Category: সিটি নিউজ

  • কুমিল্লায় পেটের ভেতর করে ইয়াবা পাচার; সাড়ে ১৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৪

    (আদর্শ সদর প্রতিনিধি, কুমিল্লা)

    কুমিল্লায় বিশেষ অভিযানে সাড়ে ১৪ হাজার ৫ শ ৬৫ পিস ইয়াবাসহ ৪ জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) । যার মধ্যেই দুই জনের পেটের ভেতর মিলেছে ৮ হাজার ৬৫ পিস ইয়াবা । বুধবার (২ জুন) সন্ধ্যায় আমতলী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‍্যাব-১১ সিপিসি ২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব

    আটকৃত হলেন, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানার বাম্বুলাপাড়া গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে মো. আবুল কাশেম (৩০), মাদারীপুরের সদর উপজেলার কুমড়াখালী গ্রামের দেলোয়ার শেখের ছেলে মো. রনি শেখ (২১), কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানার হায়দারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মফিজ আলম (৩২) ও বান্দরবানের লামা থানার ইআনছা গ্রামের আবু ফয়েজের ছেলে মো. মুজিবুল্লাহ (৩৫)।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-১১ সিপিসি ২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব বলেন, আমতলী বিশ্বরোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা চারজনকে আটক করেছি। তার মধ্যে আটককৃত মফিজের পেটের ভেতর থেকে ৫ হাজার পিস, মুজিবুল্লাহর পেট থেকে ৩ হাজার ৬৫ পিস বের করা হয়
    প্রাথমিক অনুসন্ধান জানা গেছে তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে । মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ভারত ফেরতদের জ্বালায় পাগল হয়ে যাচ্ছে কুমিল্লার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা !

    (অমিত মজুমদার , কুমিল্লা)

    করোনার ভারতীয় ধরন রোধে ভারতফেরতদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চাচ্ছেন না অনেকেই, তবে পুলিশি পাহারাসহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কঠোর নজরদারি কারণে কোনো অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। এ সুযোগে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় দাবি করছেন যা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

    কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, যারা কোয়ারেন্টাইনে আছেন তারা মনে করছেন আমরা তাদের আটকে রাখছি। তারা মধ্যরাতে ফোন করে বলেন, তাদের বাথরুমে লো কমোড, দ্রুত হাই কমোডের ব্যবস্থা করুন। রাত ১০টায় ফোন করে বলেন, আমার স্যুপ খেতে হবে। প্রথমে এসি রুমে থাকতে চাইলে পরে আবার বলে এত টাকা ভাড়া দিতে পারব না, কম টাকার রুমে দেন। ১৪ দিনে দুই বার করোনা টেস্ট করাতে তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের টাকাও দিতে রাজি নয়।

    তিনি আরও বলেন, রাত দুইটা, তিনটা, নিশিরাতে ফোন করে ঘুম ভাঙায়। আমরা তাদের ফোনে পাগল হয়ে যাচ্ছি, এমন দিন গেছে আমি এক দিনে ৯৬টি কল ধরেছি। যার বেশির ভাগ ছিল অন্যায় আবদার। দেশ ও নিজের পরিবারের স্বার্থে তারা ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চাচ্ছে না যা দুঃখজনক। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। সেক্ষেত্রে কুমিল্লায় ভারত থেকে আসা কেউ এখনো পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হননি। বর্তমানে ৯টি হোটেলে ২৯৪ জন কোয়ারেন্টাইন আছেন। সকলের সহযোগিতা না পেলে আমার করোনা প্রতিরোধে সফল হতে পারব না।

    আবাসিক হোটেল ভিক্টোরির কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, কোয়ারেন্টাইনে ১০-১২ দিন হলে তারা নানা অজুহাতে বের হতে চায়। মূলত একটি রুমে বসে থাকতে থাকতে অনেকে বিরক্ত হয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার দাবি জানান। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারির কারণে তারা অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে অনেকে হোটেল ভাড়া দিতে চাচ্ছে না, ছোট-খাট সমস্যা হলে প্রশাসনকে জানালে তারা সমাধান করে দেন।

    রাতে হাই কমোড চাওয়া ভারতফেরত তমা ভৌমিক জানান, আমার বাবা-মা দুইজনই খুব অসুস্থ। তাদের চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশ এসেছি। আমার মা বয়স্ক মানুষ, হাই কমোড ছাড়া টয়লেটে যেতে পারে না। আমরা যে হোটেলে উঠেছি সেখানে হাই কমোড ছিল না। আমরা যেহেতু বের হতে পারছি না তাই তাদের অনুরোধ করেছি। বয়স্ক মায়ের জন্য হাই কমোড চাওয়া কী আমার অপরাধ?

    তিনি আরও বলেন, অন্যান্য জেলাতে শুনেছি হোটেল ভাড়া ডিসকাউন্ট দিচ্ছে, কিন্তু আমরা এক টাকাও ডিসকাউন্ট পাইনি। ভারতে চিকিৎসার খরচ বহন করে এত টাকা হোটেল ভাড়া ও খাবার খরচ আমাদের জন্য কষ্টকর ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোয়ারেন্টাইনে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, আমি ঋণ করে ভারত গিয়েছি চিকিৎসা করার জন্য। এখন বাংলাদেশে ফিরে ১৪ দিন হোটেলে কোয়ারেন্টাইন থাকার ব্যয় ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আত্মীয় স্বজন থেকে বিকাশ-রকেটের মাধ্যমে টাকা এনে হোটেল ভাড়া পরিশোধ করছি। আগে তো প্রবাসফেরতরা বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন করতেন, আমরা করলে সমস্যা কোথায়?

    কুমিল্লার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসেন জানান, তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। কোয়ারেন্টাইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। তাদের পুলিশ প্রশাসন ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রেখেছেন। ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই কুমিল্লার পাঁচটি সীমান্তবর্তী উপজেলায় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিজিবির যৌথ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

  • করোনা আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন উজ্জ্বল দে!

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ এর সহসভাপতি সফল ব্যবসায়ী উজ্জ্বল দে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

    মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় ভারতের আগরতলার একটি হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

    তাঁর অকাল মৃত্যুতে পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি শ্রী শিব প্রসাদ রায় ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী অচিন্ত্য দাস টিটু সহ কুমিল্লা মহানগর পরিবারের সকল সদস্য তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোকতপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগরের দপ্তর সম্পাদক পিংকু চন্দ।

    মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৬। ভ্রমনপ্রিয় এই মানুষটি স্ত্রী, ২ কন্যা এবং ২ বৎসর বয়সী ১ পুত্র সন্তান রেখে যান। বড় মেয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি সেরা কর দাতার পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

  • কুমিল্লায় বিপুল পরিমান পাসপোর্টসহ দালাল চক্রের ৭ সদস্য আটক


    (অমিত মজুমদার, কুমিল্লা)
    কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট, নকল সিলমোহর ও নগদ টাকা উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এসময় পাসপোর্ট দালাল চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
     র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের একটি দল মঙ্গলবার (১ জুন) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত নগরীর শাসনগাছা ও নোয়াপাড়া এলাকায় পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করে।
    গ্রেফতারকৃত দালালরা হচ্ছে, কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া  তেতাভূমি গ্রামের মোঃ কানু মিয়ার ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন (২৫),  নগরীর নোয়াপাড়া এলাকার  জিন্নাহ এর ছেলে নিয়াজ মোর্শেদ পল্লব (২৩),  মনোহরপুর এলাকার সতীশ চন্দ্র এর ছেলে রতন চন্দ্র (৩৮),  শাসনগাছা এলাকার আবুল কাশেম এর ছেলে মোঃ গোলাম সারোয়ার (৩৬),  তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ এর ছেলে শাহাবুদ্দিন (৫০),  দেবিদ্বার উপজেলার বইশেরকোট গ্রামের মোঃ নুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম (৩০) ও  কোতয়ালি থানার অলিপুর উত্তর পাড়ার মৃত কাজী আব্দুল খালেক এর ছেলে কাজী আবু আল ফেরদৌস (৫৫)।

    র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর শাসনগাছা ও নোয়াপাড়া  এলাকায় অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের সক্রিয় ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের নিকট থেকে মোট ১শ ৩ টি পাসপোর্ট, নগদ ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮শ টাকাসহ পাসপোর্ট তৈরির বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র, নকল সীলমোহর, কম্পিউটার,ল্যাপটপ, প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়েছে। 

    তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে গ্রেফতারকৃত আসামীরা সকলেই পাসপোর্ট দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে এবং তারা দীর্ঘদিন যাবৎ পাসপোর্ট তৈরী করে দেওয়ার নাম করে ভূক্তভোগী লোকজনের নিকট থেকে সরকার নির্ধারিত রেট এর অধিক বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিত বলে স্বীকার করছে।
    তাদের কাছে টাকা জমা দিলে তারা নকল সীলমোহর ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে সরবরাহ করেছে।  পাসপোর্ট দালাল নির্মূলে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
    গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে  কোতয়ালি থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে।

  • সদ্য প্রয়াত প্রবীণ চিকিৎসক এম এস আলমের কুলখানি অনুষ্ঠিত

    সদ্য প্রয়াত প্রবীণ চিকিৎসক এম এস আলমের কুলখানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বাদ আছর নগরীর মডার্ন কমিউনিটি সেন্টারে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা করেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট আফজল খান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন আহম্মদ, বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ মোস্তফা কামাল আজাদ, বি এম এ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আতাউর রহমান জসিম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনুল ইসলাম, সদস্য জাকির হোসেন, জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সস্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল বারী হিরুসহ আরো অনেকে।

    এসময় এডভোকেট আফজাল খান বলেন, এম এস আলম একজন মানবিক চিকিৎসক ছিলেন। অর্থ কখনোই তাঁর কাছে মূখ্য ছিল না। চিকিৎসাকে তিনি ব্রত হিসাবে নিয়েছিলেন।

    সাবেক অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন আহম্মদ বলেন, তাঁর পড়া শোনার গভীরতা ছিল। নেশাও ছিল। তিনি শুধু চিকিৎসার বই পড়তেন না, ধর্মীয় বিষয়েও তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল।

    অধ্যক্ষ আজাদ বলেন, এম এস আলম একজন মেডিসিন চিকিৎসকই ছিলেন না তিনি মানসিক চিকিৎসক ছিলেন। তিনি এক জন বিজ্ঞান মনস্ক চিকিৎসক ও ছিলেন। বৈজ্ঞানিক সেমিনারে সব বক্তার পর সারাংশ টুকু চিকিৎসাদের বুঝিয়ে দিতেন।

    বি এম এর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আতাউর রহমান জসিম বলেন, বিএম এর জন্য তার যথেষ্ট অবদান ছিল। তিনি চিকিৎসকদের চিকিৎসা ছিলেন। দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় নগরীর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

  • কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত মায়ের সন্তান প্রসব; বাঁচানো গেল না কাউকে !

    কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনায় ইউনিটে ঘন্টার ব্যবধানে  করোনা আক্রান্ত মা  ফারজানা আক্তার (২৭) ও তার সদ্য জন্ম নেয়া নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।  

    জানা যায়, গত ১৭ মে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের হরিশাপুর গ্রামরে সোহেল পাটোয়ারীর স্ত্রী ফারজানা আক্তার অন্তসত্ত্বা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১০ দিন ধরে আইসিওতে  চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ৩০ মে  রাতে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান জন্ম দেন তিনি। পরবর্তবতীতে  সোমবার (৩১ মে)  ভোর ৫টার দিকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান ফারজানা। এর এক ঘণ্টা পরে সকাল ৬টার দিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে মারা যায় সদ্য জন্ম নেয়া ফারজানার পুত্র সন্তান। মা ও নবজাতকের এমন মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন জানান, করোনায় আক্রান্ত ফারজানা আক্তারের অবস্থা আগে থেকেই মুমূর্ষু ছিলো। যার কারণে আমরা তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা করছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সোমবার ভোর ৫টার দিকে মারা যান তিনি। মায়ের মৃত্যুর এক ঘন্টা পরে সকাল ৬টার দিকে নবজাতক ওয়ার্ডে মারা যায় তার নবজাতক সন্তানটি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ও ফেসবুকে লেখা হচ্ছে, শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে করোনা আক্রান্ত মায়ের মৃত্যু হয়েছে।  বিষয়টি সত্য নয়,  আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিল ফারজানা, তিনি মারা যাওয়ার এক ঘন্টা পর শিশুটি মারা যায় ।

