আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যা বললেন আসিফ

( জাগো কুমিল্লা.কম)
নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগের কথা শুনে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাসলেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। বিচারককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘স্যার আগেই তার (সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিন) বিরুদ্ধে আমার মামলা করা উচিত ছিল। মামলা না করে আমি ভুল করলাম।’

বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায়ের আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য আসিফ আকবরকে নেয়া হয়। এ সময় আসিফের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানির এক পর্যায়ে বিচারককে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বিচারকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, ‘অনুমতি ছাড়াই সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছি এ অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি এর লাভের এক টাকাও পাইনি। প্রয়োজনে আপনি আমার সমস্ত অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখতে পারেন।’

বিচারক তার কথা শুনে বলেন, ‘আপনার বাসার সামনে আমাদের আড্ডার এলাকা। আমরাতো একই এলাকার। আমি আপনার সবকিছুই জানি। আপনি কেন গান ছেড়ে দিলেন!’

বিচারক আরো বলেন, মামলাটি করা হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে। জামিন দিলে আইনের কিছু জটিলতা আছে। সবকিছু জানার পরও আমার কিছু করার নেই।

এরপর আসিফের আইনজীবী বলেন, ‘স্যার তিনি (আসিফ) আবারও গান শুরু করেছেন। সামনে ঈদ। তাকে তো সবাই চেনেন। জামিন দিলে তিনি পালাতক হবেন না। ভক্তরা তাকে নিয়ে ঈদ করতে চায়। আর মামলায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনের যে ধারা দেয়া হয়েছে অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। এতে সর্বোচ্চ কপি রাইট আইনে মামলা হতে পারে।’

এরপর আদালত আসিফের জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে আসিফ আকবার বলেন, ‘মামলায় আমি ভীতু নই। আইনি গতিতে মামলা চালিয়ে যাবো। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মামলায় আমি খালাস পাবো ইনশাআল্লাহ।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় তাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সিআইডির উপ-পরিদর্শক প্রলয় রায় পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসিফ আকবরের পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে তার জামিন আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার আসামি আসিফকে জামিন দিলে পলাতক হতে পারে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল হোতাকে খুঁজে বের করার জন্য আসামি আসিফকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন রয়েছে। স্বল্প সময়ে আসামিদের নাম ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আসিফের সহযোগীদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *