Author: bikedokan@gmail.com

  • কুমিল্লা-৯ : লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কোন্দলে বিপর্যস্ত আ. লীগ- বিএনপি

    আবদুর রহমান: প্রতিনিধি, কালের কন্ঠ।।

    কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সব কটি সংসদ নির্বাচনেই বিজয়ী প্রার্থীর দল সরকার গঠন করেছে। ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন মো. তাজুল ইসলাম। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, পরিবারভিত্তিক রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি, ‘সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে নানা কর্মকাণ্ড চালানো এবং জামায়াত-বিএনপির লোকজন দলে ভিড়িয়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে ফেলার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সে কারণে তৃণমূল থেকে এ আসনে দলের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি উঠেছে।

    অন্যদিকে প্রকাশ্যে গ্রুপিং ও কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন বিএনপি নেতারা। দলের কেন্দ্রীয় নেতা কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিম ও আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালামের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে আসনটিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দলটি।

    এ প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করে মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়া জামায়াত গোপনে বেশ জোরেশোরেই রাজনৈতিক তত্পরতা চালাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীও প্রস্তুত রেখেছে দলটি। জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই নড়বড়ে। অবশ্য গত মাসে দলের চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করার পর বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এ টি এম আলমগীর লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    আওয়ামী লীগ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তাজুল ইমলাম ছাড়াও নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকজন জোর তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে দলের বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য, ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ফারুক, বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও কে এম গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া কামাল উল্লেখযোগ্য। এই তিনজন গত নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

    দলের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে বর্তমান লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস ভূঁইয়ার হাত ধরে দলে আসেন মো. তাজুল ইসলাম। ওই বছর ১২ জুনের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। এর পর থেকে ধীরে ধীরে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটির তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হওয়ার পর পরিবারভিত্তিক রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি, নিজ পরিবারের সদস্য ও কর্মচারী দিয়ে ‘সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং জামায়াত-বিএনপির লোকজন দলে ভিড়িয়ে রাজনীতি করছেন তিনি।

    ২০০৫ সালে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আবুল কাশেম ভুঁইয়া। গত বছর তাঁকে না জানিয়ে আপন মামাতো ভাই আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সভাপতি করে দুই সদস্যের বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করেন সংসদ সদস্য। সে সময় আবুল কাশেম ভুঁইয়াসহ আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিযোগ তোলে, একাত্তরে এলাকায় একজন শীর্ষস্থানীয় রাজাকার ছিলেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর বাবা। এর প্রতিবাদে গত বছরের ২৭ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে। একই সময় সংসদ সদস্য কমিটি ঘোষণা করেন লাকসাম উপজেলা ও পৌর শাখা আওয়ামী লীগের। তাজুল ইসলাম নিজেই লাকসাম উপজেলা কমিটির সভাপতি হন। আর পৌর কমিটিতে তাঁর শ্যালক মহব্বত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করেন তিনি।

    অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্য তাজুল ইসলামের হয়ে লাকসাম ‘নিয়ন্ত্রণ’ করেন তাঁর শ্যালক মহব্বত আলী ও রাজনৈতিক সহকারী মনিরুল ইসলাম রতন। আর মনোহরগঞ্জ ‘নিয়ন্ত্রণ’ করেন মামাতো ভাই আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ভাতিজা আমিরুল ইসলাম ও সংসদ সদস্যের বিশ্বস্ত উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল। এ ছাড়া তিনি এমপি হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মী ও লোকজনকে তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্মোধন করতে হয়।

    মনোনয়নপ্রত্যাশী দেলোয়ার হোসেন ফারুক বলেন, “বর্তমান সংসদ সদ্যস্যের কারণে কুমিল্লা-৯ আসনে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। এমপির দলে ভেড়ানো জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের চাপে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দুই উপজেলার বেশির ভাগ স্থানে আওয়ামী লীগ চালায় জামায়াত, বিএনপি আর রাজাকারপুত্র। তাদের অনেকে নৌকা প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। এ ছাড়া তিনি নিজ পরিবারকেন্দ্রিক ‘সিন্ডিকেট’ দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ দল পরিচালনা করে আওয়ামী লীগের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। তাই আমি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি দল ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণের কল্যাণে কাজ করব। এ আসনকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত করব।’

    আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া কামাল বলেন, ‘এমপি তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগকে জামায়াত-বিএনপির আখড়ায় পরিণত করেছেন। দলটাকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছেন। জনগণের উন্নয়নের নামে নিজের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে সিন্ডিকেট করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এখন নৌকার প্রার্থীর পরিবর্তন চায়। আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। ১৯৭৮ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি এ আসনকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত করব।’

    দলের টিকিটে নির্বাচন করতে আগ্রহী মো. শাহ আলম ২০০৬ সালেও দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সেই ১৯৮৬ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের তৃণমূল ও ত্যাগী কর্মীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আজ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দলের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা বড় অসহায়। তাই জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের আমার অনুরোধ, আপনারা তৃণমূলে জরিপ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিন। না হয় এ আসনে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে দল।’

    এসব অভিযোগ এবং মনোনয়ন প্রসঙ্গে জানতে গত ৩০ এপ্রিল সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে এর আগে বিভিন্ন সময়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা করেছি। ছাত্রলীগকে মেধাভিত্তিক রাজনীতিতে উত্সাহিত করে দেশ গঠনে কর্মক্ষম ও সক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। দলের মধ্যে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। দল ও এলাকার সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে অনেক সংগঠিত হয়েছে। তারা আমাকে ভালোবাসে। আমাকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে দলের কমিটি গঠন করে গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মানুষ এখন স্বস্তিতে আছে। উন্নয়নকাজ চলছে, চলবে।’ তবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযোগগুলো নিজেদের মনগড়া এবং সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

    বর্তমানে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন বিভিন্ন দল থেকে লোক আসে সুবিধা নেওয়ার জন্য আর তারা তখন আওয়ামী লীগ হয়ে যায়। এ ছাড়া নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দিতে গিয়েও আমাদের কিছুটা ছাড় দিতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তাজুল ইসলাম ছাড়া আমাদের কাছে হেভিওয়েট কোনো প্রার্থী নেই। তাই যিনি আছেন, সবাই মিলে তাঁকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’

    সংসদ সদস্যের কথিত সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, দলের নেতারা দল পরিচালনার জন্য লোক ঠিক করেন। যোগ্যতা থাকার কারণেই এমপির আত্মীয়রা দলের কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আর সংসদ সদস্য একটি সম্মানীয় পদ, যার কারণে মানুষ ও নেতাকর্মীরা সম্মান দিয়েই ওনাকে ‘স্যার’ বলে সম্মোধন করলে এতে দোষের কিছু নেই।

    বিএনপি : বর্তমানে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসন থেকে দলের প্রতীকে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম আনোয়ারুল আজিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সদস্য ও তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ড. রশিদ আহমদ হোসাইনী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও আমরা জিয়ার সৈনিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সফিকুর রহমান সফিক।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে আনোয়ারুল আজিম ও আবুল কালামের মধ্যে। তবে ২০০১ সালে সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আজিমের হাতেই।

    অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে আজিমের সঙ্গে গ্রুপিংটা জোরালোভাবে শুরু করেন আবুল কালাম। আবার নির্বাচনের পর হারিয়ে যান তিনি। কালামের দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ৪৫৮ ভোটের ব্যবধানে হারতে হয় আনোয়ারুল আজিমকে।

    স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আনোয়ারুল আজিম যেখানে মাঠের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে আবুল কালাম আছেন লবিংয়ে ব্যস্ত। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপক্ষে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী দিতে হলে আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প নেই। এলাকায় দল-মত-নির্বিশেষে বেশ সুনামও রয়েছে তাঁর।

    নেতাকর্মীরা জানায়, আবুল কালাম গত বছরের শুরু থেকে জোরালো গ্রুপিং শুরু করেছেন আজিমের সঙ্গে। তবে লাকসামের পাশাপুর গ্রামে কালামের নিজ বাড়িতে কয়েকটি সভা-সমাবেশ ছাড়া নিজ উপজেলা সদরে তেমন কোনো অবস্থান নিতে পারেননি তিনি। আর কয়েকবার চেষ্টা করলেও আজিমের অনুসারীদের তোপের মুখে মনোহরগঞ্জে প্রবেশ করতে পারেননি বললেই চলে। আজিমের বাড়ি মনোহরগঞ্জে।

