Category: সিটি নিউজ

  • আবারো করোনা আক্রান্তদের পাশে বিসিবির কাউন্সিলর রনি

    মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা।

    কুমিল্লায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সেই সাথে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সংকট । এমন অবস্থায় আবারো অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাড়ালেন বিসিবির কাউন্সিলর ও কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম রনি।

    শুক্রবার সকালে কুমিল্লা মহানগরীর তালপুকুরপাড়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার সাধারণ সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা ১০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো গ্রহণ করেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো করোনা আক্রান্তদের কাছে পৌছে দেয়া হবে।

    বিসিবির কাউন্সিলর ও কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম রনি জানান, কুমিল্লায় প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। অক্সিজেনের অভাবে অনেক রোগী মারা যাচ্ছে। বিষয়টি খুব বেদনাদায়ক। গত ১ জুলাই আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর করেছি। এখন আবার করোনার সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় আরো ১০ টি সিলিন্ডার হস্তান্তর করেছি। ১০ টি সিলিন্ডারের মধ্যে ৫ টি সিলিন্ডার দিয়েছেন কুমিল্লা ক্রিকেট কমিটির সহ-সভাপতি মোস্তফা হেলাল কবির। যদি প্রয়োজন পড়ে আরো অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করবো।

    কুমিল্লা ক্রিকেট কমিটির সহ-সভাপতি মোস্তফা হেলাল কবির বলেন, অতিমারি করোনার প্রাদুর্ভাবে যারা অসুস্থ হয়েছেন তাদের জন্য সবার এগিয়ে আসা উচিৎ। সেই দায়িত্ববোধ থেকে অক্সিজেন সাপোর্ট নিয়ে আমরা করোনার রোগীদের পাশে দাড়িয়েছি।

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার সাধারণ সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম রনি ও সহ-সভাপতি মোস্তফা হেলাল কবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

    তাহসিন বাহার সূচনা আরো বলেন, জাগ্রত মানবিকতা সবোর্চ্চ অক্সিজেন সাপোর্ট নিয়ে বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। করোনার অতিমারি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করেছি। কুমিল্লা এখন করোনা আক্রান্তে সারা দেশে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে এখন দিতন রাত করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বজনদের ফোন আসে। আর এদিকে ফোন পাওয়া মাত্রই জাগ্রত মানবিকতার ভলিন্টিয়াররা হাসিমুখেই করোনা রোগীদের পাশে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হন।

    ভলিন্টিয়ারদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তাহসিন বাহার সূচনা আরো বলেন, এখন সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তবেই করোনা নিয়ন্ত্রনে আসবে

    উল্লেখ্য, অক্সিজেন পাওয়ার জন্য জাগ্রত মানবিকতার স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে যোগাযোগ করার আহবান করা হচ্ছে।

    শুভ : 01685609642
    তানভীর : 01681600088
    মুন: 01832915744
    তুহিন: 01642157832
    রবিন: 01723666725
    সাজ্জাত : 01676081546
    রিদয় : 01615099888
    বাবু: 01633182579
    সাজিদ: 01917775060
    স্বপ্নিল : 01677720400.

  • কুমিল্লায় ২৪ ঘন্টায় রেকর্ড ৮৩৫ শনাক্তের দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে সর্বোচ্চ ৮৩৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

    সোমবার (২৬ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন এ তথ্য জানান। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আজ ৮৩৫ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।এর মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৬৮ জন, আদর্শ সদর উপজেলার ২৩ জন, সদর দক্ষিণে ২১ জন, বুড়িচংয়ের ৩৫ জন, ব্রাহ্মণপাড়ার ২৩ জন, চান্দিনায় ৪০ জন, চৌদ্দগ্রামের ১৭ জন রয়েছেন।

    এছাড়া দেবিদ্বারে ৫৮ জন, দাউদকান্দির ৬২, লাকসামে ৩৭, লালমাইয়ে ২৩, নাঙ্গলকোটে ৩৬, বরুড়ায় ৩০, মনোহরগঞ্জে ৪৫, মুরাদনগরে ৪৪, মেঘনা ১৩, তিতাসের ২৪ ও হোমনার ৩৬ জন রয়েছেন।

    জেলায় ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মুরাদনগর ২ জন, দেবিদ্বারে ২ জন, চৌদ্দগ্রামে ২ জন, লাকসাম,বরুড়া, নাঙ্গলকোট, দাউদকান্দি একজন করে মারা গেছেন।

    এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছেন। তাদের বয়স ৪১ থেকে ৭২ বছরের মধ্যে। এ নিয়ে কুমিল্লায় সর্বমোট মৃত্যু হয়েছে ৬৭২ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৬৬৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ৭৭২ জন।

  • কুমিল্লায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও গাছের চারা বিতরণ

    জাগো কুমিল্লা ডেস্ক:

    সবুজেই থাকি, সবুজেই বাঁচি এই স্লোগানকে ধারণ করে কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার শিবরামপুর গ্রামে ” প্রাণের শিববরামপুর” এর উদ্যােগে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টায় গ্রামের মানুষের মাঝে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী ও বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় একটি ফলজ ও একটি বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবরামপুর গ্রামের সাবেক প্রধান শিক্ষক শামসুল হক মাস্টার, আবুল কাশেম মাস্টার, রশিদ খন্দকার, আজিজুল হক, রশিদ মিয়া ও হাবিলদার জসিমউদদীন।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আরিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম সজীব, লোকমান হোসেন, আরাফাত আবির, নাজমুল হাসান ভুঁইয়া, ইমন ভুঁইয়া, গোলাম মহিউদ্দিন মাসুদ সহ গ্রামের আরো অনেকে।

    উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ” প্রাণের শিবরামপুর ” আর্তমানবতার সেবার পাশাপাশি গ্রামের সকল শ্রেনীর মানুষকে সাথে নিয়ে গ্রামের গুনগত উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা এবং শিবরামপুরকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ গ্রামে রুপান্তরিত করে সারাদেশের মানুষের কাছে একটা রোলমডেল তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে।

  • কুমেকে আবুল খায়ের গ্রুপের অক্সিজেন রিফিলিং স্টেশন উদ্বোধন

    নিজস্ব প্রতিবেদক।। করোনার অতিমারিতে অক্সিজেন সংকট দূর করতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন রিফিলিং স্টেশন উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় অক্সিজেন রিফিল স্টেশনটি উদ্বোধন করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মহিউদ্দিনের প্রতিনিধি করোনা ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আসিফ ইমরান, ওয়ার্ড মাষ্টার ইলিয়াস হোসেন।

    অক্সিজেন রিফিল স্টেশন উদ্বোধন শেষে কোভিড ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আসিফ ইমরান জানান, করোনাকালে অক্সিজেন সংকট দূর করতে আবুল খায়ের গ্রুপের অক্সিজেন রিফিল স্টেশন চমৎকার ভূমিকা রাখবে। অক্সিজেন স্টেশনটিতে ২০ টি
    ( ৭৫০০ লিঃ প্রতিটি) সিলিন্ডারের মাধ্যমে হাসপাতালের ছোট ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডারে অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে।

    ডাঃ আসিফ আরো জানান, আবুল খায়ের গ্রুপ চট্টগ্রামে তাদের কারখানা থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করবে। আর আবুল খায়ের গ্রুপের ১ জন অপারেটর ও ২ জন স্টাফ সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহে কাজ করবেন।

  • কুমিল্লার সাংবাদিক ইয়াসমিন রীমা পেলেন পরিবার পরিকল্পনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড

    স্টাফ রিপোর্টার:

    বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লা’র সভাপতি,অনলাইন নিউজ পোর্টাল কুমিল্লা নিউজের সম্পাদক ও ডেইলি নিউএইজের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি ইয়াসমীন রীমা জাতীয় পর্যায়ে ”পরিবার পরিকল্পনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড—২০২০—২১”র্ প্রিন্ট মিডিয়ায় “মাতৃদুগ্ধ কর্ণার প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবী’ প্রতিবেদনের জন্য পুরস্কার লাভ করেন। পুরস্কারের সমমূল্য ৫০,০০০টাকা ও ক্রেষ্ট। ইয়াসমীন রীমা ছাড়া প্রিন্ট মিডিয়ায় ৪ জন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ১ জন এই পুরস্কার লাভ করেন।

    রোববার সকালে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কতৃর্ক আয়োজিত ভাচুর্য়াল এক অনুষ্ঠানের মধ্যে এই ঘোষণা প্রদান করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক এমপি।

