Category: কুমিল্লা উত্তর জেলা

  • বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ার থেকে তুলে দিলেন মহিলা দলের নেত্রী; ভিডিও ভাইরাল

    কুমিল্লার দেবিদ্বারে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামকে চেয়ার থেকে তুলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি সুফিয়া বেগম ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ার থেকে তুলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।

    ভাইরাল হওয়া ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি চেয়ারে কয়েকজন ব্যক্তি বসে আছেন। তাদের মধ্যেই দেবিদ্বার উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বসে ছিলেন। এ সময় উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি সুফিয়া বেগম হাতের ইশারায় তাকে উঠে যেতে বলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম চারদিকে তাকাতে থাকেন। একপর্যায়ে সুফিয়া বেগম তাকে হাতে ধরে বাম পাশে নিয়ে যান। পুরো ঘটনাটি দূর থেকে কেউ একজন মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এবং অনুষ্ঠান উপভোগ করতে উপস্থিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। এ সময় মহিলা দলের ওই নেত্রী তাকে চেয়ার ছেড়ে দিতে বলেন।

    এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম  বলেন, উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বছরে দুটি বড় অনুষ্ঠান হয়- একটি বিজয় দিবস, অন্যটি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। আমি সকালে গিয়ে দেখি একটি চেয়ার ফাঁকা ছিল। পাশে একজন মহিলা বসা ছিলেন। তিনি আমাকে অনুরোধ করেন ফাঁকা চেয়ারটিতে বসতে। আমি সেখানে বসি। কিছুক্ষণ পর সুফিয়া বেগম এসে আমাকে পেছনের চেয়ারে চলে যেতে বলেন। তিনি বারবার হাত নেড়ে ও উচ্চস্বরে উঠে যেতে বলছিলেন। পরে তিনি আমাকে ধরে অন্য একটি চেয়ারে বসান। উপস্থিত সবাই তখন আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। বিষয়টি আমার আত্মসম্মানে লেগেছে। তাই কিছুক্ষণ পরই অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে আসি।

    অভিযুক্ত কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি সুফিয়া বেগম  বলেন, ওই চেয়ারে আমি নিজেই বসা ছিলাম। এক সাংবাদিক এসে আমাকে বলেন, আপা আসেন, আপনার একটি সাক্ষাৎকার নেব। আমি উঠে সাক্ষাৎকার দিতে যাই। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখি তিনি (বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম) আমার চেয়ারে বসে আছেন। তাই আমি তাকে অন্য একটি চেয়ারে বসতে বলি। তিনি উঠতে চাইছিলেন না। এজন্য আমি তাকে হাতে ধরে অন্য চেয়ারে বসিয়ে দিই।

    তিনি আরও বলেন, একটি দুষ্টচক্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিডিওটি ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমি তো তাকে পরে নিজ হাতে অন্য একটি চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছি, সেই দৃশ্যটি তারা ভিডিও করেনি। তিনি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও করেননি। তিনি আমার আত্মীয়। কিন্তু কে বা কারা ভিডিওটি ভাইরাল করেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

    এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী  বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে। কোনোভাবেই তাদের অসম্মান করা উচিত নয়। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দেবিদ্বার উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদের আহ্বায়ক আব্দুর রবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সূত্র- dp

  • কুমিল্লায় শ্বশুরের সেপটিক ট্যাংকে মিলল জামাইয়ের গলিত লাশ

    দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

    কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিখোঁজের একমাস পর শ্বশুরের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মেয়ে-জামাই আব্দুল করিম ভূইয়ার (৫২) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

    বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। 

    এর আগে গত ১৩ আগষ্ট তিনি নিখোঁজ হলে বড় ভাই আমির হোসেন ভূইয়া থানায় একটি জিডি করেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মৃত আবুল কাশেম ভূইয়ার ছেলে আব্দুল করিম ভূইয়া।

     তিনি গত ১৩ আগস্ট বাড়ি থেকে খরমপুর মাজার এলাকায় যাওয়ার কথা বলে বাহির হয়ে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখোঁজি করে না পেয়ে ১৬ আগষ্ট তার বড় ভাই আমির হোসেন ভূইয়া দেবিদ্বার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। 

