Category: দাউদকান্দি

  • যুবককে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে নিয়ে গেল খুনী!

    অনলাইন ডেস্ক:

    কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দিনদুপুরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার পর ডান হাত কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ওলানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে এবং কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা যায়নি।

    নিহত ওই যুবকের নাম মো. মহিউদ্দিন (৩৫)। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর ছিলেন। ওলানপাড়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহিউদ্দিন মাদকাসক্ত ছিলেন।

    মহিউদ্দিনের মা মনোয়ারা বেগম ও বড় ভাই মো. মহসীন জানান, মহিউদ্দিন দিনমজুর হিসেবে যখন যে কাজ পেতেন, তা–ই করতেন। তিনি রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাঁর কোনো শক্রও ছিল না। কিন্তু কে বা কারা আজ দিনদুপুরে বসতবাড়িসংলগ্ন মসজিদের কাছে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে তাঁর ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে গেছে।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন তাঁকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম। তিনি জানান, মহিউদ্দিনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাঁর ডান হাত পাওয়া যায়নি। কনুইয়ের ওপর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। হাত বিচ্ছিন্ন করার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর মাথা–পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে।

    দুষ্কৃতকারীরা অল্প সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানান ওলানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম সরকার। তিনি বলেন, পুলিশের তদন্তের পরই এ হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

    এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক সাইদুল ইসলাম বলেন, লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। রাতে বিচ্ছিন্ন হাতটি উদ্ধার করে পুলিশ।

  • ধর্ষণ মামলায় কুমিল্লা থেকে টিকটকার প্রিন্স মামুন গ্রেফতার

     অনলাইন ডেস্ক

    লায়লা আক্তার ফারহাদের (৪৮) ধর্ষণ মামলায় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে কুমিল্লার পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

     তিনি বলেন, প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় ধর্ষণ মামলা রয়েছে। কুমিল্লার পুলিশ প্রিন্স মামুনকে হস্তান্তর করবে। আমাদের টিম কুমিল্লায় যাচ্ছে।

    এর আগে, টিকটকার লায়লাকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। অভিযোগে লায়লা উল্লেখ করেন, মামলার বিবাদী আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে আমার গত তিন বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে মামুন আমাকে বিয়ে করবে মর্মে প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে। সে আমাকে জানায়, তার ঢাকায় থাকার মত নিজস্ব কোনো বাসা নেই। যেহেতু প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং মামুন আমাকে বিয়ে করবে বলে জানায়, তাই তার কথা সরল মনে বিশ্বাস করে তাকে আমার বাসায় থাকার অনুমতি দিই।

    ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি মামুন তার মাকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাসায় এসে বসবাস করতে থাকে। ওইদিন থেকে সে আমার বাসায় আমার সঙ্গে একই রুমে থাকতে শুরু করে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সর্ম্পক করে। মামুন আমার বাসায় থাকাকালে তার বাবা-মা মাঝেমধ্যেই সেখানে এসে অবস্থান করতো। আমি মামুনকে একাধিকবার বিয়ের বিষয় বললে সে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৪ মার্চ মামুন আবার ধর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে আমি তাকে বিয়ের বিষয়ে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমাকে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।

    সোমবার (১০ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দাউদকান্দি থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।

    তিনি বলেন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছিল। পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট পুলিশের একটি টিম কুমিল্লায় এলে তাদের কাছে প্রিন্স মামুনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কুমিল্লায় একই দিনে পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু

    কুমিল্লার চান্দিনা ও দাউদকান্দি উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দাউদকান্দির বিটেশ্বর ইউনিয়নের বরকোটা গ্রামে ও দুপুরে চান্দিনা পৌরসভার তুলাতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে চান্দিনায় দুজন ও দাউদকান্দিতে দুজন মারা যায়।

    চান্দিনায় মারা যাওয়া শিশুরা হলো উপজেলার তুলাতলী এলাকার আবদুল কুদ্দুস ওরফে মন্টুর মেয়ে নাদিয়া আক্তার (৭) ও একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৮)। অন্যদিকে দাউদকান্দিতে মারা যাওয়া দুই শিশু হলো উপজেলার বরকোটা গ্রামের মো. নজরুলের ছেলে মো. ফয়সাল (৮) ও একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রিফাত (৭)।

    চান্দিনায় মৃত দুই শিশুর স্বজনেরা জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে সাইকেল নিয়ে খেলা করার জন্য দুই শিশু ঘর থেকে বের হয়। দুপুর ১২টার দিকে বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে একটি বটগাছের কাছে সাইকেল ও জুতা দেখতে পান মৃত সাদিয়ার নানা আবদুল জব্বার। কিন্তু তাদের খুঁজে না পেয়ে সাইকেল ও জুতা নিয়ে তিনি বাড়িতে যান। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোথাও পাননি। বেলা দুইটার দিকে সাইকেল পাওয়া জায়গায় একটি প্যান্ট পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় মৃত নাদিয়ার দাদির। পরে পাশে মাছের খামারে নেমে স্বজনেরা দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেন।

    নাদিয়ার দাদা আবদুল লতিফ বলেন, দুজনকে পানি থেকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    দাউদকান্দিতে নিহত দুই শিশুর স্বজনেরা জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে শিশু ফয়সাল ও রিফাত বাড়ির পাশে খেলা করছিল। হঠাৎ তাদের দেখতে না পেয়ে তাঁরা খোঁজাখুঁজি করলে ডোবার পানিতে তাদের শরীর ভাসতে দেখেন। পরে তাদের উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মারা যাওয়া দুই শিশু বরকোটা এলাকার একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।

  • কুমিল্লা বাস চাপায় দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত

    অনলাইন ডেস্ক:

    কুমিল্লা থেকে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মালিখিল এলাকায় একটি বাসের চাপায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন শিশু। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের দিলবর নেছা (৫৫), তাঁর মেয়ে শাহীনুর আক্তার (২৪), নাতনি সায়মা আক্তার (৬) ও রাইসা আক্তার (২)। শাহীনুরের স্বামী সৌদি আরবপ্রবাসী। তিনি দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন বাবার বাড়িতে।

    দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক পারাপারের সময় ঢাকাগামী দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় দিলবর নেছা ঘটনাস্থলে মারা যান, তাঁর মেয়ে শাহীনুর আক্তার, নাতনি সায়মা আক্তার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যায়। আরেক নাতনি রাইসা আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর এলাকায় মারা যায়।

    দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দিলবর নেছার মাথা থেঁতলে গেছে এবং শাহীনুর আক্তার, সায়মা আক্তার ও রাইছা আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

    শাহীনুরের শ্বশুর আবদুর রশিদ মোল্লা ও ভাই মো. ফরিদ

    দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাঁড়িয়ে বলেন, দিলবর নেছা ও শাহীনুর আক্তার কুমিল্লায় চিকিৎসক দেখানোর জন্য বেলা একটায় বাড়ি থেকে বের হন। চিকিৎসক দেখিয়ে রাতে বাড়ি ফেরার পথে বাসের চাপায় মারা যান।

    খবর পেয়ে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। ইউএনও বলেন, বাসটি ছিল ঢাকাগামী। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পালিয়ে যাওয়া বাসটি আটকের চেষ্টা চলছে।চারজনের লাশ দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

  • কুমিল্লায় দরজা ভেঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    অনলাইন ডেস্ক:
    কুমিল্লায় ঘরের ভেতর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১০টার দিকে গৌরীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রবাসী মুজিব মিয়ার বাড়ি থেকে আমিনুল ইসলাম (৪৫) ও মালেকা (৪০) নামের ওই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মারা যাওয়া আমিনুল ইসলাম তিতাস উপজেলার জগৎপুর ইউনিয়নের অম্বলপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মুন্সির ছেলে। মালেকা বেগম বুড়িচং উপজেলার সাদকপুর গ্রামের নোয়াব মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় সূত্র বলছে, তাদের দুজনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে এবং উভয়েরই পূর্বের সংসারে সন্তান রয়েছে।
    বাড়ির মালিক প্রবাসী মুজিবুর রহমানের স্ত্রী নার্গিস বেগম জানান, ছয় মাস আগে আমিনুল ইসলাম ও মালেকা বেগম স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে আমাদের বিল্ডিংয়ে সাবলেটে একটি রুম ভাড়া নেন। তারা সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকালে আসতেন, আবার শনিবার চলে যেতেন। প্রতিবারের মতো গত বৃহস্পতিবার তারা বাসায় এসে রুমে যাওয়ার পর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দরজা খোলেনি। পরে লোকজনকে জানালে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে তাদের মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

    গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলমান। দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

  • কুমিল্লায় মাছবাহী ট্রাক উল্টে প্রাণ গেল চারজনের!


    মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

    কুমিল্লার চান্দিনায় মাছবাহী ট্রাক উল্টে চারজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।

    উপজেলার বেলাশ্বর এলাকার আরএনআর পাম্পের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন ভোলা মনপুরার মনির হোসেন, হাবিবুর রহমান, আক্তার হোসেন এবং সাতক্ষীরা জেলার সদর থানার রফিকুল ইসলাম।

    ইলেটগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম মুন্না এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকা মুখী মাছবাহী ট্রাক চান্দিনার বেলাশ্বর এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের ওপরে থাকা চারজন শ্রমিক চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

    আহত তিনজনকে প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

  • ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা অংশে অসহনীয় যানজট; দিনভর ভোগান্তি

    আবদুল্লাহ আল মারুফ :

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট থেকে গৌরীপুর এলাকার প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। ভোর ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এই জটলা স্থায়ী হয়। দুপুর ১২টার পর থেকে যানজট ছাড়তে থাকে। কিন্তু স্থায়ী যানজট না থাকলেও গাড়ির চাপে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা গেছে। তবে কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকার পর কয়েক কিলোমিটার ফাঁকা থাকলেও মুন্সিগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ এলাকার সোনারগাঁও পর্যন্ত আবার দীর্ঘ যানজট লেগেছে।

    কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী বাসের যাত্রী সবুজ ছোটন জানান, সকাল ৯ টায় কুমিল্লা থেকে রওনা হয়ে দুপুর আড়াইটা বাজে। আমি এখন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার আছি। এখনও ঢাকায় যেতে পারিনি। দাউদকান্দি টোল প্লাজার পর সামান্য কয়েক কিলোমিটার ফাঁকা ছিল। এখনও যানজটে আছি। জানিনা কখন ঢাকা যাই।

    দুপুর দুইটার দিকে জানা গেছে, কুমিল্লা অংশের ক্যান্টনমেন্ট থেকে শুরু করে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। এবং চান্দিনা ও ইলিয়টগঞ্জ পার হয়ে এই ধীরগতির দাউদকান্দির গৌরীপুর পর্যন্ত ঠেঁকেছে। টোল প্লাজা এলাকার পর কয়েক কিলোমিটার ফাঁকা।

    চট্টগ্রামগামী ট্রাক চালক খায়ের মিয়া বলেন, রোডে এখন জ্যাম নাই, তবে গাড়ির চাপ বেশি। তাই আস্তে যাইতে হইতেছে। এতে চট্টগ্রাম যাইতে অনেক সময় লাগতেছে।

    চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা কাউছার আহমেদ জানান, সকালে এসেছি যানজটের মধ্য দিয়ে। এখনও যানজট কাটলেও ধীরগতি আছে। এখন আবার বাড়ি ফিরছি। বৃহস্পতিবারে এমনিতেই গাড়ির চাপ থাকে তার উপর সকালের জ্যামের কারণে সড়কে অনেক গাড়ি রয়েছে। এছাড়া বাজার এলাকাগুলোতে কিছুটা যানজট রয়েছে।

    উল্লেখ, বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ভোর রাতে মাধাইয়া এলাকার নুড়িতলা এলাকায় একটি লরি রাস্তায় পড়ে যায়। এতে দুই লেনের গাড়ি এক লেনে চলা শুরু করে। দূর্ঘটনার কারণে সকাল হতেই সড়কটিতে ছিলো যানজট, দুপুরের দিকে যানজট কমলেও এর কারণে সৃষ্ট গাড়ির চাপ ও বৃহস্পতিবার হওয়ায় গাড়ির অত্যধিক চাপে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে।

    দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন বলেন, যানজট নেই। ধীরগতিতে এখনও যানচলাচল করছে। তবে আশাকরি ঘণ্টাখানের মধ্যেই ক্লিয়ার হবে। আমরা সড়কেই আছি।