    গত বছর আবুল কালাম তাঁর অনুসারীদের নিয়ে দুই উপজেলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ‘আংশিক’ কমিটি করেছেন। তবে বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রণ আজিমের অনুসারী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে থাকা আগের কমিটিগুলো বাতিল বা বিলুপ্ত না করায় তারাও নিজেদের নেতা দাবি করছে। এতে বলা যায়, দুই নেতার দুই কমিটিতে চলছে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি।

    আজিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ইলিয়াছ পাটোয়ারী বলেন, ‘লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপিতে আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প কোনো নেতা নেই। আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ তাঁকে তাদের মনে ঠাঁই দিয়েছে। আজিম ভাইয়ের নেতৃত্বেই সব দলীয় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে এ আসনে চিন্তা করলে বিএনপিকে একটি নিশ্চিত আসন হারাতে হবে।’

    লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘চৈতি কালাম আওয়ামী লীগের এজেন্ট। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সরাসরি আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট কিনেছেন। বর্তমানে আমাদের দুর্গের মতো থাকা দলকে ধ্বংস করতে আবারও গ্রুপিং শুরু করেছেন তিনি।’ আবুল কালাম বিএনপির জন্য ‘বিষফোড়া’ বলে দাবি করেন তিনি।

    আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করছি। আর আমার কাছে বর্তমানে দলীয় মনোনয়নের চিন্তার চেয়ে বেশি জরুরি হলো, দলের সব নেতাকর্মীকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখা। কারণ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ হলো বিএনপির ভোটব্যাংক। আর আমি রাজনীতি করি দল ও মানুষের কল্যাণে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আমার ওপরই আস্থা রাখবে।’

    আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম বলেন, ‘দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশেই আমি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে আমি বহু আগ থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। আমি দলের পুরনো লোক। আগেও মাঠে ছিলাম, এখনো আছি। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং বিজয়ী হব।’ তিনি আরো বলেন, ‘লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আমি সবাইকে নিয়েই দল গোছাচ্ছি। আজিম দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তিনি এখন বিএনপির কেউ না। প্রতিটি কমিটিতে আমাদের লোকজন রয়েছে। আজিমের অনুসারীদের কমিটিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া তিনি পদত্যাগ করেছেন আবার তা প্রত্যাহারের জন্যও আবেদন করেছেন। লাকসাম-মনোহরগঞ্জে তাঁর শূন্যস্থান পূরণ হয়ে গেছে। সবাই এখন আমার সঙ্গে কাজ করছে।’

    রশিদ আহমদ হোসাইনী বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে কোনো গ্রুপিং করি না। যারা বিএনপির বহিষ্কার ও সংস্কার রাজনীতি করে তারা কখনো দলীয় স্বার্থে রাজনীতি করে না, বরং তারা ব্যক্তিস্বার্থে ফায়দা হাসিল করতে রাজনীতি করছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে এখন বিএনপির বড় ইস্যু দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। কুমিল্লা-৯ আসনে আমি অনেক জনপ্রিয়। প্রাপ্তি-প্রত্যাশার রাজনীতি না করায় নেতাকর্মীরা আমাকে পছন্দ করে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং সুষ্ঠু ভোট হলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

    সফিকুর রহমান সফিক সর্বত্র দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপি থেকে অন্য যাঁরা মনোনয়ন চাচ্ছেন তাঁরা কেউই বিএনপির পরীক্ষিত লোক নন। আমি দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। অন্যরা বিভিন্ন দল থেকে বিএনপিতে এসেছেন। আমার ঠিকানা বিএনপি। কারণ ভাড়াটে দিয়ে বিএনপির মতো একটি দল চলতে পারে না। আগামী নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনে বিএনপির সব নেতাকর্মী মূল্যায়িত হবে।’

    জাতীয় পার্টি : দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা-৯ আসনে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। নির্বাচন প্রসঙ্গে দলে সদ্য যোগ দেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এ টি এম আলমগীর বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী।

    এর আগে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে তিনবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারিয়েছেন গোলাম মোস্তফা। তিনিও দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

    জামায়াত ও অন্যান্য : এ আসনে জামায়াত এরই মধ্যে তাদের প্রার্থী হিসেবে জনপ্রশাসন ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং কেন্দ্রীয় জামায়াতের শুরা সদস্য এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে। তিনি ফেনীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) থাকাকালে জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন।

    লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় নীরবে কাজ করছে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ আসনে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরই জামায়াতের অবস্থান।

    কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আবদুস সাত্তার জানান, সোলায়মান চৌধুরীকে ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন দিলে জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে তিনি লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগও করেছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।

    অন্যদিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে সেলিম মাহমুদের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে দলটির তেমন কোনো সাংগঠনিক তত্পরতা চোখে পড়ে না। সূত্র: কালের কণ্ঠ

  • সেই তাসফিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল!

    অনলাইন ডেস্ক:

    কক্সবাজারের টেকনাফে তাসফিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ মে) রাত পৌনে ৯টায় টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ মাঠে জানাজা শেষে কলেজ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ছাড়াও শোকাহত শত শত মুসল্লী অংশগ্রহন করেন। এর আগে বিকাল সাড়ে ৬টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে তাসফিয়ার লাশ পৈত্রিক নিবাস টেকনাফ পৌরসভার ডেইলপাড়া এলাকায় পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

    এসময় আত্মীয় স্বজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এসময় আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও এলাকাবাসী ভিড় জমান বাড়িটিতে। উপস্থিত সবার একটিই দাবী এই নির্মম খুনের সঙ্গে জড়িতদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।

    উল্লেখ্য, ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে এক মাসের মাথায় স্কুলছাত্রী তাসফিয়াকে শবেবরাতের রাতে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে পাষণ্ডরা। এমনকি ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশটি ফেলে দেয়া হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের উপকূলে।

    বুধবার (২ মে) সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে স্থানীয় পথচারীরা লাশটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

  • কুমিল্লায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ এমবিবিএস ডাক্তারসহ আটক ৩

    অনলাইন ডেস্ক:
    কুমিল্লায় ইয়াবাসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)র চিকিৎসক মোস্তফা কামাল (৩৮) ও তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ।শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা-বাগুর বাস স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

    এসময় তাদের কাছ থেকে ১২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করে পুলিশ।পুলিশ জানায়, চিকিৎসক মোস্তফা কামাল ওরফে কাজল চুয়াডাঙ্গা জেলার ধামড়হুদা উপজেলার দলিয়াপুর গ্রামের কিতাব আলীর ছেলে।তিনি ২৪তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসা সেবা শুরু করেন।বর্তমানে তিনি বিএসএমএমইউতে কর্মরত।

    আটক অপর দু’জন হলেন— মাদারীপুর জেলার কালকিনী উপজেলার উত্তর বাঁশগাড়ি গ্রামের মুজিবুল হকের ছেলে মঈন উদ্দিন (৪২) ও রাজধানীর আদাবর থানাধীন মোহাম্মদপুর শেখেরটেক এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে গাড়িচালক হাসু মিয়া (৩৯)।চিকিৎসক মোস্তফার বন্ধু মঈন উদ্দিন নিজেকে একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার বলে পুলিশের কাছে পরিচয় দেন।

    চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, মহাসড়কে নিয়মিত টহলরত অবস্থায় সন্দেহজনকভাবে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৯-৯৭২২) গতিরোধ করে তল্লাশি চালানোর পর তাদের প্রত্যেকের পকেটে ৪০০ পিস করে মোট ১২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ তারা জানান, কক্সবাজারের টেকনাথ থেকে তারা ইয়াবা নিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় চান্দিনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান এসআই মনিরুল।

  • কুমিল্লায় বজ্রপাত ও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    ( জাগো কুমিল্লা.কম)

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে অমল (৩০) নামের এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি উপজেলার মহিসাশহর এলাকার বারি কান্তির পুত্র। শুক্রবার (৪ মে) বিকেলে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় ইউপি মেম্বার শাহজাহান সেলিম জানান, কৃষি শ্রমিক অমল পাশাকোট গ্রামের জাহাঙ্গীরের জমিনে কাজ করছিল। শুক্রবার বিকেলে বজ্রপাতের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মনিরুল ইসলামও নিহতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।

    উল্লেখ্য গত সোমবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের শ্রীফলতলা প্রকাশ রামপুর এলাকায় কৃষি জমিনে ধান কাটা অবস্থায় বুলু মিয়া নামের আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।এদিকে চৌদ্দগ্রামে সিএনজি খাদে পড়ে নাছিমা সুলতানা (১৭) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কাইচ্ছুটি গ্রামের আবুল খায়েরের মেয়ে।

    শুক্রবার (৪ মে) সকাল ১০.৩০টায় উপজেলার চিওড়া-ঢালুয়া সড়কের চিওড়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মনিরুল জানান, নিহত নাছিমা শশুর বাড়ি চিওড়া থেকে সিএনজি যোগে পিত্রালয় কাইচ্ছুটির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এসময় সিএনজি গাড়িটি চিওড়া বাজার পার হলে সড়কের পাশে থাকা একটি ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

  • তাসপিয়া হত্যার ৬ নম্বর আসামি কে এই ফিরোজ?

    অনলাইন ডেস্ক:
    লাশ উদ্ধারের পর থেকে সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শেণির ছাত্রী তাসপিয়া ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। সোশ্যাল মিডিয়াসহ প্রায় সব মিডিয়াতেই এখন আলোচিত খবর তাসপিয়া-আদনানের কিশোর বয়সের প্রেম কাহিনীর করুণ পরিণতি।পুলিশের তথ্য মতে, গত মঙ্গলবার (১ মে) বিকেলে তাসপিয়া নিখোঁজের পর তার মায়ের ফোন পেয়ে আদনান তাদের বাসায় যায়। এ সময় তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন প্রথমে আদনানকে নিয়ে চায়না রেস্টুরেন্টে যান। সেখান থেকে আবারও বাসায় আসেন। সেখানে আদনানকে আটকে রাখেন তিনি।

    খবর পেয়ে স্বঘোষিত যুবলীগ নেতা ফিরোজ ও যুবলীগ কর্মী ইকরাম তাসপিয়াদের বাসায় আসেন। এ সময় আদনানকে ছেড়ে দিতে সময় বেঁধে দেন তারা।পরে দুই ঘণ্টার মধ্যে তাসপিয়াকে বাসায় ফেরত দেয়ার কথা বলে আদনানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তারা। এরপর রাতেই লাপাত্তা হয়ে যান তারা।ওই রাত শেষে বুধবার সকালে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নেভাল একাডেমির অদূরে ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় থেকে তাসপিয়ার নিথরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করলেও দুপুর ২টার সময় পরিচয় মিলে।তাসপিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে আসে এই কিশোরীর ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। নিহত তাসপিয়ার পিঠ, বুক ও স্পর্শকাতর অঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে ভয়াবহ নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটোও যেন নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ।

    তাসপিয়ার মৃত্যুর পর আড়ালে হাঁটছেন ফিরোজ। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত পাড়ে কঠিন পাথরের উপর পড়ে থাকা তাসপিয়ার নিথর দেহ উদ্ধারের পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। ইতোমধ্যে তাকে গ্রেফতারে বেশ কিছু স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ মে) দুপুরে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন কন্যা হত্যার অভিযোগে সুনির্দিষ্ট ছয়জনকে আসামি করে পতেঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

