সদ্য প্রাপ্ত সংবাদ:
কুমিল্লায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আমরা বাধা দিচ্ছি না : কুমিল্লায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রকৌশলীদের ভূমিকা রাখতে হবে-এমপি বাহার কুমিল্লায় সাংবাদিকের উপর ছাত্রলীগের হামলা! কুমিল্লায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে পিকনিকের বাস খাদে চৌদ্দগ্রামে সেলাই মেশিন ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কুমিল্লায় সেনা সদস্যকে গুলি করে হত্যা কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলা,দুই লাখ টাকা লুটের অভিযোগ কুমিল্লায় স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার; আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ? কুবির এ ও বি ইউনিটের পরীক্ষা সম্পন্ন, শনিবার সি ইউনিটের পরীক্ষা

১০ দিনেও জ্ঞান ফিরেনি কুমেক ছাত্র তৌফিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌফিকুল ইসলাম আহত হওয়ার দশ দিন পার হলেও এখনো তার জ্ঞান ফিরেনি। শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রীতে আসলেও এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর তা আবার ১০২ ডিগ্রীতে নেমে এসেছে। গত দুইদিন পূর্বে হাত পা নাড়া চাড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে তৌফিক।

তৌফিকের বাবা আবুল কালাম আজাদ আর মা খালেদা আক্তার বড় ভাই সবির আহমেদ ও সাইদুল ইসলাম এবং একমাত্র বোন হাবিবার চোখের জ্বলে ভাসছে দিনের পর দিন। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে আশে পাশের পরিবেশ। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে কলেজের শেখ রাসেল ছাত্রাবাস ও বীর উত্তম শাহ আলম ছাত্রাবাসের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয় তৌফিক। আহত তৌফিক সিভিয়ার হেড ইনজুরীতে ভোগছে। তার একটি অপটিক নার্ভ ড্যামেজ , ক্রিয়েটিনিন লেভেল হাই (কিডনী ঠিক ভাবে কাজ করছেনা) , নিউমোরাক্সের সাথে চেষ্ট ড্রেইন (ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করছে)।

সাধারণ ছাত্রদের প্রশ্ন গত এক বছরে ৪টি ঘটনা, ছাত্ররা এত বেপরোয়া কেন? কলেজের অধ্যক্ষ সেইদিন কুমিল্লা ছিলেন না সেটি কেউ না কেউ জানতো। ঘটনার সাথে সাথে অর্থাৎ রাত ১টায় হোস্টেল সুপার কে জানানো হলেও রাত আড়াইটায় ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। যখন হোস্টেলে ঘটনা ঘটে তখন হোস্টেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কোথায় ছিলেন?
সূত্র থেকে জানা যায়, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ থাকার পরেও কিছুদিন পর পর ছাত্রদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। কলেজে ছাত্র রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে ডা: পলাশ ও ডা: হান্নানের নেতৃত্বে।

ডা: মো: আবদুল হান্নান ও ডা: হাবিবুর রহমান পলাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যানেথেসিওলজি ও ইএনটি বিভাগের চিকিৎসক। এরা দুই জনই স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটি ও কুমিল্লা জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। ডা: হান্নান এ্যানেসথেসিয়া এবং ডা: পলাশ ইএনটি বিভাগের ডাক্তার। ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর অধ্যাপক ডা: ইকবাল আর্সনালকে সভাপতি ও অধ্যাপক ডা: এএম আজিজকে সাধারন সম্পাদক করে স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। কমিটি গঠনের ১বছর পর অর্থাৎ ২০১৬ সালে ১৫১সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি ঘোষনার পর স্বাচিপের কুমিল্লা শাখা ও মেডিকেল কলেজ রাজনীতিতে দ্বন্দ আর সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

এরই সূত্র ধরে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সময় কলেজের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ৫জন শিক্ষার্থী আহত হয়। ঐ সময় ১৭জন শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করার পর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সুপারিশের কারণে সেই বহিস্কারাদেশ স্থগিত করা হয়। ফলে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত শিক্ষার্থীরা আরো সাহস পেয়ে পরবর্তীতে আরো দ্বন্ধ সংঘাতের দিকে ঝাপিয়ে পড়ে।২০১৭ সালের নভেম্বরের ১ তারিখ আবারো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে পরের দিন কলেজে জরুরী সভায় ৮জনকে কলেজ ও হোস্টেল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার ও ৫জন ্ইন্টার্ণ চিকিৎসককে সতর্ক করা হয় ।

সেই বহিস্কারাদেশের সময় তৌফিকুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল এবং সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু ছাত্রের নাম আসায় বহিস্কার হওয়া কিছু শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আক্রমন করে। সেই আক্রমনেই তৌফিক আজ এ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

এই সংবাদটি নিয়ে আপনার মূল্যবান মতামত জানান: