Category: জাতীয়

  • ছাত্রীদের ফ্লাটে নেয়া সেই শিক্ষকের অপকর্মের বর্ণনা দিলো ছাত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:
    মাদারীপুরের শিবচর উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে তিন বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা সেই শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর মা।

    সোমবার রাতে শিবচর থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার এক মাত্র আসামি শিক্ষক রবিউল গত দেড় মাস ধরে পলাতক। মায়ের সঙ্গে থানায় মামলা করতে এসে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই ছাত্রী। কান্না করতে করতে পুলিশের কাছে শিক্ষক রবিউলের অপকর্মের বর্ণনা দেয় ছাত্রী।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ওই ছাত্রীকে নিয়ে তার মা থানায় আসেন। তখন মেয়েটি কান্না করছিল। কান্নারত অবস্থায় ওই ছাত্রী রবিউলের নানা অপকর্মের বর্ণনা দেয়। পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শাজাহান মিয়া এবং আমি ওই ছাত্রীকে বারবার স্বাভাবিক করার চেষ্টা করি। রবিউলকে গ্রেফতার ও শাস্তির আশ্বাস দিই। তবুও কিছুতেই থামছিল না মেয়েটির কান্না। অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাদের বাড়ি পাঠাই।

    ওসি বলেন, শিক্ষক রবিউলের বিরুদ্ধে মেয়েটি যে তথ্য দিয়েছে তা লোমহর্ষক। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে তিন বছর ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে রবিউল। এছাড়া আরও দুই ছাত্রী অভিযোগ দিয়েছে। মামলা হয়েছে। মামলা ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে রবিউলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছি আমরা। তাকে ধরতে ইতোমধ্যে আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে।

    ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর দাবি, পুলিশ নিজে থেকেই আমাদের বাড়ি ও স্কুলে গিয়ে ঘটনার খোঁজ-খবর নিয়েছে। আমি রবিউলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

    মামলার বাদী ছাত্রীর মা বলেন, শিক্ষক রবিউল আমার মেয়েসহ অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা তার শাস্তি চাই।প্রসঙ্গত, উপজেলার উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম ৫ম ও ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রীদের দেখভাল করতো। সেইসঙ্গে ছাত্রীদের ফ্ল্যাটে নিয়ে দাওয়াত খাওয়াতো ও পড়াতো।

    এর মধ্যে বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীর ওপর নজর পড়ে তার। ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে রবিউল। এরপর তাকেও ফ্ল্যাটে নিয়ে দাওয়াত খাওয়ায় ১ সন্তানের জনক রবিউল।স্ত্রী অন্য উপজেলায় চাকরি করার সুবাদে রবিউলের ফ্ল্যাটে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতো সবাই। এর মধ্যে একদিন ৭ম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে রবিউল।

    এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। ধর্ষণের ওই ভিডিও ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করা হয় ওই ছাত্রীকে। এভাবে চলে তিন বছর। এর মধ্যে একাধিকবার ছাত্রীর গর্ভপাত ঘটায় রবিউল।কিছুদিন আগে অন্য ছাত্রীদের ফ্ল্যাটে ডেকে নেয়া দেখে আপত্তি জানায় ওই ছাত্রী। একপর্যায়ে ছাত্রী জানতে পারে, বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রীকে একই ধরনের কাজে বাধ্য করেছে রবিউল। তাদের সঙ্গেও রবিউলের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি সবাইকে জানানোর কথা বললে ওই ছাত্রীকে আবারও ধর্ষণ করে রবিউল। এভাবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রবিউল ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

    অবশেষে উপায় না পেয়ে রবিউলের বিচার চেয়ে গত ১৩ মার্চ ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপরই একের পর এক বের হয়ে আসে রবিউলের অপকর্মের তথ্য।

    ৮ম, ৯ম ও দশম শ্রেণির আরও তিন ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে না করার শর্তে শিক্ষক রবিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কাছে। সেইসঙ্গে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে রবিউলের আপত্তিকর ছবি অডিও ও ভিডিও দেয় তারা।

    এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সহকারী শিক্ষকরা। তবে অভিযোগ ওঠার পরই বিদ্যালয় থেকে ছুটি না নিয়ে পালিয়ে যায় শিক্ষক রবিউল। অবশেষে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সূত্র: জাগোনিউজ

  • ‘তুই মুজিবুর রহমান অনিকরে চিনস না! আমি মিরপুরের বাঘ’( ভিডিও)

    অনলাইন ডেস্ক:
    ছাত্র রাজনীতি যেখানে মহত্ত্বের প্রতীক বহন করে, সেখানে কিছু রাজনীতিবিদ সময়ে সময়ে এ মহত্ত্বকে কলুষিত করে তোলে। মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান অনিকের ছাত্রী পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।আলোচিত এ ভিডিও ভাইরালের পর সবারই প্রশ্ন- কেন এই মেয়েকে এভাবে পেটালেন অনিক? কেন বার বার আলোচনায় আসে বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ?