  • কুমিল্লায় মোটরসাইকেলকে বাসের ধাক্কা; আপন দুইভাই-সাংবাদিকসহ নিহত ৩

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় আপন দুই ভাই ও এক সাংবাদিকসহ ৩ মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বেকিনগর জিংলাতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো আপন দুই ভাই দাউদকান্দি উপজেলার বেকিনগর গ্রামের মোঃ শাহজালাল মিয়ার ছেলে মোঃ শরীফ (২৩) ও মোঃ তাপসির (১৮) এবং একই গ্রামের হকসাব মিয়ার ছেলে মোঃ রাসেল সোহেল (২৫)। সে স্থানীয় দৈনিক পক্রিকার দাউদকান্দি রিপোর্টার বলে জানা গেছে।

    শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইওয়ে পুলিশের দাউদকান্দি থানার ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) ফরিদুল ইসলাম।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে ঢাকাগামী আল বারাকা এক্সপ্রেস নামক একটি বাস দাউদকান্দির বেকিনগর জিংলাতলী এলাকায় মহাসড়কে চট্টগ্রাম একটি মোটরসাইকেল চাপা দেয় বাসটি।

    ঘটনাস্থলেই ৩ মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বাসটিকে আটক করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় আনা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

  • পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে মতিন সৈকতের জাতীয় পরিবেশ পদক অর্জন

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুরের মতিন সৈকত ২০২১ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাক্তিগত ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা একক ব্যাক্তি নির্বাচিত হয়েছেন। ৫ জুন রবিবার আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সন্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালিভাবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করেন। এ সময় মতিন সৈকতের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী’র পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ সাহাব উদ্দিন এমপি, উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, সচিব ড, ফারহিনা আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মতিন সৈকত-কে তার অসাধারণ অবদানের জন্য তিনবার জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেন। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ব্যাবহার এবং সম্প্রসারণের জন্য ২০১০ এবং ২০১৭ সালে দুইবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রদান করেন। মতিন সৈকত ১৯৮৭ সালে সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ -এর লেখা অভিনন্দন পত্র পান। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে তিনি ছয় বার সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জন করেন। মতিন সৈকত রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষি,পরিবেশ, সামাজ উন্নয়ন সংগঠক। বহুমুখী সৃজনশীল উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা।


