হলো কিডনি এবং লিভার ধ্বংস।

    ১০. অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়া

    লাল মাংসের মতো প্রাণিজ প্রোটিন বেশি খাওয়ার ফলে কিডনির বিপাকীয় প্রক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। সুতরাং লাল মাংস না খাওয়াই কিডনি ভালো রাখার উপায়।