    এসব প্রশ্নের উত্তর চাইলে দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কথা জানালেন ছাত্রলীগ নেতা অনিকের নির্যাতনের শিকার শুভ্র মাহমুদ ওরফে আসমতআরা সুলতানা।তার কথায় অনিকের অপকর্মের বেড়াল থলে থেকে বেরিয়ে এসেছে। প্রকাশ পেয়েছে মুজিবুর রহমান অনিকের উত্থানের পেছনের তথ্য, হত্যা, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের ঘটনায় তিনটি মামলা নিয়েও কীভাবে সভাপতি হলেন?

    শুভ্রর ভাষ্যে, মামলা প্রত্যাহারে তাকে ১০ লাখ টাকার সমঝোতার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

    অনিকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়ে শুভ্র মুঠোফোনে বলেন, অনিকের সঙ্গে আমার একটা লম্বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। ২০১১-১২ সেশনে আমি বাঙলা কলেজে ভর্তি হলাম। ছোটবেলা থেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ওই সূত্র ধরেই এখানেও সম্পৃক্ত হলাম। অবশ্য তখন বাঙলা কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি ছিল না, গণজাগরণ মঞ্চসহ নানা আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা সম্পৃক্ত হতাম। ২০১৪ সালে কমিটি হলো; জাহিদ-অনিক পরিষদ। জাহিদ মাহমুদ সভাপতি, মুজিবুর রহমান অনিক সাধারণ সম্পাদক ছিল। আমি কোনো গ্রুপ করতাম না। এদের কারও সঙ্গে ছিলামও না। আমি মূলত শেখ হাসিনার গ্রুপ চিনি, ভাই-ব্রাদার গ্রুপ করি না। কিন্তু, অভিভাবক হিসেবে সব ছাত্রলীগ নেতাকে সম্মান করতাম। কেউ নির্যাতন করলে প্রতিবাদও করতাম।

    তিনি বলেন, ‘তৎকালীন নারী নেত্রী ছিলেন জহুরা বৃষ্টি। সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান অনিক ছিলেন প্রচণ্ড লোভী ও হিংস্র। তিনি জহুরা বৃষ্টিকে নানাভাবে কলঙ্কিত করে এক পর্যায়ে শেষই করে দেন। কিন্তু, কাজটি এমনভাবে করেন, খুনের দোষ গিয়ে পড়ে জাহিদ মাহমুদের ওপর। তিনি গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছেন। পরে ছাত্রলীগ থেকে তাকে অব্যাহতিও দেয়া হয়।’

    এই ছাত্রলীগ নেত্রীর ভাষ্যে, পরে জাহিদ মাহমুদকে ফাঁসিয়ে সেই একই মামলার আসামি অনিক কোনো এক অদৃশ্য হাতের ইশারায় বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হয়ে যান, এটা ২০১৫ সালের ঘটনা। এর মাঝে ছাত্রলীগের মেয়ে কর্মী বলে আর কেই নেই। আমিই তখন সিনিয়র। অনিকসভাপতি হয়ে কলেজে আসার পর নতুন রূপ ধারণ করলেন।

    তিনি বলেন, ‘অনিক ছাত্রছাত্রীদের অত্যাচার করতেন, জিম্মি করে অর্থ আদায় করতেন। ওয়াসা, এশিয়া হল, কলেজের সামনের দোকানগুলো, বিপরীতে ড্যাব, ডেল্টা, ঢাকা হাসপাতাল থেকেও মাসিক চাঁদা তুলতেন। ভর্তি বাণিজ্য তো ছিলই। আমি এসবের প্রতিবাদ করতাম। ২০১৫ সালের শেষের দিকে আমার পরিচিত এক ছোট ভাইকে ভর্তি করতে গেলে, অনিক আমার কাছেও টাকা দাবি করে বসেন। আমি প্রতিবাদ করলে তখন তিনি হাসতে হাসতে বলেন- তুই বেশি সাহসী, প্রতিবাদী? বাঙলা কলেজে এত সাহসী ও প্রতিবাদী হওয়া ভালো না।’

    শুভ্র জানান, অনিক আমাকে বলল, তুই ঘরে ঘুমিয়ে থাকলেও দলের পদ পাবি। এখানে কোনো মেয়েকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেব না। তখন তাকে আমি চ্যালেঞ্জ করি। এরপর থেকেই তার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ দানা বাঁধল। আমার পিছনে কর্মীদের লেলিয়ে দিল। মামলা করলাম, ওরা জেলও খাটল। জেল থেকে বেরিয়ে অনিক আমাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিলেন। এক পর্যায়ে নিজে আমার ডান হাতে কোপ দিলেন। সাতটা সেলাই লাগল। হুমকি দিল- ছেলেদের দিয়ে করালে তুই তাদের জীবন শেষ করে দিবি। তাই নিজে কোপালাম, যাতে কাউকে বিশ্বাস করাতে না পারিস। সত্যিই অর্থ দিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট করাল, আমার বিপক্ষে। মামলা করলাম। এরপরও ভয়ে ঘুমাতে পারতাম না। বিচার আর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ছাত্রলীগের নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলাম। কিন্তু, কাউকে বিশ্বাসই করাতে পারলাম না অনিক আমাকে আঘাত করেছেন। এরপর দেড় বছর ধরে পুলিশ কমিশনার, ডিসি, ওসির কাছে ঘুরেছি। কিছুই করতে পারিনি তার। উল্টো আমার ভর্তি বাতিল হয়ে গেল। পরে ২০১৭ সালে লুকিয়ে বন্ধুবান্ধব দিয়ে ডিগ্রিতে ভর্তি হলাম। অনিকের হাত থেকে বাঁচতে এফিডেভিট করে নামও পরিবর্তন করেছি। কিন্তু, কোনো লাভ হল না। স্থানীয় এমপি আমাকে বাধ্য করল মামলা তুলতে। এরপর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলো, সেখানে সহ-সভাপতি হলাম।

    তিনি জানান, পদ পাওয়ার পর অনিক ক্যাম্পাসে ডেকে নিয়ে সবার সামনে বললেন, এতদিন যা হইছে ভুলে যাই। তুই আমার ছোট বোন। আমরা এক সঙ্গে থাকতে চাই। কিন্তু পরে বুঝেছি সবই ওর নাটক ছিল।

    ২০১৭ সালের অক্টোবরের ২০ তারিখে একটি মেয়ে আমার সাহায্য চাইল। অনিক বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে নাকি মেলামেশা করেছেন। পরে মেয়েটির বিষয়ে আমি অনিক ও জীবনের (সাধারণ সম্পাদক) সঙ্গে কথা বললাম। তখন অনিক বলল, কতজনই কত কিছু বলবে, এখন বিপদের সময় তোরা আমার পাশে থাকবি। কিন্তু, এটাও তার নাটক ছিল। সেদিনই একটি মেয়ে দারুস সালামে আমার বাসায় উঠল। টু-লেট দেখে সে এসেছে বলে জানাল। দু’দিন বাদে জানলাম অনিকের ধর্ষণের শিকার মেয়েটিই আমার বাসায় উঠেছে। মেয়েটি অনিকের সঙ্গে তার কথোপকথনের দেড় হাজার অডিও ক্লিপস দিল। ২২শ’র মত মেসেজ দেখাল। অনিকের সঙ্গে তার অনেকগুলো অন্তরঙ্গ ছবি দিল। পরে বুঝলাম এসবই ছিল অনিকের সাজানো চাল।

    শুভ্র দাবি করেন, গতবছরে হঠাৎ একদিন আমার বাসায় অতর্কিত হামলা হলো। অনিক পুলিশ সঙ্গে নিয়ে মারধর করল। তাকে বললাম, আপনি আমার বাসায় এসে গায়ে হাত তোলার সাহস কই পাইলেন? তখন অনিক আমাকে বললেন, ‘তুই মুজিবুর রহমান অনিকরে চিনস না! আমি মিরপুরের বাঘ।’ আমার পেছনে লাগার মত কলিজা তুই কেন করছিলি? তুই চিনস না আমারে? অতীতে আমার প্রমাণ পাস নাই? আজকে তোরে মেরেই ফেলব।

    তবে তার সহযোগীরা পরামর্শ দিলো, ভাই মেয়ে মানুষ মেরে ফেললে ফেঁসে যাবেন। তখন আমার একটি পা ভেঙে দেয়া হলো। কানে আঘাত করা হলো। কানের অপারেশন করাইছি। কিন্তু, এখনো টেনে টেনে হাঁটি।

    তিনি বলেন, সে সময়ে বহিষ্কার করা হলেও এখন দেখছি বহিষ্কারাদেশ তুলে স্বপদে বহাল করা হয়েছে। এরপর যেখানে গেছি, সবাই বলছে, অনিক তোদের মারছে প্রমাণ কই?

    শুভ্র বলেন, ‘এই মামলা তুলে নিতে অনিক আমাকে ১০ লাখ টাকা প্রস্তাব করেছে। ও নিজেও বলেছে। আবার মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুন্নার মাধ্যমেও বলিয়েছে। আমি বলেছি, আমার টাকার দরকার নাই। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও জাকির হোসাইনের সামনে গিয়ে মাফ চাইলে মাফ করে দেব।’

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি ছাত্রলীগ নেতা মুজিবুর রহমান অনিকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা অনিক ও সাদেক প্রধানিয়া মিলে দুই তরুণীকে বেদম পেটাচ্ছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিকটিম তরুণীদের একজন শুভ্র মাহমুদ ওরফে আসমতআরা সুলতানা ওরফে জ্যোতি। তিনি মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আরেকজন তারই পরিচিত এবং রুমমেট।পেটানোর ভূমিকায় অনিক মিরপুর বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাদেক প্রধানিয়া একই শাখার পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক।

    ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ গত ৪ মে সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

    ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

    https://www.facebook.com/264334024053786/videos/360529644434223/

  • দুই মেয়েকে খুন করে মায়ের আত্মহত্যা : রেখে যাওয়া চিরকুটে রহস্য!

    অনলাইন ডেস্ক:

    রাজধানীর দারুসসালামে দুই শিশুকন্যাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মা জেসমিন আক্তার নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। তবে ময়নাতদন্ত শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, ব্যতিক্রমধর্মী আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে নিহতদের শরীরে। এদিকে ঘটনার নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে জেসমিন আক্তারের কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করা সুইসাইড নোট নিয়েও।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। আর জেসমিন আক্তারের অফিস থেকে প্রাওয়া সুইসাইড নোট পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সেখানে হস্তাক্ষর বিশ্লেষকদের সহযোগিতা নেয়া হবে।

    দারুসসালাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ৮ দিনেও মামলা করেনি নিহতের পরিবার। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

    পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছেন, দুই মেয়েসহ মা জেসমিন আক্তারের মৃত্যুর রহস্যে পরিবারের কোনো সদস্যও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। নিহত তিনজনের শরীরে যেরকম আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে তা অস্বাভাবিক। আত্মহত্যাকারী নিজের গলা কেটে, দুই হাতের রগ কাটার পর দুই শিশুকন্যাকে ছুরিকাঘাত করতে পারেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মৃত্যুর আগে মা কিংবা ওই দুই শিশুকে কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা তা জানা যাবে ভিসেরা রিপোর্টের পর।

    গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যার পর রাজধানীর দারুসসালাম থানাধীন পাইকপাড়া সি টাইপ সরকারি কোয়ার্টারের ১৩৪ নং ভবনের চতুর্থ তলা থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত মা জেসমিন আক্তার (৩৫) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কোষাধ্যক্ষ পদে চাকরিরত ছিলেন। স্বামী হাসিবুল ইসলাম জাতীয় সংসদের সহকারী লেজিসলেটিভ ড্রাফ্সম্যান হিসেবে কর্মরত। হাসিবুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের ভজনপুর গ্রামে। জেসমিনের বাবার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে।

    নিহত দুই মেয়ের নাম হাসিবা তাহসিন হিমি (৮) ও আদিবা তাহসিন হানি (৪)। হাসিবা মডেল একাডেমিতে ক্লাশ টুতে পড়ছিল। ঘটনার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান এএম সেলিম রেজা বলেন, নিহতদের শরীরে আঘাতের ধরনগুলো ‘ব্যতিক্রমধর্মী’।

    তিনি বলেন, নিহত তিনজনের গলা কাটা ছিল। জেসমিনের গলার পাশাপাশি দুই হাতের কবজির কাছে কাটা ছিল। বুকে ছিল কমপক্ষে ১২টি আঘাতের চিহ্ন। বড় মেয়ে হিমির পেটে তিনটি আঘাতের চিহ্ন। তার বাম হাতের কবজি কাটা ছিল। ছোট মেয়ে হানির পেটে একটি এবং ডান হাতের কবজির কাছে কাটা ছিল। মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘জেসমিনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এত কাটার দাগ থাকায় প্রশ্ন উঠছে, আত্মহননের পথ বেছে নিতে কীভাবে নিজের গলা ও হাত কাটার পর শিশুকন্যাদের ছুরিকাঘাতে হত্যা করা সম্ভব! আবার ঘটনার সময় বাসায় অন্য বাসিন্দারা থাকলেও কেন তারা বিষয়টি সামান্য আঁচ করতে পারেননি তাও সন্দেহের উদ্রেক করে।

    তিনি বলেন, অবশ্য মানসিকভাবে চরম ভারসাম্যহীন হলে হয়তো তা সম্ভব। চিরকুট পাওয়ার পর এ ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। তবে জেসমিন আক্তার দুই মেয়েকে আগেই কিছু খাইয়েছিলেন কিনা কিংবা মানসিকভাবে ভারমাস্যহীন ছিলেন কিনা তা প্রমাণ সাপেক্ষ। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষা থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

    ঘটনার দিন রাতে নিহত জেসমিনের খালাতো বোন রেহানা পারভীন জানান, জেসমিন অনেক দিন ধরে মানসিক সমস্যা ও মাইগ্রেনের ব্যথায় ভুগছিলেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সারাক্ষণ তিনি দুশ্চিন্তা করতেন। দেশ-বিদেশে তিনি চিকিৎসাও নিয়েছেন।

    ঘটনার সময় নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ভেতরে উচ্চস্বরে টেলিভিশন ও ফ্যানও চলছিল। সে কারণে হয়তো ভেতর থেকে সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি।

    অন্যদিকে জেসমিনের স্বামী হাসিবুল ইসলাম বলেন, মাসখানেক আগে জেসমিন আক্তার আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর তিনি দুই সন্তানের নিরাপত্তায় পাহারা বসিয়েছিলেন, যাতে দুই সন্তানসহ স্ত্রীর কোনো ক্ষতি না হয়। তবে শেষ রক্ষে হলো না।