    পরে গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজ আব্দুল করিমের বড় ভাই আমির হোসেন ভূইয়ার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে জানায় তার ছোট ভাই করিমকে  শশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করে লুকিয়ে লাশ রেখেছে। ওই ফোনের সূত্র ধরে আমির হোসেন ভূইয়া রাতেই দেবিদ্বার থানায় এসে পুলিশ নিয়ে তার ছোট ভাই আব্দুল করিম ভূইয়া শশুর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে অনেক খোঁজাখোঁজির এক পর্যায়ে শশুর মৃত ইউনুছ মিয়ার সেপটিক ট্যাংকের ভিতরে লাশ দেখতে পায় পুলিশ। 

    বিষয়টি দেবিদ্বার থানার ওসিকে জানানো হলে রাত সাড়ে ৩টায় ওসি শামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস ও দেবিদ্বার সার্কেলের এএসপি শাহিন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। এই সময় আব্দুল করিম ভূইয়ার দুই শ্যালক মোজ্জামেল ও ইসরাফিল এবং করিমের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার, বড় ছেলে তানভির, ছোট ছেলে তৌহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।

    নিহতের বড় ভাই আমির হোসেন ভূইয়া জানান, গত ১৩ আগষ্ট বাড়ি থেকে আখউড়ার খড়মপুর মাজার এলাকায় যাওয়ার কথা বলে বাহির হয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখোঁজি করে না পেয়ে ১৬ আগষ্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করি। বুধবার একটি অজ্ঞাত ফোনের সূত্র ধরে তার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তিনি ফাঁসির দাবি জানান। 

    এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি শামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, নিখোঁজের একমাস পর একটি ফোনের সূত্র ধরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত করিম মিয়ার দুই শ্যালক, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।   

  • নিখোঁজের ৩৮ দিন পর অটোরিকশা চালকের ক’ঙ্কা’ল উদ্ধার; ঘাতক আটক

    মোঃ নাজিম উদ্দিন, মুরাদনগর 

    মুরাদনগরে নিখোঁজের ৩৮ দিন পর মেহেদী হাসান (১৮) নামের এক অটোরিকশা চালকের ক’ঙ্কা’ল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের উত্তর ত্রিশ এলাকার মক্কা ব্রিক্স সংলগ্ন গোমতী নদীর বেড়িবাধেঁর ভেতরের একটি ঝোপ থেকে মুরাদনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মাথার খু’লি ও হা’ড়গো’ড় উদ্ধার করে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ।

    নি’হ’ত মেহেদী হাসান বাঙ্গরা বাজার থানার দীঘিরপাড় গ্রামের মৃত মোস্তফার ছেলে। পেশায় তিনি অটোরিকশা চালক ছিলেন। এই ঘটনায় জড়িত ঘা’ত’ক খাইরুল(২১)কে নারায়নগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।

    জানা যায়, গত ১১ আগস্ট রাতে বাঙ্গরা বাজার থেকে অটোরিকশা নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকে মেহেদী নিখোঁজ হয়। পরদিন তার পরিবার বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। কোন খোজঁ না পেয়ে ২০শে আগস্ট ভিকটিমের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে দীঘিরপাড় গ্রামের আইনুল হকের ছেলে খাইরুলকে আসামী করে বাঙ্গার বাজার থানায় হ’ত্যা’র উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা করেন।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাহিদ হাসান জানান, মামলার তদন্তের মাধ্যমে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত খাইরুলের বাবা আইনুল হককে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালি থানা এলাকা থেকে গ্রে’ফ’তা’র করা হয়। আইনুল হককে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে কুমিল্লার অশোকতলা থেকে তার ভাই ফুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যে কুমিল্লার একটি গ্যারেজ থেকে অটো রিক্সাটি উদ্ধার করা হয়। প্রধান আসামী খাইরুলকে গ্রেফতারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান করে পুলিশ। অবশেষে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১১টায় নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন সালা পাগলার মাজার এলাকা থেকে ঘাতক খাইরুল ইসলাম আটক করা হয়। আসামীকে সাথে নিয়ে বুধবার বিকেলে তার দেখানো স্থান থেকে নিহত মেহেদী হাসানের ক’ঙ্কা’ল উদ্ধার করা হয়।

    তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, গ্রে’ফ’তা’র’কৃত খাইরুলকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ৩ দিনের রি’মা’ন্ড মঞ্জুর করেছেন।

    বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী খাইরুল হ’ত্যা’র কথা স্বীকার করেছে। পরে তার দেখানো স্থান থেকেই ক’ঙ্কা’ল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা কাপড়ের মাধ্যমে ভিকটিমকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রে’প্তা’রসহ অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।

    আর কেউ জড়িত আছে কি না জানতে আ’সা’মীকে রি’মা’ন্ডে আনা হয়েছে।

  • তিতাসে একই পরিবারের দুই শিশুকন্যাসহ বাবার বিষপান, দুই শিশুকন্যার মৃত্যু

    (মো: জুয়েল রানা, তিতাস)