    এই পুরস্কার ছাড়া ইয়াসমীন রীমা ২০১৯ সালে নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও নারী ক্ষমতায়ন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার, ২০১৮ সালে উইমেন জার্ণালিজম নেটওয়ার্ক পুরস্কার, ২০১৩ সালে কীর্তিমতি নারী সন্মাননা পুরস্কার, ২০১১—ইউনেস্কো জার্নালিজম পুরস্কার, ২০১০—প্রথম আলো মাদকবিরোধি পুরস্কার, ২০০৭—মিডিয়া ডিজার্ডস ম্যানেজমেন্ট পুরস্কার, ২০০৭—প্যানেস ও সাউথ এশিয়া পুরস্কার,২০০৬—ফ্যামিলি প্ল্যানিং এসোসিয়োশন পুরস্কার, ২০০৪—বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট পুরস্কার,২০০৪— ইউএনএফপিএ পুরস্কার ও বিভিন্ন বিষয়ের উপর ৯টি ফেলোশিপ লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি খ্যাতিমান কবি—ছড়াকার জাকির আজাদের সহধর্মিনী।

  • হোম ডেলিভরি সুবিধা নিয়ে হ্যালো বাজারের যাত্রা শুরু

    আবু সুফিয়ান রাসেল।।
    কুমিল্লা নগরীতে ব্যতিক্রম উদ্যমে যাত্রা শুরু করেছে
    হ্যালো বাজার। শুক্রবার (৯ জুলাই) দক্ষিণ চর্থা দাদা ভাই হাউজে প্রতিষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা কামাল উদ্দিন, মো. ছালাহ উদ্দিন, মো. জাকির হোসেন, মিয়া মোহাম্মদ ফিরোজ ও হ্যালো বাজারের স্বত্ত্বাধিকারী এমরান হোসেন বাপ্পি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মো. লোকমান হোসেন,
    আ. রাজ্জাক, ফাহাদ আহমেদ পাটোয়ারি, মো. ইমন, তানভীর হোসেন, মো. বোরহান প্রমুখ।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী এমরান হোসেন বাপ্পি বলেন, হ্যালো বাজার একঝাঁক তরুণের প্রতিষ্ঠান। আমরা ব্যতিক্রমী উদ্যমে যাত্রা শুরু করেছি। কুমিল্লা শহরে ফ্রি হোম ডেলিভরি সুবিধা থাকবে। এখানে মুদি, ষ্টেশনারী, কনফেকশনারী ও অর্গানিক ফুডের ব্যবস্থা থাকবে।
    সততা নিয়ে ব্যবসা করলে আল্লাহ সহযোগীতা করেন। এটি গোমতি ডিজিটাল সাইন এন্ড প্রিন্টিং এর সহযোগীতা প্রতিষ্ঠান। আশাকরি মানুষ
    গোমতি ডিজিটাল সাইনের মতো এ প্রতিষ্ঠানকেও আপন করে নিবে।

  • “কোনো বাবা-মায়ের যেন আমার মতো সন্তান না থাকে”

    অমিত মজুমদার, কুমিল্লা

    ডা. জাকি উদ্দিন। করোনা মহামারিতে নিজের জীবন বাজি রেখে শত শত মানুষকে সুস্থ করে তুলেছেন। তবে ৬ মাসের ব্যবধানে সেই করোনায় কেড়ে নিল জন্মদাতা মা-বাবাকে। শত চেষ্টা করেও তাদের বাঁচাতে পারেননি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটের এই চিকিৎসক। বাবা-মায়ের আস্থা ছিল সন্তান তাদের সুস্থ করে তুলবে। তাইতো মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করে ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ক্ষোভ ও অভিমান নিয়ে দিয়েছেন আবেগঘন স্ট্যাটাস।


    বুধবার (০৭ জুলাই) রাতে বাবা হারানোর পর ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আমার বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবেন। কোভিড রোস্টারে রাতে ডিউটিতে ছিলাম। আব্বুর অবস্থা খারাপ শুনে ডিউটি থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু আটকাতে পারলাম না। জ্ঞান থাকা অবস্থায় বলতেছিল, বড় বাবু ব্যবস্থা করবে। আমি আব্বু-আম্মুর খুব সুন্দর ব্যবস্থা করে দিছি। একদম এতিম হয়ে গেছি ছয় মাসের ভেতর। কোভিড দিয়ে মেরে ফেলছি। কোনো বাবা-মায়ের যেন আমার মতো সন্তান না থাকে। আমি আমার বাবা-মাকে ছয় মাসের মধ্যে মেরে ফেলছি। আমার এই পেশা ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে মনে হয়।’

    জানা গেছে, বুধবার (০৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ড. জাকির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার বাবা সালাউদ্দিন (৬৬)। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মাস ছয়েক আগে মারা যান তার মা জাহানারা নাসরিনও (৫৬)। সে সময় মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানে আইসিইউতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তার মা।

    কুমিল্লা মেডিকেলের করোনা ইউনিটের কর্মরত চিকিৎসক ফরহাদ আবেদীন জানান, করোনা ইউনিটে ডা. জাকি উদ্দিন রোগীদের বাঁচানোর জন্য অপ্রাণ চেষ্টা করে আসছেন। ছেলের সামনে এমন মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। এমন একজন পরিশ্রমী ডাক্তারের সঙ্গে এমন ঘটনায় আমারও শোকাহত। ছয় মাসের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়ে উনি অনেকটা ভেঙে পড়েছেন। তবুও তিনি দেশের স্বার্থে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে জানতে ডা. জাকি উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সহকর্মীরা জানান, আমাদের বিশ্বাস তিনি অভিমান থেকে এমন কথা বলেছেন। ডাক্তারি পেশা ছাড়বেন না।

    কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রেজাউল করিম জানান, জাকি উদ্দিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করার পর এক বছর আগে ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে আবার এই হাসপাতালেরই করোনা ইউনিটে চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্সে একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে থাকতেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে। তার বাবা-মায়ের মৃত্যুতে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।

    তবে তার সহকর্মীরা বলেন, করোনা চিকিৎসকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন বন্ধ করে দেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সময় বাসাতেই কোয়ারেন্টাইন পালন করতেন। যে কারণে জাকি উদ্দিন হয়তো বলতে চেয়েছেন- তার মাধ্যমেই তার বাবা-মা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

  • কুমিল্লায় করোনায় আরও ৭ জনের মৃত্যু; আক্রান্ত ৩৭৫ জন

    সিটি প্রতিনিধি, কুমিল্লা:

    কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আরও ৩৭৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার (০৯ জুলাই)  বিকেলে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য জানান। 

    জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ৩৭৫জনের জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬৯ জন, আদর্শ সদর উপজেলার ৩৬ জন, সদর দক্ষিণে ২ জন, বুড়িচংয়ের ২২ জন, ব্রাহ্মণপাড়ার ৮ জন, চান্দিনার, ১৯ জন, চৌদ্দগ্রামের ৯ জন, দেবিদ্বারের ৯ জন, দাউদকান্দির ২১ জন, লাকসামের ১৪ জন, লালমাইয়ের ৯  জন, নাঙ্গলকোটে ২ জন  বরুড়ায় ১২ জন, মনোহরগঞ্জ ৬ জন, মুরাদনগরের ৩১ জন,, তিতাসের ৫ জন ও হোমনা ২ জন রয়েছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা কুমিল্লা নগরী, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, দেবিদ্বারের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও চারজন নারী রয়েছেন।

    এ নিয়ে কুমিল্লায় সর্বমোট মৃত্যু হয়েছে ৫২০ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৫৮ জন। সুস্থ হয়েছে ১২ হাজার ২৬৭ জন।

    এদিকে শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুর ২ টায় কুমিল্লায়
    এসে পৌছেছে ৭৮ হাজার ৪০০ সিনোফার্ম করোনা ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন সদর সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও সিভিল সার্জন ডা: মোবারক হোসেন।

  • প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে কুমিল্লা করোনা পরিস্থিতি

    সিটি প্রতিনিধি:


    সারাদেশের মতো কুমিল্লায়ও বেড়ে চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতোমধ্যে জেলায় করোনা শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫.৬ শতাংশে। নতুন করে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ৮৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৪৫.৬ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার, ৯৫৫ জন।

    বুধবার (৭ জুলাই) বিকেলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) কুমিল্লায় শনাক্তের হার ছিল ৪১.২ শতাংশ।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার সংক্রমণ নিয়ে সিটিতে ৩ জন, বুড়িচং২ জন, মুরাদনগর ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন নারী, ৩ জন পুরুষ।