    যোগাযোগ করা হলে ডিএমপি’র মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, নিহত জেসমিন আক্তারের কর্মস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটটিতে লেখা ‘আমি বেঁচে থাকার কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার সব দিকে অন্ধকার নেমে আসছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো। আমার মৃত্যুর জন্য আমার নির্মম দুর্ভাগ্যই দায়ী।’ চিরকুট লিখে নিচে নিজের নাম ও তারিখ লিখে রেখেছিলেন তিনি। এটি লেখার তারিখ ৩০ এপ্রিল।

    জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে তার সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন চিরকুটের লেখা জেসমিন আক্তারের নিজের হাতে। তবুও আমরা তদন্তের স্বার্থে চিরকুট নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করবো। লেখা জেসমিন আক্তারের কিনা তা নিশ্চিত হতে সিআইডি ও হস্তাক্ষর বিশ্লেষকদের সহযোগিতা নেয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ভিসেরা রিপোর্ট পাবার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে

  • দুই মেয়েকে খুন করে মায়ের আত্মহত্যা : চিরকুটে রহস্য!

    অনলাইন ডেস্ক:
    রাজধানীর দারুসসালামে দুই শিশুকন্যাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মা জেসমিন আক্তার নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। তবে ময়নাতদন্ত শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, ব্যতিক্রমধর্মী আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে নিহতদের শরীরে। এদিকে ঘটনার নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে জেসমিন আক্তারের কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করা সুইসাইড নোট নিয়েও।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। আর জেসমিন আক্তারের অফিস থেকে প্রাওয়া সুইসাইড নোট পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সেখানে হস্তাক্ষর বিশ্লেষকদের সহযোগিতা নেয়া হবে।

    দারুসসালাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ৮ দিনেও মামলা করেনি নিহতের পরিবার। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

    পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছেন, দুই মেয়েসহ মা জেসমিন আক্তারের মৃত্যুর রহস্যে পরিবারের কোনো সদস্যও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। নিহত তিনজনের শরীরে যেরকম আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে তা অস্বাভাবিক। আত্মহত্যাকারী নিজের গলা কেটে, দুই হাতের রগ কাটার পর দুই শিশুকন্যাকে ছুরিকাঘাত করতে পারেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মৃত্যুর আগে মা কিংবা ওই দুই শিশুকে কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা তা জানা যাবে ভিসেরা রিপোর্টের পর।

    গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যার পর রাজধানীর দারুসসালাম থানাধীন পাইকপাড়া সি টাইপ সরকারি কোয়ার্টারের ১৩৪ নং ভবনের চতুর্থ তলা থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত মা জেসমিন আক্তার (৩৫) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কোষাধ্যক্ষ পদে চাকরিরত ছিলেন। স্বামী হাসিবুল ইসলাম জাতীয় সংসদের সহকারী লেজিসলেটিভ ড্রাফ্সম্যান হিসেবে কর্মরত। হাসিবুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের ভজনপুর গ্রামে। জেসমিনের বাবার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে।

    নিহত দুই মেয়ের নাম হাসিবা তাহসিন হিমি (৮) ও আদিবা তাহসিন হানি (৪)। হাসিবা মডেল একাডেমিতে ক্লাশ টুতে পড়ছিল। ঘটনার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান এএম সেলিম রেজা বলেন, নিহতদের শরীরে আঘাতের ধরনগুলো ‘ব্যতিক্রমধর্মী’।

    তিনি বলেন, নিহত তিনজনের গলা কাটা ছিল। জেসমিনের গলার পাশাপাশি দুই হাতের কবজির কাছে কাটা ছিল। বুকে ছিল কমপক্ষে ১২টি আঘাতের চিহ্ন। বড় মেয়ে হিমির পেটে তিনটি আঘাতের চিহ্ন। তার বাম হাতের কবজি কাটা ছিল। ছোট মেয়ে হানির পেটে একটি এবং ডান হাতের কবজির কাছে কাটা ছিল। মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘জেসমিনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এত কাটার দাগ থাকায় প্রশ্ন উঠছে, আত্মহননের পথ বেছে নিতে কীভাবে নিজের গলা ও হাত কাটার পর শিশুকন্যাদের ছুরিকাঘাতে হত্যা করা সম্ভব! আবার ঘটনার সময় বাসায় অন্য বাসিন্দারা থাকলেও কেন তারা বিষয়টি সামান্য আঁচ করতে পারেননি তাও সন্দেহের উদ্রেক করে।

    তিনি বলেন, অবশ্য মানসিকভাবে চরম ভারসাম্যহীন হলে হয়তো তা সম্ভব। চিরকুট পাওয়ার পর এ ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। তবে জেসমিন আক্তার দুই মেয়েকে আগেই কিছু খাইয়েছিলেন কিনা কিংবা মানসিকভাবে ভারমাস্যহীন ছিলেন কিনা তা প্রমাণ সাপেক্ষ। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষা থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