    কুমিল্লার তিতাসে বাকপ্রতিবন্ধী দুই শিশু কন্যাকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর বাবাও বিষপান করেছেন। সোমবার (৯জুন) সকালে উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের তুলাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা ওই গ্রামের  মুকবুল হোসেনের ছেলে বাবা মনু মিয়া (৩২)  দুই মেয়ে মনিরা আক্তার (১০) ও আল ফাতেহা (৬)। আহত অবস্থায় মনু মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। 

    নিহত শিশুদের দাদা মুকবুল হোসেন বলেন, আমার ছেলে বোবা, দুই নাতিনও বোবা। বোবা মেয়েদের কিভাবে বিয়ে দিবে এনিয়ে ছেলে প্রায় সময়ই ইশারায় বলতো, আমি মরে যাবো। আবার এলাকায় অনেকেই তাকে মশকরা করতো যে, ” তুই বোবা, তোর মেয়েরাও বোবা, তুই তাদের বিয়ে দিবি কিভাবে? ” 

    এ অভিমানেই আজ (সোমবার) সকাল ৭টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে মনু মিয়া দুই শিশুকন্যা মনিরা ও ফাতেহাকে বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  নিয়ে যান স্থানীয়রা। 

    তিতাস উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সরফরাজ আহমেদ খান বলেন, শিশুদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। শিশুদের বাবা মনু মিয়াকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।  আর কীটনাশক বা বিষের বড়ি (কেরির টেবলেট) যেখানে সেখানে বা যার তার বেচা বিক্রী নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে আমি মনে করি । 

    তিতাস থানার ওসি মো. শহিদ উল্যাহ জানান, বাকপ্রতিবন্ধি দুই শিশুকন্যাসহ বাবা মনু মিয়া কীটনাশক পান করেছে। এতে দুই শিশুকন্যা মারা গেছেন। নিহত দুই শিশুকে থানায় আনা হয়েছে এবং বাবা মনু মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

  • কুমিল্লায় গুড়া মাছ কিনে আনায় ছুড়ে মারেন স্বামীর উপর; স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর!

     (নাজিম উদ্দিন, মুরাদনগর)

    বাজার থেকে কিনে আনা পুটি মাছ কাটাকুটি নিয়ে দ্বন্দের জেরে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করেছে স্বামী। স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্বামী নিজেই আবার থানায় গিয়ে উপস্থিত হয়ে দেন ঘটনার বর্ণনা। শনিবার দুপুরে এমনটাই ঘটেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকার উত্তর ত্রিশ গ্রামে। 

    ঘাতক স্বামী বাছির উদ্দিন (৩৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে। নিহত স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (২৯) দেবিদ্বার উপজেলার নবীপুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। 

    স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বাছির উদ্দিন একটি মেডিসিন কোম্পানির মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এরিয়ার রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে চাকুরি করেন। সেই সুবাদ আড়াই বছর যাবত উত্তর ত্রিশ গ্রামের আলাল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া আছেন।

    শনিবার দুপুরে কোম্পানিগঞ্জ বাজার থেকে পুটি মাছ কিনে নিয়ে যায় বাছির উদ্দিন। সেই ছোট দেশী পুটি মাছ নিয়ে বাসায় যেতেই স্ত্রী মৌসুমী আক্তার মাছ কাটাকুটি করতে পারবে না বলে মাছ ছুড়ে মারেন স্বামীর উপর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী বাছির উদ্দিন তার স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে গলাচেপে ধরে শ্বাসরুধ করে হত্যা করে। পরে সে নিজেই মুরাদনগর থানায় গিয়ে উপস্থিত হয়ে পুলিশকে তার স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি জানায়।

    থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশকে বাছির উদ্দিন জানান, নয় বছর আগে সে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন মৌসুমী আক্তার কে। তাদের এই সংসার জীবনে রয়েছে ৪ বছর বয়সী জমজ ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে। সে আরো জানায় দীর্ঘদিনের এই সংসার জীবনে তার স্ত্রী মৌসুমী আক্তার তাকে প্রতিনিয়ত মানসিক ভাবে যন্ত্রণা দিতো। তবে সে তার স্ত্রীকে হত্যার কোন পূর্বপরিকল্পনা ছিলনা। বাজার থেকে আনা পুটি মাছ যখন তার উপর ছুড়ে মারে সে তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে গলাটিপে হত্যা করে।

