(আবু সুফিয়ান রাসেল, কুমিল্লা)
কুমিল্লায় রিক্সাভাড়া নিয়ে অরাজকতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। নগরীতে রিক্সা ভাড়ার হার নির্ধারণ করে না দেওয়ায় রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ইচ্ছামত ভাড়া আদায় করছেন রিক্সা চালকরা । বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নগরবাসীসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত যাত্রীরা।
অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবী নিয়ে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে চালক-যাত্রীদের মধ্যে। অনেক সময় চালকদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন যাত্রীরা। মান সম্মানের ভয়ে অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিতেও বাধ্য হচ্ছেন। তবে রিক্সা ভাড়া নির্ধারণে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কোন গরজ নেই। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে অটোবাইক নিষিদ্ধ করায় প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ আরো বাড়ছে।
একদিকে যাত্রীর তুলনায় রিক্সার সংখ্যা কম, অপরদিকে রিক্সা চালকরা পছন্দমতো গন্তব্য ছাড়া যেদে রাজি হয় না। এ কারণে অসহায় যাত্রীরা চালকদের চাহিদা পূরণে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে চালকরা নির্ধারিত হারের দ্বিগুণ বা তিন গুণ ভাড়া আদায় করছে। জন-সাধারণ রীতিমতো জিম্মি রিক্সা চালকদের হাতে। কর্তৃপক্ষের এই ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
কুমিল্লা কান্দিরপাড় থেকে ধর্মপুর ভিক্টোরিয়া কলেজে রিক্সা ভাড়া ৪০ টাকা, কান্দিরপাড় থেকে টমছমব্রীজ ২০ টাকা, কান্দিরপাড় থেকে আদালতপাড়া ৩০/৪০ টাকা আদায় করছে। অপর দিকে কান্দিরপাড় থেকে শাসনগাছা বাস টার্মিনালে রিক্সা ভাড়া আকাশচুম্বী। রাস্তা খারাপের অজুহাতে ৪০/৫০ টাকা দাবি করছে। কান্দিরপাড় থেকে চকবাজার ৩০/৪০ টাকা আদায় করছে চালকরা। এদিকে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে অটোবাইক বন্ধের সুযোগে টমছমব্রীজ থেকে কান্দিরপাড় ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা আদায় করছে সিএনজি চালকরা।
পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন হয়েছে কুমিল্লা নগরী। বেড়েছে আয়তন ও জনসংখ্যা। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থেই রিক্সা ভাড়া নিয়ে যে নৈরাজ্য বন্ধের দাবি জানান কুমিল্লাবাসী।
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম রাসেল জানান, অটো বাইক বন্ধের কারণে যানজট কমেছে, বেড়েছে ভাড়া। অনুরূপ অবস্থা ব্যাটারি চালিত রিক্সাতেও।শহরের রাস্তা গুলো প্রশস্থ করা এবং বড় বাস শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না দিলে কিছুটা ভোগান্তি কমবে। রিক্সা ভাড়া মনিটরিংয়ের মাধ্যমে রাখতে হবে।
এদিকে একাধিক রিক্সা চালক জানান, একটি অটোরিক্সা ৫-৬ জন যাত্রী নিতে পারে । কিন্তু আমরা ভাড়ায় রিক্সা চালাই। দুই একজন যাত্রী নিয়ে পোসে না। রিক্সায় মটর লাগাইলে পুলিশ ধরে , তাই পায়ে চেপে রিক্সা চালালে বেশি কষ্ট হয়। তাই ভাড়া বেশি নিতে হয়।
অনেক ক্ষেত্রে মালিকদেরকে এখন দৈনিক ভাড়া দ্বিগুণ হারে পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে রিক্সাচালকরা জানিয়েছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অব্যাহত দাম বৃদ্ধি। এইসব অজুহাত দেখিয়ে চালকরা রিক্সাভাড়া বাড়িয়ে চলেছে। এই সবকিছু পরে যাত্রী সাধারণের অন্যতম বিড়ম্বনার কারণ হচ্ছে রিক্সাচালকদের দুর্ব্যবহার। তারা অনেক সময়ই যাত্রীদের সাথে বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের সাথে ভাড়া কিংবা অন্য কারণে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এখানে আরেকটি বিষয় জরুরি, রিক্সার মালিকদেরও দৈনিক ভাড়ার হার নির্ধারণ করে দেয়া দরকার। তারা যাতে যখন তখন ভাড়া বাড়াতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রী ভোগান্তি কমানোর জন্য নগরীতে বাড়াতে হবে রিক্সার সংখ্যা। সর্বোপরি রিক্সাচালকদের মধ্যে নিজের ইচ্ছেমতো গন্তব্যে যাওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে সেটা দূর করতে হবে। একজন রিক্সাচালককে রিক্সা চালানোর জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়ায় যাত্রীদের পছন্দ মতো গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য, খালি রিক্সা নিয়ে বসে থাকার জন্য কিংবা খালি রিক্সা নিয়ে ঘুরাফেরা করার জন্য নয়। চালকদেরকে এই আইন মানতে বাধ্য করানোর দায়িত্ব প্রশাসনের।
রিক্সা ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হোক, নগরবাসী এই প্রত্যাশায় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে সিটি কর্পোরেশন কৃর্তপক্ষ জানান, খুব শীঘ্রই ভাড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে কবে নাগাদ প্রকাশ করবে তা বলেনি সিটি কর্পোরেশন।
Leave a Reply