    ঘটনার দিন রাতে নিহত জেসমিনের খালাতো বোন রেহানা পারভীন জানান, জেসমিন অনেক দিন ধরে মানসিক সমস্যা ও মাইগ্রেনের ব্যথায় ভুগছিলেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সারাক্ষণ তিনি দুশ্চিন্তা করতেন। দেশ-বিদেশে তিনি চিকিৎসাও নিয়েছেন।

    ঘটনার সময় নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ভেতরে উচ্চস্বরে টেলিভিশন ও ফ্যানও চলছিল। সে কারণে হয়তো ভেতর থেকে সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি।

    অন্যদিকে জেসমিনের স্বামী হাসিবুল ইসলাম বলেন, মাসখানেক আগে জেসমিন আক্তার আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর তিনি দুই সন্তানের নিরাপত্তায় পাহারা বসিয়েছিলেন, যাতে দুই সন্তানসহ স্ত্রীর কোনো ক্ষতি না হয়। তবে শেষ রক্ষে হলো না।

    যোগাযোগ করা হলে ডিএমপি’র মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, নিহত জেসমিন আক্তারের কর্মস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটটিতে লেখা ‘আমি বেঁচে থাকার কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার সব দিকে অন্ধকার নেমে আসছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো। আমার মৃত্যুর জন্য আমার নির্মম দুর্ভাগ্যই দায়ী।’ চিরকুট লিখে নিচে নিজের নাম ও তারিখ লিখে রেখেছিলেন তিনি। এটি লেখার তারিখ ৩০ এপ্রিল।

    জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে তার সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন চিরকুটের লেখা জেসমিন আক্তারের নিজের হাতে। তবুও আমরা তদন্তের স্বার্থে চিরকুট নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করবো। লেখা জেসমিন আক্তারের কিনা তা নিশ্চিত হতে সিআইডি ও হস্তাক্ষর বিশ্লেষকদের সহযোগিতা নেয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ভিসেরা রিপোর্ট পাবার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে

  • সেই শিক্ষার্থীকে পুলিশের কাছ থেকে মুক্ত করলেন জাফর ইকবাল

    অনলাইন ডেস্ক:
    সন্দেহজনক আচরণের কারণে আটক সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। জনপ্রিয় লেখক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খোঁজখবর নিয়ে আটক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সন্দেহজনক কোনো কিছু না পাওয়ায় ও জাফর স্যারের সুপারিশে তাকে মঙ্গলবার (৯ মে) সকালে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

    ছাড়া পেয়ে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, তিনি আরও বলেন, ভুলটা আমারই ছিল। জাফর স্যারের কক্ষে একটা ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল। আমি স্যারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। স্যার যেন আমার জন্য দোয়া করেন। উনি ভালো থাকুন, এটাই আমার চাওয়া।

    রাকিব বলেন, স্যার নিজে থানায় এসে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। পরে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার মুক্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে শাবি ক্যাম্পাসের এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের কক্ষে দোয়া নিতে যান রাকিব। এ সময় জোহরের আজান দিলে জাফর ইকবালকে নামাজের কথা বলেন ওই শিক্ষার্থী। এ ধরনের আচরণে সন্দেহ তৈরি হলে রাকিবকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে জালালাবাদ থানায় নিয়ে আসা হয়।

  • বাংলাদেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা

    অনলাইন ডেস্ক:
    আগামী ১০ মে-তেই মহাকাশে ডানা মেলবে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণের শীর্ষ তালিকায় নাম রয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর।

    আগামী ১০ মে উৎক্ষেপণের জন্য চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে স্পেসএক্স। সংস্থাটির এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে প্যাড ৩৯-এ থেকে ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিটিআরসি স্পেসএক্স-এর বরাত দিয়ে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত সময় হালনাগাদ করা হয়েছে। ফলে স্পেসফ্লাইট নাউ-এর অনলাইনে এবং স্পেসএক্স এর ওয়েবসাইটে নতুন সময়সূচি দেখা যাচ্ছে। সেখানে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য চূড়ান্ত দিনক্ষণ লেখা হয়েছে ১০ মে।

    এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর ঋণ হিসেবে এইচএসবিসি ব্যাংক বাকি ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা দিচ্ছে।

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।

    গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্লোরিডায় উৎক্ষেপণ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবেন। আর ক্যাপ ক্যানাভেরালে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৭ মে সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ৮ মে) মহাকাশে যাত্রা করার কথা ছিল স্যাটেলাইটটির। তবে কারিগরি ত্রুটি ও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় নির্ধারিত দিনে মহাকাশে যাত্রা করতে পারেনি স্যাটেলাইটটি।

    ৪ মে স্যাটেলাইটটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্যাটেলাইটটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়

  • কোটা বিষয়ে দ্রুত সুরাহা হয়ে যাবে : পরিকল্পনা মন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:
    পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেছেন, চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেবে, যেন উভয়পক্ষ খুশি হয়। আন্দোলনকারীরাও খুশি হবে, কোটাধারীরাও বিরক্ত হবে না। বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হয়ে যাবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী পরিষদের (একনেক) বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী একথা বলেন।