    মতিন সৈকত তিন দশকের বেশি সময় ধরে কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃষ্টান্ত স্হাপন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা সাহিত্যে সন্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে স্হায়ীভাবে গ্রামে বসবাস করেন। স্হানীয় প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনার পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষমুক্ত ফসল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, খাল-নদী পূনঃখনন, জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণে কাজ করেন। শহর-নগরের বর্জ্য -ময়লা-আবর্জনা থেকে সিটিজেন ফার্টিলাইজার বা নাগরিক সার রুপান্তরের জন্য সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে নতুন রাস্তা, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গণশেয়ারের মাধ্যমে সমাজ ভিত্তিক এক ফসলি বোরোধানের আবাদ সঠিক রেখে প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষ সম্প্রসারণে অবদান রেখে সমবায়ের মাধ্যমে জনগণের সম্পৃক্ততায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সৃষ্টি করেন।
    মতিন সৈকত ২০০০ সাল থেকে বিষমুক্ত সবজি নিরাপদ ফসল উৎপাদন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    প্রত্যেক বছর ফসলের মৌসুমে ঢোল পিটিয়ে, মাইকিং করে কৃষককে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে আগ্রহী করে তুলছেন। মতিন সৈকত দেশব্যাপী পরিবেশ আন্দোলন, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাল-নদী পূনঃখনন আন্দোলন, পলিথিন প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে জন-সচেতনতা সৃষ্টি করছেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পাখি উদ্ধার এবং অবমুক্তি নিয়ে সংগ্রাম করছেন। তার উদ্ধার এবং অবমুক্তকৃত পাখির সংখ্যা ১৫০০’র বেশি।
    বোরোধান উৎপাদন করতে মৌসুমব্যাপী সারাদেশে সেচের পানির জন্য সেচ প্রকল্পের মালিককে বিঘাপ্রতি ১০০০থেকে ২০০০ টাকা সেচের খরচ দিতে হয়। মতিন সৈকত ১৯৯৭ সাল থেকে আদমপুর, পুটিয়া ও সিঙ্গুলা তিন গ্রামের মধ্যবর্তী আপুসি বোরোধানের প্রকল্পে ধান লাগানো থেকে পাকা ধান কাটা পর্যন্ত ২৭ বছর যাবত যার যতোবার সেচের পানি প্রয়োজন ততোবারই সেচের পানি এককালীন মাত্র দুইশ টাকার বিনিময়ে বিঘাপ্রতি মৌসুমব্যাপি সরবরাহ করে ধান উৎপাদনে সহযোগিতা করে জাতীয় দৃষ্টান্ত স্হাপন করেন। তিনি প্রত্যেক বছর বোরোধানের জমিতে ঝাটা-জিংলা পুতে দেন যাতে পাখি বসে পোকামাকড় খেয়ে ফসলকে নিরাপদ রাখে। বিষ মাটি, পানি, বাতাস, ফসল ও অর্থ নষ্টের পাশাপাশি জনস্বাস্থ ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। সেচের পানির উৎস কালাডুমুর নদী মতিন সৈকতের উদ্যোগে সরকারি অর্থায়নে ১১ কিলোমিটার পূনঃখনন হয়েছে। যার ফলে চারটি উপজেলার প্রায় পঞ্চাশ হাজার বিঘা জমিনের আনুমানিক ১২,৫০,০০০ মণ বোরোধান উৎপাদনে সহায়ক হয়।
    কর্মসংস্থান সৃষ্টি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গণশেয়ারের ভিত্তিতে স্হানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ২০০০ সালে মতিন সৈকত সমাজভিত্তিক আদমপুর, পুটিয়া, সিংগুলা তিন গ্রামের মধ্যবর্তী ২৫০ বিঘা জমিতে আপুসি মৎস্য চাষ প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেন। পুটিয়ায় ১০০ বিঘা জমিতে বিসমিল্লাহ এবং আদমপুর, পুটিয়া, বিটমান তিন গ্রামের মাঝখানে প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে আপুবি মৎস্য চাষ প্রকল্প সমবায় ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করেন। ২০২০ সালে সারাদেশে মাত্র ১০টি ইউনিয়নকে সরকারিভাবে আইপিএম মডেল ইউনিয়ন ঘোষণা করে কৃষি মন্ত্রণালয়। পরিবেশ বান্ধব কৌশল অবলম্বনে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে মতিন সৈকতের ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন আইপিএম মডেল ইউনিয়নের স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৭ সালে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শিসউক, মতিন সৈকতের নেতৃত্বাধীন দাউদকান্দি উপজেলা কেন্দ্রীয় আইপিএম-আইসিএম ক্লাবের সমন্বয়ে জাতি সংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা F A O দাউদকান্দি উপজেলাকে নিরাপদ খাদ্য উপজেলা ঘোষণা করে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সবুজায়ন আন্দোলনের গড়ে তুলেন। মতিন সৈকত বাংলাদেশ পরিবেশ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। আদমপুর আদর্শ কমপ্লেক্সেের চেয়ারম্যান। দাউদকান্দি উপজেলা কেন্দ্রীয় আইপিএম-আইসিএম ক্লাবের সভাপতি। কৃষি পরিবেশ আন্দোলন কৃপা’র সভাপতি। পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র সদস্যসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
    মতিন সৈকত -কে নিয়ে ‘অব দ্যা বেটেনটেক দি ক্রপ ক্রুসেডার, এরিয়েল প্রেট্রিয়ট, এম্যান টুবিফলোইড, এন লাইটেড মতিন সৈকত, মতিন সৈকত এরিয়েল ফ্রেন্ড অব ফারমার্স ইন কুমিল্লা শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মতিন সৈকত-কে নিয়ে শাইখ সিরাজ, রেজাউল করিম সিদ্দিক, রামেন্দু মজুমদার, মুন্নী সাহা, প্রভাষ আমিন, সাদিয়া ওহাব -রোম্মান রশিদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বিবিসি টেলিভিশন মতিন সৈকত-কে নিয়ে একাধিক তথ্য চিত্র সম্প্রচার করেন।
    দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সারোয়ার জামান বলেন ‘আদমপুর গ্রামের পরিবেশযোদ্ধা মতিন সৈকত উপজেলার কৃষকদের খুব আপনজন। সরকারের পাশাপাশি তৃণমূলে কৃষকের পাশে থেকে সব সময় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। তিনি ৩০ বছর ধরে নাম মাত্র মূল্যে মাত্র দুইশ টাকায় বিঘাপ্রতি সেচ ব্যবস্থা করে কৃষকদের সেবা দিয়ে আসছেন। তিনি কৃষকদের যেভাবে সংগঠিত করে তাদের সহযোগিতা করছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।’
    দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) মোহাম্মদ আলী সুমন উল্লেখ করেন। “মতিন সৈকত কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে দেশব্যাপী দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছেন। বিষমুক্ত ফসল, নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন, খাল-নদী পূনঃখনন, বন্য প্রাণীসহ পাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বহুমুখী সামাজিক আন্দোলন করে যাচ্ছেন। মহাসড়কের দুই পাশের ময়লা আবর্জনা, শহর- নগরের বর্জ্যকে রুপান্তরিত করে সিটিজেন ফার্টিলাইজার বা নাগরিক সার তৈরি কারার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। কালাডুমুর নদী পূনঃখনন মতিন সৈকতের আন্দোলনের ফসল। কৃষি, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিত মতিন সৈকত।’
    ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক, প্রযুক্তিবিদ অশোক কুমার সিনহা বলেন ‘মতিন সৈকত খুব ভালো কাজে জীবনকে অর্থবহ রেখেছেন। চারিদিকের প্রাকৃতিক দূষণ, সামাজিক দূষণ , রাজনৈতিক দূষণের মধ্যেও তাঁর মত মানুষ’রা ভরসা। পৃথিবী মানুষের বাসযোগ্য থাকুক এর থেকে বড় চাওয়া আর কি থাকতে পারে। আর মানুষ তো একক নয়, আছে পরিবার, সমাজ, দেশ, প্রকৃতি, জীবজন্তু-পাখি, সমগ্র প্রাণী জগত। প্রত্যেকে ভালো থাকলেই সবাই ভালো থাকবে, আলাদাভাবে কারও ভালো থাকা সম্ভব নয়। মতিন সৈকতের নদী-খাল বাঁচানোর লড়াই পরিবেশ আন্দোলনের এক গৌরবজনক অধ্যায়। তাঁকে দেখে নদীমাতৃক দুই বাংলার মানুষ নদী-খাল বাঁচানোর লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত হোক।’
    পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক শওকত আরা কলি জানান ‘জেলায় পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মতিন সৈকতের নানা কর্মকান্ড সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। সরকারি কোন সহায়তা ছাড়াই সমাজে পরিবেশের জন্য যদি কেউ কাজ করে থাকে তাহলে মতিন সৈকত হতে পারেন মডেল।’
    জাতীয় সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল অবঃ মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূইয়া বলেন ‘ মতিন সৈকত দুই দশকের বেশি সময় ধরে কৃষি পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করে জাতি গঠনে অবদান রাখছেন।”