    শিশুটির মৃত্যুর কারন সম্পর্কে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডা.আসিফ ইকবাল জানান, জন্মের পর নবজাতকটির ওজন ছিলো মাত্র সাড়ে ৭ শ’ গ্রাম। মাত্র ২৪ সপ্তাহে প্রসব হওয়ায় নবজাতকটি ‘ইনমেচিউরড’ ছিলো। কিন্তু আমাদের শত চেষ্টার পরেও নবজাতকটি মারা যায়।

    করোনায় মৃত্যুদের  দাফন সংগঠন বিবেক টিমের প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, করোনাকালীন সময়ে এমন হৃদয় বিধারক  অনেক মৃত্যুর স্বাক্ষী হয়েছি।  তার মধ্যে মা শিশুর মৃত্যু আমাদেরকে কাঁদিয়েছে।  মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে এসে বিবেকের নারী সদস্যরা ওই নারীর গোসল সম্পন্ন করে। সকাল সাড়ে ৮টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গনে জানাজা শেষে মরদেহ গাড়িতে তুলে দেয়া হয়।’দুপুরে ওই মা ও তার সন্তানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে ।

  • মোবাইলে পরিচয় ; কুমিল্লায় দেখা করতে এসে অপহরণ চক্রের খপ্পরে যুবক! (ভিডিও)

    কুমিল্লা প্রতিনিধি:
    রং নাম্বারে প্রেমের ফাঁদ ফেলে চৌদ্দগ্রামের  ইয়াছিন মিয়াকে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি করায় অপহরন চক্রের ৩ নারীসহ ৬ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা ( ডিবি)।
    রবিবার (৩০ মে) বিকালে কুমিল্লা নগরীর গোবিন্দপুরের ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
    অপহরণ চক্রের মধ্যে আটককৃতরা হলেন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার দিশাবন্দ এলাকার সাহেব আলীর ছেলে জুম্মন মিয়া, নগরীর দক্ষিণ চর্থা মাস্টার বাড়ির কানু মিয়ার ছেলে মাহবুব মিয়া, কুমিল্লা সদর উপজেলার ঝাকুনিপাড়া চাপাপুর এলাকার এলাকার মোস্তফার ছেলে রাসেল, নগরীর সংরাইশ এলাকার আলমের স্ত্রী আরজু বেগম, নূরপুর এলাকার সুমনের স্ত্রী সেলিনা আক্তার, নবগ্রাম এলাকার মো.সুমনের স্ত্রী জোৎনা বেগম।  উদ্ধার করা অপহরনের শিকার ইয়াছিন চৌদ্দগ্রাম শ্রীপুর  বাগৈগ্রামের আকমত আলীর ছেলে। সে পেশায় রঙ মিস্ত্রী। 
    অভিযানে নেতৃত্বে থাকা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) এলআইসি টিমের এস আই পরিমল চন্দ্র দাস পিপিএম বলেন, এই অপহরন চক্রের নারী সদস্য পূর্পরিকল্পিত ভাবে ইয়াছিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং কুমিল্লা শহরে এসে দেখা করা অনুরোধ করে। রবিবার সকাল ১০টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে কুমিল্লা নগরীতে আসলে টমছমব্রীজ থেকে কৌশলে ইয়াছিনকে ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা ইয়াছিনের স্বজনদের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবার বিষয়টি জেলা ডিবি পুলিশকে অবগত করলে অভিযানে পরিচালনা করে চক্রের ৬ সদস্যে আটক করে। একই সময়ে সেখান থেকে অপহৃত যুবক ইয়াছিনকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে দীর্ঘ দিন ধরে এই চক্র প্রেমের ফাঁদে ফেলে যুবকদের জিম্মি করে মুক্তিপন আদায় করতো।তাদের বিরুদ্ধে অপহরন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 

  • কুমিল্লা নগরীতে ব্যক্তি উদ্যোগে বিধবাদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

    কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে রেইসকোর্সের ছোটন প্যালেসে ব্যক্তি উদ্যোগে অসহায় বিধবা ও প্রতিবন্ধী মহিলাদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। নগরীর ১, ২ এবং ৩ নং ওয়ার্ডের সাম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রোখসানা ইসলাম দুলালী এডভোকেট নাজির আহামেদ মনু এবং ডাক্তার সামিল রায়হান রাফি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। করোনা মহামারীর এই প্রতিকূল মুহূর্তে বিধবা ও প্রতিবন্ধী মহিলারাই সবচেয়ে বেশি মানবতরো জীবন পার করছেন।
    দৈনন্দিন আয় কমে যাওয়ায় ২ বেলা দুই মুঠো নুন্যতম খাবারের যোগান দেয়া ও সম্ভব হচ্ছেনা। এই কঠিন সময়ে একজন ব্যক্তির এক মাসের শুকনা খাবার বিনামূল্যে পেয়ে তাদের চোখে আনন্দ লক্ষ্য করা যায়।


    আয়োজকদের অন্যতম ব্যাক্তি রোখসানা ইসলাম দুলালী বলেন ” সমাজের বিত্তবানরা যদি নিজেদের যায়গা থেকে অসহায় মানুষদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে সমাজ থেকে গরীবি পালাবে”
    খাদ্য সামগ্রী বিতরনের পাশাপাশি একজন কুষ্ঠ রোগীকে চিকিৎসা খরচ বাবদ নগদ অর্থ প্রদান করেন। আগত প্রত্যেক মহিলাকে রাতের খাবার বিতরনের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সমাপ্তি হয়।

    এই কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোজী, রুবি, নিপা ও সাব্বির।

  • কুমিল্লার ১৮ থানার নান্দনিক ডিউটি অফিসার কক্ষ উদ্বোধন করলেন ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন

    কুমিল্লা প্রতিনিধি

    কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষ নান্দনিক ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্বোধন করেছে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন বিপিএম(বার), পিপিএম(বার)।

    রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    থানায় আগত সেবা প্রত্যাশিদের স্বস্তিদায়ক পরিবেশে সেবা প্রদানের প্রয়াসে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    এই সময় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম(বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( প্রশাসন ও অর্থ) কাজী মোঃ আব্দুর রহিম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( জেলা বিশেষ শাখা) মোঃ আফজাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( সদর) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানসহ অন্যান্য উধ্বর্তন কর্মকর্তারা।

  • কুমিল্লায় জিলা স্কুল ছাত্রের হাত-পায়ের রগ কাটলো কিশোর গ্যাং, গ্রেফতার ৪

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    কুমিল্লায় ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার থেকে রিমুভ করায় জিলা স্কুলের ১০ ম শ্রেনীর ছাত্র নওশাদ কবির নাহিদের (১৫) হাত পায়ের রগ কাটার অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় কিশোর গ্যাং ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কোতয়ালি মডেল থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী।

    শুক্রবার রাতে কুমিল্লা নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে আহত নাহিদের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়াতুন্নবী মজুমদার বাদী হয়ে ৭ জনসহ ৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

    পরবর্তীতে শুক্রবার ও শনিবার থানা পুলিশ টানা অভিযান পরিচালনা তাদের গ্রেফতার করে।

    মামলার বিবরনীতে জানা যায়, কুমিল্লা জিলা স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র নওশাদ কবির মজুমদার নাহিদ তার স্কুল বন্ধুদের নিয়ে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ খুলে। নগরীর ‘আরজিএস’ নামের একটি কিশোর গ্যাং সদস্য জাহিদ খান অন্য স্কুলের হওয়ায় তাকে ম্যাসেঞ্জার থেকে রিমুভ করে। এ ঘটনায় কয়েক দিন আগে তাদের সাথে বন্ধুদের তর্ক বিতর্ক হয়। শুক্রবার এ ঘটনায় জের ধরে নাহিদের পথ রোধ করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হাত পায়ের রগ কেটে দেয়।

    এই বিষয়ে আহত নাহিদের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়াতুন্নবী মজুমদার জানান, ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা নরুর রহমান খানের ছেলে জাহিদ খানের নেতৃত্বে ১০-১৫ সদস্যের কিশোর গ্যাং আমার ছেলের উপর হামলা করেছে। সে বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

    কোতয়ালী মডেল থানার এএসআই হান্নান আল মামুন জানান, তিনি ও তার সহকর্মী এএসআই রুবেল মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জাহিদ খানসহ এজাহারনামীয় চার আসামিকে গ্রেফতার করেছি। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।