    কামাল বলেন, ‘চাকরিতে কোটার বিষয়টা প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। বিষয়টি তিনি জানেন, শুনেছেন। প্রথমে ছাত্ররা বলেছে, কোটা থাকবে না। পরে আবার বলছে, কোটা বাদ যাবে না, সংস্কার করতে হবে।’

    ‘সংস্কারের বিষয়টা প্রধানমন্ত্রী জানতো না’ জানিয়ে কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন কোটা সংস্কারের বিষয়টি জেনেছেন। বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হয়ে যাবে। আমার মনে হয়, সবাই উভয় পক্ষ খুশি থাকবেন। কারো প্রতি একতরফাভাবে হবে না।তবে মঙ্গলবারের একনেক সভায় কোটা আন্দোলন নিয়ে কোনো কথা হয়নি বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

  • বোন ডেকে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গ ছবি; অতপর আত্মহত্যা!

    অনলাইন ডেস্ক:
    গোপালগঞ্জে বখাটে যুবকের মানসিক নির্যাতনে প্রবাসীর স্ত্রী সোনিয়া বেগম (৩২) আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের বটবাড়ি গ্রামে।

    এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত রুবেল গা ঢাকা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই গ্রামের মো. এনায়েত উকিল ১৩ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী। স্ত্রী সোনিয়া বেগম দু’ মেয়ে ইমা সুলতানা দোলা (১৩) ও তমা সুলতানাকে (১০) নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। একই গ্রামের দবির খানের ছেলে বখাটে রুবেল খান প্রবাসীর স্ত্রী সোনিয়া বেগমকে বোন ডেকে তার কাছ থেকে ৮ মাস আগে তাদের পুকুর ইজারা নিয়ে মাছের চাষ শুরু করে।

    এ সূত্র ধরে সেনিয়ার বাড়িতে রুবেলের যাতায়াত শুরু হয়। রুবেল সোনিয়ার বাড়ির বাজার করে দিতো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্টতা সৃষ্টি হয়। রুবেল সোনিয়াকে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে অন্তরঙ্গ ছবি তোলে। এসব ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে সোনিয়ার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ৪০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য সেনিয়া রুবেলকে চাপ দেয়। এ নিয়ে দু’ জনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রুবেল সোনিয়াকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এ ছাড়া তাদের ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেবে বলে জানান।

    এক পর্যায়ে রুবেলের ফোন নম্বর ব্লক করে দেয় সেনিয়া। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয় রুবেল। রুবেল গ্রামে সোনিয়ার বিরুদ্ধে প্রপাকান্ডা ছড়ায়। বিষয়টি সেনিয়ার বাড়ির লোকজন জেনে যায়। সেনিয়া মুষড়ে পরে। লোকলজ্জার ভয়ে রবিবার বিকেলে নিজের ঘরে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সোনিয়া।

    পুলিশ সোমবার ময়না তদন্ত শেষে সোনিয়ার লাশ পরিবারের সদস্যদের হাতে হস্তান্তর করে। সোমবার সন্ধ্যায় বটবাড়ি গ্রামের করবস্থানে সোনিয়ার লাশ দাফন করা হয়।

    গৃহবধূর বড় মেয়ে ইমা সুলতানা দোলা জানান, রুবেল তার মাকে মানসিক নির্যাতন করেছে। পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। আম্মুর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। টাকা চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। তার কারণেই বাধ্য হয়ে আম্মু আত্মহত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

    অভিযুক্ত রুবেল খানের স্ত্রী শিমু বেগম বলেন, আমার স্বামীর সোনিয়ার বাড়িতে যাতায়াত ছিলো। সোনিয়াও আমাদের বাড়িতে আসতো। আমার স্বামী তাকে আত্ম হত্যায় প্ররোচনা করেছে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। এ ঘটনায় আমার স্বামীকে ফাঁসাতে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

    গোপালগঞ্জের বৌলতলী পুলিশ ফাঁর এস. আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে ইউডি মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। আশাকরি দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।

  • বোন ডেকে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গ ছবি; অতপর আত্মহত্যা!

    অনলাইন ডেস্ক:
    গোপালগঞ্জে বখাটে যুবকের মানসিক নির্যাতনে প্রবাসীর স্ত্রী সোনিয়া বেগম (৩২) আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের বটবাড়ি গ্রামে।

    এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত রুবেল গা ঢাকা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই গ্রামের মো. এনায়েত উকিল ১৩ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী। স্ত্রী সোনিয়া বেগম দু’ মেয়ে ইমা সুলতানা দোলা (১৩) ও তমা সুলতানাকে (১০) নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। একই গ্রামের দবির খানের ছেলে বখাটে রুবেল খান প্রবাসীর স্ত্রী সোনিয়া বেগমকে বোন ডেকে তার কাছ থেকে ৮ মাস আগে তাদের পুকুর ইজারা নিয়ে মাছের চাষ শুরু করে।