    ঘাতক বাছির উদ্দিন এর বাড়ীর মালিক আলাল জানান, দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে তারা আমার বাসায় ভাড়া থাকে। আমার চোখে দেখা বাছির একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ। এখন পর্যন্ত তাদের কোন পারিবারিক কলহ আমাদের চোখে পড়েনি। কেন এই হত্যাকান্ড আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না। শয়তানের ধোকায় পরে হয়তো সেই কাজটা করেছে। 

    মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, শনিবার দুপুরের দিকে যখন বাছির উদ্দিন থানায় উপস্থিত হয়ে আমাকে জানায় সে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে, তখন প্রথমে আমার বিশ্বাস হয়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানি ঘটনা সঠিক। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাছির উদ্দিন থানা হেফাজতে আছে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

  • বিভাগ হলে কুমিল্লা নামেই হবে : উপদেষ্টা আসিফ

    (নাজিম উদ্দিন, মুরাদনগর)

    কুমিল্লা বিভাগ হলে কুমিল্লা নামেই হবে মন্তব্য করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বলেছিলেন, কুমিল্লা নামে কোনো বিভাগ হবে না। তাই আমি বলে যেতে চাই, কুমিল্লা বিভাগ হলে কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে অনেক ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যদি সবাই যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করি এই সরকার সফল হবে, ইনশাআল্লাহ।’

    শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর সদরের ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুরাদনগরবাসীর আয়োজনে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের কিছু রাজনৈতিক দলেরা মনে করে ভারতের আর্শিবাদ ছাড়া ক্ষমতায় আসা যায় না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনারা যদি তাই মনে করেন তাহলে আমি বলবো, শেখ হাসিনার চেয়ে বেশি কারোর ওপর আর্শিবাদ ছিল না। তারপরও সে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।’

    এ সময় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ভাই কাজী শাহ্ জুন্নুন বসরি, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তৌফিক আহম্মেদ মীর, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহি উদ্দিন অঞ্জন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার পিতা বিল্লাল হোসেন।

    অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূরুল মোমেন খাঁন, মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আ ন ম ইলিয়াছ, সাবেক আমির মনসুর মিয়া, উপজেলা হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতি সাদেকুল ইসলাম, উপজেলার ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সভাপতি মজিবুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাছির আলম, জাহের মুন্সী, মনিরুল হক জজ, মিনহাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ হক, কামরুল হাছান, সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

  • যুবককে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে নিয়ে গেল খুনী!

    অনলাইন ডেস্ক:

    কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দিনদুপুরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার পর ডান হাত কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ওলানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে এবং কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা যায়নি।

    নিহত ওই যুবকের নাম মো. মহিউদ্দিন (৩৫)। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর ছিলেন। ওলানপাড়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহিউদ্দিন মাদকাসক্ত ছিলেন।

    মহিউদ্দিনের মা মনোয়ারা বেগম ও বড় ভাই মো. মহসীন জানান, মহিউদ্দিন দিনমজুর হিসেবে যখন যে কাজ পেতেন, তা–ই করতেন। তিনি রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাঁর কোনো শক্রও ছিল না। কিন্তু কে বা কারা আজ দিনদুপুরে বসতবাড়িসংলগ্ন মসজিদের কাছে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে তাঁর ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে গেছে।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন তাঁকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম। তিনি জানান, মহিউদ্দিনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাঁর ডান হাত পাওয়া যায়নি। কনুইয়ের ওপর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। হাত বিচ্ছিন্ন করার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর মাথা–পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে।

    দুষ্কৃতকারীরা অল্প সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানান ওলানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম সরকার। তিনি বলেন, পুলিশের তদন্তের পরই এ হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

    এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক সাইদুল ইসলাম বলেন, লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। রাতে বিচ্ছিন্ন হাতটি উদ্ধার করে পুলিশ।

  • কুমিল্লায় পরকীয়া প্রেমিকের হাতেই খুন হয়  মা- ছেলেসহ ৩ জন! ঘাতক আটক

    অনলাইন ডেস্ক:

    কুমিল্লায় মা-ছেলে ও ভাতিজিসহ তিনজনকে হত্যার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে হোমনার শ্রীমদ্দি চরের গাও এলাকা থেকে অভিযুক্ত আক্তার হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের বড় ঘাগুটিয়া গ্রামে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন- ঘাগুটিয়া এলাকার মো. শাহপরানের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার (৩৫), তাদের ৯ বছরের ছেলে সাহাত এবং ভাতিজী তিশা (১৪)।

    হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, নিহত মাহমুদার সঙ্গে গ্রেপ্তার আক্তার হোসেনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেম ছিল। এই সুবাদে আক্তারের কাছ থেকে মাহমুদা ৪০ হাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আক্তার তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আক্তারকে পাওনা টাকা ফেরত দেবেন বলে বাড়িতে ডাকেন মাহমুদা। এক পর্যায়ে দুজন তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মাহমুদার মাথায় আঘাত করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন প্রেমিক আক্তার।

    এ ঘটনা দেখে ফেলায় মাহমুদার ছেলে সাহাত এবং ভাতিজী তিশাকেও মাথায় আঘাত করে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান আক্তার। পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা তাদের লাশ দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

    তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহত মাহমুদার বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এরপর শুরু হয় তদন্ত। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আক্তারকে শনাক্ত করতে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    শনিবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আক্তার।

  • কুমিল্লায় বসত ঘর থেকে  মা ও শিশুসহ ৩ জনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার!

    মারুফ আবদুল্লাহ, কুমিল্লা

    কুমিল্লার হোমনায় মা ও শিশুসন্তানসহ তিন জনকে ঘরে ঢুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে উপজেলার বড় ঘাগুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন।

    নিহতরা হলেন– বড় ঘাগুটিয়া গ্রামের শাহ পরানের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৩৫), তাদের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৯) এবং ভাগনি তিশা আক্তার (১৪)।

    ওসি জানান, শাহ পরান ঢাকায় চাকরি করেন। বুধবার রাতে তার স্ত্রী, শিশু সন্তান এবং প্রতিবেশী মামাতো ভাইয়ের কিশোরী মেয়ে তিশা ঘুমিয়েছিলেন। রাতের কোনও এক সময় তাদের দুর্বৃত্তরা  হত্যা করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে খাটের ওপর রেখে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা তিন জনের মরদেহ একই কক্ষে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

  • কুমিল্লায় রোহিঙ্গাকে জন্মনিবন্ধন, ইউপি সচিব আটক!

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গা তরুণকে জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কের নিমাইকান্দি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইসমাইল কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গুনাইনন্দী গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

    গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজেশ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে এক রোহিঙ্গা যুবককে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করার কথা স্বীকার করেছেন ইউপি সচিব ইসমাইল। তাকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    যেভাবে সামনে আসে রোহিঙ্গা যুবককে জন্মনিবন্ধনের বিষয়টি

    চলতি বছর জানুয়ারিতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে মো. ইয়াছিন (১৯)। সে মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে। বাংলাদেশে আসার পর কক্সবাজার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-৯ থাকতো সে। গেলো ১৫ ফেব্রুয়ারি পাসপোর্ট তৈরির জন্য মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের ভুয়া পরিচয়ে জন্মনিবন্ধন বানিয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যায় মো. ইয়াছিন। এ সময় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিনকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিন জানায়, তার চাচাতো ভাই উসমান কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন মদিনা ট্রাভেলসের হাসান মাহমুদ ও মোশাররফ নামে ২ দালালের কাছে পাসপোর্ট করার চুক্তি করে। পরে চুক্তি অনুযায়ী, হাসান মাহমুদ ও মোশাররফ কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার পশ্চিম ঘোড়াশাল গ্রামের ভুয়া ঠিকানায় রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিনের সকল কাগজপত্র তৈরি করে দেয়।

    এই ঘটনায় সে সময় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করে গোয়েন্দা পুলিশ। রোহিঙ্গা যুবক কীভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেছেন এ বিষয়টির তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তে ইউপি সচিব ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পায় গোয়েন্দারা। তথ্য অনুসন্ধানের পর গতকাল বৃহস্পতিবার ইউপি সচিব ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

    নাম না প্রকাশের শর্তে মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানায়, বৈধভাবে অনেকেই জন্মনিবন্ধন বানাতে পারে না। তবে পর্যাপ্ত টাকা হলে ইউপি সচিব যে কারো যে কোন অসংগতিপূর্ণ ঠিকানার জন্মনিবন্ধন বানিয়ে দিতে পারতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন কাজে সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী তুফরীজ এটনের জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান কাজী তুফরীজ এটন বলেন, রোহিঙ্গা যুবককে জন্মবিন্ধন বানানোর ঘটনা ঠিক না। আইডি হ্যাকড হয়েছে। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।

    মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত সরকারি মামলায় ইউপি সচিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা চালু রাখার জন্য ভারপ্রাপ্ত হিসেবে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।