    নতুন আক্রান্তদের মধ্যে  কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮০  জন, আদর্শ সদর উপজেলার ২৮ জন, সদর দক্ষিণে ৯ জন, বুড়িচংয়ের ৩১ জন, ব্রাহ্মণপাড়ার ৪ জন, চান্দিনার ১৯ জন, চৌদ্দগ্রামের ২৮ জন, দেবিদ্বারের ৮ জন, দাউদকান্দির ২ জন, লাকসামের ২৭ জন, লালমাইয়ের ৫  জন, নাঙ্গলকোটে ৫ জন  বরুড়ায় ১২ জন, মনোহরগঞ্জ ৯ জন, মুরাদনগরের ১৮ জন,মেঘনা ২ জন, তিতাসের ৫ জন ও হোমনা ১ জন রয়েছেন।

  • বৃষ্টি হলেই ডুবে যাচ্ছে কুমিল্লা নগরী; দায় নিতে নারাজ সিটি কর্পোরেশন

    (অমিত মজুমদার, কুমিল্লা)

    তিন দিনের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় শিকার হলো কুমিল্লা নগরবাসী । রোববার (৪ জুলাই) ভোর থেকে দুই ঘন্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কুমিল্লার নগরীর বেশির ভাগ এলাকা। বার বার বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেলেও দায় নিতে নারাজ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন । এছাড়া কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভেতরে হাটু সমান পানি । এতে চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন যন্ত্রাংশ পানিতে ডুবে আছে ।হাসপাতালের কর্মকর্তাসহ চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে । এছাড়া পানিতে তলিয়ে আছে কুমিল্লা সদর হাসপাতালও । ভোর থেকে কুমিল্লায় ১০৯ মিলি মিটার বৃষ্টাপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে।

    প্রবল বর্ষণে পানি ঢুকে গেছে দোকান ও বাসা বাড়িতে । কুমিল্লা নগরীর চর্থা, কালিয়াজুরি, বিষ্ণপুর, রেইসকোর্স, ঠাকুরপাড়া ,শাকতলাসহ বেশ কিছু এলাকা ভয়াবহ জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বেশি ভোগান্তি পড়েছে যাদের নিচ তলা বাসা । অনেকের ভবনের সামনে হাটু পানি । নগরবাসী জরুরী প্রয়োজনে বের হতেও পারছে না।

    কুমিল্লা মেডিকেল আকলিম বেগম নামে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী জানান, সকলে হাসপাতালে এসে দেখি বাইরে কোমড় পানি আর হাসপাতালের ভেতরে হাটু পানি ।

    কুমিল্লা নগরীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, ফৌজদারি মোড় থেকে বিষ্ণপুর পর্যন্ত কোমড় সমান পানি, ডিসি রোডের অবস্থা তো করুন। স্টেডিয়ামের সামনে, চকবাজার-সালাউদ্দিন রোডের বজ্রপুর চৌমুহনী তে অবস্থা খুবই খারাপ।

    কুমিল্ল সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে রোববার সকাল ১০ টায় কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেনি । তবে তার কর্মকর্তারা দাবি করছেন সড়ক বিভাগ কুমিল্লা টু বেগমগঞ্জ ফোর লেইন করার কারণে টমছমব্রীজ কান্দিখাল সরু হয়ে গেছে । এই কান্দিখাল দিয়েই নগরীর পানি ডাকাতিয়া নদীতে যায় । এছাড়া ডাবল রেললাইন নির্মাণের ফলে অনেক গুলো ছোট ছোট কালভার্ট বন্ধ করে দিয়েছে। যারা কারণে কুমিল্লা নগরী থেকে পানি সরতে সময় লাগছে ।

    তবে স্থানীয়রা বলছে, কান্দিখাল দখল করে বড় বড় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সড়ক বিভাগের নিজস্ব জায়গায় রাস্তা করছে । সমন্বয়হীনতার অভাবে সাধারণ মানুষ জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ।

    কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, কুমিল্লাতে আবারও অতি ভারী বর্ষণ হয়েছে।চলতি মৌসুমে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। রোববার সকাল ৬ টার আগে ১৩ মিলিমিটার ও ভোর ৬ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়ছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। তাই চলতি সপ্তাহ এবং আগামী সপ্তাহে মাঝারি ও ভারি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।