    এ সূত্র ধরে সেনিয়ার বাড়িতে রুবেলের যাতায়াত শুরু হয়। রুবেল সোনিয়ার বাড়ির বাজার করে দিতো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্টতা সৃষ্টি হয়। রুবেল সোনিয়াকে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে অন্তরঙ্গ ছবি তোলে। এসব ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে সোনিয়ার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ৪০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য সেনিয়া রুবেলকে চাপ দেয়। এ নিয়ে দু’ জনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রুবেল সোনিয়াকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এ ছাড়া তাদের ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেবে বলে জানান।

    এক পর্যায়ে রুবেলের ফোন নম্বর ব্লক করে দেয় সেনিয়া। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয় রুবেল। রুবেল গ্রামে সোনিয়ার বিরুদ্ধে প্রপাকান্ডা ছড়ায়। বিষয়টি সেনিয়ার বাড়ির লোকজন জেনে যায়। সেনিয়া মুষড়ে পরে। লোকলজ্জার ভয়ে রবিবার বিকেলে নিজের ঘরে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সোনিয়া।

    পুলিশ সোমবার ময়না তদন্ত শেষে সোনিয়ার লাশ পরিবারের সদস্যদের হাতে হস্তান্তর করে। সোমবার সন্ধ্যায় বটবাড়ি গ্রামের করবস্থানে সোনিয়ার লাশ দাফন করা হয়।

    গৃহবধূর বড় মেয়ে ইমা সুলতানা দোলা জানান, রুবেল তার মাকে মানসিক নির্যাতন করেছে। পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। আম্মুর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। টাকা চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। তার কারণেই বাধ্য হয়ে আম্মু আত্মহত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

    অভিযুক্ত রুবেল খানের স্ত্রী শিমু বেগম বলেন, আমার স্বামীর সোনিয়ার বাড়িতে যাতায়াত ছিলো। সোনিয়াও আমাদের বাড়িতে আসতো। আমার স্বামী তাকে আত্ম হত্যায় প্ররোচনা করেছে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। এ ঘটনায় আমার স্বামীকে ফাঁসাতে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

    গোপালগঞ্জের বৌলতলী পুলিশ ফাঁর এস. আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে ইউডি মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। আশাকরি দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।

  • মেয়েকে হত্যা করে জামাইকে নিয়ে উধাও মা!

    অনলাইন ডেস্ক:
    স্বামীর সঙ্গে মায়ের অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় জীবন হারাতে হলো মেয়েকে। ঘটনার পর ক্ষিপ্ত হয়ে মা মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে। মেয়ের মৃত্যু হলে মেয়ের জামাইকে নিয়ে উধাও হয় মা।

    এ জঘন্য ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে। নিহত তরুণী মালা (২০) গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মামুন ঢালীর স্ত্রী।

    এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বিডি২৪লাইভকে জানান, স্থানীয়ভাবে জেনেছি শাশুড়ির সঙ্গে জামাইয়ের পরকীয়া ছিল। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। শাশুড়ি ও জামাই পলাতক রয়েছে।

    অভিযুক্তরা হলেন, ওই এলাকার কাদের ঢালীর ছেলে স্বামী মামুন ঢালী (৩০) ও উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের স্ত্রী নিহতের মা নার্গিস বেগম (৩৫)। তিনি চার সন্তানের জননী।

    বৃহস্পতিবার (৩ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে নিহত মালার পৈতৃক বাড়িতে নিহত মালার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ঘটে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মালার চাচা হেলাল হাওলাদার জানান, মালার মা চার সন্তানের জননী নার্গিস বেগমের সঙ্গে মালার স্বামী মামুনের অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি মালা দেখে ফেলার কারণেই মালাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে তার মা ও স্বামী।

    গত বুধবার রাতে নিহত মালা তার মা ও স্বামীর মধ্যে অবৈধ কার্যকলাপ হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর ওই দিনই রাতেই মালাকে বিষ খাইয়ে চিকিৎসার নাম করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তার মা ও স্বামী মামুন।

    পরে খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন মালা মারা গেছে। এ সময় হাসপাতালে তার (মালার চাচা হেলাল হাওলাদারের) উপস্থিতি টের পেয়ে মালার একমাত্র ছেলে মোস্তাফিজকে (২) নিয়ে হাসপাতাল থেকে সটকে পড়ে মালার মা নার্গিস বেগম ও তার মেয়ের স্বামী মামুন।

    পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানালে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে মালার চাচা হেলাল হাওলাদারের কাছে মালার লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।

    প্রসঙ্গত, বাউফল উপজেলার পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলা কলাগাছিয়া গ্রামের কাদের ঢালির ছেলে মামুনের সঙ্গে ৫ বছর আগে বিয়ে হয় মালার। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সঙ্গেই থাকত মালা।

    সম্প্রতি মালার বাবা জাহাঙ্গীর হাওলাদার মারা যাওয়ার পর মালা ও তার স্বামী মামুন বাউফলের মদনপুরা গ্রামে তার মা নার্গিস বেগমের সঙ্গেই থাকত।