    ওই মামলার ষষ্ঠ নম্বর আসামি ফিরোজ। প্রধান আসামি আদনান মির্জার বড় ভাই তিনি। ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচকিডস’ নামের গ্যাং স্টারের (এডমিন) প্রধান আদনান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাং স্টারের ক্যাডার।পুলিশ জানায়, স্বঘোষিত যুবলীগ ক্যাডার ফিরোজ অস্ত্রসহ এক সময় র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন। ভারতে বন্দি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের সহযোগী ছিলেন তিনি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ২০১৩ সালের জুলাই মাসে অস্ত্রসহ দুবার আটক হন পুলিশের হাতে।জেল থেকে বেরিয়ে ২০১৫ সাল থেকে ফিরোজ যুবলীগের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। সে সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের ছবি ব্যবহার করে বিলবোর্ড টাঙিয়ে সমালোচনায় এসেছিলেন ফিরোজ।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের চাঁদাবাজি ও খুনের অপারেশনে সক্রিয় ছিলেন ফিরোজ। এক সময় যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিলেও সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো সাজ্জাদ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ফিরোজের মাধ্যমে।২০১৫ সালে চট্টগ্রামে নতুন রূপে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে ফিরোজ গড়ে তুলেন ‘রিচ কিডস’ গ্যাংস্টার নামে ফেইসবুক ভিত্তিক এক কিশোর বাহিনী। আর ওই বাহিনীর এডমিনের দায়িত্বে ছিলেন তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনান।

    বৃহস্পতিবার তাসপিয়ার বাবার দায়েরকৃত মামলায় এই রিচ কিডস গ্যাংস্টারের চার সদস্যকেও আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শওকত মিরাজ ও আসিফ মিজান, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসির ছাত্র ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম এবং স্বঘোষিত যুবলীগ নেতা ফিরোজের সহযোগী যুবলীগ কর্মী সোহায়েল প্রকাশ সোহেল।ইংলিশ মিডিয়ামের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদর্শন তরুণীদের তথ্য-উপাত্ত বড় ভাইদের সরবরাহ করা, মোটরসাইকেলে করে ঘোরাঘুরি, তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি, এলাকায় হিরোইজম প্রদর্শন করাই হলো এই গ্রুপের কাজ।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা বেশ কিছু ইস্যুকে সামনে নিয়ে এগুচ্ছি। তার মধ্যে অটো চালক, আদনানের ‘রিচ কিডস’ গ্যাং ও কথিত ‘বড় ভাই’ নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়াও আরো কিছু ইস্যু আছে যেগুলো এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

  • বাতিল হতে পারে ৫ হাজার এসএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা

    অনলাইন ডেস্ক:
    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে নানা মহলের সমালোচনার মুখে তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৪ মে) কমিটির দেয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় ৪ থেকে ৫ হাজারের মত শিক্ষার্থী সুবিধা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি। এসব শিক্ষার্থীর ফলাফল বাতিলের সুপারিশও করেছে কমিটি।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসএসসি পরীক্ষার ১৭টি বিষয়ের মধ্যে ১২টি বিষয়ের শুধু এমসিকিউ অংশের ‘খ’ সেটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। তবে কোন বিষয়ের সৃজনশীল অংশ ফাঁস হয়নি। বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পায়নি।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে বা কাছাকাছি সময়ে শুধুমাত্র ক্লোজ গ্রুপে নগণ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রশ্ন পেয়েছে। এ ধরণের ক্লোজ গ্রুপে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অতি নগণ্য। প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ১০০ জনের মত সদস্য রয়েছে। এ রকম ৪০-৫০টি গ্রুপে প্রশ্ন শেয়ার হয়েছে। ফলে ক্লোজ গ্রুপের মাধ্যমে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্ন পত্র পেয়ে থাকতে পারে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে সকল পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ বাধ্যতামূলক থাকায় যারা প্রশ্ন পেয়েছে তারা উত্তর প্রস্তুতের জন্য ১০ থেকে ২০ মিনিটের মত সময় পেয়ে থাকতে পারে। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর বের করা সহজ নয়। ফলে তাদের সামগ্রিক ফলাফলে এটা খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারবে না।

    এই প্রতিবেদনের আলোকে ৪ টিসুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সুপারিশগুলো হল:

    ১) ক্লোজ গ্রুপের ৪ থেকে ৫ হাজার প্রশ্ন পাওয়া সুবিধাভোগীদের জন্য ২০ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা পুণরায় গ্রহণ করে তাদেরকে ভোগান্তিতে ফেলা সমীচীন হবে না বিবেচনায় সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষার কোনো বিষয়ের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত হবে না।