  • দিনভর ভোগান্তির পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    দিনভর যানজটের পর হাইওয়ের পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে স্বাভাবিক হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। শুক্রবার (৪ মার্চ) ভোর থেকে কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে থেমে থেমে ১০ কিলোমিটারের অধিক যানজট ছিল। এতে যাত্রীদের চরম  দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকে গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে আসে।

    মোহাম্মদ রিফাতউল্লাহ নামে এক যাত্রী বলেন, প্রায় আট ঘণ্টা পর ঢাকা থেকে কুমিল্লা এসেছি। বর্তমানে যানজট কমেছে। সড়কের দুই পাশে অসংখ্য মানুষকে হাঁটতে দেখেছি।

    বাদশা নাম আরেক যাত্রী বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার সময় এই যানজটে ছিলাম। পরে প্রায় আট ঘণ্টা ভোগান্তির পর গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছি।

     কুমিল্লার ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর বলেন, যান চলাচল দুপুরে কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। তবে বিকেল ৪টার পর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়। আমাদের হাইওয়ে পুলিশের পুরো টিম দিনভর রাস্তায় ছিল। বিভিন্ন পয়েন্টে চারটি দুর্ঘটনা ও সড়কে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় এই যানজট সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা অংশের ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর পর্যন্ত এই যানজট ছিল।