    ২) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসের সুবিধাভোগী সকল পরীক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে পরবর্তীতে তাদের ফলাফল বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

    ৩) কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে এবং প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৪) মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে সন্দেহজনক মোবাইল নম্বরগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং লেনদেনকারীর পেশা যাচাই করে দেখতে হবে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িত অনেককেই গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। সুবিধা পাওয়া যেসব শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যাবে তাদের পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।

    মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে কঠোর শিক্ষামন্ত্রী। তাই যেসব পরীক্ষার্থী প্রশ্ন পেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে বলে তথ্য-প্রমান পাওয়া যাবে পরবর্তীতে তাদের পরীক্ষা বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া যারা প্রশ্ন ফাঁস করেছেন বলে প্রমান পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

    জানা গেছে, বিভিন্ন সময় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২টি মামলা হয়েছে। এর সাথে জড়িত ১৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। জড়িত পরীক্ষার্থীদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত শিক্ষকদের চাকরি থেকে বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানা গেছে।

    এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন, তারা পার পেয়ে গেছেন তা ভাবার কারণ নেই। নানা ভাবে চেকিং চলছে। প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই, এখনও চলছে।

    উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৪ মার্চ শেষ হয়। সারা দেশে তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে মোট ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন। আগামী ৬ মে (রবিবার) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

  • নাঙ্গলকোটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড:৭ দোকান পুড়ে ছাই !

    (বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা)
    কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় শুক্রবার সকালে সাব রেজিষ্টি অফিসের সামনে দলিল লেখক সমিতির দোকান ঘর ও একটি খাবার হোটেল পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। সকালে এয়াছিন ভেন্ডারের দোকান থেকে বিদ্যুৎ সট সার্কিট আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে আগুন লেগে ৭টি দোকান ঘর পুড়ে ছাই গেছে।

    লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। আগুন লেগে এয়াছিন ভেন্ডারের দোকান, মজুমদার ষ্টোর, মাইন উদ্দিন কম্পিউটার, ছাব্বির কম্পিউটার, সম্রাট কম্পিউটার, মতিন হোটেল। এ বিষয়ে লাকসাম ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার মোবারক আলী জানান প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে। তদন্ত করলে ক্ষতির পরিমান জানা যাবে।

    দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জানান, এসব দোকানে দলিল,স্টাম্প, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, জেনারেটর, ফটোকপি মেশিন সহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে কমপক্ষে ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

  • নাঙ্গলকোটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড:৭ দোকান পুড়ে ছাই !

    (বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা)
    কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় শুক্রবার সকালে সাব রেজিষ্টি অফিসের সামনে দলিল লেখক সমিতির দোকান ঘর ও একটি খাবার হোটেল পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। সকালে এয়াছিন ভেন্ডারের দোকান থেকে বিদ্যুৎ সট সার্কিট আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে আগুন লেগে ৭টি দোকান ঘর পুড়ে ছাই গেছে।

    লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। আগুন লেগে এয়াছিন ভেন্ডারের দোকান, মজুমদার ষ্টোর, মাইন উদ্দিন কম্পিউটার, ছাব্বির কম্পিউটার, সম্রাট কম্পিউটার, মতিন হোটেল। এ বিষয়ে লাকসাম ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার মোবারক আলী জানান প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে। তদন্ত করলে ক্ষতির পরিমান জানা যাবে।

    দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জানান, এসব দোকানে দলিল,স্টাম্প, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, জেনারেটর, ফটোকপি মেশিন সহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে কমপক্ষে ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

  • পরকীয়ার টানে স্বামী-মেয়েকে ফেলে উধাও বিলকিস

    অনলাইন ডেস্ক:
    বিলকিস (৩৬) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মেদপুর কৈডিমা গ্রামের আনোয়ারুল হকের স্ত্রী। পরকিয়ার টানে ১৮ বছরের সংসার ফেলে উধাও হয়েছেন তিনি। তাদের সংসারে ১৬ বছর বয়সের একটি মেয়ে রয়েছে। রোববার (২৯ এপ্রিল) রাত থেকে খোঁজ মিলছে না তার।স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই বছর আগে গুরুদাসপুর উপজেলার বৃণ্ডচাপিলা গ্রামের ছইর উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম আনোয়ারুলের বাড়ির পাশে দোকান দেন। দোকানে মালামাল কেনার সূত্রে বিলকিসের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

    বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামে একাধিকবার সালিশও বসে। কিন্তু তারা গোপনে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত রোববার রাতে সবার অগোচরে বিলকিস খাতুন স্বামী ও মেয়েকে ফেলে পরকীয়া প্রেমিক শহিদুল ইসলামের হাত ধরে পালিয়ে যান।শুক্রবার (৪ মে) বিলকিসের স্বামী আনোয়ারুল হক বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, শহিদুল আমার সাজানো সংসার ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। তারপরও বুঝিয়ে-সুজিয়ে বাড়ি আনার জন্য বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে ফিরছি, কিন্তু পাচ্ছি না।

    এ বিষয়ে বিলকিস ও পরকীয়া প্রেমিক শহিদুলের সঙ্গে কয়েক দফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

  • রং নাম্বারে পরিচয়, অতঃপর ভয়ঙ্কর পরিণতি!

    অনলাইন ডেস্ক:
    দুই বছর আগে মোবাইল ফোনের রং নাম্বারে রাজবাড়ীর এইচএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীর সাথে পরিচয় হয় শরিয়তপুর জেলার শখিপুরের হযরত আলী রারীর লম্পট ছেলে আল মামুনের। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই ছাত্রীকে জোড়পূর্বক মারপিট করে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।ওই অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পরই থানা পুলিশের সদস্যরা শরিয়তপুর জেলার শখিপুর এলাকা থেকে ওই ছাত্রীকে বুধবার ভোরে উদ্ধার করেছে।

    ওই মামলার অন্যান্য আসামিরা হলো, আল মামুনের বাবা হযরত আলী রারী, আল মামুনের বোন জামাই আনিচুর রহমানসহ অজ্ঞাত নামা আরো ৩/৪জন।দুপুরে রাজবাড়ী থানায় অবস্থান করা ওই ছাত্রী বলেন, ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে মাঝে মধ্যে তারা কথা বলতো এবং তার সাথে দেখা করত আল মামুন রাজবাড়ীতে আসতো। তবে তিনি মামুনকে পাত্তা দিতেন না। যে কারণে সে সাম্প্রতিক সময়ে মামুনের সাথে কথা বলাও বন্ধ করে দেন। এতে মামুন ক্ষিপ্ত হয়।গত সোমবার দুপুরে সে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সে জেলা শহরের ডাকবাংলো মোড়ে এলাকায় পৌছতেই হঠাৎ করেই মামুন ও তার সহযোগিতা তার গতিরোধ করে এবং জোড়পূর্বক মারপিটের পাশাপাশি মুখ চেপে ধরে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে শরিয়তপুর জেলার শখিপুর এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রাখে।

    ওই ছাত্রীর বোন জানায়, তার বোনকে তুলে নিয়ে যাবার পর বিকালের দিকে আল মামুন নিজ পরিচয় দিয়ে তার বোনকে তুলে নিয়ে যাবার কথা জানায় এবং তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকেও অপহরণের বর্ণনা শুনতে পান। পরবর্তীতে পৃথক আরো চারটি মোবাইল নাম্বার থেকে তাকে এবং তার বাবার নম্বর ফোন করে হুমকী-ধামকী প্রদান করা হয়।রাজবাড়ী থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয় জানার পর পরই থানায় মামলা রেকর্ড করা এবং ওই ছাত্রীকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে তারা তৎপড় হয়ে ওঠেন। যার অংশ হিসেবে শরিয়তপুর জেলার শখিপুর এলাকা থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন।তবে আসামিরা আত্মগোপন করায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গতকালই রাজবাড়ী হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পূর্ণ করা হয়েছে। সেই সাথে আদালতে ওই ছাত্রীর জবানবন্দীও রেকর্ড করা হয়েছে।